শিরোনাম
ব্রকলি খাওয়ার উপকারিতা
সালাদে ও রান্নায় এখন অনেকেই ব্রোকলি খান। এখন বাজারে প্রচুর ব্রোকলি পাওয়া যাচ্ছে। পুষ্টিবিদেরা ব্রোকলিকে দারুণ পুষ্টিকর সবজি বলেন। এতে দুর্দান্ত কিছু উপকারী উপাদান আছে, যা দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে পারে।
এতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। আমেরিকান ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তালিকায় ক্যানসার প্রতিরোধী দশম খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ব্রোকলি।
পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রোকলিতে আয়রনের পরিমাণ অনেক থাকে। ভিটামিন এ-এর একটি ভালো উৎস। এ ছাড়া এটি ত্বকের জন্য ভালো। কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে এতে। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।
ব্রোকলির সাত উপকার সম্পর্কে জেনে নিন:
১. ভিটামিন সি: লেবুর দ্বিগুণ ও আলুর সাত গুণ ভিটামিন সি ব্রোকলিতে। বলা হয়, যাঁদের ভিটামিন সি দরকার, তাঁরা অল্প করে হলেও ব্রোকলি প্রতিদিন খেতে পারেন।
২. ক্যানসার প্রতিরোধ: ব্রোকলির বিটা ক্যারোটিন ও সেলিনিয়াম যৌথ ও ভিটামিন সি প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস, যকৃত, স্তন ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: সেলিনিয়াম দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে প্রচুর ভিটামিন এ থাকায় ত্বকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে বাধা দেয়। সর্দি-কাশিও ঠেকাতে পারে ব্রোকলি।
৪. গ্যাসট্রাইটিস প্রতিরোধ: গ্যাসট্রিক আলসার ও গ্যাসট্রাইটিস প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর ব্রোকলি। বাঁধাকপির চেয়ে এতে অনেক বেশি ভিটামিন ইউ (মেথিওনাইনের উপজাত) থাকে। এতে সালফরাফেন নামের উপাদান থাকে যা গ্যাসট্রিক অ্যালসার ও ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
৫. বয়স ঠেকাতে: শরীরে সক্রিয় অক্সিজেন প্রতিরোধ করে ও বিষমুক্ত করে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করে ব্রোকলি।
৬. ত্বক সুন্দর করে: ব্রোকলিতে থাকা ভিটামিন সি ত্বক সুন্দর করে। এ ছাড়া এতে ডায়াটারি আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিণ্য প্রতিরোধ করে।
৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে: ব্রোকলিতে চর্বি ও ক্যালরি কম কিন্তু আঁশ বেশি। তাই বেশি করে ব্রোকলি খেলে ক্ষতি নেই। বেশি লৌহ থাকায় ডায়েটের সময় ব্রোকলি থেকে ঝিম ধরা ভাব দূর হয়।
যেভাবে খাবেন: ব্রোকলি কেনার সময় সতেজ, শক্ত কুঁড়ি ও গাঢ সবুজ দেখে কিনতে হবে। ব্রোকলির শুধু কুঁড়ি অংশটি খেতে পারেন। আবার চাইলে নরম ডাঁটা অংশটুকু রাখতে পারেন। ডাঁটাতেও পুষ্টি আছে। ব্রোকলি রান্নার পাশাপাশি সালাদ ও মাংসের সঙ্গে রোস্ট করে খাওয়া যায়।
শীতের কাপড়ের গন্ধ দূর করবেন যেভাবে
গুটি গুটি পায়ে শীত আসতে শুরু করেছে। এখন দিনক্ষণ দেখে লেপ-কম্বল, সোয়েটার-জ্যাকেট-মাফলার আলমারি বা ওয়ারড্রব থেকে বের করার প্রস্তুতি নিতে পারেন। আলমারি বা ওয়ারড্রবে তুলে রাখা শীতের পোশাক আগে ড্রাই ক্লিনিংয়ে পাঠাতে হবে, নয়তো রোদে দিয়ে গন্ধ দূর করা হতো। যাদের সময় নেই, তারা ঘরোয়া কিছু উপায়ে এসব গন্ধ দূর করতে পারেন।
বেকিং সোডা : ছোট একটি পাত্রে বেশ খানিকটা বেকিং সোডা নিয়ে আলমারির এক কোণে রেখে দিতে পারেন। কিংবা আলমারি থেকে বার করার পর শীতপোশাকের ভাঁজে ভাঁজেও ছড়িয়ে রাখতে পারেন সোডা। একটা রাত ওই ভাবে রেখে দিন। তার পর ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে নিলেই দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।
ভিনিগার : সাদা ভিনিগার এবং পানি, সমপরিমাণে মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে ফেলুন। জ্যাকেট, সোয়েটার কিংবা কার্ডিগানে স্প্রে করে নিন। তারপর রোদে বা হাওয়ায় শুকাতে দিন। ব্যাস, লন্ড্রি খরচ অনেকটা বেঁচে যাবে।
এসেনশিয়াল অয়েল : শীতের পোশাক থেকে দুর্গন্ধ দূর করতে এসেনশিয়াল অয়েল কিন্তু বেশ কাজের। ল্যাভেন্ডার, টি ট্রি, ইউক্যালিপ্টাস, টি ট্রি, সিট্রানিলার মতো অয়েল বেছে নিতে পারেন। এক কাপ পানিতে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে স্প্রে করে নিন গরম পোশাকে। তারপর কয়েক ঘণ্টা খোলা হাওয়ায় ওই ভাবে রেখে দিন। শুকিয়ে গেলেই কাজ শেষ।
অ্যাক্টিভেটেড চারকোল : আলমারির এক কোণে, একটি পাত্রে অ্যাক্টিভেটেড চারকোল রেখে দিতে পারেন। জামাকাপড়ের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ দূর করতে এটিও দারুণ একটি টোটকা। ন্যাপথলিনের বদলেও অ্যাক্টিভেটেড চারকোল কিন্তু ব্যবহার করাই যায়।
শসার সঙ্গে কী খেলে বাড়বে পুষ্টির মাত্রা
শসা হলো কম ক্যালোরি সমৃদ্ধ সবজি। এই সবজির প্রায় পুরোটাই পানি। সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত, বিভিন্ন উপায়ে স্বাস্থ্যকর এবং হাইড্রেটিং খাবার তৈরি করতে শসা ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবারের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে, যা হাইড্রেশন ও সুস্থতায় সাহায্য করে। এর উচ্চ ফাইবার এবং জলীয় উপাদান হজমশক্তি উন্নত করে এবং পেট ফাঁপা রোধ করতে সাহায্য করে।
শসায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে কিউকারবিটাসিন এবং ফ্ল্যাভোনয়েড, প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। শসা ভিটামিন কে সরবরাহ করে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা ক্যালসিয়াম শোষণ এবং হাড় মেরামতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো শসার সঙ্গে খেলে শসার পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক-
টমেটো
গবেষণা অনুসারে, টমেটো লাইকোপিন এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে বলে জানা গেছে। শসা এবং টমেটো অলিভ অয়েল এবং বিভিন্ন ভেষজের সঙ্গে মিশিয়ে স্বাস্থ্যকর সালাদ তৈরি করে খেতে পারেন। যা ডিটক্সিফিকেশন এবং হাইড্রেশনের জন্য উপযুক্ত। চাইলে এই সংমিশ্রণ স্যান্ডউইচ স্টাফিং হিসাবেও ব্যবহার করতে পারেন।
দই
দই প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং প্রোবায়োটিক যোগ করে এবং শসা থেকে প্রাপ্ত পানির সঙ্গে মিশে এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়তা করে। শসার রায়তা বা স্মুদি তৈরি করতে পারেন। যা শীতল, ক্রিমি এবং হজম-বান্ধবও।
ছোলা
ছোলা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, আয়রন এবং ফাইবার সরবরাহ করে বলে জানা গেছে, যা শসার সঙ্গে মিলে আরও বেশি পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে তা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে এবং সুষম খাবারের বিকল্প হতে পারে। সেদ্ধ ছোলা, শসা, অলিভ অয়েল, কাঁচা মরিচ এবং পুদিনা পাতা একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
পুদিনা বা তুলসী
এই ভেষজগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং হজমে সহায়তা করে। সেইসঙ্গে এগুলো শসার শীতল প্রকৃতির পরিপূরক। সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো শসা-পুদিনা মিশ্রিত পানি বা তুলসী-শসার সালাদ যা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং আপনাকে সতেজ বোধ করায়।
অতিরিক্ত রাগ কীসের লক্ষণ?
আপনি এমন কাউকে কখনো দেখেছেন কি- যিনি এমন একটি বিষয়ে খুব দ্রুত রাগে- ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন, কিন্তু ওই বিষয়টিতে হয়তো ততটা উত্তেজনা বা প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোনো প্রয়োজন আসলে ছিল না? ওই সময় আপনি কি ওই রাগান্বিত ব্যক্তির চেহারা কখনো খেয়াল করেছেন?
এ সময় তার মুখ ঘামতে শুরু করে এবং সে সহিংস বা হিংসাত্মক শব্দ ব্যবহার বা অস্পষ্টভাবে এসব শব্দ উচ্চারণ করতেও শোনা যায়। অথবা আপনি কি ওই একই ব্যক্তিকে তার রাগ বা ক্রোধের পর শান্ত, সংযত এবং তার ওই আচরণের জন্য অনুতপ্ত হতে দেখেছেন?
আপনি হয়তো ওই ব্যক্তিদের এমন কথা বলে ন্যায্যতা দিতে শুনবেন যে তারা বলছে, এই রাগ তাদের ব্যক্তিত্ব বা চরিত্রের অংশ। অথবা এই রাগ মানুষ হিসেবে আমাদের অনুভূতিরই একটা অংশ।
যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই দ্রুত ও তীব্র রাগের বহিঃপ্রকাশকে একটি রোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি 'ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার' রোগ নামে পরিচিত।
আমরা মাঝে মাঝে এমন কথা বলি যে, ‘সে রেগে গেছে' বা 'রাগে ফেটে পড়েছে’– এমন সব রাগ বা ক্রোধের আচরণের ক্ষেত্রে এই রোগ ‘ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার’ প্রযোজ্য হতে পারে।
কিন্তু সব ধরনের রাগই কি এই এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার বোঝায়?
নাকি রাগ একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং আমাদের অনুভূতি প্রকাশের জন্য মানব প্রকৃতি ও মানুষের আচরণের একটি অংশ হতে পারে?
রাগের এই ‘ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার’ রোগ নির্ণয়ের প্রথম মানদণ্ড বা বৈশিষ্ট্য হলো পরিস্থিতির প্রতি অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। এর অর্থ দাঁড়ায় তীব্র রাগ হলো এমন একটি প্রতিক্রিয়া যখন কোনো পরিস্থিতির জন্য এমন উত্তেজনা বা ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ করা, যতটা করার আসলে কোনো প্রয়োজন নেই।
অনেকেই আছেন এমন ভয়ঙ্কর রেগে যান যে অন্যদের প্রতি সহিংস বা হিংসাত্মক আচরণ করেন। কিন্তু ওই ঘটনার সময় তাদের মেজাজ যে খারাপ ছিল বিষয়টি কিন্তু এমন নয়।
এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের লক্ষণ
এই ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার বা আকস্মিক বিস্ফোরক ব্যাধিতে হঠাৎ করে মানুষ যখন রাগের আক্রমণের শিকার হয়, তখন নানা ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়।
সহজেই খিটখিটে ভাব, উত্তেজনা ও শক্তি বৃদ্ধি, অতিরিক্ত চিন্তা করা, উত্তেজনা বা রাগ, বুকে টানটান ভাব, শরীরে কাঁপুনি, হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া বা ধড়ফড় করা এবং শরীরে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দের অনুভূতির লক্ষণ দেখা দেয় এ ধরনের ব্যক্তির দেহে।
মায়ো ক্লিনিকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পরিণতি বিবেচনা না করেই এ ধরনের রাগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৌখিক এবং আচরণগত বিস্ফোরণের তীব্রতা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির তীব্রতার চেয়ে অনেক বেশি হয়।
এই ওয়েবসাইটের মতে, রাগের এই এক্সপ্লোসিভ অ্যাটাক বা বিস্ফোরক আক্রমণের মধ্যে নিম্নলিখিত আচরণগুলোও অন্তর্ভূক্ত থাকতে পারে:
১. রাগ বা মেজাজ খারাপ হওয়া।
২. রাগের দীর্ঘস্থায়ী বিস্ফোরণ।
৩. উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও চিৎকার করা।
৪. চড় বা শারীরিক ধাক্কাধাক্কি এবং ঝগড়া করা।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের মতে, মেজাজ খারাপ আচরণের মধ্যে সম্পত্তি ভাঙচুর বা ধ্বংস করা এবং মানুষ বা প্রাণীকে ক্ষতি করা বা হুমকি দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত।
রাগের এ ধরনের আক্রমণগুলো হঠাৎ করে, খুব সামান্য বা কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই হতে পারে। রাগের এই এক্সপ্লোসিভ এপিসোডের পরে একজন ব্যক্তি সাধারণত মানসিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্য এবং শারীরিকভাবে ক্লান্ত বোধ করে।
পরে অবশ্য তারা তাদের কাজের জন্য দোষী বা অনুতপ্ত বোধ করেন। এছাড়া প্রতিক্রিয়া দেখেও বিব্রত বোধ করেন। যদিও অনেকের ক্ষেত্রেই এই আচরণ স্বাভাবিক যেমন: ক্রোধ বা ক্ষোভ প্রকাশের পর অনুশোচনা বা বিব্রত বোধ করা।
এই আচরণ ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য একেবারেই কমন বিষয়। তবে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পরে এই ব্যক্তি সাধারণত শান্ত হন। তার ক্রোধ বা রাগের আচরণের জন্য অনুশোচনার অনুভূতিসহ এই এপিসোডটি ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
‘কিন্তু অপরাধবোধ ওই কাজ বা আচরণ পুনরায় করা থেকে বাধা দেয় না’ বলেন আজার।
তিনি আরও জানান, রাগ বা ক্রোধের এই অবস্থার লক্ষণ নির্ধারণের মানদণ্ডগুলো মানসিক ব্যাধির ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়ালে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, যদি তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে দুইবার এ রকম রাগের লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে বুঝতে হবে, কোনো সমস্যা আছে। অথবা ১২ মাসে অন্তত তিনটি গুরুতর আক্রমণ হলে আমরা বলতে পারি, এই রোগটি আসলেই আছে এবং ওই ব্যক্তির চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
কারণ কী?
এই ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের নানা কারণ থাকতে পারে।
এর মধ্যে জৈবিক কারণ ছাড়াও কোনো ব্যক্তি যে পরিস্থিতি বা পরিবেশে বাস করে, তার সাথে সম্পর্কিত সামাজিক কারণগুলোও এর সাথে সম্পর্কিত থাকতে পারে। এছাড়া কিছু কারণ জেনেটিকও হতে পারে।
এই এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার সংক্রান্ত গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো শৈশবের ট্রমা, শোষণ এবং শারীরিক নির্যাতন, বুলির শিকার হওয়াও রাগ বা ক্রোধের পেছনে ভূমিকা রাখে।
একইসাথে দুর্বিসহ এবং ট্রমাটিক ঘটনার অভিজ্ঞতাও এই এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের কারণ। একজন ব্যক্তির পারিবারিক পরিবেশ এবং পরিস্থিতিও এতে করে প্রভাবিত হয়।
আজার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একটি শিশু যদি বাড়িতে এমন পরিবেশে থাকে যে, সে অনবরত বাবা-মায়ের বকুনির মুখোমুখি হয়। তাহলে নিঃসন্দেহে তার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাদক ও অ্যালকোহল এই অবস্থাকে আরো খারাপ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।
আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে কী চলছে?
অ্যামিগডালা আমাদের মস্তিষ্কের সেই অংশ যেটি আবেগ বিশেষত ভয় এবং উদ্বেগ তৈরির জন্য দায়ী। এটি আবেগের সাথে স্মৃতির সংযোগ করে। মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত আমন্ড বাদামের আকৃতির এই অংশটি সাধারণ মানুষের চাইতে ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রাগের উদ্দীপনার ক্ষেত্রে বেশি প্রতিক্রিয়া এবং মিথষ্ক্রিয়া তৈরি করে।
সায়েন্স ডাইরেক্টে ২০১৬ সালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি এমআরআই প্রমাণ করেছিল। এই ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের এই অ্যামিগডালা অংশটি ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে অতি সক্রিয়।
একজন ব্যক্তির মুড বা মানসিক আচরণ, ঘুম, ক্ষুধা, হজম এবং অন্যান্য অবস্থার জন্য দায়ী নিউরোট্রান্সমিটার এবং হরমোন। ভূমিকা পালন করে সেরোটোনিনও।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সেরোটোনিনের কার্যকারিতার পরিবর্তন হয়।
যার ফলে ডোপামিন ভারসাম্যহীনতার (সুখ ও উৎসাহের হরমোন) কারণে ব্যক্তির মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দেয়। সেরোটোনিন এবং অ্যামিগডালার মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ মানসিক প্রতিক্রিয়ার সময় সেরোটোনিন অ্যামিগডালার ভূমিকা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১ সালের এক গবেষণা এবং ২০১৬ সালে সায়েন্স ডাইরেক্টের একটি গবেষণায় এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায়শই অতিরিক্ত সক্রিয় অ্যামিগডালা এবং সেরোটোনিনের মাত্রা কম থাকে।
শারীরিক ও সামাজিক প্রভাব
ঘন ঘন রাগের বহিঃপ্রকাশ একজন ব্যক্তির শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে– যার ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিন্তু শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যেই এর প্রভাব সীমাবদ্ধ নয়। একজন রাগী ব্যক্তি যখন প্রচণ্ড রাগ বা ক্রোধের সম্মুখীন হন যেমন: কারো ক্ষতি করা, সম্পত্তি ধ্বংস করা অথা মৌখিকভাবে তাদের গালি-গালাজ করা তখন আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।
এই ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। তখন মানুষ এরকম দ্রুত ভয়াবহ রেগে যান বা হঠাৎ প্রতিক্রিয়া দেখান এমন ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন।
ব্যক্তির এমন আচরণে তার নিকটাত্মীয় পরিবার বা বন্ধুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আজার বলেন, আমরা শুধু রাগের কথা বলছি না বরং একটি অগ্রহণযোগ্য এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়ার কথা বলছি।
যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তখন আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। সেসময় একজন ব্যক্তি তার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে না উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবারের ভূমিকা কী?
এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যেসব লক্ষণের কথা আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো দেখা দিলে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত বলে উল্লেখ করেন লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের মনোরোগ বিভাগের প্রধান জোসেলিন আজার।
তিনি গুরুত্বারোপ করেন, যদি পরিবারের অন্য সদস্যরা ওই আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে বেশি সময় কাটান তাহলে তারা রাগের এই আক্রমণের ফ্রিকোয়েন্সি, সংখ্যা এবং তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
এই ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায়শই খুব সহজেই উত্তেজিত ও বিরক্ত হয়ে পড়েন। তারা কোনো বাধার মুখোমুখি হওয়া বা বিভ্রান্ত হওয়া পছন্দ করেন না বলেও জানান মিজ আজার।
তার মতে, শান্ত হতে বলা হলে তারা আরো বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
বেশিরভাগ গবেষণায় রোগীর পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের বাঁধা ছাড়াই তাকে যেন নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তার রাগের কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো এড়িয়ে চলা এবং তার প্রতিক্রিয়ার জন্য তাকে দোষারোপ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে এসব গবেষণায়।
পরিবারের সদস্যদের শান্ত থেকে বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ, তাদের নিজেদের নিরাপত্তা এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এসব গবেষণায়।
চিকিৎসা কী?
এই ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার চিকিৎসার একাধিক উপায় আছে। আগের তুলনায় চিকিৎসক এবং সাইকোথেরাপিস্টের চাহিদা এখনকার দিনে অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন মিজ আজার।
বেশিরভাগ সময়ই মানুষ ওষুধ খাওয়া এড়াতে একজন থেরাপিস্টের কাছে পরামর্শ নিতে পছন্দ করেন। যদিও অন্ততপক্ষ এক বছর ধরে চিকিৎসা এবং ফলোআপ সেশনের কারণে এই পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল হতে পারে।
কিন্তু রোগীর জন্য কোন সাইকোথেরাপিস্ট ও চিকিৎসা পদ্ধতি সঠিক, সেটি জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আজার। বেশ কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি আছে। যেমন: কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, রিলাক্সেশন এবং ব্রিদিং টেকনিক এবং রাগের কারণ এড়িয়ে চলা।
তবে, যেসব রোগীর ক্ষেত্রে রোগের মাত্রা অনেক বেশি হয় বা তীব্র ও বারবার আক্রমণ হয় তাদের ক্ষেত্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হতে পারে। ড. আজার ব্যাখ্যা করেন, যদি ওষুধের প্রয়োজন হয় তাহলে তা অবশ্যই নেওয়া উচিত।
বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২১৩৭১৯ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬১৮ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস)।
আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। স্বর্ণের নতুন দাম আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকায়, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকায়।
স্বর্ণের পাশাপাশি বেড়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৬ হাজার ২০৫ টাকায়, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৯১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৭৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৮০২ টাকায়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য