শিরোনাম
নোয়াখালীতে নিখোঁজের দুইদিন পর খালে মিলল প্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর খাল থেকে এক আরিফ হোসেন (১৩) নামে মানসিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা খাল থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরিফ উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের পরকোট গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফ মাঝে মধ্যে রাতে বাড়িতে যেত না, বাহিরে থাকত, ঘুরাঘুরি করত। রাতে বাড়িতে না থেকে পরের দিন সকালে বাড়িতে চলে যেত। গত শনিবার রাতে আরিফ বাড়িতে না যাওয়ায় রোববার সকাল থেকে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুজি শুরু করে। সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন উপজেলার বদলকোর্ ইউনিয়নের মেঘা খালে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নিহত শিশুর বাবা ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তিনি ছেলের মরদেহ দেখে চিনতে পারেননি। পরে তার মা থানায় এসে ছেলের মরদেহ দেখে ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করে। নিহতের পরিবারের এক সদস্য দাবি করেন, আরিফ হয়তো কারো ঘরে ঢুকতে চেষ্টা তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিশুর মরদেহ খালের পানিতে উপুড় হয়ে ছিল। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশসহ চোখ,মুখ ফুলে যায়। শরীরে এ পর্যন্ত কোন আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে ফেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
ময়মনসিংহে ২ শিশুসহ মাকে গলা কেটে হত্যা
ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই শিশুসহ মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ভালুকা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকার হাইয়ুলের বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন ময়না আক্তার (২৫) ও তার দুই শিশু সন্তান রাইসা (৭) ও নিরব (২)। তারা নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার জেনের বাজার এলাকার বাসিন্দা। গতকাল রাতের যেকোনো সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আকতার উল আলম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পারিবারিক কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। নিহত নারীর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় স্বামী ঘরে ছিলেন না বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের দেবর পলাতক রয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
পাবনায় বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, ২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
পাবনার সুজানগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইগ্রুপের সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ ১৫ জনের আহতের ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় নয়ন খা নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) রাতে বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে গুরুতর আহত সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফের ছেলে আদনানুর রউফ রুদ্র বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার নয়ন খা সুজানগর হাসপাতাল পাড়ার আলতু খার ছেলে। তিনি বিএনপি কর্মী বলে জানা গেছে।
মামলার আসামিরা হলেন- সুজানগর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান খা, সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য কামাল শেখ, বিএনপি কর্মী লেবু খাঁ, পৌর যুবদল সদস্য মানিক খাঁ, সুজানগর এনএ কলেজ শাখার সভাপতি শাকিল খাঁ, সুজানগর পৌর ৬নং ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল খাঁ ও যুবদল কর্মী হালিম শেখ প্রমুখ। গুরুতর আহত বহিষ্কার হওয়া শেখ আব্দুর রউফ কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের অনুসারী। এই মামলার আসামিদের বেশিরভাগ নেতাকর্মী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি একেএম সেলিম রেজা হাবিবের অনুসারী বলে জানা গেছে।
বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের ছেলে বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া ৫০/৬০ অজ্ঞাত জনের নামও রয়েছে। এ ঘটনায় নয়ন খা নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিয়েও পুলিশ কাজ করছে।
জানা গেছে, গত( ৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সুজানগর পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খাঁ ও সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফের সমর্থকদের মধ্যে পূর্বের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সদস্য সচিব রউফ শেখসহ ১৫ জনেরও বেশি নেতাকর্মী গুরুতর আহত হোন। এসময় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে ও ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। অবৈধ অস্ত্র হাতে কয়েকজন নেতাকর্মীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি থাকা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফসহ ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করতে শুক্রবার তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সুজানগরে এসে তথ্য সরবরাহ করেন। হামলার ছবি ভিডিও সংগ্রহ করেন। এছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্রের ভাইরাল হওয়া ছবিও সংগ্রহ করেন প্রতিনিধিদল। পরে থানায় জড়িতদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়ে যান। এসময় শক্তভাবে নিরপেক্ষভাবে ভয়ছাড়া প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজানগর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর খায়ের নেতৃত্বে এদের একটি চক্র তৈরি হয়েছে। অবৈধ বালু কাটা, বাজারে দোকানদারদের থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, স্বর্ণের দোকানে দিনেদুপুরে ডাকাতি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ যাবতীয় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। চলতি বছরের (৩ মার্চ) অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করলে ইউএনওকে মারতে যান মজিবর খাঁসহ ওই চক্রটি। এসময় সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমে বসে থাকা জামায়াত নেতারা বাধা দিলে অফিসের ভেতরেই জামায়াতের উপজেলা নায়েবে আমির ও সেক্রেটারি সহ ৪ জন নেতাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনা সারাদেশে আলোচনার জন্ম দিলে নামেমাত্র কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়। জামায়াত নেতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলেও তেমন কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এছাড়া বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে দিনেদুপুরে ডাকাতির ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
অবৈধ মৎস্য শিকারিদের কবলে হাকালুকি হাওর
এশিয়ার সর্ববৃহৎ ও দেশের বৃহত্তম মিঠাপানির উৎস নামে খ্যাত হাকালুকি হাওরে পানি কমতে শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ মৎস্য শিকারিরা। তারা হাওরের বিভিন্ন বিলে অবৈধভাবে বেড় জাল, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব চালাচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পরে হাওরে মাছ নিধনের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ভোর রাতে এসব মাছ বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। যার কারণে চরম হুমকিতে রয়েছে হাকালুকি হাওরের মৎস্য সম্পদ, জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য।
সম্প্রতি হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থানীয় জেলেদের সংঘবদ্ধ একটি চক্র নিষিদ্ধ বেড় জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে হাওরে। খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার (৮ই জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেনের নেতৃত্বে হাকালুকি হাওরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। অভিযানকালে হাওরের বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা প্রায় ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৩শত টি চায়না দোয়ারী জাল এবং ৬ হাজারটি চাই জাল জব্দ করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা। পরে এসব জাল হাওরের তীরে নিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে মাছ ধরার দায়ে কুঞ্জ লাল বিশ্বাস নামে একজনকে আটক করে তিন হাজার টাকা জরিমানা ও তা আদায় করা হয়। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সোনা মোহন বিশ্বাস এবং কুলাউড়া পুলিশের একটি দল।
এর আগে, গত ১৮ জুন ও ২২ সেপ্টেম্বর হাওরের কুলাউড়া অংশে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ। এ সময় প্রায় ১ হাজার মিটারের দুটি জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।
জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে ‘চকিয়া বিল গ্রুপ (বদ্ধ)’ জলমহালের ১৪৩২-১৪৩৪ বাংলা সনে ইজারা নেন রাজনগর উপজেলার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মো. মাসুক মিয়া। সংঘবদ্ধ জেলেরা ওই জলমহাল থেকে বেড় জাল দিয়ে অবৈধভাবে পোনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে। প্রতিকার চেয়ে গত ২৯ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ইজারাদার মো. মাসুক মিয়া।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে হাওরের বিভিন্ন জলমহালে মৎস্য প্রজননকালীন সময়। মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া ছোট মাছের বংশবিস্তাররত অবস্থায় নিষিদ্ধ বেড় জাল দিয়ে জোরপূর্বক মৎস্য চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলার সাদিপুর গ্রামের বারিক মিয়া, ফয়ছল মিয়া, শিমুল মিয়া, দুলাল মিয়া, পারুল মিয়া ও তাদের জালিয়া সংঘবদ্ধ গ্রুপ।
জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে দুই যুগ আগেও ১১০ প্রজাতিরও বেশি দেশি মাছ ছিল। যা এখন ৫০ প্রজাতির নিচে নেমে গেছে। হাওর থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে মাগুর, রিটা, নানিদ, বাঘাইড়, চিতল, রানী মাছ, এলংসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ। হাকালুকিই দেশের অন্যতম প্রধান মাছের উৎসস্থল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মাছ যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এ হাওরের মাছ খুব সুস্বাদু। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালো বাউস, আইড়, বোয়াল, শোল, গজার, পাঙ্গাস, ঘনিয়া ও ছোট প্রজাতির কই, মাগুর, পাবদা, সিং, পুটি, টেংরা, ভেড়া, মলা, রানি, বাঁচা মাছসহ সব প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এক কথায় এমন কোনো প্রজাতির মাছ ছিল না, যা হাওরে পাওয়া যেত না। অনেক প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে অবাধে শিকারের ফলে।
স্থানীয় লোকজন জানান, হাকালুকি হাওর কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই অরক্ষিত হাওরে দিন দিন পোনা মাছ ধরার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের পরিমাণ কমছে। হাওরের বাস্তু তন্ত্র (ইকো সিস্টেম) রক্ষায় অবিলম্বে হাওরকে উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি হাওর তীরের মানুষের।
কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া উপজেলা ইসিএ কমিটির সভায় হাকালুকি হাওরের উন্নয়ন এবং হাওর তীরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ব্যাপক আলোচনা হয়। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা হাওর উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও প্রকৃত অর্থে হাওরের কিংবা হাওর তীরের মানুষের কোন উন্নয়ন হয়নি। সকল অর্থই হাওরের জলে ভেসে গেছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী মো. মছব্বির আলী, খোরশেদ আলম জানান, হাকালুকি হাওরে বেড়জাল দিয়ে অবাধে মাছ ধরছেন জেলেরা। যার জন্য বর্তমানে হাওরের প্রতিবেশ অতিসংকটাপন্ন। নিষিদ্ধ জালে মা মাছ ও পোনা মাছ ধরা পড়ায় মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। হাওরের প্রতিবেশ রক্ষায় মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম করে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু মাসুদ বলেন, হাওরে পোনা মাছ রক্ষায় আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কয়েক দফার অভিযানে প্রায় ১২ হাজার মিটারেরও বেশি জাল জব্দ করে পোড়ানো হয়েছে। শুধু আইনি পদক্ষেপ দিয়ে হবে না, হাকালুকি হাওর পাড়ের মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেই কেবল অবৈধ জাল এবং পোনা মাছ ধরা বন্ধ হবে।
কুলাউড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ্ জহুরুল হক বলেন, হাকালুকি হাওরে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মৎস্য আহরণের খবর পেয়ে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়রা সচেতন না হলে এভাবে হাওর ও তার জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কঠিন। হাওরের মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বর্তমানে হাওর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইবিএ প্রকল্প কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় চলমান আছে। হাওর তীরের লোকজনের দাবির বিষয়টি আগামী ইসিএ কমিটির সভায় আলোচনা করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তিনি আরো বলেন, হাকালুকি হাওরের পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয় সে বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। হাওরের কুলাউড়া অংশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
মিটফোর্ডে হত্যার প্রতিবাদে কুলাউড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পাথর মেরে ও কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে সর্বস্থরের জনসাধারণ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুলাউড়া উপজেলা।
শনিবার (১২ই জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে পৌর শহরের ডাকবাংলো মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন চৌমুহনীতে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের মৌলভীবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক তানিম হোসেইন রুহিন, জেলা এনসিপি'র সদস্য মোঃ লিংকন তালুকদার, জামায়াত ইসলামী যুব বিভাগ কুলাউড়া পৌর শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অ্যাডভোকেট আহমেদ আল রিপার, কুলাউড়া ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান তারেক, কুলাউড়া এনসিপি'র নেতা ইব্রাহিম মাহমুদ, নাহিদুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মোঃ জাহিদুর রহমান, মোঃ মুহিবুর রহমান, সাইদুল ইসলাম, সাকেল আহমেদ, ফয়েজ আহমদ, ইমন আহমেদ, মোঃ আবদুল মজিদ, আব্দুল খালিক, মোঃ রায়হান, নাহিদ ইসলাম, ফয়েজ আহমেদ, নুরুদ্দিন আহমেদ, রিয়াদ আহমেদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য