শিরোনাম
পৃথিবীকে রক্ষায় তরুণদের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান ড. ইউনূসের
বর্তমান সভ্যতার ধারায় পৃথিবী টিকে থাকতে পারবে না উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তরুণদের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ শুক্রবার টোকিওর সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতাকালে বলেন, ‘আমরা যে সভ্যতা তৈরি করছি, তা একটি আত্মবিধ্বংসী সভ্যতা, যা পৃথিবীকে ধ্বংস করবে।’
ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান সভ্যতার কাঠামোর মধ্যে মানুষ টিকে থাকতে পারবে না, কারণ বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ধ্বংস অব্যাহত আছে।
তিনি তাঁর ‘থ্রি জিরো থিওরি’ বা তিন শূন্য তত্ত্ব— শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এখন সবাই কেবল তাদের মুনাফা সর্বাধিক করতে চাচ্ছে।
বিশ্বের সম্পদের সিংহভাগ এখন খুব অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত, যাকে তিনি এক অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বেকারত্বের সমস্যা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আগত চ্যালেঞ্জগুলোর দিকেও আলোকপাত করেন।
‘থ্রি জিরো ক্লাব’ সম্পর্কে তিনি বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে একটি থ্রি জিরো ক্লাব গঠন করতে পারে, যেখানে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে যে তারা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করবে না।
তরুণ প্রজন্মকে নতুন এক বিশ্ব গড়তে সৃজনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে।
মানুষের সহজাত উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন: ‘যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই নও...প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই সৃজনশীলতা আছে।’
তিনি উদ্যোক্তা তৈরি করতে সামাজিক ব্যবসায় ক্লাব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একটি নতুন পৃথিবী কল্পনা করো, কারণ কল্পনা তোমাকে নিজেকে উন্মুক্ত করার ক্ষমতা দেয়।’
ড. ইউনূস অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের জানান কীভাবে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক থাকাকালে পাশের একটি ছোট গ্রামে ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে সোকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বিশ্বব্যাপী সামাজিক উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সুজুকিও বক্তব্য রাখেন।
মার্কিন সাময়িকী ফরেইন পলিসির প্রতিবেদন
হট সিটে ড. ইউনূস
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি–সব মিলিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। সেনাবাহিনী, বিএনপি ও ব্যবসায়ীদের আগাম নির্বাচনের দাবি ইউনূসের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলছে। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে।
যদিও সমঝোতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মার্কিন সাময়িকী ফরেইন পলিসিতে এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছেন মাইকেল কুগলম্যান। তিনি ফরেইন পলিসির সাপ্তাহিক সাউথ এশিয়া ব্রিফে লেখেন এবং প্রায় দুই দশক ধরে এই অঞ্চল নিয়ে বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন।
প্রতিবেদনটিতে কুগলম্যান বলেন, গত বছরের আগস্টে ব্যাপক গণআন্দোলনের চাপে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর থেকে প্রায় ১০ মাস ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস।
শুরুর দিন থেকেই ইউনূসের কাজ ছিল কঠিন। দীর্ঘদিনের সরকারি দমন-পীড়নের পর বাংলাদেশে পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় উদগ্রীব জনগণের উচ্চ আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাঁকে কাজ শুরু করতে হয়। তিনি এই সময়ে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাঁর জন্য ব্যাপক শ্রদ্ধা রয়েছে।
কিন্তু এখন চাপ বাড়ছে, এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে উল্লেখ করে কুগলম্যান লিখেছেন, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বাংলাদেশি জনগণ ক্রমাগত অধৈর্য হয়ে উঠছে, যার কোনো গণভিত্তি নেই, যা এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেনি এবং দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাব সত্ত্বেও ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে চলছে। এই সরকার বলেছে, ২০২৬ সালের মধ্যভাগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ একের পর এক খারাপ খবরে বিপর্যস্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করোনা মহামারির পর সবচেয়ে কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে, বাড়ছে সহিংস অপরাধ।
গত ২১ মে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের বলেন যে, নির্বাচনের সর্বশেষ সময়সীমা ডিসেম্বর হওয়া উচিত। একই দিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি এর আগেও বহুবার আগাম নির্বাচনের দাবি তুলেছে।
প্রসঙ্গত, মাইকেল কুগলম্যান গত ২১ মে দেওয়া সেনাপ্রধানের বক্তব্য ও একই দিনে বিএনপির আন্দোলনের কথা উল্লেখ করলেও এই একই সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক আলোচনায় ঘুরেফিরে আসা দুটি প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। এক. মানবিক করিডোর বা চ্যানেল; এবং দুই. বন্দর সম্পর্কিত আলোচনা। এ দুই আলোচনার সূত্রপাত যদিও আরো কিছু আগে। মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা করিডোর দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাব ও তাতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কিত প্রথম বক্তব্যটি আসে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের তরফ থেকে। এর পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও এ নিয়ে কথা বলেন, যা রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী মহল, নিরাপত্তা বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সচেতন সাধারণ নাগরিকদের অনেকটাই বিভ্রান্ত করে ফেলে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশি ব্যবস্থাপনায় বন্দর দেওয়ার প্রসঙ্গটি এলে জোর আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপিসহ বাম ধারার দলগুলো এ নিয়ে সুস্পষ্ট শঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতি বক্তৃতা দেয়। এ পর্যায়েই আসে অন্তর্বর্তী সরকারের এ সম্পর্কিত ম্যান্ডেট থাকা না থাকার প্রসঙ্গটি। ফলে নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়। এমনই এক পরিস্থিতিতে ড. ইউনূস পদত্যাগের কথা ভাবছেন বলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে জানান সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম।
কুগলম্যান এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, জুলাই আন্দোলনের শীর্ষ নেতা, শিক্ষার্থী পরিচালিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানান, যদিও ড. ইউনূস এখনও পদত্যাগ করেননি। তবে, এই হুমকিটি সম্ভবত ইউনুসের একটি কৌশল হতে পারে—পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর চারপাশের মানুষদের সতর্ক করার জন্য।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক এই বিশ্লেষকের মতে, ইউনূস এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে সংঘাতের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ছাত্রনেতাদের সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছেন এবং তাঁদের নীতিগত অবস্থানকেও সমর্থন করেছেন। আর তাঁরা নির্বাচনের সময় পেছালেও সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিএনপি, ব্যবসায়ী মহল এবং সম্ভবত বেশির ভাগ সাধারণ জনগণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচনের পক্ষে। এই ক্রমবর্ধমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিভাজনরেখা তৈরি হতে পারে। আগাম নির্বাচনের দাবিতে থাকা বিএনপির সঙ্গে এখন এনসিপি এবং প্রভাবশালী ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। নানা মতাদর্শী দল যখন নিজেদের দাবি নিয়ে রাজপথে নামে, তখন রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা সত্যিই বেড়ে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো টানাপোড়েনের কথা অস্বীকার করলেও জেনারেল ওয়াকারের নির্বাচনী আহ্বানকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ উল্লেখ করে কুগলম্যান লিখেছেন, শেখ হাসিনার অপসারণের পর থেকে সাধারণত রাজনৈতিক বিষয়ে চুপ থাকা ওয়াকারের এমন মন্তব্য জরুরি পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ওয়াকার সরকারের আরও কিছু সিদ্ধান্ত, যেমন ইলন মাস্কের স্টারলিংক পরিষেবা চালুর বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন।
আরও পড়ুন
এ সময়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে শত্রুতা আরও বেড়েছে। আওয়ামী লীগের দুর্নীতির দায় শেখ হাসিনা অস্বীকার করায় বাংলাদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, যা হয়ত অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাব ফেলেছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বিদেশে পালিয়ে গেছে। কিন্তু দলের যে অংশ এখনো রয়ে গেছে, তারা এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেয়নি।
মাইকেল কুগলম্যানের মতে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এই অস্থিতিশীলতা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, যার ফলে মারাত্মক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে। তখন প্রশ্ন উঠবে সেনাবাহিনী নিয়ে–যা এখন আগের চেয়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপে অনাগ্রহী। প্রশ্ন উঠেছে, তারা কি নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ না আসা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ নেবে?
এমন জটিল পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্ভাব্য সেরা বিকল্প বিষয়ে কুগলম্যান তাঁর লেখার শেষে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, যদি সবাই শান্ত থাকে, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে সেরা সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো–অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি মূল সংস্কারের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্মতি নিয়ে এগিয়ে যাবে। সেগুলোর বাস্তবায়নের একটি তারিখ নির্ধারণ করবে এবং নির্বাচনের একটি সময়সূচি ঘোষণা করবে। আশার কথা হলো, রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের পথ সুগম করবে এবং ইউনুসের জন্য তাঁর বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত জীবনে মসৃণভাবে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করবে।
জাপান-বাংলাদেশের মধ্যে ৬টি সমঝোতা স্মারক সই
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক এই চুক্তি হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রথম সমঝোতা স্মারকটিতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এবং বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জড়িত ছিল। জ্বালানি খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জেবিআইসি এবং বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরটি বিএসইজেডের জমি লিজ চুক্তির জন্য ওএনওডিএ ইনকর্পোরেটেড এবং বাংলাদেশ এসইজেড লিমিটেডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ওএনওডিএ জাইকা কর্তৃক প্রবর্তিত একটি গ্যাস মিটার ইনস্টলেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে এবং বিএসইজেডে কারখানায় গ্যাস মিটারের নতুন সমাবেশ উৎপাদন, পরিদর্শন এবং রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা করছে।
তৃতীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে বিএসইজেডের জমি লিজ চুক্তির জন্য বাংলাদেশ ন্যাক্সিস কোং লিমিটেড এবং বাংলাদেশ এসইজেড লিমিটেড জড়িত ছিল। বাংলাদেশ এসইজেড লিমিটেড (বিএসইজেড) এবং বাংলাদেশ ন্যাক্সিস কোং লিমিটেড (ন্যাক্সিস) একটি জমি সাবলিজ চুক্তি স্বাক্ষর করবে। ন্যাক্সিস বিএসইজেডের কারখানায় পোশাক আনুষঙ্গিক তৈরির পরিকল্পনা করছে।
চতুর্থ সমঝোতা স্মারকটিতে গ্লাগিট এবং মুসাশি সেইমিৎসু ইন্ডাস্ট্রি গ্লাফিট এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) ব্যাটারিচালিত সাইকেল এবং বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য সহায়তা প্রদানের বিষয়ে জড়িত ছিল।
পঞ্চম সমঝোতা স্মারকটিতে সাইফার কোং লিমিটেড জড়িত, যা পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্ভাবক তাকাতোশি নাকামুরার সম্পূর্ণ সাইফার প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তথ্য সুরক্ষার জন্য একটি জাতীয় পাইলট প্রকল্প চালু করার জন্য তার বাংলাদেশে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি কোয়ান্টাম-রেজিলিয়েন্ট ডিজিটাল অর্থনীতিতে পরিণত করা, যেখানে প্রযুক্তি স্থাপন এবং বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের জন্য স্থানীয় সংস্থাকে একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হবে।
ষষ্ঠ সমঝোতা স্মারকটিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা এবং বিআইডিএ জড়িত। এই সমঝোতা স্মারকটি ইন্টিগ্রেটেড সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্ম (আইএসডব্লিউপি) এর প্রাথমিক পর্যায়ের উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত এবং ইন-কাইন্ড সহায়তা প্রদানের জন্য জাইকার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
এই প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত ব্যক্তিগত ওয়ান-স্টপ পরিষেবাগুলিকে একীভূত করার জন্য বিডার নেতৃত্বে একটি প্রচেষ্টা।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এখন এটি বাস্তবায়ন করা আমাদের কাজ। আমি অনুপ্রাণিত।
বাংলাদেশে এক মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ‘গুগল পে’: আসিফ মাহমুদ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘গুগল পে’।

শুক্রবার (৩০ মে) আসিফ মাহমুদ তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘গুগল পে’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী এক মাসের মধ্যেই এই সেবা দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। এই সেবা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাদের হাতে থাকা ডিভাইসকেই একটি পূর্ণাঙ্গ‘'ডিজিটাল ওয়ালেট’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।’ এর ফলে আলাদা করে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড বহন করার প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে যাবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ
বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাঁকে হত্যা করে।
স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। তাই তাকে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের সমন্বয়ে সার্ক প্রতিষ্ঠায় স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন জিয়াউর রহমান। শহীদ জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক এক কালজয়ী দর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
প্রতি বছর দিনটি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী হিসেবে পালন করে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ্। শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে টানা ৮ দিনের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। গত ২৬ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে ২ জুন পর্যন্ত।
এরমধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, পোস্টার ও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, জিয়ার কবরে ফুল দেওয়া ও ফাতেহা পাঠ, দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্রসামগ্রী বিতরণ। কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে আলোচনা সভা করেছে বিএনপি। এতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিশিষ্টজন বক্তব্য রাখেন।
দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা এই সময় এসব আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও সারা দেশে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ সংগঠন শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালন করছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া খাল খনন কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব, শিল্প উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী ও আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। নারী সমাজের উন্নয়ন ও শিশুদের বিকাশে তার আগ্রহ জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দেয়। তার সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়।
দেশকে যখন তিনি সামনের দিকে নিয়ে চলতে শুরু করেন সেই সময়ে তার বিরুদ্ধে শুরু হয় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। ১৯৮১ সালের ২৯ মে তিনি এক সরকারি সফরে চট্টগ্রামে যান। ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে গভীর রাতে একদল সেনাসদস্য তাকে হত্যা করে। বিপথগামী সেনাসদস্যরা তার লাশ চট্টগ্রামের রাউজানের গভীর জঙ্গলে কবর দেয়।
তিন দিন পর ওই লাশ উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়, লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ শেরেবাংলা নগরে তার জানাজায় শরিক হন। ঢাকায় শহীদ জিয়াউর রহমানের নামাজে জানাজায় লোকসমাগম ও লাখ লাখ লোকের শোকাহত উপস্থিতি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
জিয়াউর রহমান বিবিসি’র জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিদের অন্যতম। জিয়াউর রহমান তার রাষ্ট্রনায়কত্ব এবং দৃষ্টিভঙ্গির জন্য দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা দ্বারা সম্মানিত হয়েছিলেন। সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করা হয়। যা বর্তমানে ‘জিয়া উদ্যান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
(বাসস)
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য