ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

শিক্ষক হিসেবে আমি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে একটি সুস্থায়ী পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ অক্টোবর, ২০২৩ ১৭:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষক হিসেবে আমি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে একটি সুস্থায়ী পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখি

১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব ব্যাপী পালিত হয়ে থাকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিবসটি শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য পালন করা হয়। বাংলাদেশে এবারেই প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে 'শিক্ষক দিবস' পালিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষক দিবসে শিক্ষকবৃন্দের চাওয়া-পাওয়া, নানা অর্জন ও চিন্তা ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাঈনুদ্দিন (সি এস ই বিভাগ) সাক্ষাতকারে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন রাবিপ্রবি প্রতিনিধি আহ্সান হাবীব।

আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস নিয়ে আপনার ভাবনা…

দিবস নিয়ে আমার ধারণাটা বরাবরের মত ভিন্ন। কোনো বিশেষ সম্পর্ককে আমি দিবসের মাধ্যমে উদ্‌যাপিত করতে চাইনা। কিছু বিষয়, সম্পর্ক, পেশা, কিংবা মতাদর্শ সর্বজনীন। যখন এই ধরনের বিশেষ বিষয়টাকে বিশেষ দিবসের সাথে বিশেষায়িত করা হয়, তখন আমার মনে হয় সেখানে ঐ পেশা বা সম্পর্কটা যথাযোগ্য মর্যাদায় আর নেই। তাতে যান্ত্রিকতার ছোঁয়া লেগে গেছে। যে মর্যাদাটা প্রাপ্য ছিল কিংবা ঐ বিশেষ পেশা বা সম্পর্ক থেকে যা পাওয়ার কথা ছিল তা আর পাওয়া যাচ্ছে না। এখানে অধিকার আদায়ের জন্য লড়তে হবে লড়াকু হয়ে। হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি কে ফিরিয়ে আনতে হবে। অথবা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, অথবা তাকে যান্ত্রিক বানিয়ে নিতে হবে। তাই আমি অপ্রতুল শিক্ষকের ঘাটতি পূরণ করা, শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা কিংবা শিক্ষকতার সঠিক দায়িত্ব পালন করবে এটা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন দিবসে সীমাবদ্ধ না থেকে ৩৬৫ দিনই কাজ করায় বিশ্বাসী।

শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয়—আমাদের শিক্ষকরা সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত আলোকিত মানুষ তৈরি করতে পারছেন?

হ্যাঁ, মানুষ গড়ার কারিগর - শিক্ষক। এখন আপনাকে বলতে হবে শিক্ষক বলতে আপনি কাকে বুঝাতে চেয়েছেন, শুধু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব প্রাপ্ত পাঠদান কারী শিক্ষককেই। শিক্ষক বলতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদেরকেই বুঝালে হবে না। এ প্রসঙ্গে সুনির্মল বসুর সবার আমি ছাত্র কবিতার কথা বলতে হয়, আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষা লাভ করি আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সকল উপাদান থেকে, তা হতে পারে কোন ব্যক্তি, কোন বস্তু বা পার্থিব কিংবা অপার্থিব চিন্তা চেতনা থেকে। আর এই শিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীর মনকে করতে পারে প্রস্ফুটিত , আলোকিত। আর আলোকিত মানুষ তৈরি না হলে দেশ ও জাতি রসাতলে ডুবে যেত, হারিয়ে যেত, দেশ পরিণত হত ধ্বংসস্থুপে। তবে আমরা যদি বলি যোগ্য, কর্মদক্ষ জন বল তৈরির কথা তাহলে বলতে হয় আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। সেখানে প্রশিক্ষকের যেমন দায় থাকে, আছে শিক্ষার্থীর ও দায়, আছে প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহের ঘাটতি, আছে অনুকূল পরিবেশের অভাব।

শিক্ষক জীবনের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি মেলবন্ধন আসলে কতদূর?

শিক্ষা হচ্ছে একটি উপকরণ, যা কাউকে তার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করে। একজন শিক্ষক হিসেবে, আমি শিক্ষার্থীদের জীবনে একটি পরিবর্তনের উৎস হতে পারি, তাদের আত্ম বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এবং তাদের সামর্থ্য ও সৃজনশীলতার দিকে প্রেরণ করতে পারি।

এছাড়া, আমি বিশ্বাস করি শিক্ষা হচ্ছে প্রতিটি জীবনের সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম। একটি শ্রেণীকক্ষে, আমি বিভিন্ন সংস্কৃতির, বয়সের এবং সামাজিক পরিস্থিতির শিক্ষার্থীর সাথে মেলবন্ধন তৈরি করতে পারি এবং তাদের কাছে জ্ঞান ও জীবনের সম্পর্কে জানতে পারি, জানাতে পারি।

শিক্ষক হিসেবে ব্যক্তিগত ভাবে আপনার স্বপ্ন কী, প্রাপ্তি কত খানি?

ইরেজিতে একটি কথা আছে By choice or by chance. আমি শিক্ষকতায় By Choice এসেছি। শিক্ষক হিসেবে আমার স্বপ্ন হচ্ছে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে একটি সুস্থায়ী পরিবর্তন আনা। আমি চাই তারা তাদের নিজেদের স্বপ্নকে চিনতে পারুক, সেই স্বপ্ন অনুসরণ করে জীবনের সমস্ত সমস্যার মোকাবেলা করুক, গড়ে তুলুক একটা সুন্দর নির্মল আবাসযোগ্য পৃথিবী। আমার প্রাপ্তির দিক দিয়ে বলতে গেলে, আমি অনেক শিক্ষার্থীর জীবনে পজিটিভ প্রভাব ফেলতে পেরেছি। যখন দেখি যে একজন শিক্ষার্থী যান্ত্রিক না হয়ে মানবিক হচ্ছে তখন বেশ ভালো লাগা কাজ করে। একজন শিক্ষার্থীর চেহারায় যখন জ্ঞানের জন্য উৎসাহ ও সন্তোষ দেখি তা হয়ে উঠে এক প্রশান্তির কারণ। আমার স্বল্প সময়ের শিক্ষকতার জীবনে ছোট খাট যা কিছুই পেয়েছি, তন্মধ্যে আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে হয় যখন দেখি আমার শিক্ষার্থীরা সফলতার পথে হাঁটছে, তারা অনুপ্রাণিত হয়ে উঠছে।

এমনিতে সমাজ ব্যবস্থার কিছু অসুবিধা তো থেকেই যায়, তাতে কখনও কখনও হয়তো বা ভিন্নধর্মী সমস্যার সম্মুখীন তো হতেই হয়। সমস্যা গুলি সমাধান হয়ে গেলে হয়ত দুঃখ-কষ্টগুলি ভুলে যাই। সমস্যাগুলি কাটিয়ে আবারও স্বপ্নদেখি, স্বপ্নদেখাই।

তবে, আমি মনে করি আমার যাত্রা এখনো সমাপ্ত হয়নি। আমি প্রতিদিন নতুন জিনিস শিখছি এবং আমার শিক্ষার কৌশল উন্নত করার জন্য চেষ্টা করি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে যত টুকু সম্ভব অধিক শিক্ষার্থীর জীবনে পজিটিভ প্রভাব ফেলা।

শিক্ষক হিসেবে আপনার মতে কোন দক্ষতা বা গুণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

শিক্ষক হিসেবে, আমি মনে করি একাধিক দক্ষতা ও গুণ থাকা প্রয়োজন। তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো শ্রদ্ধা এবং সহৃদয়তা। শিক্ষার্থীরা যখন উদ্ভাসিত হয় বা কোনো সমস্যায় পরে যায়, তাদের বোঝা, তাদের পাশে থাকা এবং তাদের উত্তরণে সাহায্য করার জন্য একটি সহমর্মিতা ও সহৃদয়তা থাকতে হবে। এই গুণ তাদের বিশ্বাস, উত্তেজনা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, শিক্ষক হিসেবে আমার জানতে হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভিন্নভিন্ন প্রয়োজনীয়তা, শেখার শৈলী ও স্বভাব। এর মানে হল, আমি প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথে মিথস্ক্রিয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি।

এবারের বিশ্বশিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘The teachers we need for the education we want: The global imperative to reverse the teacher shortage’ অর্থাৎ, ‘কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা পেতে যেমন শিক্ষক চাই : শিক্ষক সংকট ঠেকাতে বৈশ্বিক উদ্যোগ।’ প্রতিপাদ্যটি কি সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক? আপনার মন্তব্য কি?

এ প্রতিপাদ্যটিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে দেখা যায়। দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব, নাকি সময়ের পরিবর্তন, না কি শুধু রুটিন কাজ করার জন্য শিক্ষক নাকি অন্য কিছু। এ প্রতিপাদ্যটিতে খুবই গভীর বার্তা রয়ে গেছে। সময়ের সাথে পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক ব্যবস্থা । শিল্প বিল্পবের এ সময়টা কে আমরা বলছি ৪র্থ ধাপ। সব কিছুই প্রযুক্তি নির্ভর। পরিবর্তনের হার অনেক বেশি। প্রতি নিয়ত পরিবর্তনের এ সময়ে দেখা দিচ্ছে দক্ষ জনশক্তির অভাব, সময়ের সাথে আমরা মানুষ থেকে যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি। শিক্ষকতা টা নেশা থেকে পেশা হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা হয়ে যাচ্ছে আগে উদর পূর্তিতার পর বাকি সব। যত গবেষণা তত উন্নয়ন, তবে তার জন্য যথেষ্ট পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। তাছাড়া শিক্ষকতায় আসতে চাওয়ার অনীহা কিংবা শিক্ষক নিয়োগে স্টেক হোল্ডারদের অনীহা যার ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বজায় থাকছেনা। কেউ বা শুধু চাকরি করতে শিক্ষকতায় আসতেছেন। এ সমস্যাগুলি প্রকট হচ্ছে। তা থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। তাই বলব প্রতিপাদ্যটি সময়ের সঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

সমাজের উন্নতি ও সুস্থ প্রশাসনের জন্য শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যদি প্রয়োজনীয় শিক্ষকের সংখ্যা কম হয়, তাহলে তা সমগ্র সমাজের উন্নতি ও বিকেন্দ্রীভূত শিক্ষা প্রণালীর জন্য একটি বড় সমস্যা হতে পারে।

বর্তমানে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের প্রয়াস চলছে, তবে শিক্ষকের সাথে সরাসরি যে মানুষিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও নির্দেশনা তা কখনোই প্রযুক্তি প্রদান করতে পারে না, কিংবা প্রতিস্থাপিত করতে পারেনা, এটা অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা আমাদের শিক্ষা প্রণালীর কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করতে চাইলে যথেষ্ট সংখ্যক দক্ষ ও উৎসাহী শিক্ষক নিয়োগ করা এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

দেশের শিক্ষকরা বেতন-মর্যাদায় পিছিয়ে আছে বলে শোনা যায়-সেটা কতটুকু প্রাসঙ্গিক? এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

পৃথিবীতে যে কোন ধরনের পেশার সাথে যদি শিক্ষকতার তুলনা করা হয় তা হলে বলতে হবে শিক্ষক তা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং কেননা অভিনেতা মঞ্চে কিংবা তার কাজের দৃশ্য পটে বুলি আওড়িয়ে অভিনয় করে যায় আর সেখানে শিক্ষককে প্রতিনিয়ত সকল বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে শিখতে হয়, শেখাতে হয়। জাগ্রত করতে হয় সুপ্ত প্রতিভাকে, মেধায়-মননে হতে হয় অনন্য। আর সেখানে যদি একজন শিক্ষককে তার তিন বেলা খাবারের চিন্তায় বিভোর হইতে হয়, তখন কি আর সে তার মর্যাদায় আছে বলে মনে হয়। যে গবেষক কিংবা প্রশাসক কে গড়ে তুলতে একজন শিক্ষক তার জীবনটাকে যখন অকাতরে বিলিয়ে দেয়, তখনই আবার ঐ শিক্ষক কে ধরনা দিতে হয় ঐ প্রশাসকের কাছে তার বেতনের গ্রেডটা যদি মহাশয় একটু বাড়িয়ে দিতেন। এ বিষয়টা খুবই স্পর্শকাতর। প্রশাসনের উচিত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদির ব্যবস্থা এমন ভাবে সমন্বয় করা যাতে করে শিক্ষকতার শ্রেণি কক্ষে গিয়ে তার পরিবার চালানোর চিন্তা না করতে হয়, তার সন্তানের পড়াশুনার খরচের কথা চিন্তা না করতে হয়, কিংবা শ্রেণী কক্ষে না গিয়ে প্রাইভেট টিউশনে যাওয়ার চিন্তা না করতে হয়।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ‘নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটা জরুরী’

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২০:৪
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ‘নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটা জরুরী’

    আমান উল্লাহ, বাকৃবি: আনোয়ার সাদাতের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে চারঘাট উপজেলার স্নিগ্ধ গ্রাম শলুয়াতে। ২০১০ সালে সরদহ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ২০১২ সালে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতক ও ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। বর্তমানে তিনি ৪০ তম বিসিএস থেকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে কুড়িগ্রামে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি ৪১ তম বিসিএসে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

    তার এই সাফল্যগাথা, অনুভূতি, নবীনদের জন্য পরামর্শ সহ বিভিন্ন বিষয়ে সাক্ষাৎকার নিয়ে লিখেছেন মো. আমান উল্লাহ।

    বিসিএস প্রস্তুতি শুরু

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই অনার্সের পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএস দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ, হলের সুযোগ-সুবিধা, সিনিয়রদের বিসিএস সাফল্য আমাকে ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। মূল পড়াশোনাটা শুরু হয়েছিল অনার্স শেষে, তবে এর আগে সিলেবাস বুঝে বেসিক সাবজেক্টগুলোতে (ইংলিশ,ম্যাথ,বাংলা) নিজের দূর্বল দিকগুলো বের করে সেগুলো মেকআপ করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে আমার মনে হয়, অনার্স লাইফে একজন ছাত্রের একাডেমিক পড়াশোনা ফার্স্ট প্রায়োরিটি হওয়া উচিত, এর পাশাপশি সময় পেলে বিসিএস বা অন্যান্য সরকারী চাকুরীর জন্য প্রয়োজনীয় পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

    প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা অভিজ্ঞতা

    আমার মতে, বিসিএসের মূল চ্যালেন্জ হলো প্রিলিমিনারি পর্ব। যেখানে ১২০ মিনিটে আপনার জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, পড়াশোনার গভীরতা ও কৌশলের সর্বোচ্চটুকু দিতে হয়। লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থীর শিক্ষাজীবনের সকল অর্জিত জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও দক্ষতার প্রয়োগ ঘটে, এক্ষেত্রে আপনি কতটুকু জানেন, তার থেকে অধিক গুরত্বপূর্ণ হলো আপনি কতটা যৌক্তিকভাবে সময়, মানবন্টন বুঝে পরিষ্কার ও মানসম্মতভাবে আপনার ভাবনা গুলো পরীক্ষার খাতায় তুলে ধরতে পারছেন। আর ভাইভার বিষয়ে বলতে গেলে, আপনি হবু ক্যাডার অফিসার হিসেবে নিজেকে ঠিক কীভাবে প্রস্তুত করেছেন, আপনি কতটা পরিশ্রমী, সাথে আপনার ভাগ্য কতটা সহায়, এর সবটুকুর প্রতিফলন ঘটে ভাইভাতে।

    সফলতার প্রেরণা

    স্কুলে পড়ার সময় ক্লাস নাইনে একবার প্রচন্ড খারাপ রেজাল্ট করেছিলাম। প্রায় অনেক দিন কৈশোরের অসহায়ত্বে দিন পার করেছি, যদিও বরাবরের মত ঐ সময়টাতে আমার বাবা-মা আমাকে সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিয়েছিলেন। আমি সেসময় প্রথম বুঝেছিলাম, পরিশ্রমহীন মেধার কোন মূল্য নেই। এর পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ঐ স্মৃতি মাথায় রেখে সবসময় সামনে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করেছি, মহান আল্লাহ নিরাশ করেননি কখনো।
    জীবনের লক্ষ্য

    আমার বাবা-মা আমার অনুপ্রেরণার আরেক নাম। এছাড়া আমার বোন, দুলাভাই, বন্ধুমহল, সিনিয়র- জুনিয়রসহ সকল শুভকাঙ্ক্ষী সাহস জুগিয়েছে, আস্হা রেখেছে সবটা সময়, এজন্য আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। ছোটবেলাতে এক স্কুলশিক্ষকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলাম, ‘আমি বড় হয়ে ক্রিকেটার হতে চাই’, খেলাধুলার প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক থাকলেও বাড়ির একমাত্র ছেলে হিসাবে বাবাকে ব্যাবসায়িক কাজে সাহায্য করতে হতো বলে ওই ইচ্ছাকে আর এগিয়ে নিতে পারিনি। পরবর্তীতে মনে হয়েছে, এমন কিছু করবো যেন, আমার পরিবার সর্বোচ্চ সম্মানিত হয়, এই মন্ত্র থেকেই উচ্চশিক্ষা ও বিসিএসে পথচলা।

    স্কুল জীবনের স্মৃতি

    স্কুলজীবনের অনেক স্মৃতি আমাকে আজও রোমন্থিত করে, বিশেষ করে বন্ধুদের সাথে কাটানো অগণিত মুহূর্ত আজও অমলিন। কলেজ জীবনের সময়টা খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল, বুঝে ওঠার আগেই শেষ, তবুও কলেজের প্রতি বিশেষ টান কাজ করে। আর বিশ্ববিদ্যালয় আমার আরেকটি পরিবার, যে পরিবার আমায় পরিচয় দিয়েছে, সম্মান দিয়েছে। ১২৫০ একরের আলো বাতাস মেখে বড় হয়েছি, ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখেছি, যে স্বপ্ন আজ বাস্তব। তাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি এই আবেগ অটুট থাকবে আজীবন।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    ২০১২ সালে ইন্জিনিয়ারিং কোচিং করার সময়ও জানতাম না যে আমি একজন কৃষিবিদ হতে চলেছি, কিন্তু আজ আমি একজন গর্বিত কৃষিবিদ। তাই মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, রিযিকের ফয়সালা আসমানে হয়। উপজেলা মৎস্য অফিসার হিসেবে কাজ করে আমার মনে হয়েছে, জনগণের সাথে তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করার মত আনন্দের কিছু আর হতে পারে না। সকলের সাথে মিশে কাজ করার একটা তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, আজ সেটি পূরণ হয়েছে। সামনে যে মহৎ দায়িত্ব আসছে, সেখানে কার্যক্ষেত্র ও পরিসর বিবেচনায় আরও ভালো ভাবে দেশমাতৃকার সেবা করার সুযোগ রয়েছে। একজন সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ রুপে পালন ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে চাই।

    বিসিএস দিতে ইচ্ছুকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ....

    সর্বপ্রথম নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটা জরুরী এইভেবে যে, জীবনকে আপনি একগুণ দিলে জীবন সেটা কয়েকগুণ করে ফেরত দিতে দৃঢ়প্রত্যয়ী। পজিটিভ পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। এটা জানা কথা, তবে এক্ষেত্রে সেটা হতে হবে কৌশলগত। সঠিক ও কার্যকর বই নির্বাচনের পাশাপাশি কোন বিষয়ের কোন অংশটুকু পড়বেন তার চেয়ে কোন অংশটুকু পড়বেন না, সেটা জানাই বেশী গুরত্বপূর্ণ। বিপিএসসি এখন মেধাবী, ধৈর্যশীল, পরিশ্রমীদের পাশাপাশি সৃজনশীল ও বিচক্ষণ প্রার্থী বাছাইয়ে বেশী মনোযোগী। অনার্সের শুরু থেকেই একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন এক্সট্রা-কারিকুলার এ্যাক্টিভিটিসে যুক্ত থাকতে পারেন, নিজের ইংলিশ স্পিকিং এ্যাবিলিটিকে আরও শাণিত করতে পারেন, ভালো ক্যাডার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এটা আবশ্যক। এখন আধুনিক সময়, নিজের মুঠোফোনটাকে বিসিএস প্রস্তুতিতে কাজে লাগান, ফেসবুক ,ইউটিউবের পাশাপাশি আপনার স্কিল ডেপলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন সাইট, ফেসবুক পেজ, এ্যাপস ব্যাবহার করতে পারেন। নিজের দূর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করুন, সিলেবাস বুঝে কার্যকর গ্রুপস্টাডি করুন, সিনিয়রদের পরামর্শ নিন, নিজের প্রাত্যাহিক পড়াশোনাটুকু ডেডিকেটেডলি নিজস্ব রুটিন মাফিক শেষ করুন এবং প্রচুর পরীক্ষা দিন, ভালো করতে হলে পরীক্ষার কোন বিকল্প নেই সত্যিই। নিজেকে গড়ে তোলার জন্য যতটুকু সময় পেয়েছেন তার সদ্ব্যবহার করুন, সময় তার উত্তম প্রতিদান দিতে দ্বিধাবোধ করবে না।

    আপনার সম্ভাব্য পরিশ্রম শেষে ফলাফলের জন্য একটা কথায় বিশ্বাস রাখবেন, “মানুষ সবকিছু বদলাতে পারে, শুধু বদলাতে পারে না তার নিয়তি”, দিনশেষে নিয়তিতে বিশ্বাস রাখবেন, ওটা একান্তই সৃষ্টিকর্তার হাতে।

    সকল বিসিএস স্বপ্নবাজদের যাত্রা শুভ হোক, এই কামনা।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম তাজিনঃ তার মুখোমুখি বসে আমরা আজ শুনবো তারই সাফল্যগাথা

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২৬ অক্টোবর, ২০২২ ২২:৪
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম তাজিনঃ তার মুখোমুখি বসে আমরা আজ শুনবো তারই সাফল্যগাথা

      জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নূর ইসরাত জাহান তাজিন ৪০তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে (সুপারিশপ্রাপ্ত) প্রথম হয়েছেন। তাজিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছেন। সম্প্রতি তার ক্যাডার হওয়ার গল্প, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নতুনদের পরামর্শ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ।

      প্রশ্নঃ আপনার পড়াশোনা সম্পর্কে বলুন- নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমি ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়েছি আদমজী গার্লস হাই স্কুলে। এরপর এসএসসি পাস করি সিদ্ধিরগঞ্জ রেবতী মোহন পাইলট হাই স্কুল থেকে। আমি ইন্টারমিডিয়েট, অনার্স ও মাস্টার্স সব দিয়েছি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে। আমার আম্মুও এ কলেজেই পড়তেন।

      প্রশ্নঃ আপনার শৈশব কেমন কেটেছে? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমার শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে। আমার নানা ভাই আদমজী হাই স্কুলের গণিতের শিক্ষক ছিলেন। আমার জীবনের ভিত গড়েছেন আমার নানা ভাই ও নানু।

      প্রশ্নঃ পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল কি? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: না। পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে মেডিকেল চান্স না পেয়ে প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। এমনও ভেবেছি যে, আর পড়াশোনাই করব না। এমনকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চেষ্টাও করিনি। ওই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসাটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।

      প্রশ্নঃ বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমি যখন কলেজে অনার্সে ভর্তি হই; তখন আমার ডিপার্টমেন্টের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। নতুন করে শুরু করার জন্য এবং মূলত তখন থেকেই বিসিএসের স্বপ্ন দেখা শুরু। আর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রত্যাশা তো ছিলই।

      আরো পড়ুনঃ বেরোবি সাংবাদিক সমিতির ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

      প্রশ্নঃ বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই, পাশাপাশি প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: অনার্স তৃতীয় বর্ষ থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার কারণে বিসিএসের জন্য সিরিয়াসলি প্রিপারেশন নিতে আমার অনেক দেরি হয়। ৩৮তম প্রিলিমিনারি ফেল করার পর আমি বুঝতে পারি, আমাকে পড়াশোনায় আরও বেশি সময় দিতে হবে। সে সময়ই টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং বাদ দিয়ে বাসায় বসে প্রিপারেশন নেওয়া শুরু করি। ৪০তমের প্রিলিমিনারির আগের ছয় মাস থেকে লিখিত পরীক্ষা পর্যন্ত আমি কেবল তিনটি কাজই করেছি—খাওয়া, ঘুম আর পড়াশোনা।

      প্রশ্নঃ পর্দার আড়াল থেকে কেউ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: বিসিএস একটি দীর্ঘ যাত্রা। এ সময় পরিবারের সাপোর্ট খুবই জরুরি। আমার পরিবারের আম্মু-আব্বু, মনি-চাচা, ভাই-বোনরা, বন্ধু-বান্ধব, কলিগ, বিশেষ করে আমার বান্ধবী ডিনু ও আমার স্বামী সব সময় আমার পাশে ছিল।

      প্রশ্নঃ নতুনরা বিসিএস প্রিলির জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: নতুনদের বলবো, সবার আগে মাইন্ড সেট করতে হবে। আমি কি সত্যিই সিভিল সার্ভিসে যেতে চাই কি না। কেননা একটা দীর্ঘ সময় ধৈর্য সহকারে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয়। প্রিলিমিনারির জন্য সিলেবাস ধরে প্রতিটি টপিকের ওপর স্বচ্ছ ধারণা নিতে হবে। নিজের স্ট্রং জোনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া যেসব টপিক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন হয়, সেগুলো বারবার পড়তে হবে। যাতে কোনো কনফিউশন না থাকে। কমন প্রশ্নের উত্তর ভুল করা যাবে না। যেহেতু নেগেটিভ মার্ক আছে। বেশি বেশি এমসিকিউ সলভ করতে হবে ও মডেল টেস্ট দিতে হবে।

      প্রশ্নঃ প্রিলি শেষ করার পর বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি নিয়ে আপনার পরামর্শ কী? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের ব্যাপকতা অনেক। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাই যেমন অনেক পড়তে হবে, তেমনই সেগুলো খাতায় যথাযথভাবে উপস্থাপন করার কৌশলও রপ্ত করতে হবে। এ জন্য পয়েন্ট ধরে লেখা, প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা, উক্তি, ম্যাপ, চিত্র, তথ্য-উপাত্ত সংযোজন, দ্রুত ও স্পষ্ট লেখা জরুরি। লিখিত পরীক্ষার নম্বর যেহেতু যোগ হয়, তাই সব প্রশ্নের উত্তর করে আসার মানসিকতা থাকতে হবে। আর অবশ্যই নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে এবং খবর শুনতে হবে।

      আরো পড়ুনঃ র‌্যাংকিংয়ে নর্থ সাউথের সমপর্যায়ে আসতে পারায় ঢাবিকে নর্থ সাউথের ভিসির অভিনন্দন: বিতর্কের সৃষ্টি

      প্রশ্নঃ বিসিএস ভাইবার প্রস্তুতি কেমন হতে হয়? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: ভাইভার জন্য সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে অন্যের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে জানতে হবে। মার্জিত পোশাক, স্পষ্ট উচ্চারণে সাবলীলভাবে কথা বলা, নম্র আচরণ, সৎ চিন্তা ও যে বিষয় নিয়ে কথা বলবো সে বিষয় নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা—এসব কিছুর সম্মিলনেই একজন প্রার্থী নিজেকে ভাইভার জন্য প্রস্তুত করতে পারে। এ ছাড়া নিজের সম্পর্কে, নিজের পঠিত বিষয়, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, চলমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

      প্রশ্নঃ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কঠিন বিষয়ে করণীয় কী? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমি বলবো, কঠিন বিষয়গুলো ভয় পেয়ে এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলো সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা রাখা উচিত। এ জন্য কারো সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তবে কোনো কিছু একেবারেই আয়ত্তে আনতে না পারলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী তার স্ট্রং জোনের ওপর ফোকাস করবে, যাতে তিনি ওই বিষয়গুলোয় সর্বোচ্চ নম্বর পান।

      প্রশ্নঃ পুরো প্রস্তুতিতে যেসব বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: পুরো প্রস্তুতির সময়টাতে একাগ্রতা জরুরি। ধৈর্যহারা হলে চলবে না। দুদিন খুব পড়লাম তারপর আবার দুদিন পড়লাম না, এমন যেন না হয়। ভালো না লাগলেও পত্রিকা পড়তে হবে, খবর শুনতে হবে। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা পরিহার করতে হবে। মোবাইলে আসক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। দরকার হলে স্মার্ট ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সর্বোপরি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। অতি আত্মবিশ্বাসী হওয়া যাবে না। এটা কখনোই ভাবা যাবে না যে, বিসিএস না হলে আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে।

      প্রশ্নঃ বিসিএস যাত্রায় সোশ্যাল মিডিয়া কি কোনো ভাবে কাজে এসেছে? নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমরা এখন ডিজিটাল যুগে বাস করছি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাছে আমাদের যেতেই হয়। আমিও চাকরির প্রস্তুতির বিভিন্ন গ্রুপ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি। তবে সময়ের দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে, যাতে তা প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত না ঘটায়। সবশেষে এটাই বলবো, আল্লাহর ওপর এবং রিজিকের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। একজন প্রার্থীর কাজ হলো লক্ষ্য ঠিক রেখে, ধৈর্য সহকারে নিয়মিত পড়াশোনা করা ও সুস্থ থাকা। তাহলে সফলতা আসবেই।

      আরো পড়ুনঃ নকল রুখতে আজব পদ্ধতি ! অন্তর্বাস, ডিমের খোলা মাথায় পরিয়ে…

      তথ্যসূত্রঃ জাগো নিউজ

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত