শিরোনাম
গোপালগঞ্জে আরও বাড়ল কারফিউয়ের সময়
গোপালগঞ্জে আবারও বাড়ানো হয়েছে কারফিউয়ের সময়সীমা। আগামীকাল সকাল পর্যন্ত জেলায় কারফিউ বলবৎ থাকবে। শনিবার (১৯ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আজ রাত ৮টা থেকে আগামীকাল (রোববার) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।
এর আগে গোপালগঞ্জে চলমান কারফিউ শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। গত ১৬ জুলাই এনসিপি পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। দিনভর হামলা-সহিংসতায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে ওইদিন রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।
এরপর দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১১টা পর্যন্ত কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়। তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।
এদিকে চলমান কারফিউয়ে শুক্রবার সকাল থেকে গোপালগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল দেখা গেছে। সকাল থেকেই আন্তঃজেলা বাস চলাচল শুরু হয়। বৃহস্পতিবারের তুলনায় আজ সড়কে মানুষ বেশি দেখা গেছে।
কোটালীপাড়ায় আ.লীগের ১৬৫৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১২
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের ১ হাজার ৬৫৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার এস আই উত্তম কুমার সেন বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ ও ১ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলাটি করেন।
এ মামলায় কোটালীপাড়া পুলিশ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আব্দুল আলিম (১৮), মহিব উল্লাহ শেখ (৩৫), সিরাজুল শেখ (২০), দীপ্ত কাজী (২০), প্রিন্স অধিকারী (১৮), মোরশালিন মুন্সী (২৯), রিফাত বিশ্বাস (২৫), সাগর শেখ (৩৮), মানিক শেখ (৫৬), সজল দাড়িয়া (৩০), আব্দুল হাকিম (৩৫) ও টুটুল হাওলাদার (২৮)।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ ও ১ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এ মামলা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই কোটালীপাড়া উপজেলার ওয়াবদারহাটে জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার সকাল পর্যন্ত বাড়ল গোপালগঞ্জের কারফিউ
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পর জারিকৃত কারফিউর সময় আরও বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, গোপালগঞ্জে চলমান কারফিউ শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৬ জুলাই এনসিপি পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। দিনভর হামলা-সহিংসতায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে ওইদিন রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।
এরপর দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১১টা পর্যন্ত কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়। তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।
এদিকে চলমান কারফিউয়ে শুক্রবার সকাল থেকে গোপালগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল দেখা গেছে। সকাল থেকেই আন্তঃজেলা বাস চলাচল শুরু হয়। বৃহস্পতিবারের তুলনায় আজ সড়কে মানুষ বেশি দেখা গেছে।
মৌলভীবাজারে শহিদদের স্মরণে জেলা বিএনপির মৌণ মিছিল
ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে মৌণ মিছিল করেছে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি। শুক্রবার (১৮ ইজুলাই) জুমার নামাজের পর শহরের পশ্চিম বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ওয়েস্টার্ন প্লাজা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, “বিএনপি সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত একটি দল, তবুও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, “জিয়া পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি বন্ধ না হলে এর জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।
এর আগে জেলা ওলামা দলের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, আসামি ৪৭৫ জন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) সকালে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক আহম্মদ আলী বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তাৎক্ষণিকভাবে বাকি আসামিদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ড. রুহুল আমিন সরকার বলেন, সকালে সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেছে। সেখানে ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জে বুধবারের সংঘাত-সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করলেও তাতে কাজ না হওয়ায় বুধবার রাত আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ দেয় সরকার। যা পরবর্তীতে আরও বাড়ানো হয়।
১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গেল মঙ্গলবার ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। তাদের এই কর্মসূচি ঘিরে ওইদিন রাত থেকেই জেলাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরপরও বুধবার সমাবেশের আয়োজন করা হয় গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক এলাকায়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে পৌঁছানোর আগেই সমাবেশস্থলে হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশ শেষে হামলার মুখে পড়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরও।
যা পরবর্তীতে রূপ নেয় সহিংস সংঘাতে। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় গোপালগঞ্জ ছেড়ে খুলনার দিকে রওয়ানা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা। সেদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ঘটে হতাহতের ঘটনা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য