ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ২৭ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

আখতার হোসেনের নেতৃত্বে আসছে নতুন ছাত্র সংগঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ অক্টোবর, ২০২৩ ১১:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক
আখতার হোসেনের নেতৃত্বে আসছে নতুন ছাত্র সংগঠন

ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্বতন্ত্র ছাত্র সংগঠন আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে নতুন এ সংগঠনের নাম কী হতে পারে তা এখনো জানা যায়নি।

গতকাল সোমবার (২ অক্টোবর) রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডাকসুর সাবেক নেতা আখতার হোসেন। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংগঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

ডাকসুর সাবেক এ নেতার পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ইতিহাসের ভুলত্রুটি শুধরে বর্তমানের সংকট নিরসন করে এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা সবার। এর জন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী রাজনীতি, চিন্তা ও নেতৃত্ব গঠন।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে ছাত্ররাজনীতি নেতৃত্ব বিকাশ ও রাজনৈতিক শিক্ষার আঁতুড়ঘর হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও শিক্ষাব্যবস্থায় যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে তার পুনর্গঠনে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক সক্রিয়তা। এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব অতি জরুরি বিষয়।

শিক্ষার্থীদের রাজনীতিবিমুখের কারণ উল্লেখ করে বলা হয়, করোনা-পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতি যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের উত্তাপের রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক শূন্যতা। আমরা আশা করেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছাত্র সংসদ চালু হবে এবং ছাত্র নেতৃত্ব তৈরি হবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম, ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক পরিসর আরও সংকুচিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সংগঠন গড়ার লক্ষ্যে আমরা গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সক্রিয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি নতুন ছাত্র সংগঠন গঠন করার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন, শিক্ষার্থী কল্যাণ, রাজনৈতিক পরিসর ও নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর (বুধবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে একটি জাতীয় ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা ও আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে আমরা একটি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করছি।

নতুন ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলা হয়, ছাত্ররাজনীতির এ পর্যালোচনা ও নতুন একটি ছাত্ররাজনীতি বিকাশের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও জনপরিসরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন আড্ডা, সেমিনার ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী চিন্তা বিনির্মাণের লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ক্রিয়াশীল বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক বিকাশের জন্য আমরা একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বাঙলা কলেজকে ‘বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়’ করার আহ্বান ছাত্রলীগ সভাপতির

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২ অক্টোবর, ২০২৩ ২৩:৪২
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    বাঙলা কলেজকে ‘বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়’ করার আহ্বান ছাত্রলীগ সভাপতির

    বাঙলা কলেজ প্রতিনিধিঃ বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় মহান ভাষা আন্দোলনের সৈনিকেরা জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘একটি বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় করার অঙ্গিকার বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্যে ছিল। আজকের এই কর্মীসভার মধ্য দিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাব- এই বাঙলা কলেজকে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। আমরা আহ্বান জানাব সঠিক পরিকল্পনা এবং রুপকল্প নিয়ে যেন এই বাঙলা কলেজকে একটি বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।’

    সোমবার (২ অক্টোবর) প্রায় তিন দশক পর রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রলীগ সভাপতি এ কথা বলেন।

    সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘তিন চার দশক পরে বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যা একটি ঐতিহাসিক মুহুর্ত। আমরা জানি যে ঢাকা শহরে রাজপথ নিরাপদ রাখার জন্য, সন্ত্রাসী খুনি, জঙ্গিবাদের তল্পিবাহকদের চিরতরে পরাজিত করার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঢাকা শহরের তরুণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য এবং টানা চতুর্থবারের মতো দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার জন্য বাঙলা কলেজ শাখার কমিটি গঠনের কোন বিকল্প নেই। আমরা গত দুই-তিনদিন আগে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীসভায় বলেছি- আগামী ১০০দিন বাংলার রাজপথ দখলে রাখবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার চলার পথকে আমরা মসৃণ রাখব। আগামি ১০০ দিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজপথে জাগ্রত অবস্থায় থাকবে। আগামি ১০০দিন দেশের প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রসমাজ জাগ্রত থাকবে। আমরা জানি যেখানেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গতিশীল রয়েছে সেখানেই শিক্ষার্থীদের অধিকার নিরাপদ রয়েছে।’

    সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, ‘বাঙলা কলেজটি ৬২ বছরে পা দিয়েছে। গতকাল ১ অক্টোবর আপনার বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছেন। আপনাদের সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

    সম্প্রতি বাঙলা কলেজে বিএনপি জামাতের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘যারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙলা কলেজের গেটে উর্দু কলেজ সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছিল তাদের উত্তরসুরিরাই বাঙলা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করেছে। কারণ তারা আমাদের বাংলা ভাষার চেতনায় বিশ্বাস করে না। এরা বাংলা ভাইয়ের চেতনায় বিশ্বাস করে।’

    সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, যাদেরকেই নেতৃত্ব দেয়া হয় তাদের নেতৃত্বেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এসময় অন্যন্যের মধ্যে আরও উপস্থি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ফুয়াদ হাসান ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ সহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    কর্মীসভাকে ঘিরে দুপুর থেকেই বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশি নেতাকর্মীরা লাল, নীল, সবুজসহ বিভিন্ন রং বেরংয়ের গেঞ্জি এবং ক্যাপ পড়ে কলেজ মাঠে জড় হন। এছাড়া বাহারি রংয়ের শাড়িতে সাজেন ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা। কর্মীসভা ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। বাংলাদেশ কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য, এবং বিতর্কমুক্ত কমিটির প্রত্যাশা জানান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে।

    উল্লেখ্য, ‘বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে জন্ম নেয়া বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার ৬২ বছরে পা দিয়েছে। কিন্তু এত বছর পরে এসে আজও প্রতিষ্ঠানটি তার  লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পূর্ণতা পায়নি । বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিজড়িত রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী  এই  কলেজকে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য এর আগে বেশ কয়েকবার দাবি জানিয়েছে কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। ১ অক্টোবর রোববার সরকারি বাঙলা কলেজের ৬১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং ২ অক্টোবর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীসভায় ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে বাঙলা কলেজকে  ‘বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়’ করার দাবি জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      শিক্ষার্থীকে মেরে অজ্ঞান করলেন নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মী

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২ অক্টোবর, ২০২৩ ১৬:৩
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      শিক্ষার্থীকে মেরে অজ্ঞান করলেন নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মী

      নজরুল কলেজ প্রতিনিধিঃ রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীকে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

      রবিবার (১লা অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কবি নজরুল কলেজের একমাত্র আবাসিক হল শহীদ শামসুল আলম হলে এ ঘটনা ঘটে।

      ভুক্তভোগী ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী খোরশেদ আলম বলেন, ‘ওরা আমাকে মারতে মারতে ফ্লোরে ফেলে দেয়। ফ্লোরে পড়ে যাওয়ার পরও আমার বুকে আর পিঠে ইচ্ছে মতো লাথি দিয়েছে। রুমের ঝাড়ু দিয়ে মেরেছে, এমনকি মাথায়ও আঘাত করেছে। মারধরের একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। প্রায় দুই ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলাম, জ্ঞান ফিরলে আমি আমার এক বড় ভাইকে কল করে মারধরের বিষয়টি জানাই। পরে হলের দুই ভাই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

      মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, কবি নজরুল কলেজের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী সাহাব উদ্দিন, কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত ও ছাত্রলীগের আরেক কর্মী মো. সাইফুল। তারা তিন জনই কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাওলাদারের অনুসারী।

      নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রাবাসের এক শিক্ষার্থী জানান, ভুক্তভোগী নিজেও কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাওলাদারের অনুসারী। যারা মারধর করেছে তারাও ফারুকের অনুসারী।

      মিটফোর্ড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রানা জানান, খোরশেদের পিঠে মারাত্মক জখম হয়েছে। বুকে আর মাথায়ও সে ব্যথা পেয়েছে। আপাতত তাকে ঘুমের ও ব্যথার ইনজেকশন দিয়েছি। আর কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়েছি। জখম ভালো হতে কিছুটা সময় লাগবে। আর মাথায় আঘাতের বিষয়ে তাকে সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দিয়েছি।

      হাসপাতালেই কথা হয় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খোরশেদ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি শুয়ে শুয়ে মোবাইলে মুভি দেখছিলাম। এমন সময় সাহাব উদ্দিন ভাই ও তার বন্ধু ইয়াসিনসহ রুমে এসে কাপড় রাখার জায়গা খুঁজছিলেন। সাহাব উদ্দিন ভাই আমার হ্যাঙ্গার নিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি বারণ করলে উনি আমাকে হ্যাঙ্গার দিয়েই আঘাত করে। বড় ভাইদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, ম্যানার জানিস না— বলে আমাকে মারতে শুরু করেন।

      পরে রুমে সাইফুল নামের আরেকজন এসে আমাকে দু’জন মিলে ইচ্ছে মতো মারতে থাকে। ইয়াসিন ভাই তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। আর বলছিলেন— আজকালকার পোলাপাইন বেয়াদব, ম্যানার জানে না, ম্যানার শেখাতে হবে। আমাকে নন স্টপ নির্যাতন করা হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি শুয়ে আছি, আমার মাথার কাছে একটি ফ্যান চলছে। আগে অবশ্য ফ্যানটি ছিল না।

      মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি কি বলবো জানি না। একজন মানুষকে কেউ এভাবে মারতে পারে আমার ধারণা ছিল না। এখানে আমার কোনও অভিভাবক নেই। বাসায় পরিবারের মানুষকে জানালে, তারা অনেক টেনশন করবে।’

      মারধরের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাহাব উদ্দিনের কাছে মারধরের কারণ জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। সাইফুল ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন। অন্যদিকে ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘মারধরের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না। আমি বরং তাদের মারধর করতে নিষেধ করেছি‌।’

      এ ঘটনায় কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমেনা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

      এ বিষয়ে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাওলাদার বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক। ঘটনা শোনামাত্রই আমি তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছি। তার পুরো চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তার যা যা প্রয়োজন সব কিছুর ব্যবস্থা করেছি।’

      মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে ছাত্রলীগের এ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগে কোনও অনুপ্রবেশকারী বা বিতর্কিতদের স্থান নেই। যে বা যারা এর সঙ্গে জড়িত আমি তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করবো।’ এছাড়া ভুক্তভোগী এ শিক্ষার্থীর পক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানান তিনি।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হল

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১ অক্টোবর, ২০২৩ ১৯:২৫
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হল

        সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (১ অক্টোবর) সরকারি মাদ্রাসাটির ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকামের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এরইমধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়া হল দুটিকে সিলগালা করে দিয়েছে মাদ্রাসা প্রশাসন।

        মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং হল সুপারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হল ও শহিদ ইব্রাহিম হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। হল বন্ধের কারণ হিসেবে বলা হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) হলে উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে হলে অবস্থান করা সব শিক্ষার্থীদের সকাল ৮ টার মধ্যে হল ত্যাগ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

        এর আগে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

        ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া শাখার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়- এমন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাই, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটি স্থগিত করা হলো।

        এর আগে, চলতি বছরের ২০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আওতাধীন সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে মুরাদ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাকিবুল ইসলাম বরকতকে এক বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীসভা সম্পন্ন

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২০:৪০
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীসভা সম্পন্ন

          বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আয়োজনে কর্মীসভা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

          বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আজহারুল ইসলাম মামুন, সহ-সতাপতি মোঃ মেহেদী হাসান তাপস, সহ-সতাপতি শেখ সাঈদ আনোয়ার সিজার, সহ-সভাপতি মো: রিপন মিয়া, সহ-সতাপতি এনামুল হাছান নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সজীবুর রহমান সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক, হাসিবুল হোসেন শান্ত, ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্ত, উপ-দপ্তর সম্পাদক সাদি মোহাম্মদ আকাশ, উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সেলিনা আক্তার শেলী, উপ-মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো: মাইদুল ইসলাম, উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পূজা কর্মকারসহ অন্যান্যরা।

          কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এবং দ্রুত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

          উল্লেখ্য, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা র‍্যালী এবং মিছিলের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করেন।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত