শিরোনাম
অবৈধ মৎস্য শিকারিদের কবলে হাকালুকি হাওর
এশিয়ার সর্ববৃহৎ ও দেশের বৃহত্তম মিঠাপানির উৎস নামে খ্যাত হাকালুকি হাওরে পানি কমতে শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ মৎস্য শিকারিরা। তারা হাওরের বিভিন্ন বিলে অবৈধভাবে বেড় জাল, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব চালাচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পরে হাওরে মাছ নিধনের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ভোর রাতে এসব মাছ বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। যার কারণে চরম হুমকিতে রয়েছে হাকালুকি হাওরের মৎস্য সম্পদ, জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য।
সম্প্রতি হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থানীয় জেলেদের সংঘবদ্ধ একটি চক্র নিষিদ্ধ বেড় জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে হাওরে। খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার (৮ই জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেনের নেতৃত্বে হাকালুকি হাওরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। অভিযানকালে হাওরের বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা প্রায় ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৩শত টি চায়না দোয়ারী জাল এবং ৬ হাজারটি চাই জাল জব্দ করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা। পরে এসব জাল হাওরের তীরে নিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে মাছ ধরার দায়ে কুঞ্জ লাল বিশ্বাস নামে একজনকে আটক করে তিন হাজার টাকা জরিমানা ও তা আদায় করা হয়। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সোনা মোহন বিশ্বাস এবং কুলাউড়া পুলিশের একটি দল।
এর আগে, গত ১৮ জুন ও ২২ সেপ্টেম্বর হাওরের কুলাউড়া অংশে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ। এ সময় প্রায় ১ হাজার মিটারের দুটি জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।
জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে ‘চকিয়া বিল গ্রুপ (বদ্ধ)’ জলমহালের ১৪৩২-১৪৩৪ বাংলা সনে ইজারা নেন রাজনগর উপজেলার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মো. মাসুক মিয়া। সংঘবদ্ধ জেলেরা ওই জলমহাল থেকে বেড় জাল দিয়ে অবৈধভাবে পোনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে। প্রতিকার চেয়ে গত ২৯ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ইজারাদার মো. মাসুক মিয়া।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে হাওরের বিভিন্ন জলমহালে মৎস্য প্রজননকালীন সময়। মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া ছোট মাছের বংশবিস্তাররত অবস্থায় নিষিদ্ধ বেড় জাল দিয়ে জোরপূর্বক মৎস্য চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলার সাদিপুর গ্রামের বারিক মিয়া, ফয়ছল মিয়া, শিমুল মিয়া, দুলাল মিয়া, পারুল মিয়া ও তাদের জালিয়া সংঘবদ্ধ গ্রুপ।
জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে দুই যুগ আগেও ১১০ প্রজাতিরও বেশি দেশি মাছ ছিল। যা এখন ৫০ প্রজাতির নিচে নেমে গেছে। হাওর থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে মাগুর, রিটা, নানিদ, বাঘাইড়, চিতল, রানী মাছ, এলংসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ। হাকালুকিই দেশের অন্যতম প্রধান মাছের উৎসস্থল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মাছ যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এ হাওরের মাছ খুব সুস্বাদু। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালো বাউস, আইড়, বোয়াল, শোল, গজার, পাঙ্গাস, ঘনিয়া ও ছোট প্রজাতির কই, মাগুর, পাবদা, সিং, পুটি, টেংরা, ভেড়া, মলা, রানি, বাঁচা মাছসহ সব প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এক কথায় এমন কোনো প্রজাতির মাছ ছিল না, যা হাওরে পাওয়া যেত না। অনেক প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে অবাধে শিকারের ফলে।
স্থানীয় লোকজন জানান, হাকালুকি হাওর কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই অরক্ষিত হাওরে দিন দিন পোনা মাছ ধরার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের পরিমাণ কমছে। হাওরের বাস্তু তন্ত্র (ইকো সিস্টেম) রক্ষায় অবিলম্বে হাওরকে উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি হাওর তীরের মানুষের।
কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া উপজেলা ইসিএ কমিটির সভায় হাকালুকি হাওরের উন্নয়ন এবং হাওর তীরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ব্যাপক আলোচনা হয়। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা হাওর উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও প্রকৃত অর্থে হাওরের কিংবা হাওর তীরের মানুষের কোন উন্নয়ন হয়নি। সকল অর্থই হাওরের জলে ভেসে গেছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী মো. মছব্বির আলী, খোরশেদ আলম জানান, হাকালুকি হাওরে বেড়জাল দিয়ে অবাধে মাছ ধরছেন জেলেরা। যার জন্য বর্তমানে হাওরের প্রতিবেশ অতিসংকটাপন্ন। নিষিদ্ধ জালে মা মাছ ও পোনা মাছ ধরা পড়ায় মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। হাওরের প্রতিবেশ রক্ষায় মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম করে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু মাসুদ বলেন, হাওরে পোনা মাছ রক্ষায় আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কয়েক দফার অভিযানে প্রায় ১২ হাজার মিটারেরও বেশি জাল জব্দ করে পোড়ানো হয়েছে। শুধু আইনি পদক্ষেপ দিয়ে হবে না, হাকালুকি হাওর পাড়ের মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেই কেবল অবৈধ জাল এবং পোনা মাছ ধরা বন্ধ হবে।
কুলাউড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ্ জহুরুল হক বলেন, হাকালুকি হাওরে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মৎস্য আহরণের খবর পেয়ে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়রা সচেতন না হলে এভাবে হাওর ও তার জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কঠিন। হাওরের মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বর্তমানে হাওর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইবিএ প্রকল্প কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় চলমান আছে। হাওর তীরের লোকজনের দাবির বিষয়টি আগামী ইসিএ কমিটির সভায় আলোচনা করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তিনি আরো বলেন, হাকালুকি হাওরের পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয় সে বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। হাওরের কুলাউড়া অংশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
মিটফোর্ডে হত্যার প্রতিবাদে কুলাউড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পাথর মেরে ও কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে সর্বস্থরের জনসাধারণ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুলাউড়া উপজেলা।
শনিবার (১২ই জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে পৌর শহরের ডাকবাংলো মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন চৌমুহনীতে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের মৌলভীবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক তানিম হোসেইন রুহিন, জেলা এনসিপি'র সদস্য মোঃ লিংকন তালুকদার, জামায়াত ইসলামী যুব বিভাগ কুলাউড়া পৌর শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অ্যাডভোকেট আহমেদ আল রিপার, কুলাউড়া ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান তারেক, কুলাউড়া এনসিপি'র নেতা ইব্রাহিম মাহমুদ, নাহিদুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মোঃ জাহিদুর রহমান, মোঃ মুহিবুর রহমান, সাইদুল ইসলাম, সাকেল আহমেদ, ফয়েজ আহমদ, ইমন আহমেদ, মোঃ আবদুল মজিদ, আব্দুল খালিক, মোঃ রায়হান, নাহিদ ইসলাম, ফয়েজ আহমেদ, নুরুদ্দিন আহমেদ, রিয়াদ আহমেদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
এনসিপি'র মৌলভীবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটিতে ৩১ সদস্য এর কমিটিতে ফাহাদ আলমকে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১২ই জুলাই) রাতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এই কমিটির অনুমোদন দেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এ কমিটি আগামী তিন মাস অথবা পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম সমন্বয়কারী করা হয়েছে এহসান জাকারিয়া, কবিরুল ইসলাম রুমন, তামিম আহমেদ, নিলয় রশিদ তন্ময়, আফজাল হোসাইন, সানাউল ইসলাম সুয়েজ, সাফওয়ান জাহান চৌধুরী, সৈয়দ মুফলে উস সালেকীন, আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, আবদুল বারী খোবায়েব, শামায়েল রহমান ও জুনেদ আহমেদ।
কমিটির সদস্যবৃন্দরা হলেন-খালেদ হাসান, নিজাম উদ্দিন, ভিম্পল সিনহা, এএসএম নুরুল হুদা, দেলোয়ার হোসেন দেলু, রাসেল থিংগুজাম, আব্দুস সামাদ, মো. আব্দুল হাসিব, আহ্সান কবির শিবলী, অ্যাডভোকেট কৌশিক দে, লিংকন তালুকদার, হাসান আহমেদ, জাহিদুল হক তালাত, আশরাফ আহমেদ, প্রলয় বিশ্বাস, শাহেদ আহমেদ, আবু হানিফা ও মুহিবুর রহমান কামাল প্রমুখ।
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিতে বিক্ষোভ মিছিল
সারাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। শনিবার ১২ই জুলাই দুপুরের দিকে বড়লেখা পৌর শহরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণবাজার নুরজাহান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্যসচিব তামিম আহমেদ, বড়লেখা উপজেলার সমন্বয়ক আবু হাসান, শিক্ষার্থী আশরাফ মাহমুদ রাহী, আব্দুস সামাদ সাঈদ, রয়হান আহমদ ও আব্দুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঢাকায় এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা আইয়েম জাহেলিয়াতের যুগ কেও হার মানিয়েছে। এই দেশে আর কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা সন্ত্রাস চলতে দেওয়া হবে না। ছাত্রসমাজ জেগে উঠেছে। সারাদেশে দখলদার চাঁদাবাজ চক্র ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
২ লাখ মানুষ পানিবন্দি, দুভোর্গ ফুরাচ্ছে না....
নোয়াখালীতে পানি নামছে ধীর গতিতে, অন্যদিকে কয়েক গ্রাম
টানা চার দিনের পাহাড়ি ঢল ও মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পর টানা দুদিন নোয়াখালীতে রোদ্রৌউজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে অধিকাংশ উপজেলায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর, দুর্গাপুর ও লক্ষীনারায়ণপুর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামে পানি বেড়েছে। স্থানীয়দের ধারণা ফেনীর পানি ঢুকে বৃষ্টি না থাকলে এ অঞ্চলে পানি বেড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে জেলার সদর, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার বাসিন্দারা জানায় তাদের এলাকায় পানি নামছে ধীর গতিতে। এজন্য বেশিরভাগ এলাকায় এখনো বন্যার পানি জমে থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ছয়টি উপজেলার ৫৭টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে ৪৬ হাজার ৭০টি পরিবারের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০৩ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কবিরহাট ও সুবর্ণচর উপজেলায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫টি বসতঘর। সুবর্ণচরে একটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ,পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং পানি নিষ্কাশনের নালা ও জলাশয় গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় শহরবাসীর এ দুর্ভোগ। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন অনেকে। হালকা বৃষ্টিতেই নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এদিকে মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর, সেন্ট্রাল রোড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনো রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে রয়েছে। আশপাশের অনেক বাসাবাড়িতেও পানি জমে রয়েছে। টানা বৃষ্টির বিরতিতে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে তেমন কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আপাতত ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা নেই। তবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন,কয়েকটি গ্রামে পানি বাড়ার বিষয়ে আমার জানা নেই।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, পাঁচটি উপজেলায় ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১ হাজার ৮৫০ জন মানুষ এবং ১৭১টি গবাদি পশু। দুর্গতদের চিকিৎসায় ৫১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি কাজ শুরু করেছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, পানি নিষ্কাশনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য