শিরোনাম
ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের মতো আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: মো. শাহজাহান
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেছেন, রাষ্ট্র সকলের, রাষ্ট্রের মালিক জনগন। ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর জনগণ মনে করেছিলো তাদের রাষ্ট্রের মালিকানা তারা ফিরে পেয়েছে। কিন্তু জনগণ তাদের এ আশাটাকে হৃদয়ে ধরে রাখতে পারেনি। আমাদের মধ্যে আজকে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, যা কেউ বড় করে দেখছে কেউ ছোট করে দেখছেন।
বুধবার (২৫ জুন) বিকেলে জেলা শহর মাইজদীর মফিজ প্লাজার সামনে জেলা বিএনপির আয়োজন অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,তবে আমি মনে করি এ মতপার্থক্য দূর করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুব একটা কঠিন বিষয় না। তাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের মতো আমাদের সবাইকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য এবং আধিপত্যবাদ থেকে দেশের জনগনকে রক্ষা করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। তখনই এ রাষ্ট্র প্রকৃত পক্ষে জনগনের হবে।
দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে নিজ এলাকায় আসাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীতে বিএনপি আয়োজিত পথসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, আপনাদের আবেগ-ভালোবাসাপূর্ণ আজকের এ উপস্থিতির জন্য সদর সুবর্ণচর উপজেলার নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সুখে দুখে তাদের পাশে থাকবেন বলে জানান। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসার প্রতিদান কখনও দেওয়া সম্ভব না। আমি প্রতিজ্ঞা করছি সারাজীবন আপনাদের পাশে থাকবো।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কখনও ক্ষমতার রাজনীতি করে না। বিএনপি জনগণের সাথে আছে। আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলনে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা কম রক্ত দেয়নি। আমরা এ অভ্যূত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রতি আমরা দায়বদ্ধ। আমাদের দল শাসক হতে চায় না, সেবক হতে চাই। তাই আমরা চাই সুষ্ঠু একটা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হোক। যে নির্বাচনে ছোট-বড় সকল দল অংশগ্রহণ করবে। এটা নিয়ে ভুলবুঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।
এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রহমানসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা আসিফকে ক্ষমা চাইতে হবে: ইশরাক হোসেন
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ঘিরে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আপত্তিকর মন্তব্য করায় তাকে নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন তিনি এ আহ্বান জানান।
ইশরাক হোসেন বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বক্তব্য বহুল প্রচারিত হয়েছে। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি আপত্তিকর কথা বলেছেন। আসিফ বলেছেন, বিএনপির এক নেতার ইন্ধনে ইশরাকের আন্দোলন হয়েছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঢাকার হাজার হাজার ভোটারকে চরম অপমান করা হয়েছে। দিনের পর দিন আন্দোলন করা ঢাকার এই জনগোষ্ঠীকে একটি বাক্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে নাগরিক থেকে পশুর মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটার জন্য তাকে অবশ্যই নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আসিফ দাবি করেছে আমাকে মিস গাইড করা হয়েছে। এই বক্তব্যর মধ্য দিয়ে তিনি আমাকে হেয় করেছেন। ঢাকাবাসীর এই আন্দোলনকে এভাবে অপমান করায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই অবমাননা করার জন্য তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিএনপি এই নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার দাবি করেছেন কুমিল্লার এক বিএনপি নেতা আমাকে প্ররোচনা দিয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলনের জন্য আমাকে অর্থ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়েছেন। উপদেষ্টার কাছে তার প্রমাণও রয়েছে নাকি। এই প্রমাণ তাকে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে, তা না পারলে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (২৩ জুন) থেকে খুলেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগরভবনের প্রধান ফটক। চালু হয়েছে সেবা কার্যক্রম। পাশাপাশি ইশরাক অনুসারীদের অবস্থান কর্মসূচিও চলমান রয়েছে। গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবন থেকে দেওয়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। জরুরি প্রয়োজনে এসে এ সময় সেবাপ্রার্থী নাগরিকদের বারবার ঘুরে যেতে হয়েছে।
সে সময় ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা নগরভবনের মূল ফটক আটকে রাখার পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে রাখেন। পরে ঈদের বিরতির পর গত ১৫ জুন থেকে ইশরাকের অনুসারীরা নগরভবনে একত্রিত হয়ে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে। ফলে গত পরশু পর্যন্ত নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ অন্যান্য বিভাগে তালা ঝোলানো ছিল। দীর্ঘদিন পর গতকাল প্রধান ফটকসহ অন্যান্য বিভাগের তালা খুলে দেওয়া হয়।
১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়- প্রস্তাবে রাজি বিএনপি, তবে...
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছরের মেয়াদে বিএনপি একমত।
বুধবার (২৫ জুন) ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এই প্রস্তাবে একমত হয়েছে বিএনপি। তবে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) গঠন গঠনের সঙ্গে দলটি একমত নয়। এটি হলে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে খর্ব করার একটা সুযোগ তৈরি হয়। তাই এধরনের কিছু করা হলে আমরা সেই প্রস্তাবটি মেনে নিতে পারব না।
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করে সংবিধান সংস্কার কমিশন। প্রস্তাবে বলা হয়, এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—সংবিধানে এ রকম বিধান যুক্ত করার বিষয়ে একমত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে দলটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) মতো প্রতিষ্ঠান গঠনের সঙ্গে একমত পোষণ করবে না।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে গত কয়েক দিনের আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।
দলটির সভাপতি স্বামী, সম্পাদক স্ত্রী, বাসা কেন্দ্রীয় কার্যালয়
রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি। ইসিতে জমা দেওয়া আবেদনে দলের কার্যালয়ের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ঢাকার মগবাজার ৬৩৯/বি, পেয়ারাবাগ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ দেয়ালের ওপরে টিনের ছাউনির এক কক্ষের একটি ছোট্ট ঘর।
ঘরে কেউ আছেন—অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া পাওয়া গেল না। পরে দলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করেন সাংবাদিক। ফোন ধরেন এক নারী। তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী মাহমুদা সুলতানা বলে পরিচয় দেন। তাঁর স্বামী বাসায় আছেন বলে জানান। এরপর ঘরের দরজা খুলে গায়ে গামছা জড়িয়ে বেরিয়ে আসেন বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর হাওলাদার।
রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ‘নিবন্ধনের জন্য আবেদন সাবমিট করছি আরকি। ২০১১ সালে পার্টিটা গঠন করছি। আমি যখন তিতুমীর কলেজে পড়ালেখা করি তখন আরকি। এখানে অফিস নেব চিন্তা করছি আরকি। আগে দলটল ঠিক অইলে এর পরে নেব আরকি।’
দলের কোনো কমিটি আছে কি না, জনতে চাইলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ৭৫ সদস্যের কমিটি আছে। এ কমিটিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের লোকজন আছে। দলের সাধারণ সম্পাদক এখন কে—জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, তাঁর স্ত্রী মাহমুদা সুলতানা আপাতত দলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

‘মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন’-এর কার্যালয় হিসেবে এই আবাসিক ভবনের ঠিকানা দেওয়া হলেও বাসিন্দারা দলটির নাম কখনো শোনেননি বলে জানান
নিজের ভাড়া বাসাকেই আপাতত দলের কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানান বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টির এই সভাপতি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ-তিসারী-ইনসাফ দল তাদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেছে একটি রেস্তোরাঁকে। ইসির নিবন্ধন আবেদনে দলটির ঠিকানা ৫৪ পুরানা পল্টন, বি কে টাওয়ার। গতকাল এ ঠিকানায় গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ৫৪ নম্বর বাড়িটি তিনতলা। বেশ কিছু দিন ধরে তৃতীয় তলায় কেউ থাকছে না। দ্বিতীয় তলায় ‘ভোজন রেস্তোরাঁ’ নামে খাবারের হোটেল ছিল। এটিও গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর নিচতলায় ‘মুসলিম হোটেল অ্যান্ড কাবাব ঘর’ নামে একটি হোটেল চালু আছে।
এই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. মিনহাজ প্রধানের নাম ইসিতে করা নিবন্ধন আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাঁর মুঠোফোন নম্বরও লেখা আছে। এ নম্বরে যোগাযোগ করে হলে তিনি বলেন, ভবনটির ওপরের তলাগুলোতে সংস্কারকাজ চলমান। অফিসকক্ষেরও সংস্কার চলছে। অফিসকক্ষ কত তলায়—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তৃতীয় তলায়। কিন্তু তৃতীয় তলা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে—এমন প্রশ্ন করার পর তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুসলিম হোটেলে বসি।’
পরে মুসলিম হোটেল অ্যান্ড কাবাব ঘরের ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) মো. সোহাগ বলেন, মিনহাজ প্রধান এখানে প্রায়ই আসেন নাশতা খেতেন। রাজনীতি বিষয়ে কথাবার্তা বলেন। কিন্তু তাঁদের হোটেল কোনো দলের কার্যালয় নয়। মিনহাজ প্রধান কোনো দলের নেতা কি না, সেটি তাঁর জানা নেই। আর ভবনটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও নেই।
১৪৭ দলের আবেদন
মিনহাজ প্রধানের বাংলাদেশ-তিসারী-ইনসাফসহ মোট ১৪৭টি দল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। গত রোববার শেষ দিনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারা দলীয় প্রতীক হিসেবে জাতীয় ফুল ‘শাপলা’ চেয়েছে। এ ছাড়া এনসিপির পছন্দের প্রতীকের তালিকায় আরও দুটি প্রতীক রয়েছে। এর একটি ‘কলম’ অন্যটি ‘মোবাইল’। এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় বাংলামটরের রূপায়ণ টাওয়ারে।
যেসব দল ইসির নিবন্ধন পাবে, তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীকে ভোট করতে পারবে। এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল আছে ৫১টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
নতুন দলের ক্ষেত্রে ইসিতে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য দলের সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং কার্যকর কমিটি থাকতে হয় কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায়। পাশাপাশি সদস্য হিসেবে অন্তত ১০০টি উপজেলা কিংবা মেট্রোপলিটন থানার কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের নথিও দেখাতে হয়।
ইসিতে নিবন্ধন পেতে আবেদন করা দলগুলোর মধ্যে ৩৪টির কার্যালয়ের মধ্যে ২৬টি দলের কার্যালয় রাজধানী ঢাকায়। বাকি আটটি দলের কার্যালয় হিসেবে নিবন্ধন আবেদনে খুলনা, ফরিদপুর, দিনাজপুর, বান্দরবান, গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভারের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি দলের ঠিকানায় গিয়ে কোনো সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি। এসব ঠিকানার কোনোটি ছিল বাড়ি, কোনোটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। গাজীপুরে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) ঠিকানায় গিয়ে অবশ্য সাইনবোর্ড দেখা গেছে। তবে কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনটি দলের নামে ‘বেকার’
ইসিতে যেসব দল নিবন্ধনের আবেদন করেছে, সেগুলোর মধ্যে তিনটি দলের নামে ‘বেকার’ শব্দ রয়েছে। এগুলো হলো বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস) ও বাংলাদেশ বেকার সমাজ।
এই তিন দলের মধ্যে ইসিতে নিবন্ধনের জন্য করা আবেদনে বাংলাদেশ বেকার সমাজের (বাবেস) ঠিকানা উল্লেখ করেছে ‘১৩১/১/এ, ক্রিসেন্ট রোড (ধানমন্ডি)। গতকাল দুপুরে ওই ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারতলা একটি আবাসিক ভবন রয়েছে। ভবনের প্রবেশপথের বাঁ পাশে বাবেসের সাইনবোর্ড রয়েছে। এ ভবনের তৃতীয় তলায় দলটির কার্যালয়। যেটি একই সঙ্গে দলের সভাপতি মো. হাসানের ছেলের বাসা। দরজায় কড়া নাড়তেই বেরিয়ে এলেন নাদিয়া খানম নামের এক নারী। তিনি নিজেকে মো. হাসানের পূত্রবধু হিসেবে পরিচয় দেন। এ বাসার ড্রয়িংরুম (বসার ঘরে) দলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানান তিনি।
পরে বাবেসের সভাপতি মো. হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তিনি বলেন, দলটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিনি কয়েকবার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর দল বেকার সমাজের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করে।
ছেলের বাসায় দলীয় কার্যালয়ের বিষয়ে মো. হাসান বলেন, ‘বড় কয়েকটি দল ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো দলেরই সেভাবে কার্যালয় নেই। বাসাটিতে আমরা অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছি। পাশের কক্ষে ছেলে ও পূত্রবধু থাকে।’
‘বেস্ট’ আছে, ‘সলুশন’ও আছে
ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা কয়েকটি দল হলো বাংলাদেশ বেস্ট পলিটিক্যাল পার্টি, নাকফুল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নাগরিক কমান্ড, বাংলাদেশ জনগণের দল, বাংলাদেশ দেশপ্রেমিক প্রজন্ম, বাংলাদেশ সলুশন পার্টি, বাংলাদেশ সংগ্রামী ভোটার পার্টি, বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (বিপিপি), বাংলাদেশ জনগণের দল (বাজদ), জনতার কথা বলে, বাংলাদেশ শান্তির দল, বাংলাদেশ মাতৃভূমি দল, বাংলাদেশ পাক পাঞ্জাতন পার্টি (বিপিপি), বাংলাদেশ জনমত পার্টি, বাংলাদেশ সর্ব-স্বেচ্ছা উন্নয়ন দল।
এ ছাড়া চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাংবাদিক শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি বাংলাদেশ, ডেসটিনি গ্রুপের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিও ইসির কাছে নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করেছে।
ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা আরেকটি দল হচ্ছে ‘Muslim Save Union’। দলটির কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া শান্তিনগর বাজারের ২ নম্বর লেনের রমজান ট্রেডিং-৮৩ (তৃতীয়, চতুর্থ তলা)। তবে গতকাল এ ঠিকানায় গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দলটির সভাপতি আবদুল মান্নান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঠিকানায় আর কার্যালয় নেই। তাহলে এখন কার্যালয় কোথায়—জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিবাগের প্রশান্তি হাসপাতালের পাশে একটি বিল্ডিংয়ে আছে।
জাতীয় ন্যায় বিচার পার্টি নামে আরেকটি দল নয়াপল্টনের ইসলাম টাওয়ারের সপ্তম তলাকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে দেখিয়েছে। গতকাল দুপুরে সেখানে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঠিকানায় ‘আল আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’সহ বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ইসিতে জমা দেওয়া আবেদনে এই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. কামরুজ্জামানের নাম উল্লেখ রয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আগে তো সবকিছু সিস্টেম অনুযায়ী করতে হয়। সে জন্য আল আমিন ট্রাভেলসকে আমরা অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে দেখিয়েছি। নিবন্ধনের আবেদন করতে তাড়াতাড়ি এ ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অফিস নেব।’
পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের প্রীতম জামান টাওয়ারে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের কার্যালয়। ভবনটির ১৫ তলার ওপরে ছাদের এক পাশে দুটি দলের কার্যালয়। এর একটি ন্যাশনাল লেবার পার্টি, অন্যটি জনতার অধিকার পার্টি। এই অধিকার পার্টির কক্ষকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে দেখিয়েছে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামের আরেকটি দল।
এই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে কে এম রকিবুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে ইসির নিবন্ধন আবেদনে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা অধিকার পার্টির ওখানে একসঙ্গে আছি। আগে রুমের দরজায় দলের নামসহ স্টিকার ছিল। সেটা মনে হয় পড়ে গেছে। আমরা আবার স্টিকার লাগাব।’
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানাল জামায়াত
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করে দলটি বলেছে, ‘সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কালো টাকার দৌরাত্ম্য দূর হবে। মনোনয়ন বাণিজ্য থাকবে না। ভবিষ্যতেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।’
আজ বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। সিইসির সঙ্গে বৈঠকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশেও এই পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইছে। সেক্ষেত্রে কোনো দলের প্রাপ্ত ১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব করেছে জামায়াত।’
বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা পুনর্বহালের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে। জামায়াত পুনর্গঠন চাওয়ার বদলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাইছে।’
এর আগে হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামির ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। নির্বাচন ভবনের সিইসির সভাকক্ষে সকাল ১১টা থেকে সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য