ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

দলটির সভাপতি স্বামী, সম্পাদক স্ত্রী, বাসা কেন্দ্রীয় কার্যালয়

অনলাইন ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৫ ১৮:৫৩
অনলাইন ডেস্ক
দলটির সভাপতি স্বামী, সম্পাদক স্ত্রী, বাসা কেন্দ্রীয় কার্যালয়
রাজধানীর মগবাজারের পেয়ারাবাগে নিজের বাসাকে আপাতত কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর হাওলাদার

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি। ইসিতে জমা দেওয়া আবেদনে দলের কার্যালয়ের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ঢাকার মগবাজার ৬৩৯/বি, পেয়ারাবাগ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ দেয়ালের ওপরে টিনের ছাউনির এক কক্ষের একটি ছোট্ট ঘর।

ঘরে কেউ আছেন—অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া পাওয়া গেল না। পরে দলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করেন সাংবাদিক। ফোন ধরেন এক নারী। তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী মাহমুদা সুলতানা বলে পরিচয় দেন। তাঁর স্বামী বাসায় আছেন বলে জানান। এরপর ঘরের দরজা খুলে গায়ে গামছা জড়িয়ে বেরিয়ে আসেন বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর হাওলাদার।

রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ‘নিবন্ধনের জন্য আবেদন সাবমিট করছি আরকি। ২০১১ সালে পার্টিটা গঠন করছি। আমি যখন তিতুমীর কলেজে পড়ালেখা করি তখন আরকি। এখানে অফিস নেব চিন্তা করছি আরকি। আগে দলটল ঠিক অইলে এর পরে নেব আরকি।’

দলের কোনো কমিটি আছে কি না, জনতে চাইলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ৭৫ সদস্যের কমিটি আছে। এ কমিটিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের লোকজন আছে। দলের সাধারণ সম্পাদক এখন কে—জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, তাঁর স্ত্রী মাহমুদা সুলতানা আপাতত দলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

‘মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন’-এর কার্যালয় হিসেবে এই আবাসিক ভবনের ঠিকানা দেওয়া হলেও বাসিন্দারা দলটির নাম কখনো শোনেননি বলে জানান

‘মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন’-এর কার্যালয় হিসেবে এই আবাসিক ভবনের ঠিকানা দেওয়া হলেও বাসিন্দারা দলটির নাম কখনো শোনেননি বলে জানান 

নিজের ভাড়া বাসাকেই আপাতত দলের কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানান বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টির এই সভাপতি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ-তিসারী-ইনসাফ দল তাদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেছে একটি রেস্তোরাঁকে। ইসির নিবন্ধন আবেদনে দলটির ঠিকানা ৫৪ পুরানা পল্টন, বি কে টাওয়ার। গতকাল এ ঠিকানায় গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ৫৪ নম্বর বাড়িটি তিনতলা। বেশ কিছু দিন ধরে তৃতীয় তলায় কেউ থাকছে না। দ্বিতীয় তলায় ‘ভোজন রেস্তোরাঁ’ নামে খাবারের হোটেল ছিল। এটিও গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর নিচতলায় ‘মুসলিম হোটেল অ্যান্ড কাবাব ঘর’ নামে একটি হোটেল চালু আছে।

এই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. মিনহাজ প্রধানের নাম ইসিতে করা নিবন্ধন আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাঁর মুঠোফোন নম্বরও লেখা আছে। এ নম্বরে যোগাযোগ করে হলে তিনি বলেন, ভবনটির ওপরের তলাগুলোতে সংস্কারকাজ চলমান। অফিসকক্ষেরও সংস্কার চলছে। অফিসকক্ষ কত তলায়—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তৃতীয় তলায়। কিন্তু তৃতীয় তলা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে—এমন প্রশ্ন করার পর তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুসলিম হোটেলে বসি।’

পরে মুসলিম হোটেল অ্যান্ড কাবাব ঘরের ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) মো. সোহাগ বলেন, মিনহাজ প্রধান এখানে প্রায়ই আসেন নাশতা খেতেন। রাজনীতি বিষয়ে কথাবার্তা বলেন। কিন্তু তাঁদের হোটেল কোনো দলের কার্যালয় নয়। মিনহাজ প্রধান কোনো দলের নেতা কি না, সেটি তাঁর জানা নেই। আর ভবনটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও নেই।

১৪৭ দলের আবেদন

মিনহাজ প্রধানের বাংলাদেশ-তিসারী-ইনসাফসহ মোট ১৪৭টি দল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। গত রোববার শেষ দিনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারা দলীয় প্রতীক হিসেবে জাতীয় ফুল ‘শাপলা’ চেয়েছে। এ ছাড়া এনসিপির পছন্দের প্রতীকের তালিকায় আরও দুটি প্রতীক রয়েছে। এর একটি ‘কলম’ অন্যটি ‘মোবাইল’। এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় বাংলামটরের রূপায়ণ টাওয়ারে।

যেসব দল ইসির নিবন্ধন পাবে, তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীকে ভোট করতে পারবে। এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল আছে ৫১টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।

নতুন দলের ক্ষেত্রে ইসিতে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য দলের সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং কার্যকর কমিটি থাকতে হয় কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায়। পাশাপাশি সদস্য হিসেবে অন্তত ১০০টি উপজেলা কিংবা মেট্রোপলিটন থানার কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের নথিও দেখাতে হয়।

ইসিতে নিবন্ধন পেতে আবেদন করা দলগুলোর মধ্যে ৩৪টির কার্যালয়ের মধ্যে ২৬টি দলের কার্যালয় রাজধানী ঢাকায়। বাকি আটটি দলের কার্যালয় হিসেবে নিবন্ধন আবেদনে খুলনা, ফরিদপুর, দিনাজপুর, বান্দরবান, গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভারের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি দলের ঠিকানায় গিয়ে কোনো সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি। এসব ঠিকানার কোনোটি ছিল বাড়ি, কোনোটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। গাজীপুরে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) ঠিকানায় গিয়ে অবশ্য সাইনবোর্ড দেখা গেছে। তবে কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনটি দলের নামে ‘বেকার’

ইসিতে যেসব দল নিবন্ধনের আবেদন করেছে, সেগুলোর মধ্যে তিনটি দলের নামে ‘বেকার’ শব্দ রয়েছে। এগুলো হলো বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস) ও বাংলাদেশ বেকার সমাজ।

এই তিন দলের মধ্যে ইসিতে নিবন্ধনের জন্য করা আবেদনে বাংলাদেশ বেকার সমাজের (বাবেস) ঠিকানা উল্লেখ করেছে ‘১৩১/১/এ, ক্রিসেন্ট রোড (ধানমন্ডি)। গতকাল দুপুরে ওই ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারতলা একটি আবাসিক ভবন রয়েছে। ভবনের প্রবেশপথের বাঁ পাশে বাবেসের সাইনবোর্ড রয়েছে। এ ভবনের তৃতীয় তলায় দলটির কার্যালয়। যেটি একই সঙ্গে দলের সভাপতি মো. হাসানের ছেলের বাসা। দরজায় কড়া নাড়তেই বেরিয়ে এলেন নাদিয়া খানম নামের এক নারী। তিনি নিজেকে মো. হাসানের পূত্রবধু হিসেবে পরিচয় দেন। এ বাসার ড্রয়িংরুম (বসার ঘরে) দলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানান তিনি।

পরে বাবেসের সভাপতি মো. হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তিনি বলেন, দলটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিনি কয়েকবার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর দল বেকার সমাজের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করে।

ছেলের বাসায় দলীয় কার্যালয়ের বিষয়ে মো. হাসান বলেন, ‘বড় কয়েকটি দল ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো দলেরই সেভাবে কার্যালয় নেই। বাসাটিতে আমরা অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছি। পাশের কক্ষে ছেলে ও পূত্রবধু থাকে।’

‘বেস্ট’ আছে, ‘সলুশন’ও আছে

ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা কয়েকটি দল হলো বাংলাদেশ বেস্ট পলিটিক্যাল পার্টি, নাকফুল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নাগরিক কমান্ড, বাংলাদেশ জনগণের দল, বাংলাদেশ দেশপ্রেমিক প্রজন্ম, বাংলাদেশ সলুশন পার্টি, বাংলাদেশ সংগ্রামী ভোটার পার্টি, বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (বিপিপি), বাংলাদেশ জনগণের দল (বাজদ), জনতার কথা বলে, বাংলাদেশ শান্তির দল, বাংলাদেশ মাতৃভূমি দল, বাংলাদেশ পাক পাঞ্জাতন পার্টি (বিপিপি), বাংলাদেশ জনমত পার্টি, বাংলাদেশ সর্ব-স্বেচ্ছা উন্নয়ন দল।

এ ছাড়া চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাংবাদিক শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি বাংলাদেশ, ডেসটিনি গ্রুপের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিও ইসির কাছে নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করেছে।

ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা আরেকটি দল হচ্ছে ‘Muslim Save Union’। দলটির কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া শান্তিনগর বাজারের ২ নম্বর লেনের রমজান ট্রেডিং-৮৩ (তৃতীয়, চতুর্থ তলা)। তবে গতকাল এ ঠিকানায় গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দলটির সভাপতি আবদুল মান্নান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঠিকানায় আর কার্যালয় নেই। তাহলে এখন কার্যালয় কোথায়—জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিবাগের প্রশান্তি হাসপাতালের পাশে একটি বিল্ডিংয়ে আছে।

জাতীয় ন্যায় বিচার পার্টি নামে আরেকটি দল নয়াপল্টনের ইসলাম টাওয়ারের সপ্তম তলাকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে দেখিয়েছে। গতকাল দুপুরে সেখানে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঠিকানায় ‘আল আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’সহ বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইসিতে জমা দেওয়া আবেদনে এই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. কামরুজ্জামানের নাম উল্লেখ রয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আগে তো সবকিছু সিস্টেম অনুযায়ী করতে হয়। সে জন্য আল আমিন ট্রাভেলসকে আমরা অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে দেখিয়েছি। নিবন্ধনের আবেদন করতে তাড়াতাড়ি এ ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অফিস নেব।’

পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের প্রীতম জামান টাওয়ারে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের কার্যালয়। ভবনটির ১৫ তলার ওপরে ছাদের এক পাশে দুটি দলের কার্যালয়। এর একটি ন্যাশনাল লেবার পার্টি, অন্যটি জনতার অধিকার পার্টি। এই অধিকার পার্টির কক্ষকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে দেখিয়েছে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামের আরেকটি দল।

এই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে কে এম রকিবুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে ইসির নিবন্ধন আবেদনে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা অধিকার পার্টির ওখানে একসঙ্গে আছি। আগে রুমের দরজায় দলের নামসহ স্টিকার ছিল। সেটা মনে হয় পড়ে গেছে। আমরা আবার স্টিকার লাগাব।’

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানাল জামায়াত

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৫ জুন, ২০২৫ ১৬:১৬
    অনলাইন ডেস্ক
    সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানাল জামায়াত

    সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করে দলটি বলেছে, ‘সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কালো টাকার দৌরাত্ম্য দূর হবে। মনোনয়ন বাণিজ্য থাকবে না। ভবিষ্যতেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।’

    আজ বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। সিইসির সঙ্গে বৈঠকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশেও এই পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইছে। সেক্ষেত্রে কোনো দলের প্রাপ্ত ১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব করেছে জামায়াত।’

    বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা পুনর্বহালের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে। জামায়াত  পুনর্গঠন চাওয়ার বদলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাইছে।’

    এর আগে হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামির ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। নির্বাচন ভবনের সিইসির সভাকক্ষে সকাল ১১টা থেকে সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একটি গাছের দুইটি ফল: ফয়জুল করীম

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৩ জুন, ২০২৫ ১৫:৮
      অনলাইন ডেস্ক
      বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একটি গাছের দুইটি ফল: ফয়জুল করীম

      ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম বলেছেন, ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একটি গাছের দুটি ফল। আগে আওয়ামী লীগ চাঁদাবাজি করেছে, এখন বিএনপি চাঁদাবাজি করছে। তাদের কাছে দেশ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ১৬ বছরে যা করেছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে একই কাজ করবে। এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

      আজ রোববার বিকেলে লালমনিরহাট কালেক্টরেট মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

      ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় শায়েখে চরমোনাই বলেন, ‘বিএনপি-বিএনপি প্রতিদিন মারামারি হচ্ছে। বিএনপির কাছে নিজের নেতা-কর্মীও নিরাপদ নন। তাহলে কীভাবে নাগরিকেরা নিরাপত্তা পাবেন? দেশ তাদের কাছে তাহলে কতটুকু নিরাপদ?’

      তিনি আরও বলেন, ‘যারা নিজেরা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেন, তাদের কাছে আইন নিরাপদ নয়। যারা জোর করে পক্ষে রায় নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন, তাদের কাছে মানুষের সম্মান বলে কিছু থাকবে না। বিচারপতি সিনহাকে যেভাবে আওয়ামী লীগ হুমকি দিয়েছে, আজ বিএনপিও বিচারপতিকে একইভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তাহলে বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য কি?’

       

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        শাপলা, কলম ও মোবাইল প্রতীক চাইল এনসিপি

        অনলাইন ডেস্ক
        ২২ জুন, ২০২৫ ১৬:৫৭
        অনলাইন ডেস্ক
        শাপলা, কলম ও মোবাইল প্রতীক চাইল এনসিপি

        দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এসময় দলটি প্রতীক হিসেবে শাপলা, কলম ও মোবাইল চেয়েছে দলটি।

        রোববার (২২ জুন) বিকেলে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে আবেদন জমা দেয়।

        বিস্তারিত আসছে…

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          চুপ থাকার পরিস্থিতি নেই, ইশরাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগির

          অনলাইন ডেস্ক
          ১৯ জুন, ২০২৫ ১৭:৪৫
          অনলাইন ডেস্ক
          চুপ থাকার পরিস্থিতি নেই, ইশরাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগির

          স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিয়ে একটু সমস্যা চলছে। আমরা এ বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেখানে নাগরিক সেবা যেভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এখন আর বসে থাকার সুযোগ নেই। খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

          বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরাতন সভাকক্ষে ‘উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে নির্মাণাধীন পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

          আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। এ নিয়ে আমরা খুব দ্রুত বিস্তারিত আলোচনা করব।

          আপনারা জানেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কিছু সমস্যা চলছে। তার পরও আমরা বাহিরে থেকে যতটুকু পারছি কাজ করছি।’
          তিনি বলেন, ‘কিছু এলাকা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। সেসব এলাকায় আমরা উন্নয়নে জোর দেব।

          শিক্ষা ও দারিদ্র্যের হার উত্তরবঙ্গের দিকে কিছুটা বেশি। তাদের প্রতি আমাদের কিছু প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এসব এলাকায় গুদাম না থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন না ফসলের। ফলে আমরা সেসব এলাকায় গুদাম স্থাপন এবং প্রক্রিয়াকরণ জোনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করব। তিস্তা নদীর ভাঙনের ফলে যারা গৃহহীন হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

          উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রিভিলেজের কারণে কোনো এলাকায় বেশি উন্নয়ন আর কোনো এলাকায় কম উন্নয়ন যাতে না হয়—সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমরা দেখেছি গোপালগঞ্জের একটি উপজেলায় গেলে দেখা যাচ্ছে কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে আর রংপুরের আরেকটি জেলায় কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে।’

          তিনি আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার খুব অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েছে। সুতরাং এই অল্প সময়ে লাইব্রেরি স্থাপনের মতো এ রকম উদ্যোগ নেওয়া খুব চ্যালেঞ্জিং। আমরা মাত্র ২৩ কোটি টাকায় সারা দেশে ১১টি জেলার ৪৪টি পাবলিক লাইব্রেরি করছি। আমরা খুব দ্রুত দেশের সব উপজেলায় পাবলিক লাইব্রেরি করার প্রকল্প হাতে নেব। আমরা এমন একটা লাইব্রেরি করতে চাই, যেখানে সবাইকে আসতে আগ্রহী করবে। অন্য সরকারি ভবনের মতো পড়ে থাকবে না।’

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত