শিরোনাম
গোপালগঞ্জ সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৭৫ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৪৫
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে দফায়-দফায় সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আজ কারফিউ চলছে। বেলা ১১টা থেকে ৩ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুপুর ২টায় ফের জেলায় কারফিউ শুরু হবে।
সকাল থেকে শহরের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শহরের অলিগলি ফাঁকা। জরুরি পরিসেবা চালু রয়েছে। প্রধান সড়কে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। তবে কারফিউ ঘিরে সকালের দিকে শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা যায়নি। এ পর্যন্ত যৌথ বাহিনী ৪৫ জনকে আটক করছে।
অন্যদিকে গত বুধবার (১৬ জুলাই) এনসিপির পদযাত্রার আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুরে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ সদস্যদের মারপিটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের পরিদর্শক আহম্মেদ আলী বাদী হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর পিয়ালসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ অটোরিকশাচালকের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৫
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে রমজান মুন্সী (২৮) নামে এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চৌরঙ্গী লঞ্চ ঘাট এলাকায় (কোর্টের সামনে) গুলিবিদ্ধ রমজান মুন্সী (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে তিনি মারা যান। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ জনে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা আছে। রমজান মুন্সী গত ১৬ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নাম্বার ওয়ার্ডে ভর্তি হন।
নিহত রমজান মুন্সির ভাই হিরা মুন্সি সমকালকে জানান, তার ভাই রিকশা চালাতেন। বুধবারের সংঘর্ষের সময় তিনি এক যাত্রীকে পৌঁছে দিতে রিকশা নিয়ে লঞ্চ ঘাট এলাকায় যান। তখন সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
রমজান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন হিরা মুন্সি। তিনি ভাইয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন।
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় এ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হলো। এর আগে গত বুধবার ঘটনার দিনই চারজন নিহত হন। তারা হলেন- মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশের দোকানি সোহেল মোল্লা (৩৫), পোশাক ব্যবসায়ী দীপ্ত সাহা (২৫), সিরামিক পণ্যের দোকান কর্মচারী ইমন তালুকদার (১৭) ও রাজমিস্ত্রির সহযোগী রমজান কাজী (১৮)।
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা-সংঘর্ষ, নিহত ৪
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ শেষে ফেরার পথে পুলিশ-সেনাবাহিনী ও স্থানীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ-সাংবাদিকসহ আরও ১২ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) জেলা শহরে সংঘর্ষ চলাকালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জ্বীবিতেশ বিশ্বাস। তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বেশ কয়েকজন হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এরমধ্যে চারজন মৃত ও পুলিশ-সাংবাদিকসহ ১২ জন আহত রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা ছিল দলটির। গতকাল মঙ্গলবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই কর্মসূচিকে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নাম দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জ সদরে আজ সকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কাছাকাছি সময়ে হামলা করা হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরেও। এ দুই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে জানায় গোপালগঞ্জ পুলিশ।
দুপুর ১টা ৩৫ মনিটের দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে সরে যান।
এ ঘটনার আধা ঘণ্টা পরে ওই সমাবেশ স্থলেই পুলিশি নিরপত্তায় সমাবেশ করে এনসিপি। সেখানে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর এনসিপির নেতারা যখন গাড়ি বহর নিয়ে মাদারীপুর রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন আবার ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও পিছু হটে। এনসিপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা এনসিপির সমাবেশ মঞ্চ এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্রে অঅগুন ধরিয়ে দেন। এতে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বাড়তি জনবল নিয়োজিত করা হয়। বিকেলের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। এরপর সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ একযোগে হামলাকারীদের সরাতে অভিযান শুরু করে।
এদিকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জে ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, আজ বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
জন্মের পর কাঁচা রাস্তা ছাড়া পাকা চোখ দেখি নাই
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শংকরপুর থেকে বালিচিরি পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তা এখনও কাঁচা। বছরের পর বছর অবহেলিত এই রাস্তাটি আজ স্থানীয়দের কাছে ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে দুর্ভোগের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
গত সোমবার (১৪ই জুলাই) সকালে শংকরপুর এলাকায় তরুণ সমাজকর্মী আব্দুল মুস্তাকিম তানিমের সঞ্চালনায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেয় শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা,অভিভাবক এবং বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিলো ব্যতিক্রমধর্মী স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড;
“শিক্ষার পথে কাঁদা কেন?”
“জন্ম থেকে দেখি কাঁদা, পাকা রাস্তা কি শুধু স্বপ্ন?”
“চলা যায় না,যাওয়া যায় না,এমন রাস্তায় ভোট হয় না!”
“শুধু নির্বাচনের আগে রাস্তা মাপা হয়,তারপর ভুলে যায়!”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য জমসেদ আলী,ময়নুল হক পবনসহ একাধিকজন মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন,রাস্তাটি উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ, অথচ বর্ষায় এটি ভয়ানক কাদা ও জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগী পরিবহনেও দেখা দিচ্ছে বিপর্যয়।

এক শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে বলে,“বৃষ্টি হলে রাস্তায় পা পিছলে পড়ে যাই। আমরা ছোট বলে কি আমাদের কষ্ট কেউ দেখবে না?”
এ নিয়ে কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনও। তিনি জানান,“এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেয়েছি। উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
দীর্ঘদিনের অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির জালে বন্দী এই কাঁচা রাস্তাটি অবশেষে আলোচনায় এসেছে। তবে বাস্তবে উন্নয়ন না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
ইয়াবা ট্যাবলেট ও দুই'শ লিটার চোলাই মদসহ আটক-২
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে দুই জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কুলাউড়া থানা পুলিশ। সোমবার (১৫ই জুলাই) বিকেলে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে ও টিলাগাঁও ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- ময়নুল ইসলাম (৪০), চকের গ্রামের মৃত বশির আলীর ছেলে। তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৬২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
হরিচরণ রবি দাস (৪৬), লংলা চা বাগানের বাসিন্দা, পিতা শ্রী নাথ রবি দাস। তার হেফাজত থেকে ১৩ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং ২০০ লিটার দেশীয় মদ তৈরির উপকরণ (ওয়াশ) উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সদ্য নিযুক্ত মো. ওমর ফারুক জানান, "আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
মাদক নির্মূলে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ'কে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ এলাকাবাসী।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য