শিরোনাম
মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান
মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়া হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে দেখা যায় যে, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করার জন্য মেহেরপুর সদরে ৪০০০ কৃষকের মধ্যে বিঘা প্রতি ১ কেজি পেয়াজের বীজ মূল্য ২২০০ টাকা, ডিএপি সার ২০ কেজি মূল্য ৩৮০ টাকা, এম ও পি সার মূল্য ৩৬০ টাকা, বালাইনা ১ কেজি ৩৫৫ টাকা, পরিবহন ব্যয় ৬৩ টাকা অন্যান্য খরচ ৪২ টাকা মোট ৩৪০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ের নিমিত্ত সকল বরাদ্দের কপি, বিতরণের কপি ও অন্যান্য বিল ভাউচারের কপি সংগ্রহ করা হয়েছে।
রেকর্ডপত্রসমূহ পর্যালোচনাপূর্বক টিম কর্তৃক কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ঢাকার গণপূর্ত ই-এম বিভাগে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান
গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন গণপূর্ত ই-এম বিভাগ-৩ এর অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার কর্তৃক পারস্পরিক যোগযাজশে কাজ না করেই বিল উত্তোলনপূর্বক রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ দুর্নীতি দমন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা হতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আজ (১০ নভেম্বর, ২০২৫)এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে উক্ত দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা কর্তৃক ঠিকাদারের নিকট দশ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। অতঃপর গণপূর্ত ই-এম বিভাগ-৩ ও অভ্যন্তরীন তদন্ত টিমের নিকট হতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনাপূর্বক এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানা যায়
মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযান
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, মুন্সীগঞ্জ -এ চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি, অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন টিম হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ, চিকিৎসা কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত দিকগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এ সময় দেখা যায় যে, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং অব্যবস্থাপনায় পরিপূর্ণ।
অপর অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাইয়ের নিমিত্ত দুদক টিম ২০২৪-২৫ অর্থবছরের টেন্ডার সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে এবং অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ করে। পরবর্তীতে হাসপাতালের রেজিস্টার, উপস্থিতি খাতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তথ্য, প্রমাণাদি ও সাক্ষ্যসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানা যায়।
দিনাজপুরে দুদকের ১৯০তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত
দিনাজপুরে ৪৪টি সরকারি দপ্তর সংস্থার বিরুদ্ধে শতাধিক অভিযোগের শুনানির মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর ১৯০তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের জেলা কার্যালয় দিনাজপুর আয়োজিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এ গণশুনানি হয়।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কমিশনার সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেশে বলেন, দুদকের বর্তমান ড. মোমেন কমিশন প্রতিজ্ঞা নিয়েছেন নিজের ঘর দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ রাখবেন। সরকারি সকল অফিসেের কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আগে কমিশনের কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ পেলে এতটুকু ছাড় দেন না। দেশে দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবার সহযোগিতা লাগবে। সবার মধ্যে নীতিবোধ জাগ্রত করতে হবে। ব্যক্তিগত লোভ-লালসা পরিহার করতে হবে, অন্যকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো আক্তার হোসেন বলেন, সমাজকে স্বচ্ছতার মধ্যে আনতে নিরন্তর প্রচেষ্টার পরও আমরা সমাজকে স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতার আনতে পারিনি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সরকারি সেবা প্রাপ্তি এ গণশুনানির মুল লক্ষ্য। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘুসদাতা ঘুসগ্রহিতার চেয়ে বেশি অপরাধী। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আপনার নিষ্পাপ শিশুদের খাওয়াবেন না।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন এবং দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় রংপুরের পরিচালক মোহাং নুরুল হুদা বক্তৃতা করেন।
গণশুনানিতে ৪৪টি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে পৌনে দুই'শ অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে দুদকের তফসিলভুক্ত ১২৮টি অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ০৪টি অভিযোগের বিষয়ে দুদকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়।ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে ০২ জন কর্মকর্তাকে বদলী এবং একজনের বিরুদ্ধ বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশ এবং ০৪ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাকী অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়া হয়।
বেনজীরের ১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের
১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আমেরিকা, কানাডা ও যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকুয়েস্ট (এমএলআর) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চার মামলা করে। তার মধ্যে বেনজীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হলো।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, দুদকের তদন্তে বেনজীরের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলে ১৫ কোটি টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যার বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বাকি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
দুদক জানায়, অনুসন্ধানকালে তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হলে, আসামি তার আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।
তবে তদন্তে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর ও ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ তিনি মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। যার মধ্যে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ ছাড়া আসামি বেনজীর আহমেদ তার অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে নাবালিকা কন্যা জনাব মিজ যাহরা যারীন বিনতে বেনজীরের নামে অর্জিত কোনো স্থাবর সম্পদ সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শন করেননি।
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করে তার উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন বা ছদ্মাবৃত্ত করেছেন। তার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রমাণ মিলেছে।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য