শিরোনাম
এই গরমে
হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়
গরম সবে পড়তে শুরু করেছে। এরমধ্যেই নানারকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে গরমের সময়টা একটু বেশিই বিপজ্জনক। অতিরিক্ত গরমে প্রায়ই দেখা দেয় হিট স্ট্রোক বা সান স্ট্রোকের সমস্যা। হিট স্ট্রোকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালী প্রসারিত হয় এবং ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান করলে পানি ও লবণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অকার্যকর হয়ে দেহের তাপমাত্রা যদি ১০৫ ডিগ্রী ফারনহাইটের উপরে চলে যায় তখন একে হিট স্ট্রোক বলে।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
- শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা ( ১০৫ ডিগ্রী ফারনহাইটের উপরে)
- দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস
- নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত
- রক্তচাপ কমে যাওয়া
- মাথা ব্যথা, মাথা ঝিম ঝিম করা, মাথা ঘোরা
- দুর্বলতা
- খিঁচুনি
- বমি বমি ভাব
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়
- হালকা, ঢিলেঢালা, সুতি পোশাক পরা
- রোদের উত্তাপ যেই সময়টাতে বেশি থাকে (বিশেষকরে বেলা ১১.০০ তা থেকে বিকাল ৩.০০ টা) সেই সময়ে প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে বের না হওয়া এবং যথাসম্ভব ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা।
- বাসার বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা।
- প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল যেমন- খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি, ডাবের পানি, ঘোল ইত্যাদি পান করুন।
- দিনে ২ বার গোসল করুন।
- মৌসুমি ফল ও সবজি খাদ্য তালিকায় রাখুন।
- সহজপাচ্য খাবার খান।
কারও হিট স্ট্রোক হলে যা করবেন
- রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান। সম্ভব হলে ফ্যান/এসি ছেড়ে দিন।
- পরিধেয় কাপড়টি ঢিলে করে দিন, সম্ভব হলে খুলে দিন।
- শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন।
- রোগীর জ্ঞান থাকলে তাকে খাবার স্যালাইন দিন
- যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো কি এবং জরুরি করণীয়সমূহ
ডেস্ক রিপোর্ট: হার্ট অ্যাটাক একটি প্রাণঘাতী মেডিকেল ইমার্জেন্সি। দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কিছু পূর্ব লক্ষণ আগেভাগে বুঝতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাকের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ
১. বুকব্যথা
গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকের শিকার রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশের অনেক আগেই বুকব্যথার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। অনেকে সামান্য ব্যথাকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এটি হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
২. বুকে ভারবোধ
৪৪ শতাংশ রোগী হার্ট অ্যাটাকের আগে বুকে ভারী অনুভূতি বা চাপ অনুভব করেছিলেন। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রম, সিঁড়ি ওঠা বা দ্রুত হাঁটার পর যদি বুকে চাপ অনুভূত হয়, তবে এটি সতর্ক সংকেত হতে পারে।
৩. বুক ধড়ফড় করা
৪২ শতাংশ রোগী বুক ধড়ফড় বা হার্টবিট অনিয়মিত হওয়ার মতো অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ হার্টবিট মিস হওয়ার কথাও বলেন। এটি হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৪. শ্বাসকষ্ট বা হাঁপিয়ে যাওয়া
শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই যদি শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয় বা হাঁপিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, তবে এটি হার্টের কার্যক্রম দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশ্রামের সময়ও এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫. বুক জ্বালাপোড়া
অনেকে বুক জ্বালাপোড়া অনুভব করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করেন এবং গ্যাসের ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। তবে যদি গ্যাসের ওষুধেও উপশম না হয়, তাহলে এটি হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
৬. দুর্বলতা ও ক্লান্তিবোধ
দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি থাকলে সেটি অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি হার্টের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য লক্ষণ
বুক ব্যথা ছাড়াও হার্ট অ্যাটাকের সময় মাথা ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অনিদ্রা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, পা ফোলা বা ভারী লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন
১. আতঙ্কিত হবেন না
হার্ট অ্যাটাক হলে বা উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমেই ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিন। আতঙ্কিত হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
২. দ্রুত চিকিৎসা নিন
অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত বেশি বিপদ এড়ানো সম্ভব।
৩. অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ান
লম্বা শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়বে এবং হৃৎপিণ্ড কিছুটা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে।
৪. কাশির মাধ্যমে সাপোর্ট দিন
হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে রোগীকে ঘন ঘন কাশি দিতে বলা হয়। প্রতিবার কাশি দেওয়ার আগে গভীর শ্বাস নিতে হবে। এতে হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
৫. অ্যাসপিরিন বা নাইট্রোগ্লিসারিন নিন
যদি রোগীর আগে থেকে হার্টের সমস্যা থাকে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাসপিরিন বা নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করার নির্দেশনা থাকে, তবে তা দ্রুত গ্রহণ করুন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে ওষুধ নেওয়া ঠিক নয়।
৬. রোগীকে শুইয়ে দিন
রোগীকে সমতল স্থানে শুইয়ে দিন এবং যদি সম্ভব হয়, পা কিছুটা উঁচুতে রাখুন। এতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।
৭. আশেপাশের কাউকে জানিয়ে দ্রুত সাহায্য নিন
হার্ট অ্যাটাক হলে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা না করে আশপাশের কাউকে জানিয়ে দ্রুত সাহায্য নিন।
হার্ট অ্যাটাক একটি ভয়াবহ সমস্যা, তবে আগেভাগে লক্ষণ চিনতে পারলে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিলে প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার গ্রহণ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।
আদিনাথ মেলা: মহেশখালীর শতবর্ষী সম্প্রীতির উৎসব
মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন: সৃষ্টিতে-কৃষ্টিতে অনন্য দ্বীপ মহেশখালী। সোনাদিয়া, মাতারবাড়ী-ধলঘাটা এই তিন উপদ্বীপ এবং স্বকীয় সংস্কৃতি নিয়ে পাহাড়ের সাথে মিতালী করে জেগে আছে দ্বীপ মহেশখালী। ৩৮৮.৫০ বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস মহেশখালীতে। বাংলাদেশের প্রধান তিন ধর্মাবলম্বী মানুষের সহাবস্থানের অনন্য উদাহরণ একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
দ্বীপের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শিব চতুর্দশী পূজাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় আদিনাথ মেলা। প্রতি বছর ফাগুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এই মেলা বসে মৈনাক পাহাড়ের পাদদেশে।
দেশীয় এবং নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করার পাশাপাশি আদিনাথ মেলা হয়ে উঠেছে মহেশখালীর মানুষের প্রাণের মেলা। দেশের অন্য প্রান্তে থাকলেও পলাশ-শিমুল ফুলের গাড় রং মনে করিয়ে দেয় মহেশখালীর আদিনাথ মেলার কথা। আলাদা আলাদা ধর্মীয় উপাসনালয়ে ইবাদত হলেও আদিনাথ মেলাকে কেন্দ্র করে সকল ধর্মের অনুসারীরা একত্রিত হয় মেলা প্রাঙ্গণে।
শত বছরের পুরনো এই মেলা হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার কাজে অংশ নেন। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উৎসবকে আনন্দময় করে তোলেন।
এ মেলা থেকে লোকজন রকমারি মনোহারি পণ্য ছাড়াও সারা বছরের গৃহস্থালি পণ্য কিনে থাকে। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, খেলনার দোকান, খাবারের হোটেল, চিনি ও গুড়ের বিখ্যাত জিলাপির দোকান বসে মেলাকে কেন্দ্র করে। এই দ্বীপে আদিনাথ মেলার গুড়ের জিলাপির সুবাস পেতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে।
এখানে শুধু কেনাকাটা নয় চিত্ত বিনোদনের জন্য, পুতুল নাচ, নাগর দোলা, মৃত্যুকূপের আয়োজনও বেশ ব্যাপাকভাবে করা হয়। মেলায় হিন্দু-মুসলিম ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে দোকান বসান। মুসলিম ব্যবসায়ীরা যেমন মেলায় পূজার সামগ্রী ও হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রি করেন, তেমনি হিন্দু ব্যবসায়ীরাও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পোশাক, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই মেলাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা। মেলার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তার পাশাপাশি মহেশখালীর রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় প্রতিনিধিগন, সুশীল সমাজ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের সচেতন দৃষ্টি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, চিন্তা চেতনা এই মেলার সৌন্দর্য এবং পরিসর বৃদ্ধি করতে পারে। ঐক্যের এই বন্ধন শুধু ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আরও বিস্তৃত হোক, এটাই কাম্য।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
ইফতারে মুড়িতে জিলাপি, পক্ষে না বিপক্ষে?
ডেস্ক রিপোর্ট: রমজান মাস আসতেই বাংলাদেশের গৃহিণী ও ভোজনরসিকদের মধ্যে একটি আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে ইফতারের পর্ব। নানা রকমের মুখরোচক খাবার যেন এর সঙ্গী হয়ে থাকে, তবে এবার বিষয়টি অন্যরকম। নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক, ইফতারে মুড়ি মাখায় জিলাপি থাকবে কি না?
বাংলাদেশে ইফতারের সময় মুড়ি মাখা এক জনপ্রিয় পদ। মুড়ি, চিঁড়া, কিশমিশ, চিনির সঙ্গে ছিটিয়ে দেওয়া গুঁড়া দুধ কিংবা দই দিয়ে তৈরি হয় এ খাবার। তবে, এর মধ্যে কিছু নতুন উপকরণ যোগ হলে তার স্বাদও ভিন্ন হয়ে ওঠে। আর এই মুড়ি মাখায় জিলাপির সংযোজন নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা।
একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, "ইফতারে মুড়ি মাখায় জিলাপি! এটা কী ধরনের খাবার! এটা তো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের খাবার!" অন্যদিকে, কিছু মানুষ আবার এই পদকে নতুনভাবে উপভোগ করার জন্য প্রশংসা করেছেন, "যতদিন না দেখি, ততদিন বিশ্বাসই করতে পারব না, কিন্তু মুড়ি মাখায় জিলাপির সঙ্গে যে মিষ্টি তাগি, তাতে মজাও রয়েছে।"
এদিকে, কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মত প্রকাশ করেছেন, "মুড়ি মাখা তো অনেকটাই স্থানীয় সংস্কৃতির একটি অংশ, তবে জিলাপি আর মুড়ি মাখানোর এমন সংমিশ্রণ নতুন কিছু হতে পারে। কেউ যদি একবার ট্রাই করে, তাহলে পরে হয়তো তাদের ভালো লাগবে।"
তবে ফেসবুকের মন্তব্য বিভাগে এই বিষয় নিয়ে নানা রকম মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এক পক্ষের মতে, "ইফতার হলো এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে কিছু ঐতিহ্যগত খাবার থাকবে। মুড়ি মাখায় জিলাপি যোগ করা মানে ঐতিহ্যকে ভেঙে ফেলা।" অপরদিকে, অন্য এক পক্ষের মতামত হলো, "ইফতার তো স্বাদ পরিবর্তনেরও একটা সুযোগ, নতুন কিছু ট্রাই করা যেতে পারে।"
এই বিতর্কটি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, একাধিক খাবারের দোকানেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে মুড়ি মাখায় জিলাপি। কয়েকটি প্রথাগত রেস্টুরেন্টে এমন মিশ্রণ খাদ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে, যেখানে মুড়ির সঙ্গে জিলাপি দিয়ে তৈরি করা স্ন্যাকস বিক্রি করা হচ্ছে।
সত্যিই, খাবারের বিষয়টি মানুষকে সৃষ্টিশীল এবং নতুন উপভোগের সুযোগ দেয়। তবে, এই বিতর্কের শেষ কোথায়? হয়তো ভবিষ্যতে এমন কিছু ট্রেন্ড উঠে আসবে যা আমাদের চিন্তাভাবনাকেও নতুনভাবে ছকবে। এ বছরই দেখার বিষয়, ইফতারটিতে মুড়ি মাখায় জিলাপি রাখতে পছন্দ করবেন কি না বাঙালি ভোজনরসিকরা!
আজ গরম চা দিবস
ডেস্ক রিপোর্ট: বেশিরভাগ মানুষেরই এক কাপ চা দিয়ে দিনের শুরু হয়। তবে এখন শুধু দুধ চা কিংবা লিকার চা নয়, পাশাপাশি এসেছে আরও ভিন্ন ধরনের সব চা। যেমন- মালাই চা, চকলেট চা, মশলা চাসহ হরেক রকমের চা। পানীয় হিসেবে এসব চায়ের জুড়ি মেলা ভার। ক্লান্ত শরীরটাকে যেন মুহূর্তেই চাঙা করে দেয় এক কাপ চা। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে— সেই গরম চায়ের জন্যও দিবস রয়েছে। শুনে অবাক লাগলেও এমনই প্রচলন শুরু হয়েছে ২০১৬ সাল থেকে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ১২ জানুয়ারি বিশ্বের অনেক দেশে গরম চা দিবস বা হট টি ডে। ১৯৫০ যুক্তরাষ্ট্রের চা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ২০১৬ সালে এই কাউন্সিল হট টি ডে প্রচলন করে।
অবশ্য আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে পালিত হয় ২১ মে তারিখটা। যদিও প্রথমে ১৫ ডিসেম্বর ছিল বিশ্ব চা দিবস।
বাংলাদেশিদের চায়ের অভ্যাস শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামল থেকে। তখন স্থানীয় বাজারে চায়ের খুব বেশি চাহিদা ছিল না। বাগানের উৎপাদিত বেশিরভাগ চা ব্রিটেন রপ্তানি হতো। এছাড়া তখন এ অঞ্চলে থাকা ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় লোকজন চা খেতেন, স্থানীয় অভিজাত গোষ্ঠীও চা খেতে শুরু করেছিলেন। তখনো বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে চায়ের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়নি।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪৭ সালে এ অঞ্চলে প্রায় ১৮ মিলিয়ন কেজির মতো চা উৎপাদিত হতো। তার প্রায় ১৫ মিলিয়নই রপ্তানি হতো, তিন মিলিয়ন কেজির মতো এখানে খাওয়া হতো। ১৯৭১ সালে সেই উৎপাদন এসে দাঁড়ায় ৩১ মিলিয়ন কেজিতে। সুতরাং বোঝা যায়, মানুষের মধ্যে চা খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ছিল, চায়ের উৎপাদনও বাড়ছিল। ১৮০০ শতাব্দীর প্রথমভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও আশপাশের এলাকায় চা চাষ শুরু হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়। চট্টগ্রাম শহরে ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাবসংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুণ্ডুদের বাগান নামে পরিচিত। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট শহরের এয়ারপোর্ট রোডের কাছে মালনিছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়।
চা প্রথম আবিষ্কার করেন চীনা সম্রাট শেন নাং, খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে। ওই সময় তার গরম পানির পাত্রে বুনো গাছের কিছু পাতা পড়ে, তিনি যেটি পান করলেন সেটাই চা।
পৃথিবীতে কত জাতের চা আছে শুনলে চমকে উঠবেন। সংখ্যাটা আনুমানিক ৩ হাজার। পানি বাদ দিলে চা হলো পৃথিবীতে বেশি পান করা পানীয়।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চা-বাগান আছে মৌলভীবাজার জেলায়। এখানকার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও রাজনগরে অনেক চা-বাগান দেখতে পাবেন। সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলায়ও চমৎকার ও ঐতিহ্যবাহী কিছু চা-বাগান আছে। দেশের প্রথম চা-বাগান মালনীছড়ার অবস্থান সিলেট শহরেই।
ব্ল্যাক টি, গ্রিন টি, হোয়াইট টি, ওলং টি—সব ধরনের চা আসে ক্যামেলিয়া সিনেসিস নামের উদ্ভিদ থেকে। তাদের স্বাদ, চেহারা আর গন্ধে ভিন্নতার কারণ প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য