শিরোনাম
‘মায়ের সঙ্গে ঈদ করছেন জয়, কিন্তু লাখ লাখ নেতাকর্মী পরিবারছাড়া’
ভারতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের অনেকে এই ঈদ উদযাপনকে ভালোভাবে নেননি। এই বিষয়ে অনেক নেতাকর্মী নেতিবাচক ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
তারা বলছেন, সন্তানের মায়ের সঙ্গে ঈদ করা একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে বর্তমান কঠিন বাস্তবতায় লাখো নেতাকর্মী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন- কেউ কারাগারে, কেউবা পলাতক অবস্থায়। এই নেতাকর্মীরাও তাদের পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে যদি সজীব ওয়াজেদ জয় বলতেন, ‘আমার দলের নেতাকর্মীরা যখন মা-বাবা ও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারছে না, তখন আমি কেন করব? আমিও করব না।’ তাহলে তার এই কঠোর অবস্থান সবার মধ্যে অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তিনি এমন কোনো বার্তা দেননি।
তারা আরও বলেন, আগে যেমন দলের ভেতরে ন্যায়ভিত্তিক সমালোচনা করার সুযোগ ছিল না, এখনো তেমনটাই অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি যেন এক অচল দুষ্টচক্রে আটকে আছে- যা শুধু অতীতে নয়, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও কাটিয়ে ওঠা যায়নি। শীর্ষ নেতাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সবসময় নিরাপদে থাকেন, তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। অথচ প্রতিটি সংকটে সামনে পড়েন সাধারণ নেতাকর্মীরাই। জেল, মামলা, নির্যাতনের পুরো বোঝা তারাই বইতে বাধ্য হন। আমরা তো এমন রাজনীতি চাইনি। আমরা চাই একটি নীতিনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও গুণগতভাবে উন্নত রাজনীতি, যেখানে সকলের জন্য থাকবে ন্যায়ের নিশ্চয়তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন সজীব ওয়াজেদ জয় মায়ের (শেখ হাসিনা) সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল করার পর তিনি বাধ্য হয়ে মার্কিন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। সব জটিলতা কাটিয়ে এবার ঈদ উপলক্ষে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি ভারতে এসেছেন।
আওয়ামী লীগের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সজীব ওয়াজেদ জয় ঈদের সময়টা মায়ের সঙ্গে কাটাতে ভারতে গেছেন। এই সফর সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয় বলে মনে করেন তিনি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির এ নেতা আরও জানান, তারা পরিবারিক পরিসরেই সময় কাটাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চলতি সফরে এখন পর্যন্ত সজীব ওয়াজেদ জয় কোনো দলীয় আলোচনায় অংশ নেননি। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও তার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। এমনকি তার কলকাতা সফরেরও কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর এবারই প্রথমবারের মতো তিনি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।
তথ্যসূত্র : যুগান্তর
বিএনপি’র রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ
বিএনপি’র রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ছাত্রদলের উদ্যোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মুফিজুর রহমান আশিকের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। গতকাল বুধবার বিকালে বাঁশখালীর চাম্বল বাজার এলাকায় ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিএনপি’র মিডিয়া সেলের ফেইসবুক পেইজে এ তথ্য জানানো হয়।
দীর্ঘ ১৫বছরের স্বৈরাচারী শাসক যখন দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, বাংলাদেশকে গুম-খুন আর লুটের রাজ্যে পরিণত করেছিল তখন ২০২৩ সালের ১৩ জুলাইয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩১ দফা ঘোষণা করেন-যেখানে গণতন্ত্র ফিরে পাবে তার হারানো কণ্ঠ, আর নাগরিকগণ ফিরে পাবে রাষ্ট্রে তার আত্মমর্যাদা।
বিএনপি’র ৩১ দফা বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয় বরং এটি এক জাতির আকাঙ্ক্ষার ভাষা। যেখানে আছে ন্যায়বিচারের কথা, প্রশাসনের জবাবদিহিতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, আর মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার। বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন, নির্বাচন হবে স্বচ্ছ আর রাষ্ট্র হবে সবার জন্য সমান। এ দফাগুলোতে আছে কৃষক, শ্রমিক, সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুদের স্বপ্ন-যারা প্রান্তিক হয়েও রাষ্ট্রের প্রাণ। দুর্নীতির নাগপাশ ছিন্ন করে, এক ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক যেন প্রতিটি শব্দে বাজে।
এই ৩১ দফা কোনো দলীয় মঞ্চে বাঁধা নয়। এটি একটি জাতির সম্ভাবনার মানচিত্র। এটি যদি বাস্তবায়ন হয় তবে এ দেশ আবার জেগে উঠবে-নতুন আলোয়, ন্যায়বোধে আর মানুষের ভালোবাসায় এটিই বিএনপি’র প্রত্যাশা।
লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
গভীর রাতে দেশে ফিরলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশে ফিরেছেন। রোববার (৮ জুন) দিবাগত রাত দেড়টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (টিজি-৩৩৯) তিনি ঢাকায় আসেন। কালবেলাকে তথ্যটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে বিমানবন্দর থানা সূত্র।
অবতরণের পর ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি হুইল চেয়ারে করে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যান। সেখানে তাকে দীর্ঘক্ষণ হুইলচেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পরে রাত পৌনে ৩টার সময় তার ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হলে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
এ সময় তার পরনে ছিল শার্ট ও লুঙ্গি। আবদুল হামিদকে বেশ বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল বলে সূত্র জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা মো. আবদুল হামিদ গত মে মাসের শুরুতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছিলেন। আবদুল হামিদের দেশত্যাগে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছোট ছেলে রিয়াদ আহমেদ তুষার ও শ্যালক ডা. আ ন ম নৌশাদ খান যান। দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
বিষয়টি জানাজানি হলে শুরু হয় তোলপাড়। তার দেশ ছাড়ার সহযোগীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও করে। তাকে দেশত্যাগে সহযোগিতায় জড়িতদের শনাক্ত করতে গঠিত ওই কমিটি কাজ শুরু করে।
আবদুল হামিদ ২০১৩ সালে ২৪ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি, ২০১৮ সালে ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। তার মেয়াদ শেষে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর আবদুল হামিদ রাজধানীর নিকুঞ্জে তারা বাসায় উঠেছিলেন।
ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলি করার ঘটনায় কিশোরগঞ্জে সদর মডেল থানায় ১৪ জানুয়ারি সাবেক রাষ্ট্রপতি আবুদল হামিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সামা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়।
আবুদল হামিদের দেশত্যাগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এরই প্রেক্ষিতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শেখ হাসিনার মিডিয়া সন্ত্রাস সবার ওপরই চেপে বসবে: হাসনাত
এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, হাসিনার মিডিয়া সন্ত্রাস সবার ওপরই চেপে বসবে—আজ আমার ওপর, কাল আপনার ওপর।
পোস্টটিতে তিনি আরও লেখেন, ‘অথচ এই সাংবাদিকরাই যদি ৫ই আগস্ট না হতো, জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হতো, তাহলে তার পেছনে নিজেদের ভূমিকাকে সাহসী সাংবাদিকতা দাবী করে হাসিনার কদমবুচি করতে করতে পুরস্কার নিতে ছুটে যেতো।’
বুধবার (৪ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন ।
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই পোস্টটিকে একটি সাহসী অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বাজেট দিয়েছে সরকার: বিএনপি
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে গতানুগতিক বাজেট প্রক্রিয়া সংস্কার করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
বুধবার (৪ জুন) বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।
আমীর খসরু চৌধুরী মাহমুদ বলেন, দেশে এখন যেহেতু সংসদ বা গণতান্ত্রিক কোনো সরকার নাই- আমরা আশায় ছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে এবং সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে বাজেট ঘোষণা করবে। কিন্তু সরকার তা করেনি। বাজেট ঘোষণাটা পুরোপুরি গতানুগতিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খসরু বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কর আরোপের কোনো যুক্তি নেই। আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতা এলে শিক্ষার কর মওকুফ করা হবে।
তিনি বলেন, বাজেটে আমাদের আউট অফ বক্স চিন্তা করতে হবে। গতানুগতিক বাজেট থেকে বের হওয়ার সুযোগ ছিল।
বাজেট প্রক্রিয়া সংস্কার প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, বাজেট অনুমোদনের জন্য প্রচলিত সাংবিধানিক পদ্ধতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। জবাবদিহিতা এবং বাংলাদেশে সংসদীয় তদারকি শক্তিশালী করার জন্য মৌলিক সাংবিধানিক ও পদ্ধতিগত সংস্কারও করা হবে। সংসদীয় কমিটিকে শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ, নির্বাচনপূর্ব কেয়ারটেকার সরকারের জঞ্জাল পরিষ্কার নির্দেশিকাসহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একদিকে মুলস্ফীতি অন্যদিকে জনগণের আয় কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্যাক্স বাড়িয়ে দিলে জনগণের ওপর প্রভাব পড়বে। তাই জনগণের জীবনযাত্রার মান বাজেটের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা বৈষম্যের জন্য আন্দোলন করেছি। বাজেট উল্টো দিক দেখছি।
আমীর খসরু বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসলে আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবো। কোনো কিছু বাতিল প্রসঙ্গ আসবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব হোসেন শ্যামল, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য