শিরোনাম
জন্মের পর কাঁচা রাস্তা ছাড়া পাকা চোখ দেখি নাই
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শংকরপুর থেকে বালিচিরি পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তা এখনও কাঁচা। বছরের পর বছর অবহেলিত এই রাস্তাটি আজ স্থানীয়দের কাছে ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে দুর্ভোগের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
গত সোমবার (১৪ই জুলাই) সকালে শংকরপুর এলাকায় তরুণ সমাজকর্মী আব্দুল মুস্তাকিম তানিমের সঞ্চালনায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেয় শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা,অভিভাবক এবং বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিলো ব্যতিক্রমধর্মী স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড;
“শিক্ষার পথে কাঁদা কেন?”
“জন্ম থেকে দেখি কাঁদা, পাকা রাস্তা কি শুধু স্বপ্ন?”
“চলা যায় না,যাওয়া যায় না,এমন রাস্তায় ভোট হয় না!”
“শুধু নির্বাচনের আগে রাস্তা মাপা হয়,তারপর ভুলে যায়!”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য জমসেদ আলী,ময়নুল হক পবনসহ একাধিকজন মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন,রাস্তাটি উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ, অথচ বর্ষায় এটি ভয়ানক কাদা ও জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগী পরিবহনেও দেখা দিচ্ছে বিপর্যয়।

এক শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে বলে,“বৃষ্টি হলে রাস্তায় পা পিছলে পড়ে যাই। আমরা ছোট বলে কি আমাদের কষ্ট কেউ দেখবে না?”
এ নিয়ে কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনও। তিনি জানান,“এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেয়েছি। উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
দীর্ঘদিনের অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির জালে বন্দী এই কাঁচা রাস্তাটি অবশেষে আলোচনায় এসেছে। তবে বাস্তবে উন্নয়ন না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
ইয়াবা ট্যাবলেট ও দুই'শ লিটার চোলাই মদসহ আটক-২
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে দুই জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কুলাউড়া থানা পুলিশ। সোমবার (১৫ই জুলাই) বিকেলে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে ও টিলাগাঁও ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- ময়নুল ইসলাম (৪০), চকের গ্রামের মৃত বশির আলীর ছেলে। তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৬২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
হরিচরণ রবি দাস (৪৬), লংলা চা বাগানের বাসিন্দা, পিতা শ্রী নাথ রবি দাস। তার হেফাজত থেকে ১৩ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং ২০০ লিটার দেশীয় মদ তৈরির উপকরণ (ওয়াশ) উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সদ্য নিযুক্ত মো. ওমর ফারুক জানান, "আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
মাদক নির্মূলে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ'কে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ এলাকাবাসী।
রণক্ষেত্র গোপালগঞ্জ
দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, সংঘর্ষ চলছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে ২ দফায় হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সবশেষ বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলেও পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।
একদিকে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। অন্যদিকে হামলার মধ্যেই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যদিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
এদিন সমাবেশ শেষে পদযাত্রা শুরু হলে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্রসহ লাঠিসোঁটা দেখা যায়। সেই সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়।
পরে তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে গিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী টিয়ারশেল ছুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যদিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের। তবে সে সময়ও সেনাবাহিনীর রায়টকার ও গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
সবশেষ বুধবার বিকেল ৪টার দিকেও দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের ওপর হামলা চালাতে দেখা গেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। এ সময় টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে হামলা-ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যেই গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দুপুরে জেলা প্রশাসন এই ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে ৪ প্লাটুন বিজিবি যোগ দিয়েছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
এর আগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুরে শহরের সমাবেশস্থলে তারা হঠাৎ করে মিছিল নিয়ে এসে মঞ্চে চড়াও হয়। এ সময় সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করার পাশাপাশি এনসিপির উপস্থিত নেতাকর্মীদেরও মারধর করে তারা। সেই সঙ্গে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।
গোপালগঞ্জকে আমরা দিল্লীর কাছে ইজারা দেইনি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গোপালগঞ্জ নিয়ে এক মন্তব্যে লিখেছেন, “গোপালগঞ্জকে আমরা দিল্লীর কাছে ইজারা দেইনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার সহযোদ্ধাদের উপর ন্যূনতম আঘাত আসলে পুরো বাংলাদেশের জনগণ গোপালগঞ্জকে পতিত ফ্যাসিস্টের কব্জা থেকে স্বাধীন করবে ইনশাআল্লাহ।”
সাদিক কায়েম তার পোস্টে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি লিখেন, “পুলিশ প্রশাসন, যৌথবাহিনীর তৎপরতা আশাব্যঞ্জক নয়। দেশবাসী প্রস্তুত থাকুন।”
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গোপালগঞ্জ। সেখানে সমাবেশ শেষে মাদারীপুর যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
এরপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। শেষ খবর পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলছিল। এ অবস্থায় জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান।
বিস্তারিত আসছে...
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য