ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স, ছাড়াল ৩০ বিলিয়ন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
২৯ জুন, ২০২৫ ১৯:২১
অনলাইন ডেস্ক
ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স, ছাড়াল ৩০ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্স প্রবাহের নতুন রেকর্ড হয়েছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দুদিন বাকি থাকতেই রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কোনো অর্থবছরে এতো পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

এর আগে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনাভাইরাস-সৃষ্ট দুর্যোগের সময় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড ছিল ২ হাজার ৪৭৮ কোটি বা ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।

রোববার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, ঈদের পরও থেমে নেই রেমিট্যান্স প্রবাহ। চলতি জুন মাসের ২৮ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৫৪ কোটি (২.৫৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও এ গতি অব্যাহত থাকলে, জুন মাস শেষে রেমিট্যান্স ২৭০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো এ রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা এসেছে।

সব শেষ মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড গড়েছে ২০২৫ সালের মার্চ মাস। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার, যা এক মাসে রেমিট্যান্স আহরণের সর্বোচ্চ পরিমাণ।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়া‌রি‌তে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার এবং মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পা‌ঠি‌য়েছেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দা‌য়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৮ মাস দুই বিলিয়ন এবং মার্চে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসে‌ছে বাংলাদেশে।
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল দুই হাজার ৩৭৪ কোটি মার্কিন ডলার।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    এনবিআরে অচলাবস্থা, দৈনিক ২,৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৮ জুন, ২০২৫ ১৮:৪৫
    অনলাইন ডেস্ক
    এনবিআরে অচলাবস্থা, দৈনিক ২,৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের আন্দোলনের কারণে প্রতিদিন ২,৫০০ কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে শনিবারের (২৮ জুন) মধ্যে আলোচনা করে এর সমাধান চেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। 

    শনিবার (২৮ ‍জুন) দুপুরে এনবিআরের বর্তমান অচলাবস্থার প্রভাব তুলে ধরতে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিসিআই, আইসিসি বাংলাদেশসহ দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো।

    বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, এনবিআরের অচলাবস্থায় দৈনিক আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ক্ষতির মুখে পড়ছে। তুলনামূলক ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ার শঙ্কায় আছে।
     
    বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, দেশের আমদানি-রফতানি ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পোর্টে, বিমানবন্দরে আমদানি ও রফতানিযোগ্য পণ্য পড়ে থাকায় বৃষ্টি-রোদে নষ্ট হচ্ছে।
     
    সংবাদ সম্মেলন থেকে কোনো রকম শর্ত ছাড়া আন্দোলনকারীদের কাজে যোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে সংকট কাটাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন ব্যবসায়ী নেতারা।
     
    এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নাসিম মঞ্জুর বলেন, কোনো সমস্যা টেবিলে বসে সমাধান করা যায় না-- সেটা আমরা বিশ্বাস করি না। বসতে হবে, কথা শুনতে হবে, কিছু ছাড় দিতে হবে। কিন্তু এনবিআরের সংস্কার হতে হবে।
     
    তবে দাবির প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসাররণের বিপক্ষে অবস্থানের কথা জানানো হয় যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      আজও অবরুদ্ধ এনবিআর, প্রধান ফটকের সামনে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৮ জুন, ২০২৫ ১৩:৪৩
      অনলাইন ডেস্ক
      আজও অবরুদ্ধ এনবিআর, প্রধান ফটকের সামনে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি

      জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যলায় আজও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আন্দোলনে থাকা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতাদেরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে এনবিআরে কেউ প্রবেশ কিংবা বের হতে পারছে না।

      শনিবার (২৮ জুন) সকালে কিছু কর্মকর্তা প্রবেশ করতে পারলেও বেলা ১১টা থেকে এনবিআরের প্রধান গেট বন্ধ করে রেখেছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আগারগাঁওয়ে প্রধান কার্যালয়ের সব গেট বন্ধ রাখায় অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এনবিআর।

      এনবিআর ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব সেহেলা সিদ্দিকাসহ সব পর্যায়ের নেতারা গেটের সামনের রাস্তায় অবস্থান করছেন। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতারা বলছেন, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ তারেক রিকাবদারসহ নেতাদের এনবিআর প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধা প্রদান করায় গেটের সামনে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান গ্রহণ করেছি। এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের অপসারণ ছাড়া কোনো ধরনের আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। আজ ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অফিস থেকেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসতেছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে।

      dhakapost

      গত ২৬ জুনও এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে গেট বন্ধ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হয়েছিল।

      এর আগে গতকাল অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে কমপ্লিট শাটডাউন এবং মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা বললেও এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

      শুক্রবার এক সংবাদ বিবৃতিতে ঐক্য পরিষদ বলছে, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় ঐক্য পরিষদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সেখানে ঐক্য পরিষদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে আগামীকাল শনিবার শাটডাউন ও মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি চলবে। ২৭ জুন অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একটি প্রেস রিলিজ জারি করা হয়েছে যা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ২৬ জুন অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদকে আমন্ত্রণ না জানানোয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত ২৮ জুন থেকে ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে লাগাতার কমপ্লিট শাটডাউন যথারীতি চলবে। এছাড়াও সারাদেশের ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সকল দপ্তর থেকে এনবিআর অভিমুখে ‘শান্তিপূর্ণ মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালিত হবে। তবে, আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এই কমপ্লিট শাটডাউনের আওতা বহির্ভূত থাকবে।

      দেশ ও রাজস্বের স্বার্থে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের রাজস্ব সংস্কার বিষয়ে দাবিসমূহ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি জানাতে যে কোনো সময় অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ প্রস্তুত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার বিষয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে  প্রধান উপদেষ্টার সানুগ্রহ হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

      গত ২১ জুন সংবাদ সম্মেলনে করে ২৩ জুন থেকে অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করছেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সরকার গত ১২ মে এনবিআরকে দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করে। এর বিরোধিতা করে গত ২৬ মে পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতির আন্দোলন করে এনবিআরের অধীন কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা।

      আর ২৫ মে রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রণালয় জানায়, এনবিআর বিলুপ্ত নয়, বরং এ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগের মর্যাদায় উন্নীত করা হবে। এর ফলে ২৬ মে কলম বিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করে এনবিআর। তবে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও চেয়ারম্যানকে অসহযোগিতা করার ঘোষণা দেয় এনবিআর  সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

      মন্তব্য

      বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দিলো বিশ্বব্যাংক

      অনলাইন ডেস্ক
      ২১ জুন, ২০২৫ ১৬:২১
      অনলাইন ডেস্ক
      বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দিলো বিশ্বব্যাংক

      নতুন করে বাংলাদেশের জন্য ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা ধরে বাংলাদেশি ‍মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। এই ঋণের মূল উদ্দেশ্য সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা। 

      শনিবার (২১ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এ তথ্য জানায়।

      সংস্থাটি জানায়, সরকারের শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিস্থাপকতা উন্নয়নে এই ঋণ সহায়তা করবে। সরকারি ও আর্থিক খাতের সংস্কারকে সমর্থন করবে এই ঋণ, যা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্কারগুলো দেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য উন্নত পরিষেবার ভিত্তিও স্থাপন করবে।

      বাংলাদেশে নিযুক্ত সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি টেকসইভাবে বৃদ্ধির জন্য সরকারি অর্থায়ন কীভাবে পরিচালিত হয় তার উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্মুক্ত এবং জবাবদিহিতামূলক করার জন্য উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে তারা জনগণকে আরও ভালো সেবা দিতে পারে। এই অর্থায়ন সরকারের নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে যাতে একটি শক্তিশালী, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা যায়। যা সবার উপকার করে। গত সপ্তাহে অনুমোদিত আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে, আমরা এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করছি।
       
      সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে কম, যা জনগণের কাছে মানসম্পন্ন পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করে। এই কর্মসূচি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহের উন্নতির লক্ষ্যে সংস্কারগুলোকে সমর্থন করে। এই সংস্কারগুলো আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে কর প্রশাসন এবং নীতি নির্ধারণকে আরও স্বচ্ছ এবং দক্ষ করে তুলবে। এছাড়াও, এটি কর ছাড় পরিচালনার জন্য আরও কৌশলগত, নিয়মতান্ত্রিক এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে যাওয়ার জন্য সংস্কারগুলোকে সমর্থন করবে যার জন্য সমস্ত ছাড়ের জন্য সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমানে অ্যাডহক অনুশীলন থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে সমস্যা নেই হবে। অর্থায়ন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আর্থিক প্রতিবেদনকে সামঞ্জস্য করে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে কর্পোরেট গভর্নেন্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোকেও শক্তিশালী করবে। এটি ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্পূর্ণ সমাধান ক্ষমতা দিয়ে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করবে।

      সংস্থাটি সরকারকে কিছু শর্ত দিয়ে জানায়, সংস্কারের তৃতীয় ধাপটি সরকারি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা উন্নত করবে। ২০২৭ সালের মধ্যে, সমস্ত সরকারি প্রকল্প মূল্যায়ন নথি জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করতে হবে। প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির ঝুঁকি কমাতে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবহার, সুবিধাভোগীর মালিকানা প্রকাশ এবং মূল্যসীমা অপসারণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারি খাতে আর্থিক জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা উন্নত করার জন্য, নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক কার্যালয়ের নিরীক্ষণ ক্ষমতা জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর স্বাধীনতা তথ্য স্বচ্ছতা উন্নত করবে, যার ফলে নাগরিকদের জন্য উন্নত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। পরিশেষে, একটি গতিশীল সামাজিক রেজিস্ট্রি কার্যকর করার মাধ্যমে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণদের জন্য নগদ স্থানান্তর কর্মসূচি আরও কার্যকর করা হবে।

      বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা বলেন, এই অর্থায়ন নাগরিকদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও শাসনব্যবস্থা এবং সরকারি খাতের কর্মক্ষমতা উন্নত করার জন্য বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারকে সমর্থন করি। তথ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং সুবিধাভোগীদের উন্নত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে সরকারি সম্পদ কার্যকরভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোতে পৌঁছাবে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়।

      এই অর্থায়নের মাধ্যমে, বিশ্বব্যাংকের চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রতি মোট নতুন প্রতিশ্রুতি ৩ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তাকারী অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশকে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান, সুদমুক্ত এবং ছাড়মূলক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        নতুন নোট নিয়ে বিড়ম্বনা, এটিএম ও সিআরএম মেশিনে টাকা জমা দেয়া যাচ্ছে না

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৭ জুন, ২০২৫ ১৬:১৪
        অনলাইন ডেস্ক
        নতুন নোট নিয়ে বিড়ম্বনা, এটিএম ও সিআরএম মেশিনে টাকা জমা দেয়া যাচ্ছে না

        ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চলতি মাসের শুরুতে নতুন নকশা সমৃদ্ধ নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম দফায় এসেছে ২০, ৫০ এবং ১০০০ টাকার নোট। তবে এই নোটের ব্যবহার নিয়ে বিড়াম্বনায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।

        চেষ্টা করেও এটিএম ও সিআরএম মেশিনে টাকা জমা দিতে পারছেন না তারা। একই অবস্থা মেট্রোরেলের ক্ষেত্রেও। ২০ ও ৫০ টাকার নোট দিয়ে ভেন্ডিং মেশিন থেকে টিকিট কাটা যাচ্ছে না।

        ব্যাংকাররা বলছেন, এটিএম-এ নতুন নোট ব্যবহার সহজ হলেও সমস্যা হচ্ছে সিআরএম মেশিনে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন তারা। এরইমধ্যে যুক্ত করা হয়েছে সিআরএম মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশ্বাস তাদের।

        বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সিআরএম ও ভেন্ডিং মেশিনের ক্ষেত্রে সমস্যার ধরণ প্রায় একইরকম। নতুন টাকার সাথে মেশিনের সফটওয়ারের সমন্বয় করতে কিছুটা সময় লাগছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।

        কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নতুন নকশার নোট বাজারে আসার পরপরই ঈদের ছুটি ছিল। সেজন্য সমস্যার সমাধানে একটু সময় লাগছে।

        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত