শিরোনাম
নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্যই আমাদের জুলাই পদযাত্রা : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আমাদের এই জুলাই পদযাত্রা। এর মধ্য দিয়ে আবু সাঈদরা যে কারণে মারা গিয়েছিল, সে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরবো।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ পুলিশের গুলির সামনে যেভাবে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের অনুপ্রেরণা ছিল। যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষ, আবু সাঈদ, ওয়াসিম মুগ্ধসহ সকল শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরো বলেন, ঠিক এক বছর আগে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করেছিলাম। সেই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। ১৬ জুলাই শহীদ মিনার থেকে আমরা আবু সাঈদের মৃত্যুর কথা শুনতে পেয়েছিলাম। তখন পুরো বাংলাদেশ শোকে, দ্রোহে কেঁপে উঠেছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমাদের আন্দোলন কেবল সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না। একটি দল পরিবর্তন কিংবা ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য এই গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি।
এটি ছিল নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। আমরা বাংলার প্রতিটি পথে প্রান্তরে যাব। বাংলার ছাত্র, জনতা, তরুণ ও শ্রমিকদের আবারো রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানাবো। জুলাই সনদ আমরা আদায় করে ছাড়বো।
জুলাই কারো বাপের না : নাফসিন
‘জুলাই বিপ্লব’-এর সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল এককভাবে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করার অধিকার রাখে না। কারণ জুলাই কারো বাপের না। কোনো দলীয় সম্পত্তি না। জুলাই সর্বদলীয় আমজনতার।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাফসিন বলেন, “১৮ জুলাই দেশের মানুষ যা দেখেছে, তা কেউ ভুলে যাবে না। গাঁটছড়া বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। আর আমরা সেই মানুষ, যারা দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম, যারা জানত—একটা মারলে চারটা ফিরিয়ে দিতে হবে।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “এই অভ্যুত্থানে কাদের ত্যাগ উপেক্ষা করছেন আপনারা? শহীদ, আহত, প্রাইভেট ও মাদরাসার ছাত্র, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, হেফাজতের কর্মী, সাংবাদিক, শ্রমিক, এমনকি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও জড়িত ছিলেন এই আন্দোলনে। কোনো দল যদি এককভাবে ঘোষণা পাঠ করতে চায়, তা হলে তারা ওইসব নিঃস্বার্থ মানুষদের অবমূল্যায়ন করছে।”
নাফসিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাই বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় বিস্তার লাভ করেছিল। সেই জাতীয় আন্দোলনকে এককভাবে দখলের সাহস আপনাদের কে দিয়েছে? ঘোষণাপত্র এককভাবে পাঠ করা মানে জনআন্দোলনের চেতনাকে অপমান করা।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র সরকার ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়া উচিত, যাতে তা পুরো দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং সংবিধানসম্মত হয়।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘জুলাই চেতনা’কে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে নাফসিন বলেন, “জুলাইকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার বানালে মানুষের সেই চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাহানী ঘটে। এতে মানুষের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়, যা এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
ঐকমত্য কমিশনের সব প্রস্তাবে একমত হতে হলে আলোচনায় ডাকা হলো কেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ঐকমত্য কমিশনে আমাদের একটা শর্ত ছিল যে, এনসিসি বা সাংবিধানিক নিয়োগ কমিটির মতো কোনো বিষয় এখানে থাকলে সেক্ষেত্রে আগের প্রস্তাব অনুসারে আমাদের যেতে হবে। সেই বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ক্ষেত্রে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে এমপিরা ভোট দিতে পারবে সেই বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। একমত পোষণ তো হচ্ছে। এখন যদি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সব প্রস্তাবে ১০০ শতাংশ একমত হতে বলা হয়, তাহলে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল কেন?
রোববার (২৯ জুন) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য পোষণ হলে যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হবে, সেই বিষয়গুলো একত্রিত করে জুলাই সনদ বা জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। তো এখন এখানে যদি আমাদের বাধ্য করা হয় যে এই সমস্ত বিষয়ে একমত হতেই হবে, সেটা তো সঠিক হলো না।
তিনি বলেন, আজকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে আলোচনার জন্য দুইটা বিষয় নির্ধারিত ছিল। প্রথম বিষয় সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি। দ্বিতীয় বিষয় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট। তার মধ্যে নিম্ন কক্ষ আছে। এই দুইটা বিষয়ের প্রথম ভাগের আলোচনায় সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ কমিটি যেটা গত আগের দিনের আলোচনাতেও ছিল, এর আগেও ছিল তবে সেটা এনসিসি নামে ছিল। তারপরে সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ কমিটি এই নামে ছিল। আজকেও একইভাবে এসেছে এখানে সংস্কার কমিশনের জাতীয় ঐক্য কমিশনের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয়ে সংযোজন সংশোধন করে আজকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই বিষয়ে আমাদের বক্তব্য আগের মতোই। আমরা সাংবিধানিক বিভিন্ন সংস্থা কমিশন ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কয়েকটি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের মতামত আগে যেভাবে ছিল এখনো তেমনই আছে।
তিনি বলেন, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই বিদ্যমান আইন যেমন দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়টি এখানে আসছে। বিদ্যমান আইনে অনেক সংস্কার প্রয়োজন। আমরা প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের নিজস্ব , স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চয়তা বিধান করতে চাই। একইসঙ্গে একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের এই কথাগুলো আমরা বলেছি। আমাদের দলীয় প্রস্তাব যেটা আমাদের ৩১ দফা ছিল সেই প্রস্তাবই আমরা আবার দিয়েছি।
‘আজ জুলাই সনদ নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে কিছু হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু রাজনৈতিক দল কয়েকটি বিষয়ে এখনো ঐকমত্যে আসতে পারছে না। এর কারণে তারা যে জুলাই সনদ দিতে চাচ্ছিল বা জাতীয় সনদ যেটা বলছে সেটাও তারা দিতে পারছে না।
এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ বলি বা জাতীয় সনদ বলি। এ বিষয়ে স্বাক্ষরিত হওয়ার জন্য সবচাইতে বেশি আন্তরিকতা আমরা প্রদর্শন করেছি। আমরা জাতীয় মূলনীতির ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।
আমরা ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাপারে আমাদের পজিশন জানিয়ে আমরা সেখানে একমত হয়েছি এবং সেটা জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে। সবাই সেটা একমত হয়েছি এবং এরপরে পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটিগুলোতে সভাপতিত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কাছে সভাপতিত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা তখন একমত হয়েছি, চারটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিসহ আর আসনের সংখ্যার অনুপাতে যা পাবে বিরোধী দল, সেখানে হয়তো এক তৃতীয়াংশ আসতে পারে সেগুলোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ক্ষেত্রে যেটা জীবদ্দশায় বা সারাজীবনে কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী আসনে বহাল থাকবেন না, সে বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। তবে ওখানে আমাদের একটা শর্ত ছিল যে এনসিসি মতো বা সাংবিধানিক নিয়োগ কমিটির মতো কোনো বিষয় এখানে আমরা থাকলে সে হয়তো আমরা সেই বিবেচনাটা আগের প্রস্তাব অনুসারে যেতে হবে আমাদের। সেই বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।
৩ আগস্ট ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ইশতেহার পাঠ করা হবে : নাহিদ ইসলাম
আগামী ৩ আগস্ট ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ইশতেহার পাঠ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় ‘জুলাই পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা এই পদযাত্রার নাম দিয়েছি ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’। শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এই পদযাত্রা শুরু হবে। এটি ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা প্রদক্ষিণ করবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পরে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বলেছিলাম ‘নতুন বাংলাদেশ ২.০’- সেই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কার্যক্রম এখনো চলমান। সেই দেশ গড়ার লক্ষ্যে এই জুলাই পদযাত্রা। ১৬ জুলাই, যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিলেন, সেদিন থেকেই জুলাইয়ের শহীদদের মিছিল শুরু হয়েছিল। সেই দিনটিকে আমরা বৈষম্য-বিরোধী শহীদ দিবস হিসেবে পালন করব। সারা দেশে শহীদদের জন্য দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ফ্যাসিবাদ-বিরোধী এক দফা দিবস ঘোষণা করা হয়েছিল। আমরা এ বছর ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ‘ছাত্র-জনতা জুলাই ঘোষণাপত্র ও ইশতেহার পাঠ’ কর্মসূচি পালন করব।
জুলাই ঘোষণাপত্র সরকার যেটি দেওয়ার কথা ছিল, ৩০ কার্যদিবসের কথা বলা হয়েছিল। ৩০ কার্যদিবস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সরকারের কোনো ধরনের উদ্যোগ আমরা দেখিনি। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সংবিধানের স্বীকৃতি এবং শহীদদের মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য জুলাই ঘোষণাপত্র আমাদের প্রয়োজন। সরকার বলেছিল, সকলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তারা এটি দেবে। কিন্তু সরকার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থান ছাত্র-জনতা করেছে। এই ঘোষণাপত্র আমরা ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ৩ আগস্ট জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র ও ইশতেহার কর্মসূচি পালন করব। সারা বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা শুনে, তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার জুলাই ঘোষণাপত্র ও ইশতেহার পাঠ করব।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মুক্তি দিবস পালন করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জুলাই পদযাত্রা বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়েছে। জুলাই পদযাত্রা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
একটি গোষ্ঠী নির্বাচন পিছিয়ে জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে: মির্জা আব্বাস
একটি গোষ্ঠী নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
রোববার (২৯ জুন) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনে রমনা থানা বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম ২০২৫ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একেকজন একেকটা দাবি তুলে নির্বাচনকে পিছিয়ে, নির্বাচনের অবস্থা সর্বনাশ করে দিয়ে এ জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, ‘এভাবে বড় বড় সমাবেশ করে জাতির কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবেন না। সমাবেশ দিয়ে যদি প্রমাণ করা যায় কে কত জনপ্রিয়, আমরা সারা বাংলাদেশকে একদিনে সমাবেশের আওতায় আনতে পারি। সারা বাংলাদেশ একদিনে সমাবেশ করবে। কেউ কোনো জায়গা ছাড়বে না। এটা তো সিস্টেম হলো না।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সবাইকে অনুরোধ জানাব আউল–ফাউল কথাবার্তা বইলেন না কেউ। আপনারা এই সমস্ত কথাবার্তা বলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করবেন না।’
ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করীমকে উদ্দেশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যখন বিএনপি-জামায়াতের ওপরে স্টিমরোলার চালানো হচ্ছিল, তখন ওই দলটি এবং তার নেতা দূরে থেকে বাহবা দিয়েছেন। ইনডাইরেক্টলি হাসিনাকে সমর্থন দিয়েছেন। কালো নির্বাচন, রাতের নির্বাচন, দিনের নির্বাচন; তিনবার নির্বাচন হয়েছে, উনারা কোনো প্রতিবাদ করেন নাই। এখন লম্বা কথা বলতেছেন, আগে দিতে হবে স্থানীয় নির্বাচন, এরপর দিতে হবে পিআর সিস্টেম (আনুপাতিক পদ্ধতি)। যত দিন এগুলো না হবে, তত দিন এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’
‘পিআর পদ্ধতি কই থেকে আসে’ প্রশ্ন করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশটাকে সুন্দর করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিছু করেন না, শুধু আপনার কথামতোই হতে হবে, স্থানীয় সরকার আগে হতে হবে, আবার পিআর ভোট করতে হবে। কেন ভাই? কই থেকে আবিষ্কার করেন এগুলা? কে দেয় বুদ্ধি আপনাদের? এসব কুপরামর্শ নিয়ে, এই দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করার জন্য একদল লোক আজ মাঠে নেমেছে।’
সম্প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের একা লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের মুসলিম বিশ্বের কেউ যখন তাকে সমর্থন দিল না, ইরান একাই যুদ্ধ করে গেল। কারণ জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। আর আমার দেশের মধ্যে কিছু রাজনীতিবিদ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, কিছু রাজনীতিবিদ ক্ষমতায় যেতে দেব না, এই করে করে দেশটাকে গত ৫০ বছরে এগোতে দিল না। দেশটাকে আমরা ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছি।’
দেশকে ভালোবেসে সবাইকে এক জায়গায় আসার আহ্বান জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, একটা জায়গায় আসেন। যে জায়গায় গেলে পরে দেশ ও দেশের মানুষের উন্নতি হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য মো. শরীফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন উপস্থিত ছিলেন। নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল হোসেন সরদার।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য