শিরোনাম
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন আমির খসরু
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা পৌনে ৪টার দিকে বৈঠক শেষে পার্ক লেনের হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সব বিষয়েই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমির খসরু।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছি। আমরা চাই কাজটা ঐক্যবদ্ধভাবে করি। শুধু নির্বাচনের আগে নয়, পরেও আমরা যে প্রত্যয় নিয়ে একসঙ্গে হয়েছি সেটি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
সংস্কার নিয়ে যে দীর্ঘ আলোচনা হচ্ছে এ বিষয়ে তারেক রহমানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে সেসবে সংস্কার হবে। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিষয়টি এমন নয় যে সব সংস্কার এখনই শেষ হয়ে যাবে। নির্বাচনের পরেও সংস্কার অব্যাহত থাকবে। সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আমরা মনে করছি। তাই এটি অব্যাহত থাকবে।
তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই তিনি যখন খুশি দেশে ফিরতে পারেন। সময়মতো তিনি এ সিদ্ধান্ত নেবেন।
এনসিপি নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনের একটি সঠিক তারিখ নির্ধারণে সমস্যা কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিল বলেন, এর কোনো সমস্যাই নেই। আমরা কোনো সমস্যা দেখছি না। কেউ যদি দেখে তাহলে ভুল দেখছেন। নির্বাচন কমিশন শিগগিরই তারিখ ঘোষণা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রমজানের আগে নির্বাচনের প্রস্তাব তারেক রহমানের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী রমজান মাসের আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ জুন) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় তা জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান লন্ডনে সফররত প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
‘তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মনে করেন ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন তিনি আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।
বার্তায় আরও বলা হয়, তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার এই অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রধান উপদেষ্টাও তারেক রহমানকে ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জানান।
সবার চোখ আজ লন্ডন বৈঠকে
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বহুল আলোচিত বৈঠকটি আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। লন্ডনের হোটেল ডোরচেস্টারে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টার ‘ওয়ান টু ওয়ান’ এ বৈঠকটি হবে রুদ্ধদ্বার। বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপসহ অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত নানা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হবে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টিও আসতে পারে আলোচনায়।
শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এরই মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফলে সবার চোখ এখন লন্ডনের দিকে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকটিকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপিসহ রাজনৈতিক মহল আশা করছে, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যে সংকট আছে, সেগুলো কেটে যাবে।
চার দিনের সরকারি সফরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে সেখানে পৌঁছান তিনি। অন্যদিকে, ২০০৮ সাল থেকে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান, যিনি কার্যত এখন বিএনপির মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ড. ইউনূস-তারেক রহমানের এই বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছিল। এমন অবস্থায় গত সোমবার সরকার ও বিএনপির তরফ থেকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর পর থেকেই বৈঠকের আলোচ্যসূচি কী হবে, তারেক রহমান কোন কোন বিষয় তুলে ধরবেন, সেটা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা হতে থাকে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোন কোন ইস্যুতে আলোচনা করবেন, গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সেই দায়িত্ব পুরোপুরি তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করা হয়।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি ইস্যু প্রাধান্য পেতে পারে। নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার। তবে মূল ফোকাস থাকবে নির্বাচনের ওপর, বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় এগিয়ে নিয়ে আসা। ঈদুল আজহার আগের দিন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, সেটিকে যৌক্তিক মনে করছে না বিএনপি। দলটি মনে করে, নির্বাচনের জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বরই উপযুক্ত সময়। তবে নির্বাচন আগামী বছরের জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে অর্থাৎ রোজার আগে হলেও দলটির আপত্তি থাকবে না বলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে। দলটির অভিমত, সর্বোচ্চ এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। ড. ইউনূসের সঙ্গে বহুল আলোচিত আজকের এই বৈঠকে তারেক রহমান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়টি আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন বলে দলীয় সূত্রগুলো বলছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বৈঠকটি যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ের, সেখানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় উঠে আসবে, বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়টি আসবে। আলোচনায় আসবে সরকারের নিরপেক্ষতা বহাল রাখার বিষয়ও। এ ছাড়া দেশে আইনের শাসন ও আদালতের রায় মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংস্কারের বিষয়টিও উঠতে পারে। আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই জিনিসগুলো দেখব। আশা করব যে, শীর্ষ পর্যায়ের এই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে জাতীয় ভিত্তিতে একটা গ্রহণযোগ্য ফয়সালা বা সিদ্ধান্ত ওখানে হবে। এটা আমাদের প্রত্যাশা, জাতিরও প্রত্যাশা তাই।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডন যান তিনি। তখন থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। লন্ডনে থাকাকালে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান’ তারেক রহমান। এরপর সেখান থেকেই স্থায়ী কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দল পরিচালনা করছেন তিনি।
এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে পাঁচ মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়। দায়ের করা হয় শতাধিক মামলা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে একে একে সাজাপ্রাপ্ত সব মামলায় খালাস পান তিনি। একই প্রক্রিয়ায় অন্য সব মামলা থেকেও মুক্ত হন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।
এমন অবস্থায় বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তার ফেরা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহলও আছে। সবার প্রত্যাশা, তারেক রহমান শিগগির দেশে ফিরছেন। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে যে, তিনি আগামী ৫ আগস্টের আগেই দেশে ফিরতে পারেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো অসুবিধা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল সকালে গাজীপুরের সালনা হাইওয়ে থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিক। তাই যে কোনো সময় তিনি আসতে পারেন। তিনি যে সময় মনে করবেন, তখনই দেশে ফিরতে পারবেন।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘শিগগির’ দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান নিশ্চয়ই দেশে ফিরবেন, অবশ্যই দেশে ফিরবেন।
সবার চোখ আজ লন্ডন বৈঠকে
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বহুল আলোচিত বৈঠকটি আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। লন্ডনের হোটেল ডোরচেস্টারে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টার ‘ওয়ান টু ওয়ান’ এ বৈঠকটি হবে রুদ্ধদ্বার। বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপসহ অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত নানা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হবে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টিও আসতে পারে আলোচনায়।
শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এরই মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফলে সবার চোখ এখন লন্ডনের দিকে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকটিকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপিসহ রাজনৈতিক মহল আশা করছে, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যে সংকট আছে, সেগুলো কেটে যাবে।
চার দিনের সরকারি সফরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে সেখানে পৌঁছান তিনি। অন্যদিকে, ২০০৮ সাল থেকে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান, যিনি কার্যত এখন বিএনপির মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ড. ইউনূস-তারেক রহমানের এই বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছিল। এমন অবস্থায় গত সোমবার সরকার ও বিএনপির তরফ থেকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর পর থেকেই বৈঠকের আলোচ্যসূচি কী হবে, তারেক রহমান কোন কোন বিষয় তুলে ধরবেন, সেটা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা হতে থাকে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোন কোন ইস্যুতে আলোচনা করবেন, গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সেই দায়িত্ব পুরোপুরি তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করা হয়।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি ইস্যু প্রাধান্য পেতে পারে। নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার। তবে মূল ফোকাস থাকবে নির্বাচনের ওপর, বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় এগিয়ে নিয়ে আসা। ঈদুল আজহার আগের দিন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, সেটিকে যৌক্তিক মনে করছে না বিএনপি। দলটি মনে করে, নির্বাচনের জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বরই উপযুক্ত সময়। তবে নির্বাচন আগামী বছরের জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে অর্থাৎ রোজার আগে হলেও দলটির আপত্তি থাকবে না বলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে। দলটির অভিমত, সর্বোচ্চ এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। ড. ইউনূসের সঙ্গে বহুল আলোচিত আজকের এই বৈঠকে তারেক রহমান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়টি আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন বলে দলীয় সূত্রগুলো বলছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বৈঠকটি যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ের, সেখানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় উঠে আসবে, বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়টি আসবে। আলোচনায় আসবে সরকারের নিরপেক্ষতা বহাল রাখার বিষয়ও। এ ছাড়া দেশে আইনের শাসন ও আদালতের রায় মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংস্কারের বিষয়টিও উঠতে পারে। আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই জিনিসগুলো দেখব। আশা করব যে, শীর্ষ পর্যায়ের এই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে জাতীয় ভিত্তিতে একটা গ্রহণযোগ্য ফয়সালা বা সিদ্ধান্ত ওখানে হবে। এটা আমাদের প্রত্যাশা, জাতিরও প্রত্যাশা তাই।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডন যান তিনি। তখন থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। লন্ডনে থাকাকালে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান’ তারেক রহমান। এরপর সেখান থেকেই স্থায়ী কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দল পরিচালনা করছেন তিনি।
এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে পাঁচ মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়। দায়ের করা হয় শতাধিক মামলা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে একে একে সাজাপ্রাপ্ত সব মামলায় খালাস পান তিনি। একই প্রক্রিয়ায় অন্য সব মামলা থেকেও মুক্ত হন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।
এমন অবস্থায় বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তার ফেরা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহলও আছে। সবার প্রত্যাশা, তারেক রহমান শিগগির দেশে ফিরছেন। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে যে, তিনি আগামী ৫ আগস্টের আগেই দেশে ফিরতে পারেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো অসুবিধা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল সকালে গাজীপুরের সালনা হাইওয়ে থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিক। তাই যে কোনো সময় তিনি আসতে পারেন। তিনি যে সময় মনে করবেন, তখনই দেশে ফিরতে পারবেন।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘শিগগির’ দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান নিশ্চয়ই দেশে ফিরবেন, অবশ্যই দেশে ফিরবেন।
‘মায়ের সঙ্গে ঈদ করছেন জয়, কিন্তু লাখ লাখ নেতাকর্মী পরিবারছাড়া’
ভারতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের অনেকে এই ঈদ উদযাপনকে ভালোভাবে নেননি। এই বিষয়ে অনেক নেতাকর্মী নেতিবাচক ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
তারা বলছেন, সন্তানের মায়ের সঙ্গে ঈদ করা একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে বর্তমান কঠিন বাস্তবতায় লাখো নেতাকর্মী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন- কেউ কারাগারে, কেউবা পলাতক অবস্থায়। এই নেতাকর্মীরাও তাদের পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে যদি সজীব ওয়াজেদ জয় বলতেন, ‘আমার দলের নেতাকর্মীরা যখন মা-বাবা ও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারছে না, তখন আমি কেন করব? আমিও করব না।’ তাহলে তার এই কঠোর অবস্থান সবার মধ্যে অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তিনি এমন কোনো বার্তা দেননি।
তারা আরও বলেন, আগে যেমন দলের ভেতরে ন্যায়ভিত্তিক সমালোচনা করার সুযোগ ছিল না, এখনো তেমনটাই অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি যেন এক অচল দুষ্টচক্রে আটকে আছে- যা শুধু অতীতে নয়, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও কাটিয়ে ওঠা যায়নি। শীর্ষ নেতাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সবসময় নিরাপদে থাকেন, তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। অথচ প্রতিটি সংকটে সামনে পড়েন সাধারণ নেতাকর্মীরাই। জেল, মামলা, নির্যাতনের পুরো বোঝা তারাই বইতে বাধ্য হন। আমরা তো এমন রাজনীতি চাইনি। আমরা চাই একটি নীতিনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও গুণগতভাবে উন্নত রাজনীতি, যেখানে সকলের জন্য থাকবে ন্যায়ের নিশ্চয়তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন সজীব ওয়াজেদ জয় মায়ের (শেখ হাসিনা) সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল করার পর তিনি বাধ্য হয়ে মার্কিন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। সব জটিলতা কাটিয়ে এবার ঈদ উপলক্ষে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি ভারতে এসেছেন।
আওয়ামী লীগের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সজীব ওয়াজেদ জয় ঈদের সময়টা মায়ের সঙ্গে কাটাতে ভারতে গেছেন। এই সফর সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয় বলে মনে করেন তিনি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির এ নেতা আরও জানান, তারা পরিবারিক পরিসরেই সময় কাটাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চলতি সফরে এখন পর্যন্ত সজীব ওয়াজেদ জয় কোনো দলীয় আলোচনায় অংশ নেননি। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও তার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। এমনকি তার কলকাতা সফরেরও কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর এবারই প্রথমবারের মতো তিনি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।
তথ্যসূত্র : যুগান্তর
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য