শিরোনাম
বিশ্বের সেরা ধনী থেকে হায়দরাবাদের নিজাম যেভাবে নিঃস্ব হয়েছিলেন
হায়দরাবাদের অষ্টম ও শেষ নিজাম, নবাব মীর বরকত আলি খান বালাশন মুকাররম জাহ বাহাদুরকে বুধবার রাতে তার পূর্বপুরুষদের রাজধানী শহরেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
মুকাররম জাহর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি ১৪ জানুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তার মৃত্যু হয়।
তার দফতর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহামহিম নবাব মীর বরকত আলি খান বালাশন মুকাররম জাহ বাহাদুরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার জন্মশহর হায়দরাবাদে দাফন করা হয়।
ইস্তাম্বুলে থেকে হায়দরাবাদে আনার পরে তার লাশ চৌমহলা প্যালেসে রাখা ছিল। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ হাজির হয় ওই প্যালেসে।
মুকাররম জাহ এর পরিচয়ঃ হয়দরাবাদের শেষ নিজাম মীর উসমান আলি খান বাহাদুরের নাতি ছিলেন এই মুকাররম জাহ। সপ্তম নিজাম মীর উসমান আলি খান ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত হায়দরাবাদের শাসক ছিলেন। তার ছেলে আজম জাহ ও রাজকুমারী দুরু শহবরের ছেলে মুকাররম জাহের জন্ম ১৯৩৩ সালে।
দ্যা হিন্দু সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উসমান আলি খান উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজের ছেলেকে বেছে না নিয়ে নাতি মুকাররম জাহকে নিজাম হিসেবে ঘোষণা করে গিয়েছিলেন।
একই প্রতিবেদনে ‘দ্যা হিন্দু’ লিখেছে যে ১৯৬৭ সালে রাজ্যাভিষেকর পরে অষ্টম নিজাম হন মুকাররম জাহ। ওই রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানও হয়েছিল চৌমহলা প্যালেসেই, যেখানে দাফনের আগে তার লাশ রাখা হয়েছিল।
অভিষেকের পরেই মুকাররম জাহ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। কিছু দিন পরে তুরস্কে পাকাপাকি ভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি।
বিপুল সম্পত্তি যেভাবে উড়ে গেলোঃ হায়দরাবাদ থেকে প্রকাশিত ‘সিয়াসত’ সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী সপ্তম নিজামের উত্তরাধিকারী হিসেবে মুকাররম জাহ পৃথিবীর সব থেকে বড় সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু বিলাসী জীবনযাপন, রাজকীয় মহলের দেখভালে অবহেলা, বেহিসাবির মত দামি অলঙ্কার কিনতে খরচ করা ছিল মুকাররম জাহের স্বভাব। এভাবেই সব সম্পত্তি শেষ হয়ে যায় অষ্টম নিজামের।
উত্তরাধিকার সূত্রে মুকাররম জাহ ২৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি পেয়েছিলেন। ওই সময়ে তার বয়স ছিল ৩০ বছর। কিন্তু বেহিসাবি জীবনযাপনের ফলে শেষ দিনগুলো তাকে কাটাতে হয়েছিল একটা দু’কক্ষের ফ্ল্যাটে।
হায়দরাবাদের নিজামের শাসন শুরু হয়েছিল ১৭২৪ সালে, তা জারি ছিল ১৯৪৮ পর্যন্ত।
হয়দরাবাদের শেষ শাসক, নিজাম-আসফ জাহ মুজফ্ফরুল মুল্ক স্যার উসমান আলি খান ১৯১১ সালে শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ শাসকদের খুব কাছের মানুষ।
টাইম ম্যাগাজিন ১৯৩৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি উসমান আলি খানের ওপরে একটা সংখ্যাই ছেপেছিল। ওই সময়ে তিনিই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষ। তার কাছে ২৪২ ক্যারেটের জেকব হীরা ছিল। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হীরার একটা। যারা ওই হীরা দেখেছেন, তাদের কথায়, হীরাটি একটা ছোট লেবুর আকৃতির ছিল।
ওই হীরা রক্ষা করার জন্য একটা সাবানের বাক্সের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হত। কখনো আবার নিজাম হীরাটিকে পেপারওয়েট হিসেবেও ব্যবহার করতেন।
যেভাবে হায়দরাবাদের ভারত-ভুক্তি হয়েছিলঃ স্বাধীনতার পরে যে তিনটি দেশীয় রাজ্য ভারতে যোগদান করতে অস্বীকার করেছিল, তারই অন্যতম ছিল হায়দরাবাদ। তবে ভারত সরকার সেনাবাহিনী পাঠিয়ে ১৯৪৮ সালে হায়দরাবাদ দেশের বাকি অংশের সাথে মিশিয়ে দেয়।
হায়দরাবাদের সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের পরে ভারত সরকার নিজামের সমর্থক কাশিম রিজভি ও লায়েক আহমেদকে হেফাজতে নেয়। লায়েক আহমেদ হেফাজত থেকে পালিয়ে বোম্বে (বর্তমানের মুম্বাই) চলে যান আর সেখান থেকে বিমানে পাকিস্তান পৌঁছান।
ভারত সরকার সপ্তম নিজাম বা তার পরিবারের কোনো ক্ষতি করেনি। তাদের সপরিবারে নিজেদের প্রসাদেই থাকার অনুমতি দিয়েছিল সরকার।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরে ৫৬২তম দেশীয় রাজ্য হিসেবে হায়দরাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সপ্তম নিজাম ও ভারত সরকারের মধ্যে ১৯৫০ সালের ২৫ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী নিজাম বছরে ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৪ টাকা প্রিভি পার্স হিসেবে পেতেন।
হায়দরাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলেও নিজাম সেখানকার গভর্নর ছিলেন ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত। রাজ্য পুনর্গঠনের পরে নিজামের আগের সাম্রাজ্য ভেঙে তিনটি রাজ্য তৈরি হয়। অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র।
সপ্তম নিজাম মীর উসমান আলি খানের ১৯৬৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয়।
সূত্র : বিবিসি
তাজউদ্দীন, তোমাকে ছাড়া আমার ভালো লাগছে না। তুমি এসো- বঙ্গবন্ধু
হাসিবুল আলম প্লাবন, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিঃ মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাজউদ্দীন আহমেদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি বাবার সাথে দেখা করতে জেলে যান। তাজউদ্দীন রিমিকে জানান তিনি 'মুজিব ভাই'কে স্বপ্নে দেখেছিলেন, যিনি তাকে বলেছিলেন "তাজউদ্দীন, তোমাকে ছাড়া আমার ভালো লাগছে না। তুমি এসো"
১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর সৈয়দা জোহরা তার সন্তানদের নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাজউদ্দীন আহমদকে দেখতে যান। এটাই হবে তাদের শেষ সাক্ষাৎ। দুই দিন পর তাজউদ্দীন আহমদ ও তার তিন সহকর্মীকে হত্যা করা হবে। তাজউদ্দীন আহমেদ টের পেয়েছিলেন পটভূমিতে অন্ধকার কিছু উন্মোচিত হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে একটি আক্রমণ আসন্ন। তিনি তার পরিবার ও অন্যদের জেলখানাকে রেডক্রসের তত্ত্বাবধানে আনতে বলেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেলে হামলা হতে পারে বলে বার্তা পাঠাতে বলেন তিনি ।
আড়াই মাস জেলে থাকার সময় তাজউদ্দীন আহমদ একটি জার্নালে সমস্ত বিবরণ লিখেছিলেন, যা ছিল মোট ৫০০ পৃষ্ঠার । ১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর সহধর্মিণী জোহরার সাথে দেখা হলে তিনি তাকে এ জার্নালটি সম্পর্কে বলেছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্হার লোকেরা তাদের চারপাশে বসে ছিল তাই তিনি জোহরাকে অস্পষ্টভাবে এবং ভাঙ্গা বাক্যে জার্নালটি সম্পর্কে বলেন। তাজউদ্দিম আহমেদ এক্ষেত্রে কিছু প্রতীকী ভাষা যেমন "ডায়েরি, 500 পৃষ্ঠা, লাল কভার, কালো বর্ডার" ইত্যাদি বলেছিলেন। জোহরা বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি কী বলতে চাইছেন। যে তাকে হত্যা করা হবে এবং ডায়েরিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
চার নেতা হত্যার অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী আমিনুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৩ রা নভেম্বর সোমবার বেলা ২টার দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এটিএম নুরুজ্জামান'এর টেলিফোনের রিং শুনে আমিনুর রহমানের ঘুম ভাঙে। আইজি তাকে জানান যে তিনি কারাগারে আসছেন এবং "কিছু সেনা কর্মকর্তা"ও তার সাথে থাকবেন। এর কিছুক্ষণ পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে দুটি গাড়ি আসে। একটি গাড়িতে আইজি নুরুজ্জামানসহ আরো ৪ জন ছিলেন। অন্যটিতে ছিল আরও ২ জন। তাদের কাছে স্টেনগান ও ৩০৩টি রাইফেল ছিল । এতক্ষণে জেলের ঘণ্টা বারবার বাজতে শুরু করে এবং কারাগারের কর্মচারীদের একটি বিশাল ভিড় গেটের কাছে জড়ো হয়েছিল, কী ঘটছে তা ভেবে হতবাক হয়ে গিয়েছিল।
তৎকালীন অবৈধ রাষ্ট্রপতি মোশতাক কারাগারে ফোন করেন এবং মহাপরিদর্শকের সাথে কথা বলেন। আমিনুর রহমান এটিএম নুরুজ্জামানকে মোশতাক কর্তৃক অর্পিত অদেশ নিয়ে হতবাক ও অস্বীকৃতি প্রকাশ করতে শুনেছিলেন।
হাতে একটি চিরকুট (অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত অফিসিয়াল নোট) নিয়ে, আইজি জেলের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) কাজী আবদুল আউয়ালের অফিসে গিয়ে উত্তর দিলেন, "চল ভিতরে যাই"।
জেল গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে আইজি দুই খুনি নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন। এ সময় ডিআইজি কাজী আবদুল আউয়াল আইজিকে বলেন, কারাগারের ভেতরে অস্ত্র বহন করা নিষিদ্ধ। তার উচিত সৈন্যদের এখানে তাদের অস্ত্র রাখতে বলা ।
বাকি খুনিরা গেট না খোলার আপত্তি জানিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারাও তখন কম্পাউন্ডে ঢুকতে লাগল। কিন্তু ডিআইজি কাজী আবদুল আউয়াল আপত্তি করে থাকেন। নতুন কক্ষে প্রবেশের ঠিক আগে, তারা তাকে ধাক্কা দেয় এবং গালি দেয় ভেতরে প্রবেশ করে ।
এরপর আইজি জেলার আমিনুর রহমানকে সবার সামনে চিট দেন এবং চার নেতাকে এক কক্ষে নিয়ে আসতে বলেন। আদেশ অনুযায়ী মিটিংয়ের জন্য কারাগারের একটি কক্ষ প্রস্তুত করেন আমিনুর রহমান। তিনি সবার বসার জন্য দুপাশে দুটি বেঞ্চ সহ মাঝখানে একটি কাঠের টেবিল রাখলেন। একটি বেঞ্চ চার নেতার জন্য অন্যটি ভিজিটরদের জন্য। আমিনুর তখন চার নেতাকে নিতে যান।
একটি কারাগারে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমেদ ছিলেন। আমিনুর তাদের কক্ষে গিয়ে দেখতে পান তাজউদ্দীন আহমদ ওজু করছেন এবং সৈয়দ নজরুল কোরআন পড়ছেন । সময়টা তখন ফজরের নামাযের কিছু আগে।
চার জাতীয় নেতাকে নতুন সেলে নিয়ে এসে একপাশে বেঞ্চে বসানো হলো। দরজার কাছেই ছিলেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী । তারা সবাই তাদের অজানা ভিজিটরদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অস্ত্র সজ্জিত দলটি সেলে এসে পৌছালে আমিনুর উভয় পক্ষের পরিচয় দিতে থাকেন। কিন্তু মনসুর আলীর নাম বলার আগেই খুনিরা গুলি করতে শুরু করে। খুনিরা এলোপাতাড়ি ভাবে গুলি ছুড়ে, তারপর চলে যায়। কিন্তু হঠাৎ তারা আবার ঘর থেকে "পানি, পানি" চিৎকার শুনতে পায়। তাই ঘাতকরা দৌড়ে সেলপনফিরে গেল। মৃত্যু নিশ্চিত করতে নেতাদের বেয়নেটেড করা জয় হিংস্রভাবে। সেই সঙ্গে হত্যা করা হয় চার নেতা, বাংলাদেশের প্রথম সরকারের নেতৃত্বদানকারী নেতাদের। তাদের ক্যারিশম্যাটিক নেতা এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাহাদাত বরণোর ৭৯ দিন পর তাদের মৃত্যু হয়।
তাদের মৃত্যুর মিনিটখানেক পরে সারা শহর জুড়ে ফজরের আজান হতে থাকে। সেই সাথে বাংলাদেশ হারায় তাদের মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ নেতৃত্ব দানকারী নেতাদের।
ত্রিপুরা ভাষায় কুবি শিক্ষার্থীর বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'
হেদায়েতুল ইসলাম নাবিদ, কুবি প্রতিনিধি
দীর্ঘ ২ বছর চেষ্টার পর অবশেষে ত্রিপুরা ভাষায় অনূদিত হলো বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী। বইটি ১ম ত্রিপুরা ভাষায় (ককবরক) অনূদিত করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী যুবরাজ দেববর্মা।
অনুবাদক দেববর্মা 'ককবরক' ভাসায় বইটির নাম দিয়েছেন 'পাইথাকয়া লাংমা’। যার এর অর্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’।
বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম জাতি হলো ত্রিপুরারা। আর তাদেরই মাতৃভাষা 'ককবরক'। চীনের ইয়াংসি ও হোয়াংহো নদীর উৎসস্থলে জন্ম নেয়া এ ভাষায় বর্তমানে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৩৬ টি গোত্রের ভাবপ্রকাশের মাধ্যম। এছাড়াও গারো, কোচ, হাজং ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর ভাষাও একই শ্রেণিভুক্ত বলে জানা যায়।
দেববর্মার জন্ম সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গলের ডলুছড়া ত্রিপুরাপল্লীতে। দীর্ঘ দুইবছরের প্রচেষ্টার ফসল তার এই পাণ্ডুলিপিটি।
ত্রিপুরা ভাষায় জাতির জনকের জীবনীগ্রন্থটি অনুবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ২০২০ সালকে মুজিব শতবর্ষ ঘোষণা করেন সেসময় থেকেই আমার মধ্যে নিজের জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কিছু করার ইচ্ছাজাগে তাই অনুবাদের পথটি বেছে নেই। যেন একসাথে নিজেদের ভাষাকেও উপস্থাপন করতে পারি পাশাপাশি যে মানুষটা মহান স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তার আদর্শটাও একটু ভিন্নভাবে ছড়িয়ে দিতে পারি।
এছাড়াও বর্তমানে 'ককবরক' একটি বিলুপ্তপ্রায় ভাষা। আমাদের পরের প্রজন্ম হয়তো আর এভাষার অনেক অর্থই জানবেনা। তাই নিজেদের ভাষাটাকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষুদ্র প্রয়াসও বলা যায় এটাকে।"
দেববর্মার কাছে তার অনুবাদ করার দুইবছরের জার্নিটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন," সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ একজন ছাত্রের ছাত্রের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকভাবে কিরকম চাপ থাকে তা আপনারা জানেন। এতকিছু সামলে কাজটা করার মূহুর্তগুলো বলে বুঝাতে পারবোনা। একটা সময় মনে হয়েছিল হাল ছেড়ে দেই, আমার পক্ষে সম্ভবনা। কিন্তু কিছু মানুষের অনুপ্রেরণা আমাকে পুরো পাণ্ডুলিপিটি অনুবাদ করতে সাহস যুগিয়েছে। "
পাণ্ডুলিপিটি গ্রন্থাকারে প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে দেববর্মা বলেন," বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কিউরেটর, সাবেক শিক্ষা সচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম খানের সাথে ওনার সহকারির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন, আমাকে জানাবে। বাকিটা স্যারের সাথে কথা বলার পর বলতে পারবো।"
"বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খানের কাছে প্রতিলিপিটি ছাপানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাদের পক্ষ থেকে তাকে 'ককবরক' ভাষায় পারদর্শী তৃতীয় কাউকে দিয়ে চেক করানোর কথা বলা হয়েছে। তিনি চেক করালে আমরা দায়িত্ব নিয়ে ছাপিয়ে দিবো কিন্তু কোনো আর্থিক সহায়তা দিতে পারবোনা।" প্রতিলিপিটি ছাপানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খানে এমন মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরারা ভারতীয় উপমহাদেশের এক প্রাচীন জাতি। পাহাড়, বন ও প্রকৃতিকে আঁকড়ে বসবাস করা এ নৃগোষ্ঠীটি বাংলাদেশের তিন পার্বত্য অঞ্চল ছাড়াও সমতল এলাকার কুমিল্লা, সিলেট চাঁদপুর, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর অঞ্চলে বসবাস করে। ২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী দেশেপ্রায় দুইলক্ষাধিক ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত সরকারি ভাবে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নানাভাবে সহায়তা করেছিল গোষ্ঠীটি। তাছাড়া বর্তমান মহানগরী কুমিল্লার 'চাকলা রোসনাবাদ' (ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক রাজধানী) অনেক স্থাপনাতেই ত্রিপুরা রাজাদের হাতের ছোয়া লেগে আছে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশের বসবাস। বর্তমানে বাংলাদেশে ত্রিপুরা জনসংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষাধিক।

২ মে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা
প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই সেখানে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।
ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সব সময় গুরুত্ব বহন করে। এ গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘আজকের এই দিনের ইতিহাস’।
আজ ২ মে ২০২২, সোমবার। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
ঘটনাবলী
১১১২ – ইতিহাসের এই দিনে চীনা জ্যোতির্বিদরা সূর্যের অভ্যন্তরে কালো বায়বীয় বস্তুর অস্তিত্ব লক্ষ করেন।
১৯৪৫ – ইতিহাসের এই দিনে সোভিয়েত বাহিনী বার্লিন দখল করে নেয়। বার্লিন জার্মানির রাজধানী এবং ইউরোপ মহাদেশের একটি ঐতিহাসিক শহর। বার্লিন শহরে ৩৪ লাখেরও বেশি লোক বাস করেন।
১৯৪৫ – ইতিহাসের এই দিনে ইতালিতে মোতায়েন প্রায় ১০ লাখ জার্মান সৈন্য নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
১৯৬৪ – ইতিহাসের এই দিনে তৎকালীন সায়গন বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রে নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএনএস কাড বিস্ফোরণে ডুবে যায়।
১৯৭২ - দক্ষিণ আমেরিকান দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় কলম্বিয়া, কোস্টারিকা এবং ভেনেজুয়েলা।
জন্ম
১৭২৯ - রাশিয়ার দ্বিতীয় ক্যাথরিন।
১৭৭২ - নোভালিশ, জার্মান লেখক এবং কবি।
১৮৬০ - থিওডোর হের্জল, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির একজন ইহুদি সাংবাদিক ও লেখক।
১৯০১ - বব ওয়াট, ইংলিশ ক্রিকেটার।
১৯২১ - সত্যজিৎ রায়, বাংলা সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
১৯২৮ - ফয়েজ আহমেদ, বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
১৯২৯ - এদুয়ার বালাদুর, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
১৯২৯ - জিগমে দর্জি ওয়াংচুক, ভুটানের তৃতীয় ড্রূক গ্যালাপ (রাজা)।
১৯৩১ - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথিতযশা ভারতীয় বাঙালি গীতিকার ও সুরকার।
১৯৩৫ - দ্বিতীয় ফয়সাল, ইরাকের তৃতীয় ও শেষ বাদশাহ।
১৯৩৯ - সুমিও ইজিমা, জাপানি পদার্থবিদ, প্রায়শই কার্বন ন্যানোটিউব আবিষ্কারের জন্য যাকে স্মরণ করা হয়।
১৯৪২ - জ্যাকুয়েস রগ, বেলজিয়ামের ক্রীড়া অধিকর্তা।
১৯৫৮ - ডেভিড ও'লিয়ারি, আয়ারল্যান্ডীয় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় এবং ম্যানেজার।
১৯৬০ - স্টিভেন ডাল্ড্রি, ইংরেজ পরিচালক ও প্রযোজক।
১৯৬৯ - ব্রায়ান লারা, ত্রিনিদাদিয়ান ক্রিকেটার।
১৯৭২ - ডোয়েইন জনসন, মার্কিন-কানাডীয় অভিনেতা, প্রযোজক এবং পেশাদার কুস্তিগির।
১৯৭৫ - ডেভিড বেকহ্যাম, ইংরেজ ফুটবলার।
১৯৮২ - যোহান বোথা, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।
১৯৯৬ - জুলিয়ান ব্র্যান্ড, জার্মান ফুটবলার।
২০১৫ - প্রিন্সেস শার্লট অব কেমব্রিজ, প্রিন্স উইলিয়াম, ডিউক অব কেমব্রিজ, এবং ক্যাথরিন, ডাচেস অফ কেমব্রিজ এর কনিষ্ঠতম এবং একমাত্র কন্যা।
মৃত্যু
১৫১৯ - লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, ইতালীয় রেনেসাঁসের কালজয়ী চিত্রশিল্পী।
১৮৫৭ - ঊনবিংশ শতাব্দির বিখ্যাত কবি ও লেখক আলফ্রেড ডি মুসেট।
১৯০৮ - প্রফুল্ল চাকী ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবী।
১৯৫৭ - জোসেফ ম্যাকার্থি, মার্কিন রাজনীতিবিদ।
১৯৭২ - জে. এডগার হুভার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই প্রথম পরিচালক এবং মার্কিন আইন প্রণয়নকারী কর্মকর্তা।
১৯৭৭ - মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, বাঙালি কবি।
১৯৭৯ - জুলিও নাত্তা, ইতালীয় রসায়নবিজ্ঞানী।
১৯৮০ - ক্ল্যারি গ্রিমেট, বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।
১৯৯৯ - অলিভার রিড, ইংলিশ অভিনেতা।
২০১০ - লিন রেডগ্রেভ, ইংলিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী এবং গায়ক।
২০১১ - ওসামা বিন লাদেন, সন্ত্রাসবাদী গেরিলা যোদ্ধা এবং আল-কায়দা এর প্রতিষ্ঠাতা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য