শিরোনাম
গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ
গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলে নওগাঁয় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের শতাধিক নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ শহরের প্যারীমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলন নেতাকর্মীরা বলেন, সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের কথা বলে সংগঠন শুরু হলেও বর্তমানে তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। কমিটি বাণিজ্য, অনিয়ম, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ, দুর্নীতি, একক আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অভিযোগ তোলে নিজের আত্মমর্যাদা, রাজনৈতিক আদর্শ ও তৃণমূল কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই এই সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং সংগঠনের বর্তমান কমিটি ঘোষণার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বিএনপি নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
শরীয়তপুরের জাজিরায় বিএনপি নেতা খবির সরদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলমাস সরদারের বস্তাবন্দি মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের উমর উদ্দিন মাদবরকান্দি এলাকা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ থেকে পঁচা গন্ধ বের হলে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে আলমাসের স্বজনরা এসে মরদেহটি আলমাসের বলে শনাক্ত করেন।
জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেতা খবির সরদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলমাস সরদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে মসজিদের মাইকে নামাজের জন্য ডাকায় ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে অভিযোগ তুলে ইমাম ক্বারী মোহাম্মদ আলীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে আলমাসের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতা খবির সরদারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি ও তার দলবল।
নিহত খবির সরদার বড়কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই দানেশ সরদার বাদী হয়ে আলমাসসহ ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
শ্রীমঙ্গলে প্রাইভেটকার গাছের সাথে ধাক্কায় ১ জনের মৃত্যু
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় দিলীপ কুমার পাল (৭৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৭শে আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়ন অফিসের সামনে চলন্ত মোটরসাইকে বাঁচাতে গিয়ে দিলীপ পালকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে থাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে দিলীপ পালকে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। নিহত দিলীপ পাল শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট চিকিৎসক রাজীব পালের পিতা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ শারমীন আক্তার জানান, দিলীপ পালকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
৪৮ শিক্ষক পালিয়ে প্রবাসে চলে যাওযায় বরখাস্ত
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮ শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন তারা। এতে শিক্ষক-সংকটে ভুগছে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।
মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পলায়নের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, যাঁরা প্রবাশে পাড়ি জমিয়েছেন, তাঁদের বড় অংশই নারী।
সূত্র আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্নভাবে প্রবাসে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের। শিক্ষকেরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রথমে ছুটি নেন। পরে তাঁরা প্রবাসে চলে যান। তখন সরকারিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। যত দিন যাচ্ছে, এই সংখ্যা ততই সংখ্যায় বেড়ে চলছে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, জেলায় ১ হাজার ৬১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
এর মধ্যে সরকারি ১ হাজার ৫২টি। জেলায় কর্মরত প্রধান শিক্ষক ৭৭৬ জন। প্রধান শিক্ষক বিহীন শূন্য পদ রয়েছে ২৭৪টি। এ ছাড়া এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৫ হাজার ১৫৬ জন। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২২৩টি। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকেরা দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সংকট আরও চরমে পৌঁছে গেছে।
যা ঘটছে তা বলতে গিয়ে পতনঊষার বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা খানম বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ সায়মা আজিজ কোনো ছুটি ছাড়া প্রবাসে চলে গেছেন। শুনেছি, তিনি যুক্তরাজ্যে গেছেন। তাঁর বদলে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক-সংকট নিয়েই বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে।’
এমন ঘটনা ঘটেছে মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস খাঁন বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জেরিন প্রায় ১১ বছর চাকরি করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটি নেন। পরে শোনা যায়, তিনি প্রবাসে চলে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে অন্য বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এখনো যোগদান করেননি। ফলে সংকট কাটছে না।
রাজনগর উপজেলার চাটুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাবেরী রানী দেব। তিনি ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসার কথা বলে ছুটি নেন। নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি আর চাকুরিতে যোগদান করেননি। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানতে পারেন, তিনি প্রবাসে চলে গেছেন। বিষয়টি পরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। ঠিক একইভাবে চাকরিচ্যুত শিক্ষকেরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে আর আসেননি বিদ্যালয়ে।
এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন কমলগঞ্জের কাউয়ারগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমরজিৎ স্বর্ণকার, সতিঝিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নোভা নাওয়ার, সদর উপজেলার আগনসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্যামলী খানম, মৌলভীবাজার সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তাহমিদা ইসলাম এবং রাজনগর উপজেলার চাটুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাবেরী রানী দেব।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২৯ জনকে পলায়নের অভিযোগে বরখাস্ত করেছি। এ ছাড়া চারজনকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৮ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আরও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। বেশির ভাগ শিক্ষক ছুটি নিয়ে প্রবাসে চলে গেছেন। যাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাঁরা আর চাকরিতে ফিরতে পারবেন না।’
ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করল বিএসএফ
অবৈধ ভাবে ভারতের প্রবেশের অভিযোগ হাকিমপুর চেকপোস্টে আটক হওয়া ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর দিবাজ্যোতি ডলি এবং বাংলাদেশের তলুইগাছা বিজিবি বিওপি কমান্ডারের উপস্থিতিতে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকালে সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার এসব বাংলাদেশিকে হাকিমপুর চেকপোস্টে আটক করে বিএসএফ।
আটকরা হলেন– মো. সেকেন্দার হোসেন, মো. আব্দুল্লা গাজী, কর্ণা খাতুন, রুহুল আমিন, শেষালী বেগম, সুমাইয়া আক্তার, নাজমা বিবি, মাহেরা আক্তার, নাজমুল হাসান নাইম, মিনা, মর্জিনা বেগম, হাসিনা খাতুন, মাফুজা খাতুন, তানিয়া সুলতানা ও মাফুজ রহমান।
পরে বিজিবির টহল দল তাদের সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে আসে। সেখানে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে থানা হেফাজতে রাখা হয়। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও স্বভাব যাচাই শেষে বৈধ অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিমুল হক।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য