শিরোনাম
মৌলভীবাজারে যৌথবাহিনীর অভিযানে এয়ারগান ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
মৌলভীবাজারের রাজনগর থেকে যৌথবাহিনীর অভিযানে এয়ারগান ও দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রসহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯শে জুলাই) মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মুনছুরনগর ইউনিয়নের প্রেমনগর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে একটি পক্ষ এয়ারগান প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষ যখন তীব্র আকার ধারণ করে খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সেনা ক্যাম্প থেকে মেজর জি. এম. হাসান শাহরিয়ার জিন্নাহ এর নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জন আহত হলে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে তল্লাশি চালিয়ে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি এয়ারগান, ২টি দা, ৬টি বর্শা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন সেনা সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রসমূহ রাজনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৌলভীবাজার সেনা ক্যাম্প কর্তৃক অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারে পাখি গ্রেপ্তার
কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর শাহেনা আকতার পাখিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের নিজ বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ইলিয়াছ খান জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন শাহেনা আকতার পাখি। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
নয়াদিগন্তের নোয়াখালী অফিস প্রধান হানিফ ভূঁইয়ার স্ত্রীর ইন্তেকাল
দৈনিক নয়া দিগন্তের নোয়াখালী অফিস প্রধান মুহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়ার স্ত্রী মোসাঃ ছায়েরা বেগম (৫৭) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি চার সন্তান, স্বামীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
ছায়েরার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো.শাহজাহান, জামায়াতে ইসলামী নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন, যুবদলের জেলা সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন প্রমুখ। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং মরহুমার বিদায়ী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
নোয়াখালীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ সাঈদা আক্তার পপি (২৫) হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট জিরো পয়েন্টে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহত গৃহবধূর স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
নিহত পপি উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মক্কা নগরের শফি উল্যাহ শিপনের স্ত্রী এবং একই গ্রামের ইলিয়াস চুকানি বাড়ির শামসুদ্দিন কাজলের মেয়ে। এর আগে, গত বুধবার ২৩ জুলাই দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জাবি আলাদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহতের মা খাইরুন নাহার, চাচা আব্দুল কাইয়ুব, মেয়ের খালাতো বোন আমেনা বিনতে রহিম অথৈই, চাচাতো বোন উপর্ণা, খালু আব্দুর রহীম মাসুদ, শাহজাহান খোনার, মামা মো.কামাল উদ্দিন, ও প্রতিবেশী চাঁন মিয়া প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ৭ বছর আগে শিপনের সঙ্গে পপির পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে ভিকটিমকে যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে নানান নির্যাতন করত শিপন ও তার পরিবার। এ নিয়ে কয়েক দফা দেন দরবারও হয়েছে। গত বুধবার রাতভর নির্যাতন চালিয়ে তারা তাকে শ্বাসরোধ করে পিটিয়ে হত্যা করে। পরের দিন সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার অভিনয় করে বাড়িতে মরদেহ রেখে সবাইকে ফাঁস নিয়েছে বলে জানান। পরে পুরো পরিবার মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়। বর্তমানে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
নিহতের মা খাইরুন নাহার বলেন, এ ঘটনায় থানায় পুলিশ মামলা না নিলে আমরা আদালতে মামলা দায়ের করি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার নিহতের স্বামী শফি উল্যাহ শিপনের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, মরদেহ সন্দেহজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গলায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক শ্বশুরকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ফেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্র সুমেল হত্যায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৫ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের বিশ্বনাথে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র সুমেল হত্যা মামলায় ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মামলায় ৩৪ জন আসামির মধ্যে আদালত ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকি ১৭ জনের দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সাইফুল আলম, নজরুল আলম, সদরুল আলম, সিরাজ উদ্দিন, জামাল মিয়া, আব্দুল জলিল, আনোয়ার হোসেন ও মামুনুর রশীদ। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামুনুর রশীদ পলাতক। প্রধান আসামি যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আটকের পর থেকে প্রায় পৌনে ৪ বছর ধরে জেলহাজতে রয়েছে। গত ১৩ জুলাই মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ইলিয়াস হোসেন, আব্দুন নুর, জয়নাল হোসেন, আশিক হোসেন, আছকির আলী, আকবর হোসেন ও ফরিদ আহমদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১লা মে সাইফুল ও তার বাহিনী চাউলধনী হাওরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চৈতনগর গ্রামের ইব্রাহিম আলী সিজিল গংদের নিজস্ব রেকর্ডীয় ভূমিতে জোরপূর্বক এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে। এতে জমির মালিক পক্ষ বাধা দিতে চাইলে সশস্ত্র আসামিরা বন্দুক, পাইপগান ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থানা পুলিশ ও গ্রামে একাধিক বৈঠক করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বন্দুকের গুলিতে শাহজালাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সুমেল আহমদ শুকুর গুলির আঘাতে তার শরীর ঝাঁজরা হয়ে যায় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। সুমেলের বাবা-চাচাসহ ৩ গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পর সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজিল বিশ্বনাথ থানায় বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলার রায়ের পর বাদী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সিলেটের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মফিজ উদ্দিন ও সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন এই চাঞ্চল্যকর হত্যার মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা ও আলামত নষ্ট করার দায়ে ওসি শামিম মুসা, এসআই নুর ও ফজলুল হককে ক্লোজ করা হয়।
এরপর তৎকালীন বিশ্বনাথ থানার ওসি তদন্ত রমাপ্রসাদ চক্রবর্তী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩২ জনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য