শিরোনাম
কেমন আছেন ফজলুর রহমান বাবু
নাটক, সিনেমার গুণী অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী ফজলুর রহমান বাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর গুলশানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অভিনয় শিল্পী সংঘ’র সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
তিনি জানান, গত মাসের ১৬ তারিখ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন বাবু। পরে তাকে গুলশানের আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার হৃদযন্ত্রে ব্লক ধরা পড়ে। এরপর কার্ডিয়াক সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের তত্ত্বাবধানে গত ১৯ তারিখ সফলভাবে তার হার্টে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।
রাশেদ মামুন অপু বলেন, ‘বর্তমানে বাসায় ফিরলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। তবে আগের চেয়ে ফজলুর রহমান বাবু ভালো আছেন। তার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
ফজলুর রহমান বাবু দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমা, নাটক ও গানে দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছেন। ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতা ১৯৯১ সালে কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘মৃত্যুক্ষুধা’ নাটকের মাধ্যমে টিভি নাটকে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০০ সালে ‘বিহঙ্গ’ সিনেমার মধ্যদিয়ে বড়পর্দায় তার যাত্রা শুরু।
অভিনয়জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘মনপুরা’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘স্বপ্নজাল’, ‘হালদা’ ও ‘ফাগুন হাওয়ায়’র মতো প্রশংসিত সিনেমা। বর্তমানে ওটিটিতেও কাজ করছেন তিনি।
অসুস্থ হওয়ার আগে ঈদের নাটক ও টেলিছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বাবু। ঈদে তার একাধিক নাটক ও টেলিছবি প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে বাবু অভিনীত সিনেমা ‘ওসিডি’ যা নির্মাণ করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। কলকাতায় তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘সিতারা’ যা বিখ্যাত লেখক আবুল বাশারের উপন্যাস ‘ভোরের প্রসূতি’ অবলম্বনে নির্মিত। এছাড়া কলকাতায় ‘কালান্তর’ নামের আরও একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
ধর্ষণ মামলায় কারাগারে হিরো আলম
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা মামলায় আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাজাহানপুর থানার মাঝিড়া বন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, হিরো আলম ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকার দিকে যাচ্ছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ শাজাহানপুর থানার মাঝিড়া বন্দর এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বগুড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হলে বিকাল ৩ টায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনোয়ারুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সাদিয়া রহমান মিথিলা নামের এক নারীর দায়ের করা মামলাটি পিবিআইয়ের তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে গত ১০ ফেব্রুয়ারি হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
মামলার অভিযোগ করা হয়, সাদিয়া রহমান মিথিলাকে নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম প্রতারণামূলকভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন।
পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে হিরো আলমের বিরুদ্ধে মিথিলা ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, গ্রেপ্তার হিরো আলমকে আদালতে সোপর্দ করার পরপরই বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন৷ পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আবার বাবা হলেন পলাশ
আবারও বাবা হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশ। তাদের ঘর আলো করে আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তার স্ত্রী নাফিসা। সুখবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা নিজেই।
হাসপাতাল থেকে পলাশ বলেন, ‘আজ বুধবার দুপুর ১টায় রাজধানীর পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আমাদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, মা ও সন্তান দুজনেই ভালো আছেন। আমরা সবাই এখনো হাসপাতালে আছি। সবার কাছে দোয়া চাই- আমার ছেলে ও মেয়ে যেন দোয়া ও ভালোবাসায় বড় হতে পারে।’
শোবিজে পলাশের জনপ্রিয়তা আসে কাজল আরেফিন অমির ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র কাবিলা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। এই চরিত্রটি তাকে দেশ-বিদেশের দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে।
ব্যক্তিগত জীবনে ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে নাফিসা রুম্মান মেহনাজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পলাশ। পরের বছর জুলাই মাসে প্রথম সন্তানের বাবা হন তিনি। পুত্রসন্তানের নাম রাখা হয় মোহাইমিনুল হক আহান। এবার সেই সংসারে যুক্ত হলো কন্যাসন্তানের নতুন হাসি।
বলা দরকার, ক্যারিয়ারের শুরুতে ২০১৩ সালে ‘ছবিয়াল’র সঙ্গে কাজ শুরু করেন জিয়াউল হক পলাশ। দীর্ঘদিন তিনি নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর ইশতিয়াক আহমেদ রোমেলের সহকারী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে কাজল আরেফিন অমির সঙ্গে সহযোগী পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন তিনি।
একসময় অভিনয়ে মনোযোগী হয়ে ওঠেন পলাশ, আর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর সাফল্যের পর তার ক্যারিয়ার নতুন মোড় নেয়। নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি মাঝে মাঝে নাটক ও টিভিসি নির্মাণ করতেও দেখা যায় এই অভিনেতা-নির্মাতাকে।
তাহসান–রোজার দাম্পত্যে ইতি, নিশ্চিত করলেন তাহসান
গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের ব্যক্তিগত জীবনে বড় পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে।
মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে তার দাম্পত্য সম্পর্ক আর টিকে নেই—এ তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন তাহসান।
এ বিষয়ে তাহসান জানান, বিষয়টি সত্য হলেও এখনই বিস্তারিত আলোচনা করতে চান না। তিনি বলেন, চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিক থেকেই তারা আলাদা থাকছেন। পরিস্থিতি উপযুক্ত হলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই নীরব থাকতে পছন্দ করেন বলে জানান তাহসান। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলেই তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি স্বল্প সময়ের পরিচয়ের পর রোজা আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাহসান খান। রোজা একজন পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ব্রাইডাল মেকআপের কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
এই বিচ্ছেদের খবরে তাহসানের ভক্তদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে দুজনের পক্ষ থেকেই বিস্তারিত জানানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাহসান।
বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে, সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন পরমব্রত
বন্ধু অনুপম রায়ের প্রাক্তন স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তীকে বিয়ে করার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চ্যাটার্জি। দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিলেন অভিনেতা। এবার সেই সমালোচনার জবাব দিলেন পরমব্রত।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে উপস্থিত হন এই অভিনেতা। ক্যারিয়ার নিয়ে নানাবিধ কথার মাঝে উঠে আসে তার ব্যক্তিজীবন প্রসঙ্গও। সেখানে ‘বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে’ বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
পিয়া চক্রবর্তী ছিলেন সংগীতশিল্পী অনুপম রায়ের স্ত্রী, আর গায়ক ছিলেন পরমব্রতের বন্ধু। তাই সমালোচনা ওঠে, ‘বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে’ করেছেন অভিনেতা; করেছেন পরকীয়া- ওঠে এমন জল্পনা। আর সব মিলিতে সে সময় তুমুল বিতর্কে পড়েন পরমব্রত, করা হয় অভিনেতাকে নিয়ে কটাক্ষ-সমালোচনা।
সেই পডকাস্টে অংশ নিয়ে পরমব্রত জানালেন, বিয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে এবং পিয়াকে নিয়ে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তা তাকে বেশ হতবাক করে দিয়েছিল। বলেন, ‘আমি বিয়ের সময় এই গণ্ডারের চামড়াটা তৈরি করেছি। আমি দেখেছি যে আমি ব্যক্তিগতভাবে কী মনে করি, অর্থাৎ সমাজ, রাজনীতি নিয়ে আমার কী ধারণা তা শেয়ার করে কাজ নেই। কারণ আমি কোনো দেশ বদলাতে যাচ্ছি না। যেটা আমার কাজ আমি সেই মতামত আমার নিজের কাছে রাখি। আর যদি তা নিয়ে লিখি, তাহলে কমেন্ট অফ করে দেব আর দেখবই না।’
অভিনেতা আরও বলেন, ‘বিয়ের পর যখন দেখলাম, একটা বীভৎস কাণ্ড শুরু হল! তখন আমি কিছুদিনের জন্য ওই সব আমার ওপর প্রভাব ফেলেছিল, মোটামুটি ৪-৫ দিনের জন্য। মানুষ যে ধরনের কথা লেখে বা লিখতে পারে, একটি পাবলিক ফোরামে সেই ন্যায় বোধ বা নীতিবোধের মধ্যে দিয়ে বড় হইনি। ফলে সাংঘাতিক ধাক্কা লেগেছিল। আমাকে বলেছে বলে নয়, কিন্তু এই কথাগুলো লেখা যায়? এখানে নেমেছে? এতটা? কিন্তু নেমেছে, আমি কী করব? আমার কিছু করার নেই। তখন থেকে গণ্ডারের চামড়া তৈরি করি।’
২০১৫ সালে গায়ক অনুপম রায়ের সঙ্গে পিয়া চক্রবর্তীর বিয়ে হয়েছিল। ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর পরমব্রতের সঙ্গে পিয়ার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। দীর্ঘ গুঞ্জনের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে তারা আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এরপর অনুপমও ফের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন গায়িকা প্রশ্মিতা পালের সঙ্গে। তারপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য