ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

‘আ.লীগ কখনই শোধরাবে না, সুযোগ পেলে আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে’

অনলাইন ডেস্ক
১ জুলাই, ২০২৫ ২১:২
অনলাইন ডেস্ক
‘আ.লীগ কখনই শোধরাবে না, সুযোগ পেলে আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে’

আওয়ামী লীগ আবারও পুরো জাতির সঙ্গে মশকরা করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো, তারা কখনোই শোধরাবে না, সুযোগ পেলে জানোয়ারের মতো মেতে উঠবে। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কথা বলেন।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভুল বুঝতে পারা দুর্বলতা নয়—এই অংশটি দেখে আমি ভেবেছিলাম তারা বুঝি নিজেদের অপরাধকে ভুল হিসেবে উপস্থাপন করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে যাচ্ছে। পরে দেখি না, তারা আবারও পুরো জাতির সঙ্গে মশকরা করেছে। এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হলো আওয়ামী লীগ কখনই শুধরাবে না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সুযোগ পেলেই এরা আগের চেয়েও ভয়ংকর হবে, হিংস্র-জানোয়ারের মতো মেতে উঠবে প্রতিশোধের নেশায়। যখনই কোনো না কোনো কারণে গণতন্ত্রকামী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো বাহাস হয়, একটুখানি দূরত্ব দেখা দেয় তখন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ফেরার নেশায় মত্ত হয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ফিরবে না।’

ফয়েজ আহম্মদ আরও লিখেছেন, ‘খুনি হাসিনাই আওয়ামী লীগকে আর ফিরতে দিবে না। কারণ আওয়ামী লীগকে ফিরতে হলে জুলাই গণহত্যাসহ ১৬ বছরের সব গুম-খুনের দায় স্বীকার করতে হবে। সেক্ষেত্রে হাসিনা কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারবে না।’

তিনি লেখেন, ‘অপরদিকে খুনি হাসিনা জানে, তার এবং তার পরিবারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দলের নেতাকর্মীদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে পড়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগকে ফিরতে হলে নতুন ব্যবস্থাপনায় ফিরতে হবে, যা হাসিনা তার জীবদ্দশায় হতে দেবে বলে মনে হয় না। সুতরাং আওয়ামী লীগ এখন ক্ষণে ক্ষণে গর্জে ওঠার ভান করবে আর অভ্যুত্থান বিরোধী বয়ান তৈরিতে ব্যস্ত থাকবে।’

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ আমরা আদায় করে ছাড়ব : নাহিদ ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক
    ১ জুলাই, ২০২৫ ২০:১৭
    অনলাইন ডেস্ক
    জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ আমরা আদায় করে ছাড়ব : নাহিদ ইসলাম

    জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ আদায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনড় থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে টালবাহানা সহ্য করা হবে না।

    মঙ্গলবার (১ জুলাই) গণঅভ্যুত্থানপূর্তি উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর জাফরপাড়া গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর এ কথা বলেন তিনি।

    চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের অবশ্যই বিচার, সংস্কার এবং গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের দিকে যেতে হবে এবং জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে যে টালবাহানা শুরু হয়েছে, তা সহ্য করা হবে না। আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, যারা মনে করছেন হাজার লক্ষ মানুষ যারা রাজপথে নেমে এসেছিল তারা ঘরে ফিরে গিয়েছে তাহলে আপনারা ভুল ভাবছেন। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি পথে প্রান্তরে যাব। ছাত্র-জনতা, তরুণ, শ্রমিকদের আবারও রাজপথে নেমে আসতে আহ্বান জানাব। তারপর জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ আমরা আদায় করে ছাড়ব। আমরা বাংলার প্রতি প্রান্তরে যাব। সব মানুষকে আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করব। আবু সাঈদরা যে কারণে শহীদ হয়েছিল আমরা সেই আকাঙ্ক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরব। আবু সাঈদ যেভাবে পুলিশের গুলির সামনে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই ছিল আমাদের অনুপ্রেরণা।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি মানে দেশ গঠনের জন্য যে উদ্যোগ দরকার তার জন্য এ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলব। আবু সাঈদের স্বপ্ন, জুলাইয়ের স্বপ্ন- আমরা মানুষের কাছে তুলে ধরব। আবু সাঈদ লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আবু সাঈদের মতো অন্য সব শহীদেরা ফ্যাসিবাদী বিলোপের বিরুদ্ধে আমাদের যে লড়াই, তার অনুপ্রেরণা। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ আবু সাঈদ, ওয়াসীম, মুগ্ধসহ সব শহীদদের এবং আহত যোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাইয়ের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আমরা রংপুর থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শুরু করছি। হাজারো মানুষের জীবন, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। এই নতুন বাংলাদেশকে গড়তে অবশ্যই পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন বন্দোবস্তের জন্য মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা গণহত্যা সংগঠিত করেছে বাংলাদেশের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ চাপিয়ে দিয়েছে তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। একই সাথে বাংলাদেশের পুরোনো মুজিববাদী সংবিধান ফেলে দিয়ে নতুন এক সংবিধান প্রণয়ন করতে গণপরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এই সবকিছুর মধ্যদিয়ে নতুন এক বাংলাদেশ পুনর্গঠিত হবে।

    এসময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানপূর্তি উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শাহাদত বরণ করা আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্যদিয়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শুরু হয়।  

    কবর জিয়ারত শেষে এনসিপি নেতৃবৃন্দ শহীদ আবু সাঈদের মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। এসময় আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম মাথায় হাত বুলিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলামকে দোয়া করেন।

    আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম ও বাবা মকবুল হোসেন অশ্রুসজল ছিলেন। এমন হৃদয়বিদারক পরিবেশে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি অন্যরাও। তারা আবু সাঈদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। একই সঙ্গে এনসিপির সারা দেশব্যাপি জুলাই পদযাত্রার মাধ্যমে আবু সাঈদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গাইবান্ধায় পথসভা ও পদযাত্রা করবে এনসিপি। বেলা তিনটায় রংপুরের পার্কের মোড়, লালবাগ, শাপলা চত্বর ও জাহাজ কোম্পানীর মোড় পদযাত্রা করে টাউন হলে পথসভা করার কথা রয়েছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      শহীদ আবু সাঈদের কবর থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু

      অনলাইন ডেস্ক
      ১ জুলাই, ২০২৫ ১৬:২৬
      অনলাইন ডেস্ক
      শহীদ আবু সাঈদের কবর থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু

      রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে শুরু হলো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’।

      মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ায় আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে যাত্রা শুরু করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

      কবর জিয়ারত শেষে শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এনসিপি নেতারা। শুনেছেন তাদের না বলা যন্ত্রণার কথা, প্রতিজ্ঞা করেছেন, সেই রক্ত বৃথা যাবে না।

      এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ও তাসনিম জারা প্রমুখ।

      কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা অভিমুখে রওনা দেন। গাইবান্ধায় পদযাত্রা ও পথসভা কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাকর্মীরা আসবেন শহীদ আবু সাঈদের শহীদ হওয়ার স্থান রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে আরও একটি পথসভা।

      এরপর রংপুর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় পার্কের মোড়, লালবাগ, শাপলা চত্বর ও জাহাজ কোম্পানির মোড় ঘুরে টাউন হল চত্বরে পথসভা ও গণসংযোগে অংশ নেবেন তারা। দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্বাচনী এলাকা রংপুরের কাউনিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এনসিপির আরেকটি পথসভা।

      এর আগে রোববার (২৯ জুন) রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্যই আমাদের জুলাই পদযাত্রা : নাহিদ ইসলাম

        অনলাইন ডেস্ক
        ১ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৪৫
        অনলাইন ডেস্ক
        নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্যই আমাদের জুলাই পদযাত্রা : নাহিদ ইসলাম

        জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আমাদের এই জুলাই পদযাত্রা। এর মধ্য দিয়ে আবু সাঈদরা যে কারণে মারা গিয়েছিল, সে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরবো।

        মঙ্গলবার (১ জুলাই) শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

        নাহিদ ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ পুলিশের গুলির সামনে যেভাবে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের অনুপ্রেরণা ছিল। যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষ, আবু সাঈদ, ওয়াসিম মুগ্ধসহ সকল শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

        তিনি আরো বলেন, ঠিক এক বছর আগে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করেছিলাম। সেই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। ১৬ জুলাই শহীদ মিনার থেকে আমরা আবু সাঈদের মৃত্যুর কথা শুনতে পেয়েছিলাম। তখন পুরো বাংলাদেশ শোকে, দ্রোহে কেঁপে উঠেছিল।

        এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমাদের আন্দোলন কেবল সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না। একটি দল পরিবর্তন কিংবা ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য এই গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি।

        এটি ছিল নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। আমরা বাংলার প্রতিটি পথে প্রান্তরে যাব। বাংলার ছাত্র, জনতা, তরুণ ও শ্রমিকদের আবারো রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানাবো। জুলাই সনদ আমরা আদায় করে ছাড়বো।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          জুলাই কারো বাপের না : নাফসিন

          অনলাইন ডেস্ক
          ৩০ জুন, ২০২৫ ১৭:৫১
          অনলাইন ডেস্ক
          জুলাই কারো বাপের না : নাফসিন
          ‘জুলাই বিপ্লব’-এর সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন

          ‘জুলাই বিপ্লব’-এর সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল এককভাবে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করার অধিকার রাখে না। কারণ জুলাই কারো বাপের না। কোনো দলীয় সম্পত্তি না। জুলাই সর্বদলীয় আমজনতার।

          সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

          নাফসিন বলেন, “১৮ জুলাই দেশের মানুষ যা দেখেছে, তা কেউ ভুলে যাবে না। গাঁটছড়া বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। আর আমরা সেই মানুষ, যারা দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম, যারা জানত—একটা মারলে চারটা ফিরিয়ে দিতে হবে।”

          তিনি প্রশ্ন রাখেন, “এই অভ্যুত্থানে কাদের ত্যাগ উপেক্ষা করছেন আপনারা? শহীদ, আহত, প্রাইভেট ও মাদরাসার ছাত্র, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, হেফাজতের কর্মী, সাংবাদিক, শ্রমিক, এমনকি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও জড়িত ছিলেন এই আন্দোলনে। কোনো দল যদি এককভাবে ঘোষণা পাঠ করতে চায়, তা হলে তারা ওইসব নিঃস্বার্থ মানুষদের অবমূল্যায়ন করছে।”

          নাফসিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাই বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় বিস্তার লাভ করেছিল। সেই জাতীয় আন্দোলনকে এককভাবে দখলের সাহস আপনাদের কে দিয়েছে? ঘোষণাপত্র এককভাবে পাঠ করা মানে জনআন্দোলনের চেতনাকে অপমান করা।”

          তিনি আরও বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র সরকার ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়া উচিত, যাতে তা পুরো দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং সংবিধানসম্মত হয়।

          রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘জুলাই চেতনা’কে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে নাফসিন বলেন, “জুলাইকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার বানালে মানুষের সেই চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাহানী ঘটে। এতে মানুষের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়, যা এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত