ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনলেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির

অনলাইন ডেস্ক
৩০ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:১৩
অনলাইন ডেস্ক
লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনলেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্যমূল্যের পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়ালেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তৈয়বুর রহমান। তার এই আচরণ সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে টিসিবির ডিলার যখন পণ্য বিক্রি শুরু করেন, তখন চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর তৈয়বুর রহমান। তাকে দেখে অনেকেই বিস্মিত হন এবং সামনে জায়গা ছেড়ে দিতে চান। কিন্তু তিনি সুবিধা না নিয়ে সবার পেছনে গিয়ে দাঁড়ান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তৈয়বুর রহমানের এই দৃষ্টান্ত দেখে লাইনে থাকা অন্যরাও অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে পণ্য কেনেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর নিজের পালা এলে তিনি পণ্য সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরে যান। তার এই ধৈর্য এবং সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধার কথা দ্রুতই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

জয়নাল আবেদিন এবং মহসিন কবিরাজ নামের দুজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “তৈয়বুর রহমানের মতো একজন সম্মানিত নেতা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনবেন, এটা আমরা সহজে বিশ্বাস করতে পারিনি। তিনি চাইলে অনেক সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু তা না করে সাধারণ মানুষের কাতারে এসে যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

মাজহারুল ইসলাম নামে একজন যুবক বলেন, “আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা মানুষের সঙ্গে মিশে থাকে। আজকের এই ঘটনা প্রমাণ করে, নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্বশীলতা।”

এ প্রসঙ্গে তৈয়বুর রহমান বলেন, “আমি চাইলে সবার আগে পণ্য নিতে পারতাম, কিন্তু আমি চাই না আমার জন্য অন্য কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হোক। আমাদের সংগঠন শেখায়— অন্যায়ের মাধ্যমে কিছু অর্জন নয়, বরং শৃঙ্খলা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”

 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নিজের জুস পান করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যই অচেতন

    অনলাইন ডেস্ক
    ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:৩৩
    অনলাইন ডেস্ক
    নিজের জুস পান করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যই অচেতন

    খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে মা-মেয়েকে জুস খাইয়ে অজ্ঞান করে গয়না লুট করেছে ‘অজ্ঞান পার্টির’ মূল হোতা ফুল মিয়া (৫৫)। তবে যাত্রীদের তৎপরতায় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সে। যাচাই করতে তাকে নিজের জুস পান করানো হলে ফুল মিয়াও অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

    শনিবার ভোরে ট্রেনের ‘ঝ’ বগির ৭৭, ৭৮ ও ৭৯নম্বর সিটে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ মালঞ্চ গ্রামের কৌশিলা রায় (৫০) ও তার মেয়ে বীথি রানী (২৮)। আটক প্রতারক ফুল মিয়া রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আব্দুল্লাপুর গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে।

    রেলওয়ে পুলিশ জানায়, বিরামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন কৌশিলা রায় ও বীথি রানী। পাশের সিটে বসে থাকা ফুল মিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতার একপর্যায়ে মা-মেয়েকে জুস পান করান তিনি। জুস পান করেই তারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে ফুল মিয়া তাদের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেন।

    এ সময় পাশের যাত্রী আব্দুর রহিম (অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা) বিষয়টি আঁচ করে ফুল মিয়াকে আটক করেন এবং অন্যান্য যাত্রীদের অবহিত করেন। প্রথমে প্রতারক অভিযোগ অস্বীকার করলেও যাত্রীরা তাকে নিজের জুস পান করতে বাধ্য করেন। জুস পান করেই ফুল মিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

    সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উন নবী বলেন, মা-মেয়ে ও আটক প্রতারককে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও আসামি—দুজনেরই জ্ঞান ফেরেনি।

    কৌশিলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেছেন। পুলিশ জানায়, ফুল মিয়ার নামে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথের রাস্তায় লেভেল ক্রসিং স্থাপনে মানববন্ধন

      জেলা প্রতিনিধি
      ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ১১:৫৭
      জেলা প্রতিনিধি
      কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথের রাস্তায় লেভেল ক্রসিং স্থাপনে মানববন্ধন

      মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুন:স্থাপন প্রকল্পের নকশায় বড়লেখা পৌরশহরের জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাস্তায় রাখা হয়নি কোনোরকম লেভেল ক্রসিং। এতে ট্রেন চলাচল শুরু হলে জনভোগান্তির পাশাপাশি মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি। বড়লেখা রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশের রেললাইনের পুরাতন লেভেল ক্রসিংস্থলে চলমান নির্মাণ কাজে লেভেল ক্রসিং না রাখায় এলাকাবাসি ফেঁপে ফুঁসে উঠেছেন।

      ইতিপূর্বে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় শুক্রবার বিকেলের দিকে রেললাইনের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক হাজার বাসিন্দা ও হালকা যানবাহন চলাচলের স্বার্থে আগের পূর্ববর্তী জায়গায় লেভেল ক্রসিং পুনঃস্থাপনের দাবিতে ভুক্তভোগি এলাকাবাসি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। উক্ত কর্মসূচি থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এর থেকে আরোও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন, এমন কি রেললাইনের চলমান নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসি।

      ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও আব্দুস সালামের উপস্থাপনায় মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু, সাবেক পৌর কাউন্সিলর কবির আহমদ, বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রধান হিসাবরক্ষণ রেজাউল ইসলাম মিন্টু, ব্যবসায়ী শামীম আহমদ, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক ময়নুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান, বিএনপি নেতা বাহার উদ্দিন, বীমা কর্মকর্তা দিলিপ দে, হাফেজ তৈবুর রহমান, ডা. কবির আহমদ, শ্যামল পাল দুলু, কলেজ শিক্ষার্থী তানভির আব্বাস তামিম প্রমুখ।

      বক্তারা বলেন, প্রায় দীর্ঘ ২২ বছর আগে এই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখনও রেলের এই স্থানে লেভেল ক্রসিং ছিল। রেললাইনের পশ্চিম পাশেই পৌরসভার পশুর হাট এবং প্রায় সরকারের অর্থায়নে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার সাপ্লাই প্লান্ট রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার এই রাস্তাটি রেললাইন অতিক্রম করে পৌরসভার তেলিগুল এলাকাসহ সদর ইউনিয়ন, তালিমপুর ইউনিয়ন ও হাকালুকি হাওরের রাস্তার সাথে সংযুক্ত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার উপর লেভেল ক্রসিং স্থাপন না করে রেললাইন স্থাপনের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হবেন। এছাড়া লেভেল ক্রসিং না থাকলে ট্রেন চালু হওয়ার পর প্রতিদিনই নানান দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ভুক্তভোগিরা রেললাইনের পুনর্বাসন কাজের নকশায় লেভেল ক্রসিং না রাখায় বিস্ময় প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লেভেল ক্রসিং স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায় বৃহৎ কর্মসূচিসহ রেল নির্মাণ প্রকল্পের চলমান কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

      এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বড়লেখা রেলস্টেশনের উত্তর পাশের লাইনের উপর লেভেল ক্রসিং স্থাপনের দাবিতে বৃহত্তর গাজিটেকা এলাকার সাধারণ জনগণ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবি ও রাজনীতিবিদদের উপস্থিতিতে পৃথক অন্য আরেকটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভা বাঁধার মুখে স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্য পক্ষ!

        জেলা প্রতিনিধি
        ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ১১:৫৫
        জেলা প্রতিনিধি
        স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভা বাঁধার মুখে স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্য পক্ষ!

        মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় আয়োজিত কর্মীসভাটি বেহেস্তে! বিশৃঙ্খলা তৈরি করা কোন আওয়ামী লীগ নয় নিজ দলের অন্য আরেকটি পক্ষ। এসময় তারা আয়োজিত অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানস্থল এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে তালা দিয়ে এর সামনে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. মো. জাহেদুল কবির জাহিদের উপস্থিতিতে সভা করার কথা থাকলেও ওই পক্ষ অডিটরিয়ামে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এদিকে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে এসব মোকাবেলা করতে শুক্রবার (২৯শে আগস্ট) সকাল থেকেই অডিটরিয়ামের আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের এএসপি আবুল খায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

        জানা যায়, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩১ সদস্য বিশিষ্টি রাজনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ২০২১ সালে গঠন করা হয়। এতে সুলতান আহমদ সুনু আহ্বায়ক ও সুমন দেব সদস্য সচিব ছিলেন। গত ৯ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক আহমেদ আহাদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে রাজনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে অব্যাহতি দেয়া হয়। দীর্ঘদিন যাবত দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহন না করে নিষ্ক্রিয় থাকায় দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে-এ অভিযোগে দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এদিকে শুক্রবার সকালে জেলা আহ্বায়ক কমিটির নির্দেশে যুগ্ন আহ্বায়ক কাউসার আহমদসহ অন্যান্য সদস্যদের আহ্বানে কর্মীসভার ডাক দেয়া হয়।

        এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. মো. জাহেদুল কবির জাহিদ। কিন্তু এই কর্মীসভাস্থল বাতিলের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সুলতান আহমদ সুনু। কর্মীসভা শুরুর আগেই শুক্রবার সকালে অব্যাহতি পাওয়া আহ্বায়ক সুলতান আহমদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের কিছু নেতাকর্মী অনুষ্ঠানস্থলে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং অডিটরিয়ামের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। দলের দুর্দিনের নেতাকর্মী ও উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ককে দাওয়াত না দেয়ায় কর্মীসভায় বাঁধার সৃষ্টি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঁধা দেয়া নেতাকর্মীরা।

        রাজনগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুলতান আহমদ সুনু বলেন, ‘আমি কোনো অব্যাহতিপত্র পাইনি। শুনেছি ফেসবুকে মানুষ দেখেছে। সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ভাবে এ চিঠি লেখা হয়েছে। আমরা এমপি এম নাসের রহমানের লোক একারনে আমাদের অন্যায় ভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এটা আমরা মানি না।’

        স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক কাউসার আহমদ তালুকতার বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে কর্মীসভা করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজকে যারা বাঁধা দিচ্ছেন তাদেরকে নিয়ে আলোচনা করেই আজকের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে তারা আজকে এসে বাঁধা দিচ্ছেন। আমরা সংঘাত চাই না। আহ্বায়ককে জেলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও কর্মীসভা আয়োজনের আগে প্রস্তুতি সভায় আসতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।’

        রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন খাঁন বলেন, ‘এক পক্ষের ডাকা কর্মীসভায় অন্য পক্ষ বাঁধা দিয়েছিল। পরে উভয়পক্ষ কথা বলেছে। তারা গোবিন্দবাটিতে কর্মীসভা করবে বলে চলে গেছে। তেমন কিছু হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
         

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          মৌলভীবাজার ৪ আসনে নতুন সমীকরণে প্রার্থী ৫ জন

          জেলা প্রতিনিধি
          ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:৩৩
          জেলা প্রতিনিধি
          মৌলভীবাজার ৪ আসনে নতুন সমীকরণে প্রার্থী ৫ জন

          আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহিদ এর একতরফা দখলে থাকা এ আসনে এবার নতুন সমীকরণের মধ্যে অংক কষতে হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সক্রিয় হয়ে আওয়ামী লীগের বহু বছরের নীরিহ চা বাগান শ্রমিকদের ‘দুর্গ’ ভাঙতে মাঠে নেমেছে।

          জানা যায়, চা-শ্রমিক অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে গত তিন দশকে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে টানা জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুস শহিদ। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার করা হয় আব্দুস শহিদকে এরপর থেকে এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের ভাটা নামে। বিরোধী শিবির এখন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শক্ত অবস্থান গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

          মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে সক্রিয় যেমন তেমনি চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সেনাপতি উপজেলা ছাত্রদলের দীর্ঘ বছর সভাপতির দায়িত্বে ও পর পর চার বার মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি থেকে প্রবাসে ও বিএনপি'র রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি আর কেউ নন শ্রীমঙ্গল সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জালাল আহমেদ জিপু, তিনি বিগত দিনে ও বিএনপির হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নমিনেশন নেন, তবে দল নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালে তিনি দলের সাথে সঙ্গতি প্রকাশ করেন। তিনি আওয়ামী শাসন আমলে দীর্ঘ দিন জেল জরিমানা থেকে শুরু করে আপন ভাই ও মায়ের মৃত্যুর কারন হিসেবে দলীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, তিনি বিগত আট মাস দেশে থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন। গত এক মাস হয় দেশ ত্যাগ করে ওমরা হজ্ব পালন শেষে যুক্তরাজ্য হয়ে দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আবার ও দেশে এসে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান।  এদিকে এনসিপির প্রীতম দাশ তরুণ ভোটারদের মাঝে বাড়তি জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন।

          এ আসনে রয়েছেন বিএনপির তিন জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। বিএনপির হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক দলীয় প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন মিয়া মধু এবং সাবেক শ্রীমঙ্গল ছাত্রদল সভাপতি জালাল উদ্দিন জিপু তাদের দাবি, অতীতে নানা ত্যাগ স্বীকারের পর এবার দল তাদের অবদান মূল্যায়ন করবে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা পেয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রব।

          এই আসনে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশ। তরুণ এই নেতা শুধু নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতীকই নন, অতীতে তিনি ছিলেন ব্যাপক নির্যাতনের শিকার। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ২৫ হাজার গাছ রক্ষার আন্দোলন, ২০২২ সালের সিলেটের বন্যায় মানুষের পাশে থাকা প্রীতম দাশ আওয়ামীলীগের সাজানো মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটলেও তিনি সংগঠনের আদর্শ ও মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে সরে যাননি।

          বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নবম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে আমাকে হারানো হয়। আমার বিরুদ্ধে শতাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে বিশেষ আইনে গ্রেপ্তার করে আমাকে ১৪ মাস জেলে রাখা হয়। এই সময় আমার ছোট ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান শামিম আহমেদ চৌধুরী মারা গেলেও জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। সবকিছুর পরও আমি দলের আদর্শ থেকে সরে যাইনি। এবারও দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি।’

          আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. মহসিন মিয়া মধু বলেন, ‘২০০১ সালে আমি ধানের শীষের প্রার্থী ছিলাম। রাজনীতির ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। বারবার জেল খেটেছি, তবুও জনসেবার কাজ চালিয়ে গেছি। মেয়র থাকা অবস্থায় গরিব ও অসহায়দের জন্য কম্বল বিতরণ, ইফতার আয়োজন, ত্রাণ বিতরণ করেছি। আমি মাঠে কাজ করছি এবং মানুষ আমাকে চায়।

          জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রব বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। বৈষম্যহীন সমাজ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। জামায়াত অতীতে যেমন মানুষের পাশে ছিল, এবারও আমরা জনগণের সেবায় কাজ করব। বিশ্বাস করি, মানুষ এবার আমাদের ওপর আস্থা রাখবে।’

          প্রীতম দাশ বলেন, আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়ছি। নির্যাতন, মামলা ও কারাবাস আমার মনোবল ভাঙতে পারেনি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পেলে মাঠে নেমে জনগণের সঙ্গে থেকেই নির্বাচন করব।

          বিএনপি'র প্রার্থী হিসেবে হাজির জালাল উদ্দিন জিপু মুঠোফোনে জানান, দীর্ঘদিনের তৃনমুল থেকে শুরু করে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপি'র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং দীর্ঘদিন হামলা মামলায় জর্জরিত হয়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়ে ও রাজনীতি থেকে একচুল পরিমাণ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। দেশে এসে ও বিগত সরকারের আমলে জেলে দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়। দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।

          সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বহু বছরের নিরাপদ ঘাঁটি মৌলভীবাজার-৪ আসন এবার বিরোধীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার আসন হয়ে উঠেছে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত