শিরোনাম
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের লক্ষীদাড়ি সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ( বিএসএফের) ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই যুবকের মাথা, চোখ, মুখ সহ কয়েকটি স্থানে ছররা গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। । সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে লক্ষীদাড়ি সীমান্তের ১ নং বিজিবি পোষ্টের কাছে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেন(৩৫) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে । আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাঁড়ি গ্রামের শেখ সাঈদ হোসেনের ছেলে।
এদিকে সীমান্ত গ্রামবাসিদের মধ্যে জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদের জানান, আলমগীর দীর্ঘদিন ঘরে ধুড় পাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। সীমান্তে সরকারি জায়গায় তার মাছের ঘের থাকলেও তার মূল পেশা চোরাচালান। সোমবার ভোরে ভারত থেকে চোরাচালানি পণ্য আনতে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। এ সময় তার অন্য দুই সহযোগী পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেনের বোন ইছমত আরা জানান, বাড়ির পাশে কুমড়োর খালের পাশে বিজিবি’র ১নং পোস্টের পাশে শূন্যরেখা বরাবর সরকারি খাস জমিতে তার বড় ভাইয়ের একটি মাছের ঘের রয়েছে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে ঘেরটি তলিয়ে যায়। সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি ওই ঘের নেট দিয়ে ঘেরা ও মাছের খাবার দিতে যান ভাই । ওই সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙা বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাকে চোরাকারবারী ভেবে গুলি ছোঁড়ে। এতে তার মাথা, মুখ, চোখের ভুরুসহ বিভিন্ন স্থানে ছাররা গুলি লাগে।পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে ।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ এবিএম আক্তার মারুফ জানান, সোমবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে আলমগীরকে জরুরী বিভাগে আনা হয়। তার মুখ, মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে ছাররা গুলি লাগার চিহ্ন রয়েছে।
সাতক্ষীরার ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার জহির আহম্মেদ জানান, তিনি আলম নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মর্মে শুনেছেন। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
নগদ অর্থ ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার-১
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় একটি বসতবাড়িতে সংঘটিত চুরির ঘটনায় শরীফ আহমেদ (২৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এসময় চুরির কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থসহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত মাসের রবিবার (১৩ই জুলাই) বড়লেখা উপজেলার তেলিগুল গ্রামের জনৈক শামীম আহমদ কাউছারের বসতবাড়িতে চুরির ঘটনাটি ঘটে। চোর চক্র ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে আলমারির লকার ভেঙে নগদ টাকা, ইউএস ডলার ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। ঘটনার পরদিন সোমবার(১৪ই জুলাই) ভুক্তভোগী শামীম আহমদ কাউছার বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-১২, ধারা ৪৫৪/৩৮০ দণ্ডবিধি)।
ঘটনার পর থেকেই মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আজমল হোসেনের তত্ত্বাবধানে বড়লেখা থানার একটি দল মাঠে নামেন তদন্ত শুরু করে।
বড়লেখা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রতন কুমার হালদারের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
গতকাল রবিবার (৩রা আগস্ট) রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকা থেকে চোর চক্রের মূলহোতা শরীফ আহমেদ (২৪) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শরীফ আহমেদ সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার খসিরবন হাতিরটিলা এলাকার বাসিন্দা লিটন মিয়ার ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও অপর দুই সহযোগীসহ সংঘবদ্ধভাবে চুরির বিষয়টি স্বীকার করে।
শরীফের দেওয়া তথ্য মতে একটি ইয়ামাহা FZX মোটরসাইকেল (যা চুরির সময় ব্যবহৃত হয়েছিল) এবং নগদ ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, “আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের দুই সদস্যকে রাজকীয় বিদায়
অবসরজনিত কারণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশের দুই সদস্যকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন এবং অন্যজন বদলি হয়েছেন।
রোববার (৩রা আগস্ট) বিকালে শ্রীমঙ্গল থানা প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিদায়ী বক্তব্য এবং তাদের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে কান্না বিজরিত কন্ঠে অতীতের কিছু কথা তুলে ধরেন।
বদলি হওয়া পুলিশ সদস্য অনিল কান্তি চাকমাকে নিজ রেঞ্জে বদলিজনিত কারণে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে, থানা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থেকে বিদায়ী অনুষ্ঠানে সকলের সাথে কোশল বিনিময়ে যুক্ত হোন।
জয়পুরহাটের গণ শুনানিতে আসছেন দুদক চেয়ারম্যান
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে জয়পুরহাটে আয়োজন করা হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উন্মুক্ত গণশুনানি।
আগামী ১১ই আগস্ট জয়পুরহাট সদর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুর্নীতি দমন কমিশনের ( দুদক ) মাননীয় চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
গণশুনানির মূল স্লোগান ‘এবার আওয়াজ তুলুন’, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি দুদকের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও পাবেন।
দুদক জানিয়েছে, এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক ও আর্থিক খাতে বিদ্যমান অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও থাকবে।
গণশুনানিতে যেসব বিষয়ে অভিযোগ করা যাবে:
- ঘুষ গ্রহণ ও দাবি;
- ক্ষমতার অপব্যবহা ;
- সরকারি সম্পদ ও অর্থ আত্মসাৎ;
- অবৈধ সম্পদ অর্জন;
- অর্থপাচার
ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি এসব দুর্নীতির শিকার হন বা প্রত্যক্ষদর্শী হন, তাহলে গণশুনানিতে অভিযোগ জানাতে পারবেন। কমিশন জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে অভিযোগ দাখিল করতে হবে। এ লক্ষ্যে জয়পুরহাট শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুদকের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ গ্রহণ বুথ।
গণশুনানির আয়োজন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নওগাঁ। সহযোগিতায় রয়েছে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, জয়পুরহাট।
দুদক মনে করছে, সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে জনগণকে সম্পৃক্ত করাই সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। গণশুনানির মতো উদ্যোগ জনগণের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা বাড়ায় এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়— এটি জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব’, এমনটাই জানিয়েছেন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী এবং কার্যকর হিসেবে দেখছেন। তাঁদের আশা— অভিযোগ শুধু শোনা নয়, সেসবের দ্রুত নিষ্পত্তিও হবে। এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে দুদক।
অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য বা বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা যাবে নিচের নম্বরগুলোতে:
০১৭১৯-৩৬০৩২১, ০১৭৯৮-৩৮১৮২৯, ০১৫১৫-৬৪৯৫৯৫, ০১৭১৮-৬৭৬৬৫০, ০১৭১২-৫৮৩৩০০ ও ০২-৫৮১১৪৭০৩২।
যোগাযোগের ঠিকানা: উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নওগাঁ। ফোন: ০২-৫৮১১৪৭০৩২, ই-মেইল: dd.ido.naogaon@acc.org.bd
মৌলভীবাজারে অজ্ঞাত এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের আনুমানিক বয়স ১৩ বছরের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩রা আগস্ট) সকালের দিকে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কিশোরটির ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিল এবং মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পরনের প্যান্ট খোলা অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সে ডোবার পাশে মলত্যাগ করার সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুলাউড়া থানার ওসি মো. ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। এখনও তার পরিচয় শনাক্ত হয়নি। শনাক্তকরণে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়াও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজারে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য