ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বাবা-মায়ের সঙ্গে ইংলিশ মিডিয়ামের সেই মেয়ের করা মামলা খারিজ

অনলাইন ডেস্ক
২৪ জুলাই, ২০২৫ ২১:৩৫
অনলাইন ডেস্ক
বাবা-মায়ের সঙ্গে ইংলিশ মিডিয়ামের সেই মেয়ের করা মামলা খারিজ

শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা থেকে নিজের সুরক্ষা চেয়ে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মেয়ে ইংলিশ মিডিয়ামের সেই শিক্ষার্থী মেহরীন আহমেদের (১৯) মামলা খারিজ করা হয়েছে। 


মেয়ে ও বাবা-মায়ের মধ্যে পারিবারিকভাবে মধ্যস্থতার আবেদন করায় এ আদেশ দেন আদালত।


বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) মামলার ধার্য তারিখে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালতে হাজির হন মেহরীন ও তার বাবা-মা।


এরপর মেহরীনের পক্ষে আইনজীবী সোমায়দাদ শাহরিয়া ফিদা ও বাবা-মায়ের পক্ষে আইনজীবী আবুল হোসেন আদালতে বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে দুপক্ষকে পারিবারিকভাবে মধ্যস্থতা করতে আদেশ দেন।


মেহরীনের পক্ষের আরেক আইনজীবী ইসফাকুর রহমান গালিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি বলেন, দুপক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করতে আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন।


এ আইনজীবী আরও বলেন, তবে এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য সতর্কতা। সন্তানকে সঠিকভাবে সময় না দিলে, সামাজিক ও নিজ ধর্মীয় শিক্ষা না দিলে অভিভাবকদের সঙ্গে একটা সময় গিয়ে সন্তানদের দূরত্ব এত বেশি তৈরি হয় যে, তা আদালতে এসে নিষ্পত্তি করতে হয়। তাই এ ধরনের সমস্যা এড়ানোর জন্য সঠিক প্যারেন্টিং করতে হবে। এই ঘটনার পর অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের লালনপালন নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। শুধু ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালে যে সন্তান মানুষ হবেন, এমন নয়। প্রতিটি শিশুর প্রথম শিক্ষক এবং রোল মডেলও তাদের পিতামাতা।


এর আগে গত ২২ জুন বাবা নাসির আহমেদ ও মা জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে নিজের সুরক্ষা চেয়ে একই আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মেহরীন। এরপর ১০ জুলাই এ মামলায় আদালতে বাবা-মা ও মেয়ের উপস্থিতিতে আদালতে শুনানি হয়। এদিন আদালতে মেহরীন বলেছেন, 'আমি বাবা-মায়ের পাপেট (পুতুল) নই। আমাকে কেন গালি দেবে। আমাকে কেন তারা শারীরিক-মানসিকভাবে হেনস্তা করে। আমি আমার সুরক্ষা চাই।'


এদিকে মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ মে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসায় বাদী মেহরীন আহমেদকে তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস ও বাবা নাসির আহমেদ শারীরিকভাবে আঘাত করতে থাকে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং নিলাফুলা জখম করে। বাদী একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি হওয়ার তারা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, অপমান ও নির্যাতন করে যাচ্ছেন। তারা প্রতিনিয়ত পরিবারের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহারে বাধা প্রদান করেন।


আরও বলা হয়, পারিবারিক সম্পর্কের কারণে যেসব সম্পদ বা সুযোগ-সুবিধাদি ব্যবহারের অধিকার রয়েছে, তা থেকে তাকে বঞ্চিত করে এবং বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করে। তারা মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা, ভীতি প্রদর্শন, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা শারীরিকভাবে তাকে আঘাত করে শারীরিক নির্যাতন করেছে। যার মাধ্যমে সহিংসতা ঘটেছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    কারাগারে কোরআন শরীফ এক খতম দিয়েছি: পলক

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:৫৯
    অনলাইন ডেস্ক
    কারাগারে কোরআন শরীফ এক খতম দিয়েছি: পলক

    জুলাই মাসে রাজধানীর আশুলিয়ায় রাসেল গাজী হত্যার মামলায় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।


    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন এদিন আদালতে পলককে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানিতে পলকের উপস্থিতির সময় আদালতে ছিলেন তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী।


    শুনানির আগে কারাগারে পলকের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে পলক জানান, 'কারাগারে নিয়মিত কোরআন শরীফ পড়ছি। কোরআন শরীফ এক খতম দিয়েছি।'


    আদালত কক্ষে পলকের কোমরে ব্যাকপেইনের জন্য একটি সাপোর্ট বেল্ট দেখা যায়। আইনজীবীর প্রশ্নে তিনি জানান, ‘শারীরিকভাবে আছি কোনোরকম।’ তার আইনজীবী রাখী বলেন, 'তিনি কারাগারে নিয়মিত কোরআন পড়ছেন, ইতোমধ্যে একটি খতম দিয়েছেন। তার কোমরে ব্যথা আছে এবং বেল্ট ব্যবহার করছেন।'


    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন রাসেল গাজী (২৭)। পরে তিনি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। নিহত রাসেলের বাড়ি আশুলিয়ার গাজীরচট মধ্যপাড়ায়। তার বাবা বেলায়েত গাজী ও মা সেলিনা বেগম।


    এই ঘটনার জেরে ১৫ আগস্ট পলককে প্রথম গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি একাধিক হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে আছেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।


    সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকেও একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ‘জিয়া নন, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষক’ বিতর্কিত রায় দেন খায়রুল

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:২০
      অনলাইন ডেস্ক
      ‘জিয়া নন, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষক’ বিতর্কিত রায় দেন খায়রুল

      ২০০৯ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমান নন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দেন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।রায়ে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উপস্থাপন করে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ড বাতিল ঘোষণা করেন। এই খণ্ডটি দেশবিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন খায়রুল হক।


      রায়ে বলা হয়, যারা এরকম ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত, তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। দেশের সব মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বাধ্যতামূলকভাবে সন্নিবেশ করার জন্যও সরকারকে নির্দেশ দেন এই বিচারপতি।


      প্রধান বিচারপতি হিসাবে তার দেওয়া অনেক বিতর্কিত রায়ের মধ্যে একটি হচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া। খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন ও সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মিলে একটি আগাম জামিনের আপিলের রায়ের মাধ্যমে এখতিয়ার কেড়ে নেন হাইকোর্ট বিভাগের।


      ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও হাসিনার আশীর্বাদ পুষ্ট অনেক আমলাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।


      তবে বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।


      অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ । ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


      এদিকে হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। এরপর থেকে অনেকটা লাপাত্তা হন তিনি। তার হাতের ছোঁয়ায় দেশের বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন খায়রুল।


      বিচারাঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত এই বিচারপতির আচরণের চেয়েও বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল তার কয়েকটি রায়, যা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সুবিধাজনক বা এর সমর্থনসূচক ছিল। এসব রায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি নিজে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রাণ তহবিলের টাকা গ্রহণ করে নিজের চিকিৎসা করে সমালোচিত হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করার কয়েকদিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন; যার ফলে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হয়। নিজেরই দেওয়া সংক্ষিপ্ত আদেশ থেকে বিতর্কিতভাবে সরে এসে রায় দেন, যার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ভোট ডাকাতির চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি হয়।


      এসব ছাড়াও খায়রুল হক নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি। ওই রায় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি অংশকে যেমন খুশি করেছিল, অন্য অংশকে তেমনই ক্ষুব্ধ করেছিল। রাজনৈতিক বিষয়ে ওই রায়ের সঙ্গে তার প্রতি সরকারের বিশেষ সুদৃষ্টির সম্পর্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন অস্বস্তিকর সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহ তিনি উসকে দেন অবসর গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করে। মূলত দেশের বিচার বিভাগের উচ্চাসনে বসে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করাই ছিল তার মূল কাজ।


      শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর একাধিক মামলা দায়েরের পর গা ঢাকা দেন। ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন খায়রুল

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৫২
        অনলাইন ডেস্ক
        খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন খায়রুল

        ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও হাসিনার আশীর্বাদ পুষ্ট অনেক আমলাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।


        তবে বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।


        অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ । ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


        হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। এরপর থেকে অনেকটা লাপাত্তা তিনি। তার হাতের ছোঁয়ায় দেশের বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন এবিএম খায়রুল।


        খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চেই শুনানি ছাড়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল।


        বিচারাঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত এই বিচারপতির আচরণের চেয়েও বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল তার কয়েকটি রায়, যা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সুবিধাজনক বা এর সমর্থনসূচক ছিল। এসব রায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি নিজে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রাণ তহবিলের টাকা গ্রহণ করে নিজের চিকিৎসা করে সমালোচিত হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করার কয়েকদিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন; যার ফলে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হয়। নিজেরই দেওয়া সংক্ষিপ্ত আদেশ থেকে বিতর্কিতভাবে সরে এসে রায় দেন, যার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ভোট ডাকাতির চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি হয়।


        এসব ছাড়াও খায়রুল হক নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি। ওই রায় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি অংশকে যেমন খুশি করেছিল, অন্য অংশকে তেমনই ক্ষুব্ধ করেছিল। রাজনৈতিক বিষয়ে ওই রায়ের সঙ্গে তার প্রতি সরকারের বিশেষ সুদৃষ্টির সম্পর্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন অস্বস্তিকর সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহ তিনি উসকে দেন অবসর গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করে। মূলত দেশের বিচার বিভাগের উচ্চাসনে বসে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করাই ছিল তার মূল কাজ।


        শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর একাধিক মামলা দায়েরের পর গা ঢাকা দেন। ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। ২৮ আগস্ট দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন আরেক আইনজীবী। এর আগে ২৫ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা হয়। তাকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সুপ্রিমকোর্টে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।


        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন নামঞ্জুর

          অনলাইন ডেস্ক
          ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৪৭
          অনলাইন ডেস্ক
          চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন নামঞ্জুর

          আইনজীবী আলিফ হত্যা, পুলিশি কাজে বাধা ও আদালত চত্বরে ভাঙচুরসহ পাঁচ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।


          বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাসানুল ইসলাম এ আদেশ দিয়েছেন। এই শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে ব্যাপক আইন - শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।


          সকাল সোয়া এগারটায় এই আবেদনের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছে। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


          এর আগে ৩ জুন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ সাইফুল ইসলাম ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে দেন।


          প্রসঙ্গত, ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী ২০২৪ সালে ২৬ নভেম্বর গ্রেফতার হন। চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।


          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত