ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

চিকিৎসকের মায়ের কাছে ঘুষ দাবি: রমেক হাসপাতালের ১৫ কর্মচারীকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৮:০
নিজস্ব প্রতিবেদক
চিকিৎসকের মায়ের কাছে ঘুষ দাবি: রমেক হাসপাতালের ১৫ কর্মচারীকে বদলি

চিকিৎসকের মায়ের কাছে ঘুষ দাবির ঘটনায় দালাল চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ১৫ কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আদেশে বর্ণিত কর্মচারীদের তাহাদের নামের পাশে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে পদায়ন করিয়া বহাল করা হইল।

জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হইলো উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়েছে, আদেশ জারির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করিতে হইবে। অন্যথায় ৮ (আট) দিনের দিন হইতে সরাসরি অব্যাহতি পাইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে। ইহাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রহিয়াছে।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছেলের কর্মস্থল রমেক হাসপাতালে যান অর্থোসার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এ.বি.এম রাশেদুল আমীরের মা। চিকিৎসা নিতে গিয়ে সেখানে তিনি হয়রানির শিকার হন। কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মা পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁর কাছ থেকে দুই দফায় টাকা নেওয়া হয়।

নিজ কর্মস্থলে গুরুতর অসুস্থ মায়ের দুর্ভোগের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে মেডিভয়েসকে ডা. রাশেদুল আমীর বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি হাসপাতালের পরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছে। এ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’

হাসপাতালে এ রকম ঘটনা অহরহ ঘটছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সাধারণ রোগীদের জন্য ভর্তি ফি ২৫ টাকা এবং হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি। কিন্তু রাতের বেলায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে জরুরি বিভাগের একটি চক্র মানুষের কাছ থেকে দেড়-দুই-আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেয়।

এ অনিয়ম নিয়ে গত সপ্তাহ দুয়েক আগে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বাড়ছে না ভাতা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নাভিশ্বাস

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:৫৬
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    বাড়ছে না ভাতা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নাভিশ্বাস

    দেশে বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যসহ সকল কিছুর দাম। এতে জীবন নির্বাহের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে সমানুপাতিক হারে বাড়েনি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা। ফলে কষ্টে কাটছে নবীন চিকিৎসকদের জীবন।

    সিনিয়র চিকিৎসকদের পরামর্শে দিন-রাত চিকিৎসা সেবা চালু রাখেন হাসপাতালের এসব প্রাণভোমরা। সরকারি ছুটিসহ অন্যান্য উৎসবেও দায়িত্ব পালন করেন তারা। তবে নিবেদিতপ্রাণ এসব স্বাস্থ্যকর্মীর কপালে জুটে না কোনো বোনাস।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. জেসিয়া জুই বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছাড়া হাসপাতালের সেবার কথা চিন্তা করা যায় না। আমরা সপ্তাহে কমপক্ষে ৭০-৮০ ঘণ্টা কাজ করি। কখনও কখনও তারও বেশি কাজ করতে হয়। অনেক সময় একটানা ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘণ্টাও কাজ করি। আমাদেরকে সাপ্তাহিক কোনো ছুটি নেই। মাসে একদিন ছুটি পাই কিনা তাও সন্দেহ। এভাবে কাজ করার পরও আমাদের ভাতা যা দেওয়া হয়, এতে চলতে হিমশিম খেতে হয়।

    শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ডা. মো. সাজিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা শেখার পাশাপাশি হাসপাতালে একজন অন ডিউটি ডক্টর হিসেবেও কাজ করি। দিন-রাত কাজ করতে হয়। ঈদ ও পূজাসহ অন্যান্য সরকারি উৎসবেও আমাদেরকে ছুটি দেওয়া হয় না। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আমাদেরকে চিকিৎসা সেবা দিতে হয়। সেইসাথে কোনো বোনাস দেওয়া হয় না।’

    শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সুজায়েত হোসেন বলেন, ‘একজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে হাসপাতালের প্রাণ বলা হয়। কারণ অন্যান্য ডাক্তারদের থেকে ইন্টার্নদের ডেউটি অনেক বেশি। মিড লেভেলের স্যার বা অধ্যাপক লেভেলের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কাজ করেন ইন্টার্নরা। একজন রোগী হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসার শুরু থেকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত যা যা করা উচিত, সবকিছু ইন্টার্নরাই করে থাকে।’

    খরচ জোগাতে হাসপাতালে দায়িত্বের পাশাপাশি তাদের যুক্ত হতে হয় টিউশনিসহ অন্যান্য কাজে। এতে বিঘ্নিত হয় ক্লান্তিহীন সেবা ও নিরবচ্ছিন্ন পড়াশোনা। এমন পরিস্থিতিতে হতাশায় কেউ কেউ পরিবর্তন করেন চিকিৎসার মতো মহৎ পেশা।

    এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, ‘আমাদেরকে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়ে মাস চলা প্রায় অসম্ভব এবং খুব কষ্ট হয়। ব্যয় মিটাতে আমাদেরকে মাঝে মাঝে টিউশনি ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়া লাগে। সমন্বয় করে মাস পার করতে হয়।’

    ডা. মো. সুজায়েত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিপেক্ষিতে বেশির ভাগ ইন্টার্ন চিকিৎসক হতাশায় ভোগেন। কারণ, ইন্টার্ন চলাকালীন ভাতা পায় ১৫ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে ব্যক্তিগত খরচ,পারিবারিক খরচসহ অন্যান্য কিছু সামাল দেওয়া লাগে। একজন শিক্ষার্থী যখন এমবিবিএস শেষ করেন, তখন পরিবারের প্রত্যাশা থাকে। এখন যে হারে সবকিছু দাম বাড়ছে, সেই অনুপাতে পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাঝে মাঝে খেয়াল করলে দেখা যায়, চিকিৎসকদের মধ্যে ক্যাডার পরিবর্তন করার প্রবণতা বাড়ছে। যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের যে পারিশ্রমিক বা ভাতা দেওয়া উচিত তা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ডাক্তাররা ক্যাডার পরিবর্তন করছেন।

    এ প্রসঙ্গে ডা. জেসিয়া জুই বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমাদেরকে যে ভাতা দেওয়া হয়, এটা সময়ের সাথে সম্পূর্ণভাবে অনুপযোগী। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে ১৫ হাজার টাকা ভাতা দিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হয়ে যায়। কাজ করার অনুপাতে আমাদের ভাতা বা বেতনটা বাড়ানো হোক।’শ্রম ও সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম ত্রিশ হাজার টাকা ভাতা করার দাবি জানান নবীন এ চিকিৎসক।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ উল আহসান শামীম বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, কর্মক্ষেত্রে যে আমাদের শ্রম বা ত্যাগ এর একটি সঠিক মূল্যায়ন চাই। সেইসাথে আমাদের ভাতাটা আরও বাড়ানো উচিত। কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা করা হলে সময়ের সাথে উপযোগী হবে।’

    ইন্টার্নদের ভাতা বাড়ানোর দাবি ন্যায্য উল্লেখ করে পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘আপনারা জানেন আগে ইন্টার্ন চিকিৎসকদেরকে ছয় হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হতো। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে এই ভাতাটা ১০ হাজার টাকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ১৫ হাজার টাকা করা হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক হাসপাতালে কাজ করে।’ আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ইন্টার্নদের ভাতা বৃদ্ধি করা হোক। যাতে তারা ভালো মতো জীবন-যাপন করতে পার।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি চালক রাখি। তাদের বেতন ২০ হাজার টাকা এবং দুপুরের খাবার দিতে হয়। সেখানে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ভাতা ১৫ হাজার টাকা, এটা আসলে মেনে নেওয়া যায় না। আমি মনে করি তাদের ভাতা বৃদ্ধি করা উচিত এবং তাদের ভাতা বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক।’

    ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস’র (এফডিএসআর) মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ন্যূনতম একটি ভাতা নির্ধারণ করা উচিত। যেটা সবাই যুক্তিযুক্ত মনে করবে এবং তাদের যে দাবি সেটার সাথে সামঞ্জস্য করা উচিত। আমার মনে হয় তাদের ভাতা কমপক্ষে ২৫ বা ৩০ হাজার টাকা করা উচিত। এ ব্যাপারে এফডিএসআর তাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনে আমাদের সংগঠন উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কথা বলবে।’

    ভাতা বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক বলেন, ‘ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সেটা হলো ইন্টার্নরাই তাদের সংগঠনের মাধ্যমে ভাতা বাড়ানোর জন্য দরখাস্ত করে। মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা ইন্টার্নদের ভাতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তখন সেটা কর্তৃপক্ষ ভাতার বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা, সেটা নিয়ে আলোচনা করে বৃদ্ধি করা হয়।’

    ইন্টার্নদের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ ঐক্যমত পোষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, চিকিৎসকদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। যাতে চিকিৎসক পুরো সময়টাতে হাসপাতালে মনোযোগী হতে পারে। তাঁদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ একমত। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আসলে তাঁদের সঙ্গে বসে আলোচনা করবো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একজন ডক্টর যখন পাস করে যায়, তাঁর কাছ থেকে অনেকের চাহিদা থাকে। স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় ভিন্ন কথা। তারপর থেকে ইন্টার্নদেরকে এভাবে ঠকানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।’

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      যেসব লক্ষণে বুঝবেন ব্রেস্ট ক্যান্সার, কী করবেন?

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:৪১
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      যেসব লক্ষণে বুঝবেন ব্রেস্ট ক্যান্সার, কী করবেন?

      সম্প্রতি স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়ে গেছে। যাপিত জীবনে পরিবর্তন, খাদ্যে ভেজাল, বংশীয় ধারাবাহিকতা, চিকিৎসায় অবহেলা এসব কারণে ক্যান্সার জটিল আকার ধারণ করে।

      ব্রেস্ট ক্যান্সার এক ঘাতক ব্যাধি। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে রোগী ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই বেড়ে যায়।

      ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আলীয়া শাহনাজ।

      কী কারণে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়ে গেছে

      * প্রথমত এর জন্য দায়ী আমাদের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন। যেমন আজকাল আমরা প্রচুর fast food খাই, সবুজ শাকসবজি খুবই কম খাই, কম শারীরিক পরিশ্রম করি- যার ফলে আমরা অতিরিক্ত স্থূলতায় ভুগছি। অতিরিক্ত স্থূলতা breast Cancer এক অন্যতম প্রধান কারণ।

      * দেরিতে বাচ্চা নেওয়া

      * বাচ্চাকে বুকের দুধ দিতে অনীহা বা অপারগতা (যেমন চাকরিজীবী মহিলারা এ সমস্যায় ভোগেন বেশি)

      * বেশি বয়স, গড় আয়ু বেড়ে যাওয়াতে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

      * Early screening অর্থাৎ মানুষ সচেতন বলে আগেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছে রোগ আছে কিনা জানার জন্য। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়ছে।

      বগলে চাকা দেখা দেয়া

      যদি Cancer ছড়িয়ে পড়ে তাহলে যেখানে ছড়িয়ে পড়েছে তার উপসর্গ দেখা দেয়া যেমন-

      * Liver বা যকৃতে ছড়ালে পেটে ব্যথা বা জন্ডিস দেখা দেয়।

      * ফুসফুসে ছড়ালে কাশি হওয়া এমনকি কাশির সঙ্গে রক্তও যেতে পারে।

      উপসর্গ

      * breast এ চাকা দেখা দেয়া।

      * breast-এর চামড়ার রং পরিবর্তন হওয়া বা চামড়া মোটা হওয়া। (কমলালেবুর খোসার মতো)

      * Nipple বা স্তনের বোঁটা ভেতরে দেবে যাওয়া।

      * Nipple দিয়ে রক্ত বা পুঁজ পড়া।

      ডায়াগনোসিস বা শনাক্তকরণ পরীক্ষা

      প্রথমেই বিশেষজ্ঞরা রোগীর রোগের history নিয়ে থাকেন। শারীরিক পরীক্ষা করেন। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়। রোগীর বয়সের সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখেই বিশেষজ্ঞরা তা দিয়ে থাকেন। যেমন-

      * ম্যামোগ্রাফি * আলট্রাসনোগ্রাফি * এমআরআই * FNAC -চাকা থেকে * বায়োপসি/মাংস পরীক্ষা

      চিকিৎসা

      প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ রোগী সুস্থ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন। এ ক্যান্সারের চিকিৎসা প্রধানত কয়েকভাগে বিভক্ত-

      * সার্জারি * কেমোথেরাপি * রেডিওথেরাপি

      * হরমোন থেরাপি * টার্গেটেড থেরাপি।

      সার্জারি : স্তন ক্যান্সরের যে কোনো পর্যায়েই রোগীর সার্জারি করা প্রয়োজন হতে পারে। সার্জারি করা যাবে কিনা বা কী ধরনের সার্জারি হবে তাই প্রাথমিক বিবেচ্য বিষয়। সিদ্ধান্ত নেবেন সার্জন এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ দু’জনে মিলে। অনেক সময় শুধু টিউমার কেটে ফেলা হয়। অনেক সময় পুরো বেস্টই ফেলে দেয়া হয়।

      কেমোথেরাপি : প্রায় সব রোগীকেই কেমোথেরাপি নিতে হয়। সার্জারির আগে বা পরে এমনকি রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লেও কেমোথেরাপি কাজ করে। যদিও কেমোথেরাপিতে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে তবুও রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য কেমোথেরাপির বিকল্প নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা, কেমোথেরাপির কার্যকারিতা, রোগীর আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়েই ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা উপযুক্ত পরামর্শ দেন। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাতে কম হয় তারও ব্যবস্থাপত্র দেন চিকিৎসকরা।

      রেডিওথেরাপি : বিশেষ ধরনের মেশিনের মাধ্যমে রোগীদের রেডিওথেরাপি চিকিৎসা দেয়া হয়।

      এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে অনেক কম। সাধারণ কেমোথেরাপির পরই রেডিওথেরাপি দেয়া হয়। শুধু breast এ নয়, যদি Cancer হাড়েও ছড়িয়ে পড়ে তাহলেও সেখানে রেডিও থেরাপি দিয়ে হাড়ের ভাঙন বা ফ্র্যাকচার রোধ করা যায়।

      হরমোন থেরাপি : সব ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগীর জন্য হরমোনের দরকার নেই। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই হরমোনের চিকিৎসা কাদের লাগবে তা শনাক্ত করেন।

      টার্গেটেড থেরাপি : এ থেরাপি রোগীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। যেমন Transtyuumab, Lapatinib, Bevacizumab ইত্যাদি।

      ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য Breast Cancer Screening জরুরি। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ ব্যাপারে সবারই জানা উচিত এবং এই program-এর আওতায় আসা উচিত। তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়বে এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হবে। আমাদের সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা এবং জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন হলে (যা ক্যান্সার রোগের কারণ) এ রোগের প্রকোপ অনেকাংশেই কমে আসবে এবং আমাদের সমাজে সুস্থ-সুন্দর জীবনের অধিকারী মানুষের অবস্থান সুদৃঢ় হবে।

      কারা স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছেন

      * বয়স্ক মহিলা * যাদের স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস আছে * যেসব মহিলারা বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করাননি * BRCA-1, BRCA-2 নামক জিনের মিউটেশনের কারণে * অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া * দেরিতে মাসিক বন্ধ হওয়া * মদ্যপান করলে * ব্রেস্টের কিছু অসুখ যেমন atypical ductal বা lobular hyperplasia থাকলে * অন্য কোনো ক্যান্সার যেমন- কোলন, ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার হলে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        চোখ ওঠা সমস্যায় যেসব খাবার উপকারী

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:৩৮
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        চোখ ওঠা সমস্যায় যেসব খাবার উপকারী

        চোখ ওঠার সমস্যা সাধারণ মনে হলেও এটি ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। এই সমস্যার কারণে চোখ লাল হয়ে যায়, সেইসঙ্গে থাকে ব্যথা ও খচখচে ভাব। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়তে থাকে। এটি হতে পারে ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার কারণে। আমাদের অপরিষ্কার জীবনযাপন হতে পারে এক্ষেত্রে দায়ী। কনজাঙ্কটিভার রক্তনালিগুলো প্রদাহের কারণে ফুলে বড় হয়ে যায়। যে কারণে বেড়ে যায় রক্তপ্রবাহ। ফলে চোখ ওঠা সমস্যা দেখা দেয়।

        চোখ ওঠার লক্ষণ

        * ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ আঠালো লাগা

        * চোখের ভেতর কিছু একটা পড়েছে এমন অনুভূতি

        * চোখ চুলকানো এবং জ্বালাপোড়া

        * আলোর দিকে তাকালে অস্বস্তি

        * সবকিছু ঘোলা দেখা

        * চোখ দিয়ে পানি পড়া

        * চোখের কোণে ময়লা জমা

        * চোখ ফুলে যাওয়া।

        চোখ ওঠার সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে পারলে সবচেয়ে ভালো। তবে শুধু ওষুধ নয়, সেরে ওঠার জন্য কিছু খাবারও খেতে হবে। আমাদের পরিচিত কিছু খাবার আছে যেগুলো চোখ ওঠাসহ চোখের নানা সমস্যায় উপকারী। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক চোখ ওঠা সমস্যায় কোন খাবারগুলো উপকারী-

        বিট লবণ

        চোখ ভালো রাখতে বিশেষভাবে কাজ করে এই লবণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিট লবণ চোখের জন্য ভালো। এই লবণে আছে এমন কিছু উপাদান যা চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে কাজ করে। তাই চোখ ওঠার সমস্যা দেখা দিলে খাবারে বিট লবণ যোগ করতে পারেন। তবে তা অতিরিক্ত খাবেন না। কারণ অতিরিক্ত লবণ খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

        ​ত্রিফলা

        ত্রিফলা মানে তিন ফল। আমলকী, হরীতকী ও বহেরা থাকে এতে। এই ত্রিফলা নানা রোগ দূরে রাখতে কার্যকরী। চোখ ওঠাসহ চোখের আরও অনেক সমস্যা দূর করতে কাজ করে এটি। এর সঙ্গে সম পরিমাণ মধু ও ঘি মিশিয়ে খাবেন। তবে ত্রিফলা চূর্ণ করে বেশিদিন রেখে খাবেন না।

        ​আমলকী

        মুখের স্বাদ বাড়ানো থেকে শুরু করে আরও অনেক কাজে লাগে আমলকী। এই ফলে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি। চোখ ওঠা থেকে শুরু করে রেটিনার কোষ ঠিক করে দিতে পারে এই ফল। তাই শুধু চোখ ওঠা সমস্যায়ই নয়, নিয়মিত খান আমলকী। এতে সব সময়ই উপকারিতা পাবেন।

        ​কিশমিশ

        কিশমিশে থাকে পর্যাপ্ত পলিফেনলস। নিয়মিত কিশমিশ খেলে তা শরীর থেকে ফ্রি র্যাডিকেলস দূর করে। সেইসঙ্গে এটি চোখের মাসলের উন্নতিতেও সাহায্য করে। চোখ ভালো রাখতে চাইলে তাই নিয়মিত কিশমিশ খেতে হবে। রাতে কিশমিশ ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি খেলেও উপকার পাবেন।

        ​মধু ও ঘি

        মধু কিংবা ঘিয়ের স্বাদ পছন্দ করেন না এমন মানুষ কমই আছে। এই দুই খাবারই চোখের জন্য ভীষণ উপকারী। চোখ ওঠা সমস্যায় এই দুই খাবার দ্রুত কাজ করে। মধুতে থাকে প্রয়োজনীয় অনেক ভিটামিন ও মিনারেল যা চোখকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। সেইসঙ্গে ঘি খেলেও উপকার মেলে দ্রুত।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          করোনার পর এবার বাদুড় থেকে ছড়াচ্ছে নতুন এক ভাইরাস

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:৩৪
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          করোনার পর এবার বাদুড় থেকে ছড়াচ্ছে নতুন এক ভাইরাস

          করোনাভাইরাস ও তার প্রভাবে সৃষ্ট মহামারির ধকল এখনও চলছে বিশ্বে, তার মধ্যেই এই ভাইরাসটির সমগোত্রীয় নতুন একটি ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। নতুন এই ভাইরাসটির নাম রাখা হয়েছে খোস্টা-২।

          প্রাথমিক গবেষণায় জানা গেছে, মূল করোনাভাইরাস বা সার্স-কোভ ২ এবং নতুন এই খোস্টা-২ একই ভাইরাস পরিবারের সদস্য। সেই ভাইরাস পরিবারের নাম সার্বেকোভাইরাস।

          আরও সাদৃশ্য রয়েছে দু’টি ভাইরাসের মধ্যে; যেমন— দুই ভাইরাসেরই প্রধান পোষক বা বাহক প্রাণীর নাম বাদুড়। ২০১৯ সালে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের সি ফুড মার্কেট থেকে বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়িয়েছিল করোনাভাইরাস, আর খোস্টা ২ ভাইরাসের অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত হয়েছে রাশিয়ার বাদুড়ের দেহে।

          মার্কিন বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সার্স-কোভ ২ ভাইরাসের মতোই খুব সহজে এটি মানবদেহের কোষে প্রবেশ করে বংশবিস্তারের মাধমে গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরিতে সক্ষম; এবং উদ্বেগের ব্যাপার হলো— করোনার টিকায় এই ভাইরাসের কোনো ক্ষতি হয় না।

          সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের টাইম ম্যাগাজিনে নতুন এই ভাইরাসটির ওপর একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বাদুড়দের দেহে খোস্টা ২’র সমধর্মী নামের আরও একটি ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। সেই ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয়েছে খোস্টা ১।

          তবে এই ভাইরাসটি বাদুড় ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে যত সহজে প্রবেশ করতে পারে, মানবদেহে পারে না। ফলে খোস্টা ২’র তুলনায় খোস্টা ১ মানুষের জন্য অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ।

          মার্কিন এই গবেষক দলের অন্যতম সদস্য মাইকেল লেটকো দেশটির সাময়িকী নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, বাদুড়ের দেহে শনাক্ত হলেও করোনাভাইরাসের মতো প্যাঙ্গোলিন, র‌্যাকুন, পাম সিভেটের মতো অন্যান্য প্রাণীদেহকেও পোষক হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষমতা আছে খোস্টা ২’র।

          নিউজউইককে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের মতো এই ভাইরাসটিও বিশ্বজুড়ে মহামারি উস্কে দেবে কিনা— তা গবেষণার এই পর্যায়ে আমরা এখনই বলতে পারছিনা। তবে উদ্বেগের ব্যাপার হচ্ছে—সার্স- কোভ ২ ভাইরাসের সমধর্মী ভাইরাস হলেও ভাইরাসটি করোনা টিকা প্রতিরোধী এবং যদি করোনার সঙ্গে মিলিতভাবে এই ভাইরাসটি কোনোভাবে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে, সেক্ষেত্রে গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।’

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত