ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান হচ্ছে নতুন মেরুকরণ। বিএনপির পাল্টা শক্তি হিসেবে উঠে আসতে সক্রিয় হয়ে উঠছে একাধিক ইসলামপন্থী দল। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য ছোট দলগুলো একযোগে নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশে সমঝোতার ভিত্তিতে এগোচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—সব আসনে একক প্রার্থী দিয়ে একটি শক্তিশালী ‘বিকল্প ভোটবাক্স’ তৈরি করা, যাতে বিএনপির বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা যায়।
শিরোনাম
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে হাসনাত আব্দুল্লাহ
‘১৬ বছরে যা করতে পারেন নাই আমরা ৭ মিনিটে তা করেছি’
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘দেশে ঐক্যমতের মূল কাঠামোতে ও জুলাই সনদের বিরোধিতা করে একটি পক্ষ আমাদের বলে ৩০ মিনিটে নাকি রাজপথ থেকে আমাদের ফাঁকা করে দেবে। আমি তাদেরকে বলতে চাই, ১৬ বছরে যাদের কিছু করতে পারেন নাই আমরা সাত মিনিটে তা করে দেখিয়েছি। আমাদের হুমকি ও মৃত্যুর ভয় দেখাবেন না।’
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ফুলবাড়ী নিমতলা মোড়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘পক্ষটি আরও বলে, আমরা নাকি আবেগে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছি। মনে রাখবেন, আবেগ ছিল বলেই দেশ প্রেম ছিল। আমরা রক্ত ও জীবন দিতে জানি, লাগলে রক্ত আরও দেব, তবু পুরনো ধাঁচে দেশকে ফেরাতে দেব না।’
পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। প্রায় ৩৩ হাজার আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণসহ চোখ হারিয়ছেন। শহীদদের আত্মা ও স্বজনদের আহাজারি বাতাসে ভাসছে, এখনো থামেনি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যারা ফের ওই পতিত শক্তিকে এক্সিট দিতে চায়, তারা এ দেশের মানুষের রাজনীতি করে না। তাদের সংযোগ অন্য কোথাও।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশ ও দেশের মানুষের জীবন মান এবং সার্বিক পরিবর্তন করতে হলে কার্যত সংস্কার ও সংবিধান পরিবর্তনের বিকল্প নেই।’
পথসভায় এনসিপির মূখ্য সংগঠক নাসির পাটোয়ারী বলেন, ‘জানি আপনারা এখন অনেক ভালো আছেন। কারণ এদেশের মানুষ এখন স্বাধীনভাবে বসবাস করছে। হাজারো শহীদ ও হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে পঙ্গু করে হাসিনা ভারতে পালিয়ে দাদার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তাকে ধরে এনে বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করাতে হবে। জুলাই রেজিম সংবিধানে সংযোজন ছাড়া আমরা সংকটে পড়ব। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে।’
দেশের এ পরিস্থিতিতে কীসের নির্বাচন : জামায়াত আমির
এখন দেশের এ পরিস্থিতিতে কীসের নির্বাচন? আগে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আগে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমরা আশা করি, যদি মৌলিক বিষয়গুলোতে কার্যকর সংস্কার করা যায় তাহলে একটা ভালো নির্বাচন হবে। সংস্কার করতে হবে এবং ভালো নির্বাচনও করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময়ই সহিংসতার বিরুদ্ধে। আমরা সব সময় মব পলিটিক্সের ঘোর বিরোধী। এটা ১৯৭২ সাল থেকেই আমরা বলে আসছি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ শেষে তিনি বিকেল ৩টায় আয়োজিত জনসভায় যোগদানের জন্য রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
জামায়াতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির নেতা
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা মো. দিদারুল আলম।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখার আয়োজনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশে সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।
দিদারুল আলম জাতীয় পার্টির চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। তিনি সীতাকুণ্ড কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ওবায়দুল হকের (র.) নাতি ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি, আদর্শ ও কর্মকাণ্ড ভালো লাগায় আমি এখন জামায়াতে যোগদান করেছি। দুনিয়াতে যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে থেকে ইসলামের খেদমত করে যাব।’
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. তাহের বলেন, কিছুদিন আগে জামায়াতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। শুক্রবার সকালে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশে সেখানে তিনি জামায়াতে ইসলামের ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। তিনি আমৃত্যু পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে থেকে ইসলামের খেদমত করে যাবেন বলে জানান।
তাকে বরণ করে নেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চট্টগ্রাম মহানগরী ভারপ্রাপ্ত আমির মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমানসহ জেলা উপজেলার জামায়াতের বিভিন্ন নেতারা।
বিএনপির পাল্টা শক্তি হতে পারে ইসলামী দলগুলো
তবে এ উদ্যোগকে এখনই ‘জোট’ হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দলগুলো। দলগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ইতিমধ্যে ইসলামপন্থী কওমি ঘরানার পাঁচটি দলের মধ্যে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠিত হয়েছে, যারা সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো নির্ধারণে কাজ করছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, মানুষ এখন একটি বিকল্প শক্তিকে সামনে আনতে চায়। সে জন্য একটি সম্মিলিত জোটের চিন্তা চলছে। আমরা কারো বিপক্ষে না বরং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভালো ফলের চেষ্টা করব। সর্বোচ্চ কৌশল নিয়ে এগোবো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না—এমন ধারণা থেকে ইসলামপন্থী ও মধ্যপন্থী দলগুলো বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করছে। এই দলগুলো সংবিধান সংস্কার, নির্বাচনী পদ্ধতির পরিবর্তন, সরকারপ্রধানের একক নিয়োগক্ষমতা হ্রাসসহ নানা বিষয়ে প্রায় অভিন্ন মত পোষণ করে।
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসসহ অনেক দল সংসদের উচ্চকক্ষে এবং নিম্নকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির পক্ষে মত দিচ্ছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি বদলের বিষয়েও তাদের ঐকমত্য রয়েছে।
বিএনপি যদিও সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেছে, তবে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির জটিলতা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন সম্ভব নয়—এমন মত দিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে অবস্থানগত পার্থক্য তৈরি করেছে। এ ব্যবধানই ইসলামপন্থীদের মধ্যে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার জায়গা করে দিচ্ছে।
ইতিমধ্যে ইসলামী আন্দোলন ‘সংস্কার চাই’ দাবিতে এক মহাসমাবেশ করে, যেখানে জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু বিএনপির কেউ ছিলেন না। এতে বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যুতে ইসলামপন্থী দলগুলো বিএনপির বিরুদ্ধে একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরির দিকে এগোচ্ছে।
চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন গত এপ্রিলে ইসলামি দলগুলোকে এক মঞ্চে আনার চেষ্টা শুরু করে। তখন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিস—এই চারটি নিবন্ধিত দল তার সঙ্গে সমঝোতায় আসে। এরপর জামায়াতের সঙ্গেও কয়েকবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন হবে জামায়াতসহ ইসলামপন্থীদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। তাই একটি নীতিগত সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনা চলছে। এখনো আনুষ্ঠানিক জোট হয়নি। নির্বাচনী তফসিল, প্রার্থী বাছাই ও মাঠপর্যায়ের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জোট গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এবারের নির্বাচন হবে আলেম-উলামা পীর মাশায়েখসহ দেশ প্রেমিক জনতার উপর জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার নির্বাচন।
আগামী নির্বাচনে ইসলামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীমও। তিনি বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে প্রতিটি আসনে ইসলামপন্থীদের একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। ইসলামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সব আসনে প্রার্থী দেবে।’
এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ইসলামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই। এ লক্ষ্যে আমরা সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’
‘দেশে আ. লীগ বলে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না’
জনগণের বিরুদ্ধে যদি কোনো রাজনৈতিক দল অবস্থান নেয়, সেই দল অটোমেটিক বিলুপ্ত হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভুল রাজনীতি করেছে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে, লুটপাট করেছে। জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ বিলুপ্তির পথে চলে যাবে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ বলে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না।
শুক্রবার (৪ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত ‘সারাদেশের বিভিন্ন স্তরে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ দ্রুত সৃষ্টি করার দাবিতে’ প্রতীকী তারুণ্য সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এটা নিষিদ্ধ করা না করার বিষয় নয়। তাদের ভুলের রাজনীতির কারণে বাংলাদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সমর্থন করবে না। আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আমরা বিজয় লাভ করেছিলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। যে আন্দোলনটা শুরু হয়েছিল ১৭ বছর আগেই। এই বিজয়ের মধ্যে আমাদের আকাঙ্ক্ষাগুলো ছিল মানুষ শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে। এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি যারা হবেন, তারা যেন নিজেদেরকে মোগল সম্রাট হিসেবে না ভাবেন- সেই ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটবে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিসহ সরকারি কর্মকর্তারা জবাবদিহিতার আওতায় আসবেন। সমস্ত কিছুর মধ্যে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে এবং সরকার জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে। রাষ্ট্র যখন গণতান্ত্রিক হয়, সরকার তখন জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কিছুদিন আগে একটা আন্দোলন হলো। সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারা বললেন, তাদেরকে নাকি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। কেন যাবে না? তিনি ঘুষ খাবেন, দুর্নীতি করবেন, ১৪ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী ঢাকা শহরে দুইটা বাড়ি বানিয়ে ফেলবেন, বিদেশে ছেলে-মেয়েকে পড়াবেন। এই ঘটনায় একজন মন্ত্রী হলে বলে রাজনীতিবিদরা চোর। আপনি যে মহাচোর, সেই কথাটা আপনাকে বলা যাবে না কেন? এই যে আপনারা অনেকেই মহাচোর, এই ব্যবস্থাটিকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনটি হয়েছে, এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা সংস্কার চাই। এই মহাচোরদের আমাদেরকে আটকাতে হবে। কিভাবে আটকাবেন? বাংলাদেশে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে। আমার দলও অনেক সময় বলে না, ২০০৯ সালেও মহা ডিজাইন করে একটি নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার পুনর্বাসিত করার জন্য। ২০০৮-০৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরিকল্পনা করে হয়েছিল, বাংলাদেশটা যেন ভারতের একটি করদ রাজ্যে পরিণত হয়ে যায়। ভারতের কর্তৃত্ববাদ যেন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই উদ্দেশ্যে ১/১১ সৃষ্টি হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য ২০০৮-০৯ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, তার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অবৈধ শাসন পাকাপোক্ত হয়েছে দীর্ঘ বছরের পর বছর। আজকে সেই অবস্থার বিলুপ্তি ঘটেছে।
রিপন বলেন, বাংলাদেশের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনে আমলাতন্ত্র- ডিসি, এসপি, ইউএনওরা দিনের ভোট রাতে করতে সহায়তা করেছে, এখনো তারা প্রশাসনের বিভিন্ন বড় বড় পদে বসে আছে। তারা অনেকেই প্রমোশনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। আগে তাদের আচরণের জবাবদিহি করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের যেসব লোক ঘাপটি মেরে আছে, বিগত তিনটি নির্বাচনে যারা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে শেখ হাসিনাকে সাহায্য করেছে, তাদেরকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশের বহু লোক আছে, বেকার যুবক রয়েছে, চাকরির লোকের কোনো সমস্যা নেই। আওয়ামী লীগপন্থি লোকগুলোকে প্রশাসন এবং সচিবালয় থেকে বিদায় করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু, রহিমা শিকদার প্রমুখ।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য