শিরোনাম
৪৮তম বিশেষ বিসিএসের ২১ জনের সুপারিশ স্থগিত, দুজনের বাতিল
চিকিৎসক নিয়োগে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের ২১ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত সুপারিশ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। তাদের মধ্যে ১৯ জন সহকারী সার্জন ও দুজন সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এ ছাড়া এমবিবিএস ডিগ্রি না থাকায় দুই জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিপিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার শাখা) মাসুমা আফরীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএমডিসির মূল সনদ না থাকায় ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় সরকারি কর্ম কমিশন সাময়িকভাবে মনোনয়নকৃত প্রার্থীদের মধ্যে ২১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করেছে। স্থগিতকৃত প্রার্থীদের বিষয়ে কমিশন কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অতিসত্ত্বর জানিয়ে দেওয়া হবে।
সহকারী সার্জন পদে সুপারিশ স্থগিত হওয়া ১৯ জনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর হলো- ৪৮১২৬৪২৪, ৪৮১০০০৬৭, ৪৮১১৮৮৯১, ৪৮১১০৬০৬, ৪৮১০৪৮৬২, ৪৮১৩০৮৫৮, ৪৮১১০৪৫৪, ৪৮১২৮২৭০, ৪৮১০৫০২৫, ৪৮১৩২৩৪০, ৪৮১১৩৬০৪, ৪৮১২৯৫১৭, ৪৮১০৪৬৭৮, ৪৮১০৫৮৬৬, ৪৮১৩৫৬৭৮, ৪৮১০৬৮৯৩, ৪৮১০৯৫৪৭৪৮১০২৫৪৩, ৪৮১০৪৫১৬। সহকারী ডেন্টাল সার্জন দুজনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর হলো- ৪৮২০২৫৮৫, ৪৮২০৩৩৭৫।
এ ছাড়া সহকারী সার্জন পদে সাময়িকভাবে মনোনয়ন পাওয়া ৪৮১০৯৩৩২ এবং ৪৮১৩১০৪৩ নম্বর রেজিস্ট্রেশন নম্বরধারী অবতীর্ণ প্রার্থীদের এমবিবিএস সনদ না থাকায় উল্লিখিত দুইজন প্রার্থীর প্রাথিতা বাতিল করা হলো।
গত ১৮ জুলাই ঢাকার ২৭টি কেন্দ্রে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ) অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেন ৪১ হাজার ২৫ জন প্রার্থী।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের ফল প্রকাশ করে বিপিএসসি। এতে ৩ হাজার ১২০ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। শিগগির তাদের নিয়োগ দিয়ে গেজেট জারি করার কথা রয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের।
মেডিকেল ভর্তিতে অটোমেশন : বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা সেক্টর ধ্বংসের ষড়যন্ত্র
অটোমেশনের কারণে সিট খালি থাকছে দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে। সে কারণে এ পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা। তারা বলছেন, এটি খুবই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বেসরকারি মেডিকেলে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত আর ভর্তি হন না। শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এই দুশ্চিন্তায় অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকার পরও তারা অন্যত্র ভর্তি হয়। ফলে সিট খালি থাকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন সচেতন অভিভাবক ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন। ফলে অটোমেশন পদ্ধতিতে ভর্তি পক্রিয়া বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষা বর্ষে সব মিলিয়ে ৪৬৭টি আসন ফাঁকা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষার্থী না পেয়ে অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে লোকসান গুনতে গুনতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তারা বলছে, অটোমেশনের কারণে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি হতে চার থেকে ছয় মাস লেগে যাচ্ছে। ২০২২-২৩ শিক্ষা বর্ষে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করলেও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ কিংবা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। অটোমেশন চালু হওয়ার পর ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ২১৭ টি, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১৪২ টি আসন ফাঁকা ছিল। অটোমেশন পদ্ধতি চালুর আগে দেশের কোন বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ফাঁকা থাকতো না।
বেসরকারি মেডিকেলে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব অর্থায়নে লেখাপড়া করেন, কিন্তু সেই শিক্ষার্থীদেরই পছন্দের মূল্যায়ন হয় না। এ কারণেও বেসরকারি মেডিকেলে কলেজে পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শুধু দেশীয় শিক্ষার্থী নন, বিদেশী শিক্ষার্থীরাও অটোমেশন জটিলতায় বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের দাবি, অটোমেশনের নামে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে।
অন্য দিকে অভিভাবকরা বলছেন, অর্থ খরচ করেন তারা, পছন্দ ঠিক করে দেয় সরকার- এটি হতে পারে না। অটোমেশনের কারণে অর্থ থাকলেও পছন্দের কলেজে অনেকেই ভর্তি হতে পারছেন না। অটোমেশন পদ্ধতি বাতিল করে আগের ব্যবস্থায় ফিরে গেলে শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সুবিধা হবে।
প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, এসব ছাড়াও বেসকারি মেডিকেল কলেজ রিকগনিশন কমিটি (বিএমএন্ডডিসি, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়) পৃথকভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনের নামে ঝামেলা করে। তাদেরকে উৎকোচ না দিলে ঝামেলা মেটানো যায় না, শেষ পর্যন্ত উৎকোচ দিতেই হয়।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো আরো অভিযোগ করছে, অটোমেশনের কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৈরি ‘ভর্তি হতে ইচ্ছুক’ তালিকায় শিক্ষার্থীদের পছন্দকে গুরুত্ব না দেয়ায় অনেকে শেষ পর্যন্ত এমবিবিএস কোর্স শেষ করতে পারেন না, ঝরে পড়েন। যেমন রাজধানীতে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা রাজধানীতেই থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু যারা ঢাকার বাইরে গ্রামের দিকে চলে যেতে বাধ্য হন তারা অনেক সময় ঝরে পড়েন। তা ছাড়া নিজেদের পছন্দ উপেক্ষিত হয় বলেও শেষ পর্যন্ত মানিয়ে নিতে পারেন না বলে ঝরে পড়েন অনেকে।
এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চিকিৎসা শিক্ষা খাতে এক দেশে দুই নীতি। আর্মি মেডিকেল কলেজ গুলো অটোমেশনের বাইরে রয়েছে। তারা সরকারী নীতিমালার বাইরে থেকে মেডিকেল কলেজ পরিচালনা করছেন। সুতরাং অটোমেশনরে নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলো বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। আর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলো ব্যক্তিগত বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকার এই খাতে পৃষ্ঠপোষকতা না করে উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে সরকার। হঠাৎ হঠাৎ সরকারী নীতিমালায় উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সেক্টর ধ্বংস করার নীলনকশা করা হয়েছে। এতে বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকারীরা নিরুত্সাহিত হচ্ছে।
বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ সেক্টর ধ্বংস করার নীলনকশা করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে প্রতিষ্ঠান গড়া কঠিন, ধ্বংস করা সহজ। প্রাইভেট সেক্টরে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরা নিজের চয়েজমতো ভর্তি হবেন। কিন্তু অটোমেশনের কারণে তারা তা পারছেন না। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সবাই হতাশ। হাত-পা বেঁধে পানিতে সাঁতার কাটতে দেয়ার মতো অবস্থায় অটোমেশন। যার জন্য এই পেশায় আসতে শিক্ষার্থীরা নিরুত্সাহিত হচ্ছেন। অটোমেশনের নামে এই সেক্টরকে ধ্বংস করার অপপ্রয়াস চলছে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন, আসন শূন্য থাকায় ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষা বর্ষে অটোমেশনে ৪ থেকে ৬ বার মেধা তালিকা পাঠানো হলেও অনেকেই তাদের পছন্দের কলেজ না পেয়ে ভর্তি হয়নি। এ ছাড়া প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেল না পড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এমনকি বিনা খরচে দরিদ্র ও মেধাবী কোটায় থাকার পরও পছন্দমতো কলেজ না পেয়ে লেখাপড়া শেষ করেননি অনেকে। অটোমেশন চালু হওয়ায় ক্লাসও বিলম্বে শুরু করতে হয়। কয়েকবার মেধা তালিকা প্রকাশের পরও আসন খালিই থাকছে। আবার এই বার বার মেধা তালিকা প্রকাশের কারণে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বিদেশী শিক্ষার্থীরাও আগের মতো ভর্তি হচ্ছে না বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিদেশী শিক্ষার্থীদের আসন ৪৫ শতাংশ পূরণ হয়েছিল। কিন্তু ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ২৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষাবর্ষে ২৩ শতাংশ বিদেশী শিক্ষার্থীদের আসন ফাঁকা রয়েছে। ফলে বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষাখাতে সরকার কাঙিখত বৈদেশিক মুদ্রা পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দীন বলেন, দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষায় বেসরকারি খাতের অবদান অপরিসীম। কিন্তু সরকার বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষার সহজীকরণে নজর না দিয়ে নতুন নতুন নীতিমালা তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকারী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে অটোমেশন চালু করেছে।
তিনি আরো বলেন, অটোমেশন একটি জটিল প্রক্রিয়া। যা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বান্ধব না। এ কারণে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। যেমন চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী বরিশালে গিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চায় না। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিচ্ছুরা অধিকাংশ ধনী পরিবারের। তারা নিজেদের পছন্দ মতো মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চায়। অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুতরাং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই অটোমেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করা প্রয়োজন।
সরকারি মেডিকেলে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হচ্ছে আজ
এমবিবিএস (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় ভর্তি শেষ আজ। আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি অফিস সময়ের মধ্য উত্তর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির কার্যক্রম শেষ করার কথা রয়েছে। সরকারি মেডিকেল কলেজ গুলোতে আসন মোট ৫ হাজার ৩৮০টি। ১৮ ফেব্রুয়ারি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছেন ৪৯ হাজার ৯২৩ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভর্তি পরীক্ষায় ছেলেদের পাসের হার ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ (২০ হাজার ৪৫৭) এবং মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ (২৯ হাজার ৪৬৬)। মেডিকেলে সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েরা এগিয়ে। সরকারি মেডিকেল কলেজে সুযোগপ্রাপ্ত মেয়েদের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৮ (৫৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ)। ছেলেদের সংখ্যা ২ হাজার ৩১২ (৪৩ দশমিক ২৬ শতাংশ)।
মেধা কোটার ৫ হাজার ৭২টি আসনের মধ্যে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৯৪ (৪৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) এবং মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৭৮ (৫৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ)। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মোট আসনসংখ্যার ৫শতাংশ হিসাবে ২৬৯ শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত কোটায় ৩৯ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৯২ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েছেন তানজিম মুনতাকা সর্বা।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ রোববারের মধ্যে
চলতি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সুষ্ঠুভাবে সারা দেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. টিটু মিয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘দেশের কোনো কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমরা পাইনি। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করব।’ তিনি বলেন, এ বছরও ভর্তি পরীক্ষায় ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী বেশি। আবেদনকারীদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ছাত্রী, ৪১ শতাংশ ছাত্র।
গতকাল শুক্রবার সকালে দেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৪৪টি প্রতিষ্ঠানে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ১ লাখ ৪ হাজার ৩৭৪ শিক্ষার্থী আবেদন করেন। দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৫ হাজার ৩৮০টি ও ৬৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ২৯৫টি আসন আছে।
গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে পরীক্ষা হল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার একদিন আগে ৬ কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন দেশের ছয়টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মেডিকেল কলেজের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত হওয়া মেডিকেল কলেজগুলো হলো-
১. উত্তরা আইচি মেডিকেল কলেজ
২. নর্দান মেডিকেল (ঢাকা)
৩. নর্দান মেডিকেল (রাজশাহী)
৪. শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজ (ঢাকা)
৫. কেয়ার মেডিকেল কলেজ এবং
৬. সাভারের নাইটেঙ্গেল মেডিকেল কলেজ।
এর মধ্যে কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও সাভারের নাইটেঙ্গেল মেডিকেল কলেজের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করার জন্য উপযুক্ত না। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আইন রয়েছে। অতীতে আইনের ব্যত্যয় ঘটতে পারে। তবে এখন থেকে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এক ঘণ্টাব্যাপী দেশের ১৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রের ৪৪টি ভেন্যুতে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে যার মোট আসন ৫৩৮০ টি। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে অনুমোদিত ৬৭টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে যার মোট আসন ৬ হাজার ২৯৫টি।
প্রশ্নফাঁস বন্ধে ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এমবিবিএস ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভর্তি প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত কয়েক বছর অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং ডিজিটালাইজেশনের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছে এবং একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ও দায়িত্বরতদের জন্য নির্দেশনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভর্তি পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় হলের গেট খুলবে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার পর কোনো পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্রের রঙিন প্রিন্ট কপি নিয়ে আসবেন।
পরীক্ষার দিন কেন্দ্রসমূহের আশপাশের ফটোকপি মেশিন বন্ধ থাকবে। পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো প্রকার অসদাচরণ/প্রতারণা/গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করা গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য