শিরোনাম
প্রফেসর কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
নকশা পরিবর্তন, অর্থ আত্মসাৎ, ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল প্রদানসহ নানা অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্যসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।
মামলার আসামিরা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার আ. সালাম বাচ্চু ও ঠিকাদার এম এম হাবিবুর রহমান।
দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, পরস্পর যোগসাজশ, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন, ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ঊর্ধ্বের চুক্তি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন ব্যতিরেকে সম্পাদন, ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কর্তনকৃত নিরাপত্তা জামানতকে এফডিআর হিসেবে ব্যাংকে জমা রাখা এবং সেই এফডিআরকে লিয়েনে রেখে ঠিকাদারকে লোন প্রদান করার জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট অনুমোদন তথা গ্যারান্টর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তথা সরকারের ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ প্রদানের কোনও সংস্থান না থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারকে আর্থিক সহযোগিতার কারণ দেখিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি গ্রহণ করে অগ্রিম বিল প্রদান করা এবং অগ্রিম প্রদানকৃত বিল সমন্বয়ের পূর্বেই অগ্রিম বিলের বিপরীতে প্রদত্ত ব্যাংক গ্যারান্টিসমূহ অবমুক্ত করা, প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদানকৃত ড্রইং/ডিজাইন না মেনে সরকারি খাতে ক্রয় পদ্ধতির বিধিবর্হিভূতভাবে দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রদান, অস্বাভাবিক হারে মূল্য দাখিল বা ফ্রন্ট লোডিং থাকা সত্ত্বেও পিপিআর ২০০৮-এর বিধান অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন না করার অভিযোগ রয়েছে।
যা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ও দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ ধারায় ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদকের দৃষ্টিতে টিউলিপ অভিযুক্ত: চেয়ারম্যান
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি এবং যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। সোমবার (১৬ জুন) দুদক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মোমেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, টিউলিপের বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
তিনি বলেছেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট জালিয়াতিসহ তিনটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। মৎস্য খামার, ইনকাম ট্যাক্সে হঠাৎ করেই ১০ থেকে ৩০ ভরি স্বর্ণ বাড়িসহ নানা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক টিউলিপকে তলব করেছে।
টিউলিপের বিরুদ্ধে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ হিসেবে ফ্ল্যাট নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য আগামী ২২ জুন সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য টিউলিপ সিদ্দিককে অনুরোধ করা হয়েছে।
রোববার (১৫ জুন) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো তলবি নোটিশ সরাসরি ঢাকার মোহাম্মদপুরের জনতা হাউজিং সোসাইটি, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, গুলশান-১ ও ২ এলাকার আবাসিক এই পাঁচটি ঠিকানা এবং গুলশান থানা ও ধানমন্ডি থানার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
এটিই প্রথম নয়- এর আগে গত ১৪ মে টিউলিপ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সেই নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। একই মামলার আরও দুই আসামি- রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ খসরুজ্জামান ও সর্দার মোশাররফ হোসেন—কেও একই সঙ্গে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু কেউই সাড়া দেননি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য