শিরোনাম
পুলিশের কনস্টেবল পদে ৮ হাজার নিয়োগ, আবেদন শুরু আজ
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৮ হাজার জন নিয়োগের লক্ষ্যে আজ থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রার্থীদের অবশ্যই এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৪ জুলাই রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
গত ২৭ জুন বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আবেদন করতে হবে পুলিশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে https://pcc.police.gov.bd
আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অবিবাহিত হতে হবে এবং প্রার্থীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
শারীরিক যোগ্যতা: মেধা কোটার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটার ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি।
শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের কোটার ক্ষেত্রে বিধি অনুসৃত হবে। নারী প্রার্থীর উচ্চতা মেধা কোটার ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি হতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের কোটার ক্ষেত্রে বিধি অনুসৃত হবে।
মেধা ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটার ক্ষেত্রে বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের কোটার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি। দৃষ্টিশক্তি ৬/৬।
আবেদন ফি: ফরম পূরণ করার পর যোগ্য প্রার্থী একটি ইউজার আইডি পাবেন। সেই আইডিতে আবেদন ফরম পূরণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে ৪০ টাকা জমা করতে হবে।
আবেদন করার সময়কাল ১ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ২৪ জুলাই রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
নিম্নোক্ত সময়সূচি অনুযায়ী জেলাগুলো হতে কনস্টেবল পদে প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত করা হবে।
মাগুরা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, নাটোর, নীলফামারী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, নরসিংদী, মেহেরপুর, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও খুলনা জেলায় শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও ফিজিক্যাল এন্ডিউরেন্স টেস্ট যথাক্রমে ১০, ১১ ও ১২ আগস্ট সকাল ৮টায়; লিখিত পরীক্ষা ২৩ আগস্ট সকাল ১০টায় এবং মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা ৩১ আগস্ট সকাল ১০টায় নেওয়া হবে ।
সাচিপুর, নওগাঁ, পঞ্চগড়, পটুয়াখালী, নরসিংদী, নেত্রকোণা, ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ ও সিলেট শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও ফিজিক্যাল এন্ডিউরেন্স টেস্ট যথাক্রমে ১৩, ১৪ ও ১৭ আগস্ট সকাল ৮টায়; লিখিত পরীক্ষা ২৫ আগস্ট সকাল ১০টায় এবং মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা ৩১ আগস্ট সকাল ১০টায় হবে।
রাজবাড়ী, কুড়িগ্রাম, মাদারীপুর, মেহেরপুর, মাটিরাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, গাইবান্ধা, শেরপুর, ভোলা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, ঝালকাঠি, বান্দরবান, নড়াইল, পাবনা ও বরগুনা শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও ফিজিক্যাল এন্ডিউরেন্স টেস্ট যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট সকাল ৮টায়; লিখিত পরীক্ষা ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় এবং মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা হবে ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়।
শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, পিরোজপুর ও চুয়াডাঙ্গা শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও ফিজিক্যাল এন্ডিউরেন্স টেস্ট যথাক্রমে ২০, ২১ ও ২২ আগস্ট, সকাল ৮টায়; লিখিত পরীক্ষা ৩১ আগস্ট সকাল ১০টায়; এবং মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত হবে।
১ লাখ ৮২২ শিক্ষক নিয়োগে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ১ লাখ ৮২২ শিক্ষক নিয়োগে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
এনটিআরসিএ তাদের ওয়েবসাইটে নতুন এই গণবিজ্ঞপ্তি গতকাল প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৮২২টি এমপিওভুক্ত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজে ৪৬ হাজার ২১১টি, মাদ্রাসায় ৫৩ হাজার ৫০১টি, এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ১১০টি পদসহ মোট ১ লাখ ৮২২ টি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।
এ লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান করে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো এনটিআরসিএ। আগামী ২২ জুন থেকে শুরু হবে আবেদন, চলবে ১০ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত। আবেদন ফি জমা দেওয়ার সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।
আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণে বলা হয়েছে, প্রার্থীর বয়সসীমা ৪ জুন ২০২৫ তারিখে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে, কারণ ঐ দিনই ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি, নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ফল প্রকাশের তারিখ (৪ জুন ২০২৫) থেকে তিন বছরের মধ্যে থাকতে হবে। বয়স ও সনদের মেয়াদের শর্ত পূরণ না করলে প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদনকারীরা এনটিআরসিএ ও টেলিটকের নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। ফি জমা না দিলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রতিটি প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন। তবে পছন্দক্রমের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানের আগ্রহ থাকলে সেই অপশনও রাখা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগপত্র না দেয়, তবে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিও বাতিল করা হতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ৮২২টি শূন্যপদের তালিকা ও আবেদন ফরম ২২ জুন দুপুর ১২টায় এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইট (www.ntrca.gov.bd) ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইট (http://ntrca.teletalk.com.bd) এ প্রকাশ করা হবে। ওই দিন প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
আবেদনকারীর অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়, পদ ও প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী বৈধ নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে। তাকে এনটিআরসিএ প্রকাশিত সম্মিলিত মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী সনদপ্রাপ্ত হতে হবে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতাও থাকতে হবে।
এ নিয়োগে নারী কোটার কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। কেউ যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করেন এবং সে ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পান, তাহলে ওই সুপারিশ বাতিল করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্যেক আবেদনকারী ভিন্ন ভিন্ন নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একাধিক নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত হলেও, একই পর্যায়ের জন্য আবেদন করার সময় কেবল একটি সনদ ব্যবহার করতে পারবেন। যেই নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে আবেদন করবেন, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সময় ব্যবহৃত ছবিটি ডাউনলোড করে আবেদন ফরমের নির্ধারিত স্থানে আপলোড করতে হবে। অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও ফি জমা দেওয়ার বিস্তারিত নিয়মাবলি টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইট (http://ntrca.teletalk.com.bd)-এ আলাদাভাবে দেওয়া রয়েছে। আবেদনপত্র পূরণের সময়েই পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। এটি পূরণ না করলে আবেদনপত্রটি বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
বর্তমানে ইনডেক্সধারী (এমপিওভুক্ত) কর্মরত শিক্ষকরা যে পদে কর্মরত আছেন, সেই একই পদে আবার আবেদন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে, যদি তাদের কাছে এনটিআরসিএ থেকে অন্য কোনো উচ্চতর বা নিম্নতর পদের জন্য প্রত্যয়নপত্র থাকে, তাহলে তারা সেই ভিন্ন পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২১-এর পরিশিষ্ট ‘ঘ’-এর ২৪ নম্বর ক্রম অনুযায়ী, বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজে সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদে কেবল মহিলা প্রার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন। কোনো পুরুষ প্রার্থী মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই পদে আবেদন করে নিয়োগের সুপারিশ পেলে, তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
একই নীতিমালার ২১ নম্বর ক্রম অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা) পদে আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ধর্মের অনুসারী হতে হবে। কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করলে এবং পরে নিয়োগের সুপারিশ পেলে, সেটিও বাতিল করা হবে।
আবেদন ফরম পূরণের সময় প্রার্থীকে অবশ্যই নিজের মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দিতে হবে।
আবেদন ফরমটি (e-Application)পূরণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফরম পূরণ শেষে একবার আবেদনপত্র ঝঁনসরঃ হয়ে গেলে তা কোন ভাবেই সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।
সব আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অনলাইনে সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন করার পর, নিজ উদ্যোগে আবেদনের একটি প্রিন্ট কপি (Applicant's copy)সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে হবে।
আগামী ২২ জুন দুপুর ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও আবেদন ফি জমার কার্যক্রম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনকারীদের শেষ সময় পর্যন্তত্ম অপেক্ষা না করে আবেদন ফরম পূরণের পর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করতে হবে। আবেদন ফি জমার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত।
তবে যারা শেষ মুহূর্তে আবেদন করবেন এবং সময়মতো ফি জমা দিতে ব্যর্থ হবেন, তারা আগামী ১৩ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত টেলিটকের নির্ধারিত পদ্ধতিতে এসএমএসের মাধ্যমে ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এজন্য আবেদনকারীদের আগে থেকেই প্রাপ্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করতে হবে।
প্রাপ্ত আবেদনসমূহ থেকে প্রতিটি শূন্যপদে প্রার্থীদের পছন্দ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন করে প্রার্থী নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিত প্রার্থীর তথ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জানানো হবে।
শূন্যপদের চাহিদা প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে সংগৃহীত হয়। তাই ভুল চাহিদাজনিত কোনো সমস্যার জন্য নিয়োগ সুপারিশে এনটিআরসিএ দায়ী থাকবে না।
যদি মামলা বা আইনগত কোনো জটিলতার কারণে অনলাইনে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সেটির দায়ভার এনটিআরসিএ নিতে পারবে না।
এছাড়া, এনটিআরসিএ এই গণবিজ্ঞপ্তির সকল শর্ত ও প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির যেকোনো সময় সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন বা স্থগিত করার অধিকার সংরক্ষণ করে রেখেছে।
যুগ্ম সচিব মো. শাহাদাত হোসেন, সদস্য (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) স্বাক্ষরিত এই গণবিজ্ঞপ্তি এনটিআরসিএ’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
এক লাখ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, যারা আবেদন করতে পারবেন না
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১ লাখ ৮২২ জন শিক্ষক নিয়োগের ষষ্ঠ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২২ জুন থেকে যোগ্য প্রার্থীরা এসব পদে বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন। এসব পদে আবেদন করা যাবে ১০ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত। আর আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।
সোমবার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ লাখ ৮২২টি এমপিওভুক্ত পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজে ৪৬ হাজার ২১১টি পদ, মাদ্রাসায় ৫৩ হাজার ৫০১ এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ১১০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এতে বলা হয়, একজন প্রার্থী শূন্যপদের তালিকা থেকে তার আবেদনে সর্বোচ্চ ৪০টি প্রতিষ্ঠানে পছন্দ দিতে পারবেন।
১ হাজার টাকা আবেদন ফি দিয়ে এনটিআরসিএ এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারবেন। ফি জমা না দিলে আবেদন বাতিল হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবেদনকারী মিথ্যা তথ্য দিলে এবং সে অনুযায়ী নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত হলে এ সুপারিশ বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুপারিশকৃত প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ওই সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধানের এমপিও স্থগিত-বাতিলকরণ এবং ম্যানেজিং কমিটি-গভর্নিং বডি বাতিলকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বয়স ধরা হয়েছে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের তারিখ ৪ জুন থেকে। এ তারিখে প্রার্থীর বয়স ৩৫ বছর বা তার কম হতে হবে। আর সনদের মেয়াদ নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের তারিখ থেকে ৩ বছর। সে অনুযায়ী ৪ জুন থেকে প্রার্থীর বয়স ও সনদের মেয়াদ ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দাখিলকৃত শূন্যপদগুলোর চাহিদা সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সংগৃহীত হওয়ায় ভুল চাহিদাজনিত কারণে নিয়োগ সুপারিশে কোনো জটিলতার জন্য এনটিআরসিএ দায়ী থাকবে না।
আসছে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে আগামী সোমবার, ১৭ জুন। তবে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২২ জুন থেকে। বিজ্ঞপ্তির খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং টেকনিক্যাল কোনো জটিলতা না থাকলে নির্ধারিত তারিখেই তা প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছে এনটিআরসিএ।
জানা গেছে, এবারের গণবিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের একটি বড় অংশ অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে। এনটিআরসিএর নীতিমালা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নিবন্ধনধারীরা এই নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া যেসব প্রার্থীর নিবন্ধন সনদ তিন বছরের বেশি সময় আগে পাওয়া, তারাও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
এবিষয়ে এনটিআরসিএ সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় বয়সসংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আমরা এমপিও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।
অন্যদিকে, এনটিআরসিএর ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি দেশের শিক্ষা খাতে অন্যতম বৃহৎ নিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সব ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পদের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে পাঁচটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তবে এবার তা আরও বড় পরিসরে হচ্ছে।
আবেদনকারীদের এনটিআরসিএর নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে হবে ২২ জুন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। আবেদনের জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই বৈধ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে এবং বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর। এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে এনটিআরসিএর নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে। এ ব্যবস্থায় প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই, প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মিলিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুপারিশ তৈরি করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের লিখিত, মৌখিক ও প্রিলিমিনারি যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে থাকে। নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্য শিক্ষক হিসেবে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়।
বিসিএসের জট ছাড়াতে ‘রোডম্যাপ’ পিএসসির
বিসিএস জট নিরসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এতে তিন বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা জানানো হয়।
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস.এম. মতিউর রহমান মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, কমিশন চলমান বিসিএস জট নিরসন এবং কালক্ষেপণ কমানোর লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। অর্থাৎ ২০২৫ সালের জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে।
ওই সময়ের মধ্যে তিনটি বিসিএসর (৪৪তম, ৪৫তম এবং ৪৮তম) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। আগামী ৩০ জুন ৪৪তম বিসিএস, ২২ সেপ্টেম্বর ৪৮তম বিসিএস এবং ১০ ডিসেম্বর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।
এই লক্ষ্যে কমিশন আগামী ১৯ জুন ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি দেবে। যাদের একইসঙ্গে ৪৫তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষা ও ৪৬তম বিসিএসের লিখিত বা ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থাকবে তাদের ওই পরীক্ষার এক মাস আগে বা এক মাস পর ৪৫তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। কোনো প্রার্থীর দুটি পরীক্ষা যেন ওভারল্যাপিং না হয় সেই লক্ষ্যে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশে সরকারি চিকিৎসক সংকটের কারণে ৪৮তম বিসিএসকে (বিশেষ) সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২৭ মে বিশেষ বিসিএসের গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরপরই কালক্ষেপণ না করে ২৯ মে ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ৪৮তম বিসিএসর (বিশেষ) এমসিকিউ টাইপ লিখিত পরীক্ষা ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।
ওই বিসিএসের এমসিকিউ টাইপ লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ২১ জুলাই প্রকাশ করা হবে এবং চূড়ান্ত ফলাফল ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে।
৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ সেপ্টেম্বর এবং লিখিত পরীক্ষা ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হবে।
পিএসসি জানায়, নিয়মিত বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারির দুই মাস পর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুই মাস পর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লিখিত পরীক্ষা তারিখগুলো অনিবার্য কারণে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তবে কমিশন তা বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য