শিরোনাম
খামেনিকে হত্যা করলেই সব সংঘাত শেষ হবে: নেতানিয়াহু
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হলে সংঘাত বাড়বে না, বরং শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এমন মন্তব্য করেন।
খামেনিকে হত্যা করার চিন্তা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যা প্রয়োজন, তাই করছি।’
তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। তারা ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ চায় এবং ইসরাইলকে পরমাণু যুদ্ধের কিনারায় নিয়ে এসেছে। ইসরাইল এই আগ্রাসন ঠেকাচ্ছে এবং এটি ঠেকাতে হলে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই হবে।
আরও পড়ুন
আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলিদের তাদের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ এলাকা’ ত্যাগ করতে বলেছে। ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে উল্লেখ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও বিবৃতিতে ইসরাইলিদের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সাইয়্যাদ বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে সুরক্ষিত বাংকার বা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারও আর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।’
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা
মোসাদের কার্যালয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কার্যালয় ও সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরান বলেছে, দুই দেশের মাঝে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে মঙ্গলবার তেল আবিবে মোসাদের কার্যালয়ে এই হামলা করা হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে একটি সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্র ও মোসাদের অভিযান পরিকল্পনা কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইসরায়েলি সেনা ঘাঁটি ও মোসাদের পরিচালনা কেন্দ্রকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করেছে ইরানের এই বাহিনী।
আইআরজিসির বিবৃতি ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তারা তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’ ও সন্ত্রাসী অভিযানের পরিকল্পনাকারী সংস্থা মোসাদের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার এসব কার্যালয়ে বর্তমান আগুন জ্বলছে।
এর আগে, ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, উপকূলীয় শহর হার্জলিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইরান থেকে ছোড়া ওই ক্ষেপণাস্ত্র সেখানকার একটি ‘সংবেদনশীল স্থানে’ আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলে সংবেদনশীল স্থান বলতে সাধারণত কোনও সামরিক বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুকে বোঝানো হয়।
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিয়ে যা বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সাংবাদমাধ্যম ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা
সংসদে পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রুরা আমাদের ও আমাদের জাতির ওপর নির্যাতন, হত্যা ও খুন করে দৃশ্যপট থেকে সরাতে পারবে না। কারণ প্রত্যেক বীরের পতাকা পড়ে গেলে আরও শত শত বীর আছে যারা পতাকা তুলে নিয়ে শত্রুদের নির্যাতন, অবিচার এবং বিশ্বাসঘাকতার জবাব দিবে।
ইরানের এই নেতা বলেন, ইরানিরা আগ্রাসি নয় এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের অনুসন্ধান করছি না। যদিও পশ্চিমারা বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়, আমাদেরও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আগ্রাহ নেই।’
মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, জ্বালানির উদ্দেশ্যে তার দেশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে যাবে। কারণ ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি অধিকারের সুযোগ রয়েছে।
ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানাল মিশরসহ ২১ মুসলিম দেশ
ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মিশরসহ ২১টি মুসলিম দেশ। নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উত্তেজনা হ্রাস এবং পরমাণু প্রকল্প বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।
মঙ্গলবার মিশরের সরকারি বার্তা সংস্থা (মেনা) এর বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও সিএনএন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো- মিশর, আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনেই, চাদ, কমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সুদান, সোমালিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওই বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে— তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে এবং এখন জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তারা চান, মধ্যপ্রাচ্য যেন পরমাণু অস্ত্রমুক্ত থাকে এবং এই অঞ্চলের সব রাষ্ট্র যেন জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প বিষয়ক চুক্তি নন-প্রোলিফারেশন অব নিউক্লিয়ার উইপন বা এনপিটিতে স্বাক্ষর করে।
বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সদ্ভাবপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্কের নীতিমালা সম্মান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।
তারা আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।” এ লক্ষ্যে তারা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি (এনপিটি)-তে যোগদানের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল এখনও এনপিটি চুক্তির সদস্য নয়। এই আন্তর্জাতিক চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা।
বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন, এ সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনৈতিক পথেই সম্ভব—সামরিক উপায়ে নয়।
ইরানের নতুন শীর্ষ কমান্ডার নিহত, দাবি ইসরায়েলের
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ট এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর নতুন শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী শাদমানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মেজর জেনারেল আলী শাদমানি ইরানের সামরিক বাহিনীর কমান্ড হেডকোয়ার্টার খতম-আল আনবিয়া-এর প্রধান ছিলেন।
গত ১৩ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী রাজধানী তেহরানসহ ইরানের ৮ শহরে বোমা বর্ষণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিহত হন খতম-আল আলবিয়া-এর শীর্ষ নির্বাহী লেফটেন্যান্ট জেনারেল গোলাম আলী রশীদ। তিনি নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ ১৩ জুন সন্ধ্যায় মেজর জেনারেল শাদমানিকে খতম আল আনবিয়া-এর শীর্ষ কমান্ডার ও নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেন খামেনি।
মেজর জেনারেল শাদমানি ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কমান্ডার ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন ইরানের অতি অল্পসংখ্যক সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন, যার সঙ্গে খামেনির ঘনিষ্ঠতা ছিল।
শাদমানির নিহত হওয়া সম্পর্কে ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আলজাজিরা, কিন্তু কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র : আলজাজিরা
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য