ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ফেসবুক প্রোফাইল লাল করার আইডিয়া দিয়েছিলেন যিনি

অনলাইন ডেস্ক
৬ জুলাই, ২০২৫ ২১:৮
অনলাইন ডেস্ক
ফেসবুক প্রোফাইল লাল করার আইডিয়া দিয়েছিলেন যিনি

গত বছরের ২৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ নিহতদের স্মরণে সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা হত্যা ও নির্যাতনের শিকারদের প্রতি সহমর্মিতা ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে চোখে-মুখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি তোলার এবং ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার লাল করার কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এই কর্মসূচির পেছনের পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি খোলামেলা কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যখন গণহত্যার পরিবর্তে নাটকীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় শোক ও কালো পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দেয়, তখন আবু সাদিক কায়েম আমার কাছে পরামর্শ চান। আমি তাকে বললাম, আমরা পাল্টা কর্মসূচি দেব। তারা যেহেতু কালো বেছে নিয়েছে, আমরা লাল বেছে নিই।

ফরহাদ আরও বলেন, আইডিয়াটি শেয়ার করার পর সাদিক কায়েম বললেন, এটা কার্যকর হতে পারে। এটাই চূড়ান্ত করা হলো। আমরা একটি প্রেস রিলিজ তৈরি করে সমন্বয়কদের কাছে পাঠাই, এবং তারা এটি ঘোষণা করেন। পরের দিন দেখলাম, সমাজের সব শ্রেণির মানুষ তাদের ফেসবুক প্রোফাইল লাল করে আপডেট করছেন। এমনকি ড. ইউনূস এবং খালেদা জিয়ার ফেসবুক পেজেও লাল প্রোফাইল শেয়ার করা হয়।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাষ্ট্র কালো পতাকার প্রতীক বেছে নিয়েছে, তাই আমরা লাল বেছে নিলাম। লাল রক্তের প্রতীক, যা দিয়ে আমরা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে পারি। এজন্য আমরা মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ এবং ফেসবুক প্রোফাইল লাল করার কর্মসূচি ঘোষণা করি।

ফরহাদ জানান, এই কর্মসূচির পেছনে বড় কারণ ছিল তখনকার পরিস্থিতি। আমরা তখন অনলাইন ও সফট কর্মসূচির ওপর নির্ভর করছিলাম। হার্ড কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে দেখা গেল, প্রচুর গ্রেপ্তার ও মামলা হচ্ছে। তাই আমরা সফট কর্মসূচির দিকে মনোযোগ দিই। লাল প্রোফাইল কর্মসূচি যখন ব্যাপক সাড়া পেল, তখন আমরা অনুপ্রাণিত হলাম এবং পরে মাঠের কর্মসূচিতে যাই। প্রায় এক সপ্তাহের সফট কর্মসূচির শেষ ধাপ ছিল এই লাল প্রোফাইল কর্মসূচি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সীমান্তে দাদাদের বাহাদুরির দিন শেষ: নাহিদ ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক
    ৬ জুলাই, ২০২৫ ২০:২১
    অনলাইন ডেস্ক
    সীমান্তে দাদাদের বাহাদুরির দিন শেষ: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লংঙ্ঘন করে গ্রেনেড মারে, বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। আমরা এসব আগ্রাসন আর মেনে নেব না।

    দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সীমান্তে অনেক বাহাদুরী হয়েছে দাদাদের, আজ সেই বাহাদুরীর দিন শেষ হয়েছে। যদি আর কোনো সীমান্তে কোনো ধরনের পাঁয়তারা করা হয়, সীমান্তে আগ্রাসন চালানো হয় এবং সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যার চেষ্টা চালানো হয়, তাহলে আমরা সীমান্তে লংমার্চ ঘোষণা করব। আমাদের সীমান্ত আমরাই রক্ষা করব। 

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ও রেশম শিল্পকে নিয়ে তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমের রাজধানী। কিন্ত দুঃখের বিষয় এতো ঐতিহ্যবাহী জেলা হওয়া শর্তেও এই আমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে, বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে এবং আম রপ্তানি করতে কোনো সরকারই উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেশম শিল্পের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু এই রেশম শিল্প দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই জাতীয় শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এসব শিল্পকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া আপনারা দীর্ঘদিন যাবত ট্রেনের জন্য আন্দোলন করছেন, আপনারা সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটা ট্রেন চান। আপনাদের এই দাবির সাথে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন জানাচ্ছি।

    সংস্কার ও জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুথানের পরে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চেয়েছি, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার চেয়েছি ও জুলাই আন্দোলনের ঘোষণাপত্র চেয়েছি। আমরা আজ এখানে এসেছি জুলাই অভ্যুত্থানের গণবার্তা নিয়ে। যে বার্তা একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়।

    এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    মন্তব্য

    কিছু দল নির্বাচন নিয়ে ডাবল স্ট্যান্ডবাজি করছে : রিজভী

    অনলাইন ডেস্ক
    ৬ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৪২
    অনলাইন ডেস্ক
    কিছু দল নির্বাচন নিয়ে ডাবল স্ট্যান্ডবাজি করছে : রিজভী

    জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু দল নির্বাচন নিয়ে ডাবল স্ট্যান্ডবাজি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    রোববার (৬ জুলাই) দুপরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জামায়াতকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, আপনারা একটি রাজনৈতিক দল, আপনাদের অতীত নিয়ে কথা বলতে চাই না। মানুষ সবাই জানে। আজকে আপনারা বলেন, নির্বাচন পেছাতে হবে। কেন পেছাতে হবে? প্রায় দেড় বছরের কাছাকাছি- এর মধ্যে মানুষের প্রয়োজনীয় যে সংস্কার, সেই সংস্কার কি সম্ভব নয়? তাহলে নির্বাচনকে কেন আপনারা টার্গেট করেছেন? একদিকে বলছেন নির্বাচন পেছাতে হবে, আবার কোথাও কোথাও আপনারা নমিনেশন দিচ্ছেন। বলে আসছেন আপনারা, এইটা হলো আমাদের প্রার্থী। এটাও তো দ্বিচারিতা, ডাবলস্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন পেছানোর কথা বলছেন একদিকে, ওইদিকে নমিনেশনও দিচ্ছেন।

    এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, উনাদের সম্পর্কে আমাদের রাজনৈতিক যে স্টাডি, যুগ যুগ ধরে তারা জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝতে চায় না। যদি তারা জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারতো, তাহলে তারা একাত্তরের বিরোধিতা করত না। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার সাথে গিয়ে এরশাদের মতো একজন স্বৈরাচারের সাথে একটা ইয়ের নির্বাচনে তারা অংশ নিত না। জনগণের মূল্যকে তারা কোনোদিনই পাত্তা দিতে চায় না, তারা সব সময় নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লাভের আশায় কাজ করেন। আর এই ফায়দা লুটতে গিয়ে তারা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এখন নির্বাচন করলে দুই-তিনটার বেশি উনারা পান না। উনারা কোনোদিনই অঙ্গীকার রক্ষা করেননি, যেটি বেগম খালেদা জিয়া করেছেন, তারেক রহমানও অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন।

    বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিলেন তাদেরও অনেকের এখনকার কথাবার্তা শুনে আমার কাছে ভিন্ন রকম মনে হয়।ইমাম হোসেনের কারবালার যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধ অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দিয়েছিল এজিদ বাহিনী, সেই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত তিনি ন্যায়ের পতাকা দিয়ে লড়াই করে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। সেখান থেকে শিক্ষা তারা নিয়েছেন কি না জানি না। কয়েকদিন আগে বললেন নির্বাচনের পরিবেশ নেই, আবার বললেন নির্বাচন পেছাতে হবে। কেন নির্বাচন পেছাতে হবে? ১৫-১৬ বছরের যে আন্দোলন, এটা তো গণতন্ত্রের জন্য, তাহলে নির্বাচন কী দোষ করল? একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই যে এত আত্মদান, এত মানুষ অদৃশ্য হয়ে গেল, এত মানুষ গুম হয়ে গেল, আয়না ঘরে নিপীড়নের শিকার হলো, মা-মেয়ে নির্যাতন হলো, বছরের পর বছর মানুষকে আয়না ঘরে বন্দি করে রাখা হলো, অনেককেই আমরা এখনো খুঁজে পাইনি। অনেকের লাশ পাওয়া গেছে বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালায়। এই ধরনের এজিদিও দুঃশাসনের ঘটনা ঘটেছে এই দেশে বিগত ১৫-১৬ বছর।

    রিজভী বলেন, আমরা চেয়েছি- মানুষের নাগরিক অধিকার, প্রকৃত গণতন্ত্র। প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা থাকলে সত্য কথা উচ্চারণ করা যায়, ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম করা যায়। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন মানুষের প্রত্যাশা, যেটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ হবে। এটার জন্যই তো ১৫-১৬ বছরের লড়াই।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের কী দোষ হলো যে, নির্বাচন পেছাতে হবে? এটা কি কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য বলা হচ্ছে? ইমেজ বৃদ্ধি করার জন্য তারা কি নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছেন, এই প্রশ্ন তো আজকে জনগণ মনে মনে করছে। আমার মনে হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কাউকে একটু সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনের সময় বৃদ্ধি করবেন না আশা করি। তারা সেই কাজে যাবেন না, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে সময়ের কথা তারা বলেছেন, সেই সময়ের মধ্যে তারা একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির কবির খোকন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল হক জামাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, যুবদল নেতা ওমর ফারুক কাওসার প্রমুখ।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মির্জা ফখরুল

      নির্বাচনকে যারা বিলম্বিত করতে চায়, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়

      অনলাইন ডেস্ক
      ৬ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৪১
      অনলাইন ডেস্ক
      নির্বাচনকে যারা বিলম্বিত করতে চায়, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয়

      যারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

      মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের পর, আবারো নতুন করে প্রস্তাব দিয়ে সংস্কারকে বিলম্বিত করা হচ্ছে।’

      তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন ব্যক্তি, একটি গোষ্ঠী বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাবে, আর জনগণ তা বিশ্বাস করবে? জনগণ বিশ্বাস করছে না। শহুরে কতিপয় মানুষই দেশের জনগণ নয়।’

      বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির সংস্কার নিয়ে কিছু দল কথা বলছে। সংস্কার বিষয়ে বিএনপির আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারের নামে দুর্বল করার প্রস্তাবকে বিএনপি সমর্থন করে না।’

      সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা যেমন অনেক তেমনি হতাশা ও উৎকণ্ঠাও রয়েছে জনমনে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা যেমন ছয়টি সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি তেমনি ঐকমত্য কমিশনের প্রতিদিনের আলোচনায় আমাদের প্রতিনিধিরা কার্যকর অংশগ্রহণ করে চলেছেন।

      তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছার জন্য আমাদের প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং অনেক বিষয়ে ছাড় দিয়ে হলেও একমত হয়ে কমিশনের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াসকে সহযোগিতা করেছেন।’

      বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দীর্ঘ আলোচনার পর সংস্কার কমিশনগুলো যে সব প্রস্তাব পেশ করেছেন, তার বিপরীত কিংবা নতুন নতুন প্রস্তাব উত্থাপন এবং তা নিয়ে অনেক সময় অচলাবস্থা সৃষ্টির কারণে কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী বলেই আমাদের প্রতিনিধিরা ধৈর্য ধরে আলোচনা শুনছেন এবং তথ্য প্রমাণ ও যুক্তি দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমিশনকে সহযোগিতা করছেন।’

      রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার নামে জনগণের নির্বাচিত সংসদ, নির্বাচিত সরকার তথা রাষ্ট্র কাঠামোকে দুর্বল ও অকার্যকর করার কোন প্রস্তাবের যুক্তিসঙ্গত বিরোধিতা সংস্কারের মূল উদ্দ্যেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে বিএনপি মনে করে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং জনগণকে জবাবদিহীতা করতে বাধ্য কোনো সরকারকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দুর্বল ও অকার্যকর করা অবশ্যই সংস্কারের মূল আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘষিক। ফলে এমন কোনো প্রয়াসে সমর্থন জানানো সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি বলে তা থেকে বিরত থাকার অর্থ সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা নয় বরং এই প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করা।’

      বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৬টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশনের বিষয় এখনও আলোচনায় আসেনি। তবে ওই কমিশনে আমাদের দলের প্রতিনিধিদের কাছে আমরা যতটুকু জেনেছি তাতে র‌্যাব বিলুপ্তিসহ প্রায় সব বিষয়েই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’

      দুদক সংস্কার কমিশনে কতিপয় ছাড় দিয়ে ৪৭টি সুপারিশের ৪৬টিতেই আমরা সম্মতি জানিয়েছি। শুধু ২৯ নম্বর সুপারিশে আইনের মাধ্যমে করার পরিবর্তে আমরা আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিদ্যমান বিধান অব্যাহত রাখার কথা বলেছি। আমরা মনে করি এটা না হলে দুদকের কার্যক্রমকে অহেতুক বিলম্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

      জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮টি সুপারিশর মধ্যে ১৮৭টি প্রস্তাবে আমরা একমত হয়েছি এবং ৫টিতে আংশিক একমত হয়েছি। ৫টি সুপারিশে আমরা ভিন্নমত প্রদান করেছি। ১১টি প্রস্তাবে আমরা একমত হতে পারিনি- যেগুলো দেশে প্রদেশ সৃষ্টি, পদোন্নতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক অসংগতির বিষয়ে। উল্লেখ্য, পদোন্নতির বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় কার্যকর রয়েছে।

      বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ৮৯টি সুপারিশের মধ্যে ৬২টি সুপারিশে আমরা একমত হয়েছি এবং ৯টিতে আংশিকভাবে একমত হয়েছি। ১৮টিতে ভিন্নমত পোষণ করে যুক্তিসহ পরামর্শ দিয়েছি। উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ক সব প্রস্তাবে আমরা একমত হয়েছি। তবে এর কিছু বিষয়ে নির্বাচিত সংসদে আইন প্রণয়ন কিংবা ইতোমধ্যে কোনো অধ্যাদেশ হলে তা সংসদে রিটিফাই ও সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন হবে।

      নির্বাচনী ব্যবস্থা বিষয়ক সংস্কার কমিশনের ২৪৩টি সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে আমরা একমত হয়েছি এবং ১৪টিতে আংশিকভাবে একমত হয়েছি। ৬৪টিতে আমরা ভিন্নমতসহ একমত হয়েছি। অর্থাৎ এসব বিষয়ে পরিবর্তনে একমত হয়ে বিভিন্ন আইনে ও বিধিতে সংশোধনী অধিকতর কার্যকর হবে তা প্রস্তাব করেছি। ২৪টি বিষয়ে আমরা একমত হতে পারিনি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংক্রান্ত ১২টি আইন ও ৬টি নীতিমালা রয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংবিধানেও নির্দিষ্ট বিধান আছে। এসব প্রস্তাবের বেশ কয়েকটি বাস্তাবায়নযোগ্য নয় এবং কয়েকটি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে স্পষ্টতই বাধা সৃষ্টি করে তাদের সাংবিধানিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আনীত সব প্রস্তাবে একমত হয়েছি। আইনি সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

      সংবিধান সংস্কার কমিশনের ১৩১টি সুপারিশে আমরা দফা ওয়ারি মতামত দিয়েছি। অধিকাংশ সুপারিশে একমত হয়েছি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘৭০’ অনুচ্ছেদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ। দুই বিষয়েই আমরাই ছাড় দিয়েছি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার বিধান বিশ্বের কোথাও না থাকার পরও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমরা সম্মত হয়েছি। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়েও আমরা আমাদের প্রস্তাব থেকে সরে এসে একমত হয়েছি।

      জাতীয় সংসদে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সহ আসন সংখ্যার অনুপাতে সভাপতির পদ দিতেও আমরা সম্মত হয়েছি। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংক্রান্ত আর্টিকেল ৪৯ পরিবর্তনে আমরা সম্মত হওয়ায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

      এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, ন্যায়পাল আইন যুগোপযোগী করা, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা বিন্যাসে সংস্কার আনার জন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ সংশোধন ও আইনের মাধ্যমে বিশেষায়িত কমিটি গঠনেও আমরা একমত হয়েছি। বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সম্মত হয়ে আমরা তা বিচার বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধমে বাস্তবায়নে পরামর্শ দিয়েছি। কারণ ইতোপূর্বে ১৯৮৮ সালে এমন উদ্যোগকে উচ্চ আদালত বাতিল করে দিয়েছিল।

      এমন বহু সংস্কার প্রস্তাবে শুধুই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমরা একমত হয়েছি যেগুলো বাস্তবায়ন অত্যন্ত দূরুহ এবং যে উদ্দেশ্যে এসব প্রস্তাব তা অর্জনের সাফল্য প্রশ্ন সাপেক্ষ। রাষ্ট্র পরিচালনার এবং সংসদীয় কার্যক্রম দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা যুক্তিগ্রাহ্য মতামত দিয়ে আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।

      ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার কমিশনগুলোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও নিত্য নতুন এমন সব প্রস্তাব আসছে যেগুলো রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সংসদ পরিচালনায় বিপুল প্রভাব ফেলবে। এসব প্রভাব ইতিবাচক হলে অবশ্যই তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের মালিক জনগণকে সম্পৃক্ত না করে তাদের প্রতিনিধিত্ব কিংবা প্রত্যাশার ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন করার অধিকার কোনো ব্যক্তি দল কিংবা কমিশনের আছে কিনা তা বিবেচনায় নিতে হবে। এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি বলে আমরা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি।’

      দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপি শুধু টিকে থাকেনি বরং অধিকতর শক্তিশালী ও জনপ্রিয় হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শত শহীদের রক্তে, গুম, খুনের শিকার সহকর্মীদের আত্মত্যাগে আর লাখো নেতাকর্মীর অবর্ণনীয় দুঃখ-শোকে বিএনপির ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে। এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি ও সমর্থ এবং দীর্ঘ দিন রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিএনপি দেশে আবারো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে আমরাই সবচেয়ে সক্রিয়। ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে অধিক ক্ষমতা দিলে যেমন ফ্যাসিবাদ কায়েম হয় ঠিক তেমনি নির্বাচিত সরকার এবং সংসদকে ক্ষমতাহীন করলে রাষ্ট্র দুর্বল, ভঙ্গুর ও অকার্যকর হয়।’

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        তারেক রহমান

        ন্যায় ও ইনসাফ চালু না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে

        অনলাইন ডেস্ক
        ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১২
        অনলাইন ডেস্ক
        ন্যায় ও ইনসাফ চালু না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে
        বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

        ন্যায় ও ইনসাফ চালু না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

        এ সময় গত ১৬ বছরে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ভাঁওতাবাজীর নির্বাচন, মানুষের ভোটাধিকার হরণ, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা, সন্ত্রাস, হানাহানি ও দেশের টাকা বিদেশে পাচারসহ এক অবর্ণনীয় শোষণ ও জুলুমের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায়ে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ রাখা এবং তাকে সুচিকিৎসা বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল।

        তিনি আরও বলেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া নিষ্ঠুর আওয়ামী নেতাদের পৈশাচিক দমন-পীড়ন ছিল এজিদ বাহিনীর সমতুল্য। আজও ইমাম হোসেন (রা:) ও তার ঘনিষ্ঠজনদের আত্মদানের চেতনায় দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। আর কোনওভাবেই যাতে নির্দয় অত্যাচারীর অভ্যুদয় না ঘটে সেজন্য ইমাম বাহিনীর যুদ্ধ আমাদের সবসময় প্রতিরোধের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করবে।

        পবিত্র আশুরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের জন্য অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় একটি দিন ১০ মহররম। বিশ্বের ইতিহাসে এই দিনটিতে অসংখ্য ঘটনা সংঘটিত হয়। তাই এই দিনটির মহিমা অসীম। এক বিয়োগান্তক বিষাদময় ঘটনার স্মৃতি বিজড়িত এদিন-যা পবিত্র আশুরা হিসেবে পালন করা হয়। অন্যায় অবিচার জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) এ দিনে কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। এই দিন শোক, শ্রদ্ধা ও আত্মত্যাগের দিন।

        জাগতিক অন্যায় ও দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং ইমাম হোসেন (রা:) এর আত্মত্যাগ বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার মুসলমান ও বিশ্ববাসীর জন্য এক মহিমামণ্ডিত অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমাম হোসেনের কষ্ট ও শাহাদাত এবং ইসলাম বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি যে আত্মত্যাগ করেছিলেন তা দুনিয়াতে এক বিশাল প্রেরণার উৎসস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে সৃষ্টিকর্তা কেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, তাকওয়া, ত্যাগ ও মানবিক মর্যাদার মর্মবাণী প্রকাশিত হয়।

        তিনি আরও বলেন, হয়রত হোসেন (রা:) এর শাহাদাত অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়ণের বিরুদ্ধে এক নজীরবিহীন আদর্শিক সংগ্রামের উদাহরণ। ক্ষমতার প্রতি নিবিড় নিবিষ্ট মোহে আচ্ছন্ন থেকে যারা ইনসাফ ও মানবতাকে ভুলুণ্ঠিত করেছিল তাদের বিরুদ্ধেই ইমাম বাহিনী যুদ্ধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল। কারবালায় ইমাম বাহিনীর শাহাদাত বরণ সর্বকালে দেশে দেশে অত্যাচারির কবল থেকে মুক্ত হতে নিপীড়িত মজলুম মানুষকে উদ্দীপ্ত করে আসছে।

        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত