শিরোনাম
শেখ হাসিনার সঙ্গে আ.লীগেরও বিচার হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল
গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (০৯ জুলাই) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফখরুলের কাছে প্রশ্ন ছিল, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলন দমাতে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এখন এমন একটি দলের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?
এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল কদ্দুস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিনকে রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে দেখতে যান মির্জা ফখরুল। তাদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবসময়ই মনে করি, যে সমস্ত রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকবে, যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করবে, যেটা আওয়ামী লীগ করেছে- তাদের প্রতিটি ব্যক্তির শাস্তি হওয়ার প্রয়োজন। বিশেষ করে দলের প্রধান শেখ হাসিনার। তার বিচার কিন্তু শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি, তার সঙ্গে যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে, গণহত্যার সঙ্গে এবং এই ফ্যাসিবাদের আক্রমণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকেরই বিচার হবে। সেই হিসেবে আমরা দেখতে চাই, দলকেও (আওয়ামী লীগ) যদি আইনের আওতায় নিয়ে এসে দলগত হিসেবে বিচার করা হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করি।
তিনি বলেন, খুব ভালো করে জানেন, এই আওয়ামী লীগের নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, গুম খুনের সবচেয়ে বড় ভিক্টিম আমাদের দল বিএনপি। আমি নিজেও ১১২টা মামলার আসামি এবং ১৩ বার জেলে যেতে হয়েছে।
সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা মনে করেন যে নির্বাচন প্রয়োজন নেই আমার মনে হয় তারা আবার চিন্তা করবেন নির্বাচন প্রয়োজন জনগণের জন্য। একটা নির্বাচিত সরকার দরকার। যে নির্বাচনে জনগণের সম্পর্ক থাকবে। সে কারণেই আমরা বলেছি যে সংস্কারগুলো হচ্ছে প্রত্যেকটি সংস্কারের দাবি আমরাই তুলেছি সবার আগে। সংস্কার এবং নির্বাচন এর মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। দুটো একসাথেই চলতে পারে।
তিনি বলেন, দেশটাকে সকলে মিলে বাঁচাতে হবে এবং প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হচ্ছে দেশকে সঠিক ট্র্যাকে উঠানো। যত দ্রুত সেটা উঠানো যাবে ততই মঙ্গল।
এরপরে তিনি রাজধানীর আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য লালল সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিনকে দেখতে যান। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন।
পরে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই উপমহাদেশের অন্যতম সঙ্গীতশিল্পী। বিশেষ করে তিনি লালন সঙ্গীতে অদ্বিতীয়। গোটা বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। দীর্ঘকাল ধরে সঙ্গীত জগতে একচত্র প্রভাব অক্ষত রেখেছেন। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি কিডনির সমস্যায় আছেন। আমার সরকারের আছে আহবান এইরকম গুণী শিল্পী তার চিকিৎসার জন্য বোর্ড করা প্রয়োজন। তার সর্বোচ্চ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা যেন ব্যক্তিগতভাবে উদ্যেগ নিয়ে যেন তার সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এ সময় মির্জা ফখরুলের সাথে ছিলেন বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, সহসাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, জাসাস সভাপতি হেলাল খান ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন।
কার নেতৃত্বে আ.লীগের পুনর্বাসন হতে যাচ্ছে, জানালেন রাশেদ খান
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে সাবের-মান্নানদের কাঁধে সওয়ার হয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই প্রজেক্ট ভণ্ডুল হওয়ায় এখন পাটোয়ারী শেষ ভরসা।
রাশেদ লেখেন, আপা এখন জাতীয় পার্টিতে ভর করেছে। জাতীয় পার্টিতে যে অন্তঃকোন্দল দেখতে পাচ্ছেন, এটা স্রেফ মেকি। ভারতের নতুন ছক অনুযায়ী জাতীয় পার্টি সংস্কারের নামে একটা ধোঁকাবাজি চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারও জাপাকে সুযোগ দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি লেখেন, উপদেষ্টাদের মধ্যে যেহেতু আপা ও জাপা ভক্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে আপা সরাসরি ফিরে আসতে না পারলেও জাপার ঘাড়ে চড়ে আপাকে ফেরানোর বিষয়ে তারা ইতিবাচক। আর তারই অংশ হিসেবে ভারত ও আপার নতুন খেলোয়াড় শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মাঠে নামিয়েছে। যেখানে এসব পাটোয়ারীকে জেলে থাকার কথা। সেখানে তারা হতে যাচ্ছে আপা রক্ষার মূল খেলোয়াড়।
অন্তর্বর্তী সরকারের নখদর্পণে সবকিছু আছে দাবি করেছেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, কিন্তু তারা ভারতের ভয়ে কাবু হয়ে জাপা দিয়ে আপা ফিরে আসার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না। ইতোপূর্বে সাবের-মান্নানদের কাঁধে সওয়ার হয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিল। সেই প্রজেক্ট ভণ্ডুল হওয়ায়, এখন পাটোয়ারী শেষ ভরসা।
উল্লেখ্য, মজিবুল হক চুন্নুকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব করা হয়েছে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে। সোমবার (৭ জুলাই) পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সূত্র: আরটিভি
ক্রসফায়ার থেকে ফিরে আসা জামায়াত নেতা এখন এমপি প্রার্থী
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রসফায়ারের মুখ থেকে ফিরে আসা জামায়াত নেতা অধ্যাপক মাওলানা আলী আছগর এখন দলের এমপি প্রার্থী। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর) আসন থেকে নির্বাচন করবেন। দলীয় মনোনয়ন লাভের পর থেকেই তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকায় সজ্জন হিসেবে পরিচিত
মাওলানা আলী আছগর পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী তরবিয়ত সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি উপজেলার কলকতি গ্রামে। তিনি স্থানীয় শরৎনগর ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি বিষয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
১৯৮৫ সালে দলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হন। ১৯৯৯ সালে জামায়াতের রুকন হন। পরে ২০০০ সালে তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন।
জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে বহু জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় সাতবার কারাবরণ করতে হয়েছে। এসময় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় ৯টি মামলা। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর জেলজীবন কাটান তিনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে বিশেষ আইনে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তিন মাস কারাভোগের পর জামিন নিয়ে বের হতেই ডিবি পুলিশ পরিচয়ে জেলগেট থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় পাবনা শহরের আয়নাঘরে সাতদিন তাকে বন্দি করে রাখা হয়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ক্রসফায়ারে হত্যার উদ্দেশে নেয়া হয় পাবনার পদ্মার চরে।
জামায়াত নেতা অধ্যাপক মাওলানা আলী আছগর আমার দেশকে জানান, অন্ধকার আয়নাঘরে তাকে সাত দিন আটকে রাখা হয়। এসময় তার দু'হাত পেছন দিক থেকে বাঁধা ছিল। সবসময় পায়ে পরিয়ে রাখা হতো ডান্ডাবেরি। অজু, গোসল কিছুই করতে দেওয়া হয়নি তাকে। নামাজের সময় তিনি তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করতেন। মাঝে মধ্যে সামান্য খাবার খেতে দেওয়া হতো। কিন্তু তা ছিল খাবারের অনুপযোগী ।
তিনি জানান, আয়নাঘরের শেষ দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ তাকে সাদা একটি মাইক্রোবাসে তোলেন। সবার হাতেই ছিল কাটা বন্দুক। এরপর ক্রসফায়ারের উদ্দেশ্যে তাকে নেয়া হয় পাবনার পদ্মার চরে। সেখানে চলে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যার প্রস্তুতি।
তিনি যখন বুঝতে পারলেন আজকের রাতটাই তার জীবনের শেষ দিন, তাই বিচলিত না হয়ে বারবার স্মরণ করতে থাকেন মহান আল্লাহকে। এ অবস্থায় নিজেকে প্রস্তুত করলেন শাহাদাতের মৃত্যুর জন্য, আর মুখে জপতে থাকেন দোয়া-দরুদ।
অন্যদিকে সামান্য দূরে পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ কারো সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। কথা শেষ করে ক্রসফায়ার না দিয়েই তাকে ফিরে নিয়ে যায় সেই আয়নাঘরে। এর পরদিন তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় পাবনা কারাগারে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মহির উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, আলী আছগর একজন মজলুম আলেম। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তিনি অনেক জুলুমের শিকার হয়েছেন। বহুবার জেল খেটেছেন। শুধু দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করার কারণে একজন নিরপরাধ আলেমকে ক্রসফায়ারে হত্যা চেষ্টা একটি জঘন্য অপরাধ। জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত।
১৬ বছর নৌকায় ভোট চাওয়া আব্বাস উদ্দিন কুমিল্লা জেলার বিএনপি নেতা
প্রকাশ্য দিবালোকে নৌকা মার্কা ভোট চাওয়া এক ব্যক্তিকে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার। সম্পর্কে তিনি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার আপন বোনজামাই। ১৬ বছর আওয়ামী লীগের সাথে কাজকর্ম করেছেন তিনি। ৫ আগস্টের পরে বোল পাল্টিয়ে বিএনপির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার ।
জানা যায় , কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনি উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তাকে বহিষ্কার করা হয় । আর সেই স্থানেই অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া তার আপন বোনজামাই আব্বাস কমান্ডারকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদটি পুরস্কৃত করেন ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুসুম ভুঁইয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়ার ছোট ভাই। সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান আওয়ামী লীগের ক্যাডার নিয়ে চলে। তিনি গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাজুল ইসলামের পক্ষে কাজ করায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখন পুনরায় দলে নেয়া হয়। এছাড়াও আব্বাস উদ্দিন ছেলে আব্দুল কাদের নিয়ন্ত্রণ করার মেঘনা উপজেলার মাদক কারবার ।
আব্বাস কমান্ডার চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত। ১৭ বছর দলের সাথে ছিল না। নির্বাচনে সে নৌকায় ভোট চেয়েছে। এমন অনেক ছবি আছে সবার কাছে। কেউ কিছু বললে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পাঁয়তারা করে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। মেঘনা উপজেলার সব সিন্ডিকেটের প্রধান আব্বাস কমান্ডার । তার কথা ছাড়া মেঘনা উপজেলায় কোনো কাজকর্মই হয় না।
মেঘনা উপজেলা বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান বলেন, কিছু দিন আগে সরকারি চাল ধরেছিল প্রশাসন । এগুলোর সাথে আব্বাস কমান্ডারের লোক জড়িত। সেলিম ভূঁইয়া তার বোনকে বানিয়েছেন উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। আরেক বোন মহিলা দলের উপদেষ্টা। ১৬ বছর আব্বাস কমান্ডার বিএনপি'র কোনো পদে ছিলেন না। তিনি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়ে তাদের সাথেই রাজনীতি করেছে। নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন, এটা সবাই দেখেছেন।
মেঘনা উপজেলায় মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্বাস উদ্দিন কমান্ডারের ছেলে আব্দুল কাদের বলেন, এগুলো সব মিথ্যা কথা। আমি ঠিকাদারি কাজ করি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এগুলা ছড়াচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে হেয় করার জন্য একটি মহল এই কাজগুলো করছে। ছবি থাকলেই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে নাকি। এ রকম অনেক ছবি আছে । সেলিম ভূঁইয়া আগামীতে এমপি হবে। তাকে ঠেকানোর জন্যই আমাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল ।
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন কেউ টেন্ডারবাজি চাঁদাবাজি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো তথ্য উপাত্ত থাকলে থাকে আমাদের কাছে পাঠান। আমরা দলের হাইকমান্ডের কাছে পাঠাবো ।
এই বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল হয়। তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলে কোনো উত্তর দেননি।
আবরার ফাহাদের দেখানো পথে এনসিপি রাজনীতি করছে : নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘দিল্লি না ঢাকা’ সেই স্লোগান উঠেছিল আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ মিছিল থেকে। আজকের এই দিনে আমরা আবরার ফাহাদকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আবরার ফাহাদ আমাদের যে পথ দেখিয়ে গেছেন, এনসিপি সেই পথেই রাজনীতি করছে। তিনি বাংলাদেশপন্থি পথ, ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী পথ, আগ্রাসন বিরোধী পথ দেখিয়ে গেছেন। সেই পথেই জাতীয় নাগরিক পার্টি রাজনীতি করছে। সেই পথ ধরেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের রায়ডাঙ্গা গ্রামের গোরস্থানে আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ থেকে আবু সাইদ সকল শহীদদেরকে আমরা স্মরণ করি। ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের আন্দোলনের সময় গত ১৬ বছরে যারা গুম খুন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে আমরা সকল শহীদ ও নির্যাতিতদের ধারণ করি। দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রায় আমরা শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করছি। সেই শহীদরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখেছিল। যে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব মর্যাদার বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখেছিল। যে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতির উত্থান তারা করতে চেয়েছিল। আমরা সেই রাজনীতি করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আবরার ফাহাদ বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বুয়েটের হলে ছাত্রলীগ দ্বারা নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আবরার ফাহাদের অপরাধ ছিল তিনি দেশের জন্য, দেশের পক্ষে কথা বলেছিলেন। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লিখেছিলেন। বাংলাদেশের সাথে ফেনী নদী চুক্তি করা হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে কথা বলেছিলেন বলে ভারতীয় তাঁবেদার সংগঠন, ফ্যাসিস্ট সংগঠন ছাত্রলীগ সারারাত নির্মম নির্যাতন করে তাকে হত্যা করে। আমাদের ভাই আবরার ফাহাদ শহীদ হন। ২০১৯ সালেই আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদে বুয়েট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা বাংলাদেশে আমরা দিন দিন আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম। সেই আন্দোলন আমাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম মাইলফলক।
নাহিদ আরও বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের পরে ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ হত্যা অনেক বড় ঘটনা ছিল আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে। আবরার ফাহাদের মৃত্যু এবং মৃত্যুর প্রতিবাদে আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ভারতের আধিপত্য বিরোধী আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়েছিল।
এ সময় আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, এনসিপি নেতা সাইফুল্লাহ হায়দার, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আবু সাঈদ লিয়ন, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, ফিহাদুর রহমান দিবস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও এনসিপির অঙ্গ সংগঠন যুব শক্তি ও শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য