ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বিটকয়েনের ইতিহাসে রেকর্ড দাম

অনলাইন ডেস্ক
১৪ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৫৩
অনলাইন ডেস্ক
বিটকয়েনের ইতিহাসে রেকর্ড দাম

নতুন ইতিহাস গড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন। ১৩ জুলাই সোমবার প্রথমবারের মতো এর দাম ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বিটকয়েনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এশিয়ান ট্রেডিং সেশনে বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ ১ লাখ ২১ হাজার ২০৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ডিজিটাল সম্পদ খাতের জন্য কয়েকটি আইনগত বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নিজেকে ‘ক্রিপ্টো প্রেসিডেন্ট’ বলে ঘোষণা করে এই খাতের পক্ষে আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন, যা বাজারে আস্থাকে আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের স্পট বিটকয়েন ইটিএফ-এ বর্তমানে সাত লাখের বেশি বিটকয়েন রয়েছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর এই বিনিয়োগ বাজারে স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ক্রিপ্টো বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিটকয়েনের দাম ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এখন দেড় লাখ ডলারের মূল্যলক্ষ্য ধরা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী এবং চেইনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণও এই ঊর্ধ্বগতিকে সমর্থন করছে।

বর্তমানে বিটকয়েনের বাজারমূল্য প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইথারের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৪৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সমগ্র ক্রিপ্টো বাজারের সম্মিলিত মূল্য বর্তমানে প্রায় ৩.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চাইলেন ২ শতাধিক আন্দোলনকারী

    অনলাইন ডেস্ক
    ৮ জুলাই, ২০২৫ ২০:০
    অনলাইন ডেস্ক
    এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চাইলেন ২ শতাধিক আন্দোলনকারী
    এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের’ দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সংস্থাটির চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

    মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) তারা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে।

    জানা গেছে, প্রায় দুশোর মতো আয়কর ক্যাডার কর্মকর্তা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান কাছে ব‍্যাচভিত্তিক ক্ষমা চেয়েছেন। এসব ব‍্যাচের মধ‍্যে ৪০, ৩৮, ৩৩, ৩১, ৩০, ২৯, ২৮ ব‍্যাচের কর্মকর্তা বেশি ছিল। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ৯ টার দিকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চান। 

    এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি; তবে আন্দোলনের কারণে রাষ্ট্রের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

    এর আগে গত সপ্তাহে এনবিআরের দুজন সদস্যসহ সব মিলিয়ে সংস্থাটির ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুদক। তাদের অধিকাংশই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। আন্দোলন প্রত্যাহারের পরের এই পর্যন্ত তিনজন সদস্য ও একজন কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। কাজ বন্ধ রাখার দায়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এতে এনবিআর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

    oikka-parisod-20250626182929

    এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (০৭ জুলাই) ঢাকা কাস্টমস হাউস পরিদর্শন শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এনবিআরের কর্মকর্তাদের ভয়ের কিছু নেই। যারা অনেক বড় আকারে সীমা লঙ্ঘন করেছে, সেটি ভিন্নভাবে দেখা হবে। সাধারণভাবে কারও কোনো ভয়ের কারণ নেই।’

    আন্দোলন প্রত্যাহারের পর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবসর, বদলি, বরখাস্ত প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, এটা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। আন্দোলন ওই কয়েকজনে করেনি, অনেকে করেছে। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ

    ১১ মাসে রিজার্ভ বাড়লো ১১ বিলিয়ন ডলার

    অনলাইন ডেস্ক
    ৮ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৩
    অনলাইন ডেস্ক
    ১১ মাসে রিজার্ভ বাড়লো ১১ বিলিয়ন ডলার

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এগারো মাসের মধ্যে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৪ সালে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও কম থেকে ২০২৫ সালের জুনে ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, দেশটি এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে ।

    এই সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা, তারল্য সংকট নিরসন ও বিভিন্ন কার্যক্রমে গতি এসেছে।

    অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, রেমিট্যান্সের রেকর্ড প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভ ২০২৫ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) পদ্ধতি মতে, বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ বর্তমানে ২৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এই ঊর্ধ্বগতি এসেছে রেমিট্যান্স প্রবাহের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির ফলে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থ বছরে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত রেমিট্যান্স।

    এই পরিমাণ ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। এটি কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০-২১ অর্থ বছরে প্রাপ্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে, যখন অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি চ্যানেলের ওপর বিধি নিষেধ এবং প্রণোদনা বন্ড চালুর কারণে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছিল।

    ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেকর্ড ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এর ধারাবাহিকতায়, সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতি মাসেই ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসস’কে বলেন, মানি লন্ডারিং কমে যাওয়া, প্রবাসী আয়ের ভালো প্রবাহ ও রপ্তানির উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১১ মাস আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসে এবং সর্বক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়। ইতোমধ্যেই অর্থনীতি, প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংস্কারের জন্য নানামুখী নীতি নেওয়া হয়েছে, যা জনগণের আস্থা বাড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ডলার বিনিময় হার দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১২২ টাকার আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক।

    তিনি বলেন, ‘ডলারের দামের পতনের প্রধান কারণ সরবরাহ বৃদ্ধি। গত দুই বছরের মধ্যে ডলারের সরবরাহ এখন সর্বোত্তম অবস্থায় রয়েছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স হঠাৎ করে বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার পুঁজি বাজারে মূল্য কারসাজি ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে আর রপ্তানি প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এই বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা বৈধভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছেন।’

    বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, রেমিট্যান্সের জোয়ার রিজার্ভ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং অর্থনীতিকে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। ব্যাংকগুলোর জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে।’

    ড. জাহিদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে, বিপদগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে এবং বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।ড. জাহিদ হোসেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ।

    তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে ব্যাংকিং খাতকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থার দিকে যাচ্ছি। তবে বলব না যে, সংকট পুরোপুরি কেটে গেছে।

    প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবদুল কাইউম চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দ্রুত হ্রাসের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।  

    তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে চাপ রয়েছে, তার মধ্যে এটি এক বিশাল অর্থনৈতিক স্বস্তি হিসেবে কাজ করছে।’

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      উড়োজাহাজ ও ফুড ড্রিংক কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হবে: বাণিজ্য সচিব

      অনলাইন ডেস্ক
      ৮ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৪৬
      অনলাইন ডেস্ক
      উড়োজাহাজ ও ফুড ড্রিংক কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হবে: বাণিজ্য সচিব

      যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ৩৫ শতাংশ শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সরকারি খাতে ফুড ড্রিংক কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। সেই সঙ্গে উড়োজাহাজ এবং সামরিক যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান বাণিজ্য সচিব।

      মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে একটি চিঠি দিয়েছেন যেখানে বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সেটির কার্যকারিতা দেওয়া হয়েছে ১ আগস্ট থেকে। এর সাথে তারা আগের যে ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্টের যে খসড়া পাঠিয়েছিল তার ওপর আমাদের রেসপন্স আমরা পাঠিয়েছি। সেটার ওপর আমাদের কয়েক দফা মিটিং হয়েছে।

      তিনি বলেন, ভার্চুয়ালি আমি যুক্ত ছিলাম সবগুলো মিটিংয়ে। আমাদের উপদেষ্টা ওখানে আছেন। আমাদের সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার ছিলেন মিটিংগুলোতে। এরপর আজকে আমরা যে ডকুমেন্ট পেলাম, এটার ওপর মূলত আলোচনা হবে আগামী ১০ এবং ১১ জুলাই। সেই সভায় যোগদান করতেই মূলত আমি আজকে যাচ্ছি।

      আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেখুন, তারা তো একটি চিঠি দিয়ে আরোপ করল। আরোপ করার পরেই তারা তাদের প্রস্তাব পাঠাল। সেটার ওপর যেহেতু আলোচনা হবে। আলোচনার দরজা যেহেতু খোলা আছে, কাজেই কিছু একটা আউটকাম তো আমরা আশা করি সব সময়ের জন্যই।

      আলোচনায় সরকারের যুক্তিগুলো কী কী থাকবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মোটাদাগে আমাদের যুক্তিগুলো থাকবে প্রথমত শুল্ক কমানো এবং দ্বিতীয়ত আমাদের ট্রেড রিলেটেড যে ইস্যুগুলো আছে সেগুলোতে আমরা যেন অসুবিধাজনক পরিস্থিতিতে না পড়ি। বাংলাদেশের জন্য আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় বাণিজ্য স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের এক্সিস্টিং বাণিজ্য রক্ষা করা।

      তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে তারা কিছু জিনিস চেয়েছে, সেটা হল শুল্ক কমানো। পর্যায়ক্রমে শুল্ক, ভ্যাট, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি এগুলো যেন আমরা কমাই। সে ধরনের প্রস্তাব তারা করেছে। আমরা সেটা এনবিআরের সাথে আলোচনা করার পরে, সরকারের অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

      তিনি বলেন, এই চিঠিতে যা যা উল্লেখ করেছে তারা, তাতে যা ছাড় চেয়েছে, সেগুলো আমরা অবশ্য আগেই প্রমিস করেছি এবং সেগুলোর ওপর এমনিতেও ডিউটি খুব কম। যেমন গম, সয়াবিন, এয়ারক্রাফট, অন্যান্য মেশিনারি এগুলোর ওপর এমনিতেই ডিউটি রেট খুব কম। আলাপ-আলোচনা করে কিছু ছাড় তো দিতে সম্মত হতেই হবে।

      কীভাবে কোন কোন ক্ষেত্রে বাণিজ্য বাড়াবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাণিজ্য বাড়ানোর জন্যে  তারা যদি কিছু শুল্ক ছাড় দেয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্যিক ট্রেডের ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু সরকারি ট্রেড বাড়ানোর জন্য আমরা ফ্যাসিলিটি দেবো। আপনারা জানেন, আমাদের বিমান বহরের প্রায় সব এয়ারক্রাফট বোয়িং। আমাদের বিমানের ইনফ্রাস্ট্রাকচার যা আছে সেটাও বোয়িং। কাজেই বোয়িং ফ্লাইট কেনার জন্য আমাদের কিছু আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে শিগগিরই। আমরা সেভাবে নেগোসিয়েশন করেছি বোয়িংয়ের সাথে। এছাড়া তুলা আমদানিকে আমরা প্রমোট করব। আপনারা জানেন যে তুলার ওপর এমনিতেই শূন্য শুল্ক। কিন্তু সেখানে আমেরিকান তুলা আমদানি যাতে বেশি হয় সেজন্য আমরা কিছু ফ্যাসিলিটি এখানে তৈরি করে দেব। 

      সচিব বলেন, সরকারি খাতে যে সমস্ত ফুড ড্রিংক কেনা হয় সেক্ষেত্রে আমরা আমেরিকাকে একটু প্রাধান্য দেব। এভাবে আমরা আসলে আমেরিকান ট্রেডটা বাড়াবো। আর আপনারা জানেন যে, আমাদের মিলেটারি ইকুইপমেন্টের একটা বড় অংশ আসে আমেরিকা থেকে। সে সমস্ত ক্ষেত্রও আমাদের বিবেচনায় আছে।

      মিলেটারি ইকুইপমেন্ট বলতে কি অস্ত্র বোঝাচ্ছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না। আমরা আমাদের মিলিটারি হার্ডওয়্যার বলতে যেটা বুঝায়, সেটা হলো আমাদের ভিকেলগুলো, আর্মভিকেল, আদার্স‌। আমাদের যা যা সংগ্রহ করা হয়, এর বেশিরভাগ আমেরিকা থেকে করা হয়। ওখানে তাদের দিক থেকে কোনো চাপ নেই। তারা বলেছে, যখন কেনা হবে, আমরা যেন তাদের গুরুত্ব দেই। এ ব্যাপারে তাদের কোনও বিশেষ চাহিদা নেই। আমরা যেন তাদের প্রাধান্য দেই। অন্যান্য মেশিনারিজের ক্ষেত্রেও সে কথা তারা বলেছে। তাতে সম্মত হতে আমাদের অসুবিধা নেই।

      তুলার ওপর এআইটি নিয়ে কারা এক প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, আমাদের তুলার ওপর ২ শতাংশ এআইটি ইম্পোজ করা নিয়ে আলোচনা চলছে। আমাদের তুলা খাতের, বিশেষ করে টেক্সটাইল খাতের যারা অংশীজন তারা সরকারের সাথে আলোচনা করছেন। সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত কিছু একটা আসবে। কিন্তু বাই রেটারাল ট্রেডের ক্ষেত্রে এটার তেমন কোনও সম্পর্ক নেই।

      ভিয়েতনাম আলোচনার মাধ্যমে ২৬ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে। সেখানে আলোচনায় বাংলাদেশের খুব বেশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সাংবাদিকের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলে তিনি বলেন, তৎপরতায় পার্থক্যটা আমরা মনে করি না। যেদিন থেকে পাল্টা শুল্ক এম্পো‌জ হয়েছে, তারপর আমাদের প্রধান উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টাসহ আমি চিঠি দিয়েছি। আমরা প্রায় পাঁচ দফা মিটিং করেছি। এরপর তারা যে ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট খসড়া পাঠিয়েছে সেগুলোর ওপর চার দফায় আমরা অ্যামেন্ডমেন্ট পাঠিয়েছি, সেগুলোর ওপর নেগোসিয়েশন করেছি। এছাড়া ইমেইল যোগাযোগ বা টেলিফোন যোগাযোগে এগুলো চলছে। কাজেই আমরা একদম ফুলটাইম এনগেজড ছিলাম গত ২ এপ্রিল থেকে। আমরা এনগেজড না বা তৎপর।

      আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গতকাল যে ৩৫ শতাংশের চিঠিটা এসেছে এটা আমরা আশা করিনি। কারণ আমাদের এই সপ্তাহে মিটিংগুলো নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যেই এই চিঠিটা সম্পর্কে আমরা জানতাম না।

      নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে শুল্ক কমাতে না পারলে দেশের আমদানি-রপ্তা‌নির ওপর চাপ আসবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, প্রেশার হবে, সেটা তো সবাই বোঝে। সেটা যাতে না হয় সেজন্য আমরা যাচ্ছি আলোচনা করতে। আশা করছি কিছু ভালো কিছুই পাব।

      এই চিঠি আসা কি নেগোসিয়েশনে কোনও চাপ তৈরি করবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শেষ পর্যায়ে তো তারা বলেনি কখনও। এখানে বলতে পারেন মাঠ পর্যায়ে। কারণ হলো, তারা আগস্ট পর্যন্ত এই চিঠির কার্যকারিতা দিয়েছে। ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে এক মাস সময় দিলো এবং খসড়া এখন পাঠাল। এর অর্থ, নেগোসিয়েশন করে কিছু একটা করা যাবে। আমরা সেটার জন্য চেষ্টা নিচ্ছি।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        দেশে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

        অনলাইন ডেস্ক
        ৬ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৩৯
        অনলাইন ডেস্ক
        দেশে আজ  কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

        বহুদিন ধরে দেশের বাজারে কয়েক ধাপে দাম কমার পর আবারও বাড়ল সোনার মূল্য। আজ শনিবার (৫ জুলাই) থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা।

        মঙ্গলবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

        নতুন দাম অনুযায়ী,

        ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭২ হাজার ১২৬ টাকায়। ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৯৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের জন্য প্রতি ভরি ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩১ টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৮ টাকা।

        এর আগে ২২ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ১৭০ টাকা।

        তবে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেট রুপা এখনো বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫৭৮ টাকা ভরিতে। ২১ ক্যারেটের দাম ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ১১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ৫৮৬ টাকাই অপরিবর্তিত রয়েছে।

        এর আগে সবশেষ গত ২৮ জুন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ওই সময় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের ভরি ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারিত হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ১৭০ টাকা। এ দাম কার্যকর হয় ২৯ জুন থেকে।

        নতুন সমন্বয়সহ চলতি বছরে দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত মোট ৪১ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১৪ বার কমানো হয়েছে। তুলনামূলকভাবে গত বছর ২০২৪ সালে ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৩৫ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত