শিরোনাম
করোনার নতুন ধরন নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
দেড় বছর পর আবার করোনায় সম্প্রতি তিনজনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে বেড়েছে কিছুটা উদ্বেগ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সবাইকে শুধু একটু সচেতন থাকতে হবে।
২০২৫ সালের ৫ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রবীণ এক ব্যক্তি, ১৩ জুন রাজধানী ঢাকায় একজন এবং চট্টগ্রামে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই তিনজনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জারি করা হয়েছে ১১টি নির্দেশনা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে যারা বয়স্ক, শারীরিকভাবে দুর্বল কিংবা আগে থেকে জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানাটা জরুরি। কেননা তাদের জন্য এই ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মক হতে পারে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) তথ্যমতে, চলতি বছর সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো করোনার নতুন দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট এক্সএফজি এবং এক্সএফসি। যেগুলো ওমিক্রন জেএন. ১-এর একটি উপ-শাখা। সম্প্রতি যেসব নমুনা পাওয়া গেছে, তার প্রায় সবগুলোতে এক্সএফজি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, এখন পর্যন্ত দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা করোনা সংক্রমণের যে হার, তাতে উদ্বেগের কিছু নেই। অনেকদিন ধরে কোভিডের কোনো রোগী ছিল না। ফলে আমাদের হাসপাতালগুলোতে তেমন কোনো প্রস্তুতি রাখা হয়নি। এখন যেহেতু অল্প পরিমাণে সংক্রমিত রোগী পাওয়া যাচ্ছে, ফলে আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও কুর্মিটোলা হাসপাতালকে প্রস্তুত করেছি। আপাতত ৫০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশি শয্যা প্রস্তুত করে কী করব- হাসপাতালে তেমন রোগীর চাপ নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ায় নতুন করে পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সব রোগীদের করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র যাদের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য উপসর্গ রয়েছে এবং যারা জটিল অবস্থায় রয়েছে, তারাই করোনা পরীক্ষা করাবেন।
ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে আবু জাফর বলেন, যাদের কখনোই ভ্যাকসিন দেয়া হয়নি তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে। বিশেষ করে ১৮ বছরের উপরে যারা, বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করেন, অন্তঃসত্ত্বা নারী তাদের ভ্যাকসিন দিতে হবে। আর পুরাতনদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, আশপাশের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণের হার কম। যেহেতু পাশের দেশগুলোয় কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, তাই সরকারের দায়িত্ব হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইসিডিডিআরবির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক আহমেদ বলেন, শুধু বাংলাদেশই নয়; থাইল্যান্ড, চীন ও ভারতেও করোনার কিছু নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। যেগুলো দ্রুত সংক্রমিত করতে পারে। তবে বর্তমানে দেখা দেওয়া উপধরনগুলো আগের মতো প্রাণঘাতী নয়। সাধারণ জ্বর, সর্দি বা মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতো। রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে না। তাই ভাইরাস বহনকারী ব্যক্তিরা এখন আর পরীক্ষা করছেন না। কিন্তু এখন থেকেই স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে গুরুত্ব না দিলে এটি আরও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষা চালু হয়েছে। যেসব হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাব রয়েছে, শুধু সেখানেই শুরুতে এই সুবিধা মিলবে।
তিনি জানান, স্থানীয় কোম্পানিগুলো থেকে পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও কিট আমদানির জন্য সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোকে (সিএমএসডি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাদের উপসর্গ থাকবে, তারাই পরীক্ষার সুযোগ পাবেন। সংক্রমণের হার যদি আরও বাড়ে, তাহলে পরীক্ষার পরিধিও বাড়ানো হবে।
জনগণকে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ বলেন, ‘আমরা চাই না পরিস্থিতি আবার হাতের বাইরে চলে যাক। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
হাসপাতালগুলোতে আলাদা করে কোভিড শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা. মো. মঈনুল আহসান বলেন, দেশের সব হাসপাতালে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর মহাখালীর উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে সাধারণ ৫০ শয্যা ও আইসিইউর ১৫ শয্যা শুধু করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর মুগদা ও কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা রোগীর জন্য খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের স্থল ও নৌবন্দরগুলোর পাশাপাশি সবকটি বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
ভারতসহ যেসব দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়েছে, ওইসব দেশে ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রয়োজন ছাড়া ওইসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণের করণীয়তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ১১ নির্দেশনাও। এছাড়া প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে অথবা আইইডিসিআর (০১৪০১-১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩) নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে করোনাবিষয়ক কলের সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়েছে। এ নম্বরে ফোন করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো পরামর্শ পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য বাতায়নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনায় মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই আমরা এ-সংক্রান্ত কল বেশি করে পাচ্ছি। যেটা আগে ছিল না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও করোনা বৃদ্ধির কথা বলছে। বিশেষ করে ভারতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে এ সংক্রান্ত পরামর্শ নিতে দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রোগ্রাম ম্যানেজার এএফএম শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘আমাদের হাতে এখন ৩২ লাখ ফাইজারের তৈরি করোনার টিকা আছে। এর মধ্যে গত দুই মাসে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ ডোজ ফাইজারের টিকা সব জেলায় পাঠানো হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হবে ৬ আগস্ট। এর বাইরে আছে আরও ১৫ লাখ টিকা।’
২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫০২ জনের। চলতি বছরে ১৪ জুন পর্যন্ত তিনজন করোনায় মারা গেছেন। ২০২৪ সালে কেউ মারা না গেলেও ২০২৩ সালে ৩৭ জন এবং ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
দেশে করোনায় ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত আরও ১৫
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এই সময়ে ১৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে আরও ১৫ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল (১২ জুন) ১৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে দুই জনের মৃত্যুতে দেশে করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেইসাথে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৮ জন। এর ফলে এ সংখ্যা ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ০৮ দশমিক ৬২ শতাংশ।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দু-দিন করোনায় সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।
ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৯
গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৫ জোনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও ১৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২৪ জন আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে।
শুক্রবার (১৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চলতি বছর এ পর্যন্ত এটি এক দিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত একদিনে ডেঙ্গুতে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। সবমিলিয়ে চলতি বছরে এ যাবত ডেঙ্গুতে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩ জন, সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১ জন রয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় ১০৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ১১ জন। চলতি বছরের ১৩ জুন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী রয়েছেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে একলাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন।এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় ও পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
ডাস্টবিন থেকে ওষুধ তুলে রোগীর কাছে বিক্রি! ওয়ার্ড বয়ের
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাস্টবিন থেকে ওষুধ তুলে তা রোগীর স্বজনের কাছে বিক্রি এবং সেই ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। রোগীর স্বজনদের এ অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক ওয়ার্ড বয়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১১ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে এ অনিয়মের চিত্র সামনে আসে। অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল। তারা হাসপাতালের মেডিসিন (মহিলা) বিভাগে গিয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় হরষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে হরষিত স্বীকার করেন, তিনি ওই ওষুধ রোগীর স্বজনের কাছে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছয়-সাত মাস আগে ডাস্টবিন থেকে কিছু ওষুধ সংগ্রহ করি। সম্প্রতি সুযোগ পেয়ে সেগুলো বিক্রি করি।’
সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর কাছে ওই ইনজেকশন বিক্রি ও তার স্ত্রীর শরীরে সেটি প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ঈদের পরদিন স্ত্রীকে ভর্তি করি। তারা যে ওষুধ দেয় প্রথমে সেটা হাসপাতালে নেই বলে তারা জানায়। পরে ওয়ার্ড বয় হরষিত প্রতিটি ইনজেকশন ৫০০ টাকা করে আমার কাছে বিক্রি করে। ইনজেকশন দেওয়ার পর দেখা যায়, সেগুলোর মেয়াদ চার মাস আগেই শেষ।’
হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতে খোদা বলেন, ‘ঘটনাটি আমি পরে জেনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমার স্থায়ী স্টাফ নয়, সে একজন স্বেচ্ছাসেবক। তারপরও আমরা তাকে সাসপেন্ড করেছি। এছাড়া তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওয়ার্ড মাস্টারকে বলেছি, লিখিত অভিযোগ যেন আমার বরাবর জমা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখছি, রোগীর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো বড় সমস্যা ধরা পড়েনি।’
ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন। মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. কাজী আরিফ আহমেদ বলেন, আমি ওই দিন ছুটিতে ছিলাম। ছুটিতে যাওয়ার আগে ওই রোগীকে আমি যে ওষুধগুলো দিয়েছিলাম সেগুলোর মেয়াদ ঠিক ছিল এবং রোগীর কোনো সমস্যা হয়নি। তবে আমার অনুপস্থিতিতে যে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো হাসপাতালের কিনা, তা আমার জানা নেই।
ভুক্তভোগী রোগীর ছেলে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমার আম্মু এখনো ওখানেই ভর্তি। কর্তৃপক্ষ আমাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। ঘটনার পর কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়েছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে ডাক্তাররা সরাসরি কিছু বলেননি, তবে এখন চিকিৎসা ভালো চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু আমার মায়ের জন্য না, সব রোগীদের জন্যই এটা করেছি। ওখানে সবাই আমার মা, ভাই, বোন। তাই আমরা যখন বিষয়টি জানতে পেরেছি তখন সেনাবাহিনীকে জানাই এবং তারা এসে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।’
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, কেবল একজন স্বেচ্ছাসেবককে সাসপেন্ড করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না, এ ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
হাসপাতালের একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের মতে, ওষুধ চুরি ও বিক্রি, কমিশন বাণিজ্য, রোগী রেফার ও অর্থ আদায়ের বিষয়গুলো বহুদিন ধরেই চলে আসছে।
আবারও বাড়ছে করোনা, সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। চিহ্নিত হচ্ছে ভাইরাসটির নতুন নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রমণ ঠেকাতে বন্দরে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি জনসাধারণের উদ্দেশে ৭টি নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১১ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সতর্কতার কথা জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসজনিত সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা ভাইরাসের কয়েকটি নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধে দেশের সব স্থল, নৌ, বিমান বন্দরের আইএইচআর ডেস্কসমূহে নজরদারি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো জোরদার করার বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ৭ নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনাগুলো হলো—
১. জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। একান্ত প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক পরুন।
২. শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করুন।
৩. হাঁচি বা কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখুন (কনুই বা টিস্যু ব্যবহার করে)।
৪. ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।
৫. সাবান ও পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে ফেলুন।
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করবেন না।
৭. আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।
সংবাদ সম্মেলনে করোনা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতির বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, করোনা শনাক্তে আবারও আরটি-পিসিআর ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি করোনার টিকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, ভেন্টিলেটর, আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধাসহ কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও সেবা প্রদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন—কেএন-৯৫ মাস্ক, পিপিই ও ফেস শিল্ড নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালার (আইএইচআর) আওতায় পরিচালিত ডেস্কগুলোকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য