ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ সাংবিধানিক নয়, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পক্ষে বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
১১ জুলাই, ২০২৫ ১৪:১৭
অনলাইন ডেস্ক
‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ সাংবিধানিক নয়, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পক্ষে বিএনপি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করছে বিএনপি। দলটি সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত খসড়ার প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে নিজস্ব সুপারিশপত্র তৈরি করেছে, যা ইতোমধ্যে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়, যেখানে লন্ডন থেকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে আমরা খাটো করে দেখতে চাই না। বরং এর যথাযথ মূল্যায়ন করেই সুপারিশপত্র সরকারের কাছে জমা দিয়েছি।”

বিএনপি ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে। একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধকে বাংলাদেশের মূল ভিত্তি ও প্রধান অর্জন হিসেবে ঘোষণাপত্রে শুরুতে তুলে ধরার সুপারিশ করেছে দলটি।

বিএনপির সংশোধিত খসড়ায় বলা হয়েছে, ঘোষণাপত্রটি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা সংরক্ষণের উপযোগী হবে। দলটির নেতারা মনে করেন, সংবিধানে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান অন্তর্ভুক্ত করলে ভবিষ্যতে বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এটি সংবিধানে নয়, রাজনৈতিক দলিল হিসেবে রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে সংরক্ষণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, খসড়ার প্রথম অংশে পাকিস্তান আন্দোলন ও ১৯৪৭ সালের ‘স্বাধীনতা অর্জন’ সম্পর্কিত বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় মনে করে বাদ দিয়েছে বিএনপি। দলটির মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একমাত্র ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই অর্জিত।

ঘোষণাপত্রে ‘বিভিন্ন শাসনামলে গণতান্ত্রিক ব্যর্থতা’র পরিবর্তে বিএনপি ‘আওয়ামী শাসনামলে’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। একইভাবে এক-এগারো পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় ‘ক্ষমতার সুষ্ঠু রদবদলের রাজনৈতিক ব্যর্থতা’র পরিবর্তে ‘দেশি-বিদেশি চক্রান্তের সুযোগে’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।

তারা ১৯৭২ সালের সংবিধানকে বাতিল বা পুনর্লিখনের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে ‘উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় সংশোধনের’ কথা বলেছে। পাশাপাশি, খসড়া থেকে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ শব্দটিও বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আগের সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সরকারি ও রাজনৈতিক সূত্র মতে, জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার কাজ শেষ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে। এই কাজের দায়িত্বে রয়েছেন সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

শাকিল/রাইজিং ক্যাম্পাস

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মুক্তিযুদ্ধকে সবার ওপরে রেখে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ চায় বিএনপি

    অনলাইন ডেস্ক
    ১১ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৫৬
    অনলাইন ডেস্ক
    মুক্তিযুদ্ধকে সবার ওপরে রেখে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ চায় বিএনপি

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করে ঘোষণা করার ব্যাপারে সরকারকে সব ধরণের সহযোগিতা করছে বিএনপি। তাই সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এসংক্রান্ত নতুন খসড়াটি প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করে এক উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।

    তবে জুলাই ঘোষণাপত্র সাংবিধানিক নয়, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পক্ষে মত দিয়েছে দলটি। একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধকেই প্রধান অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে ঘোষণাপত্র শুরু হওয়া উচিত বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে। বুধবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব মত দিয়ে শীর্ষ নেতারা বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র প্রণীত হওয়ার পর রাষ্ট্র যথাযথ প্রসিডিউর অনুযায়ী এটিকে আর্কাইভ (সংরক্ষণ) করবে।

    জানা গেছে, বুধবারের বৈঠকে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংবিধানে স্থান দেওয়া হলে তাতে ভবিষ্যতে জটিলতা বাড়তে পারে। কেউ কেউ আবার স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানকেও সংবিধানে রাখার দাবি তুলতে পারে। এজন্য তারা রাজনৈতিক দলিল হিসাবে রাষ্ট্রের আর্কাইভে ২০২৪ সালের ঘোষণাপত্র সংরক্ষণের পক্ষে মত দিয়েছেন।

    স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, খসড়ার প্রথম পয়েন্টে উল্লেখিত ‘বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের এ ভূখণ্ডের মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুগের পর যুগ সংগ্রাম করেছিল এবং এর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ১৯৪৭ সাল থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল’ এই অংশ অপ্রয়োজনীয় বিবেচনা করে তা বিএনপি বাদ দিয়েছে। দলটির নেতারা বলেছেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে গৌরবময় বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    সেই স্বাধীনতাযুদ্ধকেই প্রধান অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে ঘোষণাপত্র শুরু হওয়া উচিত। খসড়া ঘোষণাপত্রের একটি পয়েন্টে আছে- ‘যেহেতু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শাসনামলের রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনির্মাণের ব্যর্থতা ও অপর্যাপ্ত ছিল এবং এ কারণে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও শাসকগোষ্ঠীর জবাদিহি প্রতিষ্ঠা করা যায়নি’। বিএনপি এক্ষেত্রে ‘বিভিন্ন শাসনামলের জায়গায়’ ‘আওয়ামী শাসনামলের’ কথা উল্লেখ করেছে।

    খসড়ায় এক-এগারোসংশ্লিষ্ট একটি পয়েন্টে উল্লেখিত ‘ক্ষমতার সুষ্ঠু রদবদলের রাজনৈতিক ব্যর্থতার সুযোগে’ কথাগুলো পরিবর্তন করে ‘দেশি-বিদেশি চক্রান্তের সুযোগে’ লেখার সুপারিশ করেছে বিএনপি। এ ছাড়া দলটি ১৯৭২ সালের ‘সংবিধান পুনর্লিখন বা প্রয়োজনে বাতিল করার অভিপ্রায়’ বাদ দিয়ে ‘সংবিধানের বিদ্যমান সংস্কার উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় সংশোধন’ করার পক্ষে মত দিয়েছে। জানা গেছে, ঘোষণাপত্রের খসড়া থেকে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রসঙ্গটি বাদ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত জানুয়ারি মাসে প্রস্তুত করা ঘোষণাপত্রের খসড়ার শেষ অংশে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ কথাটি উল্লেখ ছিল। এর বাইরেও খসড়ায় আরও কিছু শব্দগত সংযোজন-বিয়োজন করেছে বিএনপি।

    সরকার ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে চায় অন্তর্র্বর্তী সরকার। আর এটি চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে।

    মন্তব্য

    অচল রাকসু নয়, দরকার সক্রিয় প্রতিনিধি পরিষদ’—নেতাদের কণ্ঠে প্রত্যাশা

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১০ জুলাই, ২০২৫ ২০:১০
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    অচল রাকসু নয়, দরকার সক্রিয় প্রতিনিধি পরিষদ’—নেতাদের কণ্ঠে প্রত্যাশা

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অধ্যাপক ড.সালেহ্ হাসান নকীব গত সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, পাঁচ মাসের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন আয়োজন করবেন। সেই ঘোষনার সময়সীমার নয়মাস পার হয়ে গেলেও দেখা যায়নি কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ। সর্বশেষ, ৩০ জুন রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা থাকলেই তা বাস্তবায়িত হয়নি।   

    জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে রাকসু নির্বাচন নিয়ে গরম হাওয়া বইছে ক্যাম্পাসে। রাকসুর রোডম্যাপ, রাকসুর নির্বাচন কমিশন, তফসিল, নির্বাচনের তারিখ সর্বোপরি রাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচিতে সরগরম রয়েছে ক্যাম্পাস।

    গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাকসুর টাইমলাইন ঘোষণা করলে সে অনুযায়ী শুরু হয় রাকসু চেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর নানা কর্মসূচি। সেই থেকে হলে খাবারের ফাঁকে কিংবা টুকিটাকির চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠা আলাপে একটাই প্রশ্ন, ‘রাকসু কবে’? অবশেষে ১৬ এপ্রিল রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদন ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জানানো হয়, জুন মাসের ৩য় বা ৪র্থ সপ্তাহে রাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন, রাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সংগঠনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বাকি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ ইত্যাদি কার্যক্রম করতে দেখা যায়নি।

    পেছনে ফেলে আসা রাকসুর অচলাবস্থার ইতিহাস

    সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন হয়েছিলো ১৯৮৯ সালে। এর পর ৩৬ বছর ধরে রাকসু নির্বাচন হয়নি। পরিসংখ্যান বলছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬ বার রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান আমলে হয়েছে ১০ বার আর স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র ৬ বার। অথচ ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিবছর রাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন হওয়ার কথা। প্রথম রাকসু ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্র ইউনিয়নের মনিরুজ্জামান মিয়া। সর্বশেষ ভিপি ছিলেন ছাত্রদলের রিজভী আহমেদ।

    কেমন রাকসু চান ছাত্রনেতারা ?

    কেমন রাকসু চান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। এমন প্রশ্নে যৌক্তিক কিছু মতামত উঠে এসেছে তাদের বক্তব্যে। চলুন দেখা যাক রাজনৈতিক নেতাদের ভাবনায় রাকসু। 

    একটা সুস্থ ক্যাম্পাসের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, একটা সুস্থ ক্যাম্পাসের জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য। কিন্তু বিভিন্ন মহল গত ৩ দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি বন্ধ করে রেখেছে। যা কখনোই কাম্য নয়। জুলাই বিপ্লবের পর রাকসু হওয়ার যখন প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তখনো সেই মহলগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমি যেটা দেখলাম রাকসু বিরোধী মহলগুলো ক্যাম্পাসে 'ডরম্যান্ট কন্ডিশনে' স্হায়ীভাবে থেকে যায়। যত ঝড় ঝঞ্ঝা বিপ্লব হোক এদের কেউ তাড়াতে পারে না।রাকসু নিয়ে কথাবার্তা চললেই এরা তা বন্ধ করতে পূর্ণোদ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    এই ডরম্যান্ট কন্ডিশনের কীটগুলোর বিপরীতে বিপ্লবী প্রশাসনকে 'অ্যান্টিবায়োটিকের' ভূমিকা পালন জরুরী ছিলো। কিন্তু তাদের ভূমিকা 'গোবেচারা প্যারাসিটামলের' মতো।

    দখলদারিত্বমুক্ত ও ভয়ের রাজনীতি থেকে মুক্ত একটি রাকসু চান ছাত্রদলের আহবায়ক সুলতান আহমেদ রাহী। যেখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না। তিনি বলেন, 'আমি চাই এমন রাকসু যেখানে ছাত্রসমাজ নিজের প্রতিনিধি নিজেই বেছে নিতে পারবে। দখলদারিত্বমুক্ত ও ভয়ের রাজনীতি থেকে মুক্ত একটি রাকসু, যেখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না। ছাত্রদল এমন একটি গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বমূলক ও সক্রিয় রাকসু চায়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রীর অধিকার, মতামত ও প্রয়োজনকে মর্যাদা দিয়ে কাজ করবে'। 

    বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, ‘রাকসু নিয়ে বর্তমান অবস্থা হলো, রাকসুর তফসিল ঘোষণা করা হয়নি এখনও পর্যন্ত। বিভিন্ন কারণে রাকসুর তফসিল ঘোষণা আটকে আছে। তফসিলের সবকিছুই রেডি কিন্তু কোনো এক কারণে তফসিল ঘোষণা করছে না। তাই নির্বাচন তফসিল দ্রুত ঘোষণা করা দরকার এবং গঠনতন্ত্র নিয়ে যে সংশোধনীগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলা সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ একটা গঠনতন্ত্র বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রাকসু হলে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে'। 

    ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক ধারাটি থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়কে লেজুড়ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির বেড়াজাল থেকে মুক্তি এবং শিক্ষার্থীদের যথাযথ অধিকার আদায়ের মাধ্যম রাকসু। দীর্ঘদিন ধরেই রাকসু নির্বাচনের দাবী জানিয়ে আসছি। রাকসু নির্বাচন হলে ছাত্রদের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো ভালোভাবে উঠে আসবে৷ আগের প্রশাসন গুলো  সরকারের ইশারা ইঙ্গিতে চলতো। কিন্তু, আমার মনে হয় বিপ্লবের পরে যে প্রশাসন এসেছে তারা রাকসু নির্বাচন দেওয়ার জন্য বসে আছে'।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      শাপলা দলীয় প্রতীক না হলে ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না: সারজিস

      অনলাইন ডেস্ক
      ১০ জুলাই, ২০২৫ ১০:৪১
      অনলাইন ডেস্ক
      শাপলা দলীয় প্রতীক না হলে ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না: সারজিস

      শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক না হতে পারে, তাহলে ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলার প্রতীক হতে আইনগত বাধা নেই। কারণ, জাতীয় ফল কাঁঠাল ইতিমধ্যে মার্কা হিসেবে আছে।

      বুধবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। শাপলাকে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বিধিমালার তফসিলভুক্ত না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে কোনো রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা পাবে না। এনসিপি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন চেয়ে যে আবেদন করেছে, সেখানে দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলাসহ তিনটি প্রতীকের নাম উল্লেখ করেছিল তারা।

      ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লিখেছেন, ‘শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়। জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ। একইভাবে ধানের শীষ, পাটপাতা এবং তারকাও জাতীয় প্রতীকের অংশ। শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক না হতে পারে, তাহলে ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না। আর যদি জাতীয় প্রতীকের যেকোনো একটি অংশ রাজনৈতিক দলের প্রতীক হতে পারে, তাহলে শাপলাও হতে পারবে।’

      সারজিস আলম আরও লিখেছেন, ‘জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলার প্রতীক হতে আইনগত বাধা নেই। কারণ, জাতীয় ফল কাঁঠাল অলরেডি মার্কা হিসেবে আছে। আর যদি মার্কা দেখেই ভয় পান, তাহলে সেটা আগে থেকেই বলেন!’

      মন্তব্য

      জুলাই ঘোষণাপত্রে’ চূড়ান্ত মতামত দিয়েছে বিএনপি

      অনলাইন ডেস্ক
      ১০ জুলাই, ২০২৫ ১০:২৮
      অনলাইন ডেস্ক
      জুলাই ঘোষণাপত্রে’ চূড়ান্ত মতামত দিয়েছে বিএনপি

      জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র দ্রুত চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে অন্যতম স্টেকহোল্ডার ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির কাছে সম্প্রতি পুনরায় এর খসড়া পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গল এবং গতকাল বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ খসড়া ঘোষণাপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণ করে কিছুটা সংযোজন-বিয়োজনের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত করেছে দলটি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এটির একটি কপি সরকারকে পৌঁছে দেবে বিএনপি। জানা গেছে, এ দায়িত্বে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

      গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উভয় বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ছাত্রদের মতো বিএনপিও চায় দ্রুত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হোক। এ জন্য তারা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি মূল্যায়ন করছে।

      বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিল। এ ঘোষণাপত্র নিয়ে তখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়। হঠাৎ ঘোষণাপত্রের বিষয়টি কেন সামনে আনা হলো, এর প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং তখন এ উদ্যোগের সঙ্গে সরকার সম্পৃক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছিল। অবশ্য পরে ৩০ ডিসেম্বর রাতে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই রাতে বৈঠক করে ৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ (ঐক্যের জন্য যাত্রা) কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। ওই কর্মসূচি থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়।


      এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়। বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো তখন ওই খসড়ার ওপর তাদের মতামত দেয়। পরবর্তী সময়ে ছাত্রদের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার পরদিন গত ১৬ জানুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এ ইস্যুতে সরকারের কার্যক্রম ধীরগতিতে চলতে থাকে। একপর্যায়ে এই দাবিতে গত ৩০ জুন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জুলাই আন্দোলনে আহতরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্প্রতি সরকারকে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় তাদের পক্ষ থেকে ওইদিনই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

      জানা যায়, গণতন্ত্রে উত্তরণের পাশাপাশি জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়ায় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের এই ভূখণ্ডের মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুগের পর যুগ সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। পাকিস্তান আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জন, এই ভূখণ্ডের মানুষের ওপর দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তান শাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়। এর পরের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ২০২৪ সালে কীভাবে

      ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান, সে প্রসঙ্গও রয়েছে জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়ায়। এ ছাড়া খসড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুটপাটের অপরাধগুলোর উপযুক্ত বিচার করার অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, আগের ওই খসড়ার সঙ্গে নতুন করে আরও বেশ কিছু ইস্যু যুক্ত করা হয়েছে।

      জানা গেছে, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপ, নারী আসন, নির্বাচনের পিআর পদ্ধতিসহ সংস্কারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগের গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে নতুন করে আরও ৩৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে এই শুল্কনীতি পুনর্বিবেচনার জন্য আমেরিকা সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

      বৈঠকে সংস্কার ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের রিপোর্ট তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। এর পর সংস্কারের বিভিন্ন ইস্যুতে মতামত দেন বিএনপি নেতারা। ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এরই মধ্যে সংসদে নারীদের আসন ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার ব্যাপারে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে। তবে তারা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, সে ব্যাপারে এখনো ঐকমত্য হয়নি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, তারা প্রচলিত পদ্ধতিতে (সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে) সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নির্বাচিত করার পক্ষে অবস্থান নেবেন। পাশাপাশি পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে নন তারা।

      স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য বৈঠকে বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কারের অনেক বিষয়ে এরই মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সরকার সেগুলো কেন বাস্তবায়ন করছে না। সরকারের উচিত অবিলম্বে এটা বাস্তবায়ন করা।

      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত