শিরোনাম
মিটফোর্ডে হত্যার প্রতিবাদে কুলাউড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পাথর মেরে ও কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে সর্বস্থরের জনসাধারণ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুলাউড়া উপজেলা।
শনিবার (১২ই জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে পৌর শহরের ডাকবাংলো মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন চৌমুহনীতে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের মৌলভীবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক তানিম হোসেইন রুহিন, জেলা এনসিপি'র সদস্য মোঃ লিংকন তালুকদার, জামায়াত ইসলামী যুব বিভাগ কুলাউড়া পৌর শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অ্যাডভোকেট আহমেদ আল রিপার, কুলাউড়া ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান তারেক, কুলাউড়া এনসিপি'র নেতা ইব্রাহিম মাহমুদ, নাহিদুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মোঃ জাহিদুর রহমান, মোঃ মুহিবুর রহমান, সাইদুল ইসলাম, সাকেল আহমেদ, ফয়েজ আহমদ, ইমন আহমেদ, মোঃ আবদুল মজিদ, আব্দুল খালিক, মোঃ রায়হান, নাহিদ ইসলাম, ফয়েজ আহমেদ, নুরুদ্দিন আহমেদ, রিয়াদ আহমেদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
এনসিপি'র মৌলভীবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটিতে ৩১ সদস্য এর কমিটিতে ফাহাদ আলমকে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১২ই জুলাই) রাতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এই কমিটির অনুমোদন দেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এ কমিটি আগামী তিন মাস অথবা পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম সমন্বয়কারী করা হয়েছে এহসান জাকারিয়া, কবিরুল ইসলাম রুমন, তামিম আহমেদ, নিলয় রশিদ তন্ময়, আফজাল হোসাইন, সানাউল ইসলাম সুয়েজ, সাফওয়ান জাহান চৌধুরী, সৈয়দ মুফলে উস সালেকীন, আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, আবদুল বারী খোবায়েব, শামায়েল রহমান ও জুনেদ আহমেদ।
কমিটির সদস্যবৃন্দরা হলেন-খালেদ হাসান, নিজাম উদ্দিন, ভিম্পল সিনহা, এএসএম নুরুল হুদা, দেলোয়ার হোসেন দেলু, রাসেল থিংগুজাম, আব্দুস সামাদ, মো. আব্দুল হাসিব, আহ্সান কবির শিবলী, অ্যাডভোকেট কৌশিক দে, লিংকন তালুকদার, হাসান আহমেদ, জাহিদুল হক তালাত, আশরাফ আহমেদ, প্রলয় বিশ্বাস, শাহেদ আহমেদ, আবু হানিফা ও মুহিবুর রহমান কামাল প্রমুখ।
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিতে বিক্ষোভ মিছিল
সারাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। শনিবার ১২ই জুলাই দুপুরের দিকে বড়লেখা পৌর শহরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণবাজার নুরজাহান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্যসচিব তামিম আহমেদ, বড়লেখা উপজেলার সমন্বয়ক আবু হাসান, শিক্ষার্থী আশরাফ মাহমুদ রাহী, আব্দুস সামাদ সাঈদ, রয়হান আহমদ ও আব্দুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঢাকায় এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা আইয়েম জাহেলিয়াতের যুগ কেও হার মানিয়েছে। এই দেশে আর কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা সন্ত্রাস চলতে দেওয়া হবে না। ছাত্রসমাজ জেগে উঠেছে। সারাদেশে দখলদার চাঁদাবাজ চক্র ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
২ লাখ মানুষ পানিবন্দি, দুভোর্গ ফুরাচ্ছে না....
নোয়াখালীতে পানি নামছে ধীর গতিতে, অন্যদিকে কয়েক গ্রাম
টানা চার দিনের পাহাড়ি ঢল ও মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পর টানা দুদিন নোয়াখালীতে রোদ্রৌউজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে অধিকাংশ উপজেলায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর, দুর্গাপুর ও লক্ষীনারায়ণপুর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামে পানি বেড়েছে। স্থানীয়দের ধারণা ফেনীর পানি ঢুকে বৃষ্টি না থাকলে এ অঞ্চলে পানি বেড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে জেলার সদর, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার বাসিন্দারা জানায় তাদের এলাকায় পানি নামছে ধীর গতিতে। এজন্য বেশিরভাগ এলাকায় এখনো বন্যার পানি জমে থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ছয়টি উপজেলার ৫৭টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে ৪৬ হাজার ৭০টি পরিবারের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০৩ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কবিরহাট ও সুবর্ণচর উপজেলায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫টি বসতঘর। সুবর্ণচরে একটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ,পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং পানি নিষ্কাশনের নালা ও জলাশয় গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় শহরবাসীর এ দুর্ভোগ। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন অনেকে। হালকা বৃষ্টিতেই নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এদিকে মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর, সেন্ট্রাল রোড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনো রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে রয়েছে। আশপাশের অনেক বাসাবাড়িতেও পানি জমে রয়েছে। টানা বৃষ্টির বিরতিতে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে তেমন কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আপাতত ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা নেই। তবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন,কয়েকটি গ্রামে পানি বাড়ার বিষয়ে আমার জানা নেই।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, পাঁচটি উপজেলায় ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১ হাজার ৮৫০ জন মানুষ এবং ১৭১টি গবাদি পশু। দুর্গতদের চিকিৎসায় ৫১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি কাজ শুরু করেছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, পানি নিষ্কাশনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল গুডিয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা
মৌলভীবাজারে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে তৈরি করা “বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল”টি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
শুক্রবার (১১ই জুলাই) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অবস্থিত ম্যুরালটি হিন্দুস্তান বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে উল্লাস করেন সাধারণ মানুষ। এসময় তারা ‘বাংলাদেশের জমি মুজিবের স্থান নেই’ এই স্লোগানে স্লোগান মুখরিত করে তোলেন।ম্যুরাল ভাঙার দৃশ্য উৎসুক জনতা মোবাইল ফোনে দৃশ্য ধারণ করতে দেখা গেছে।
ছাত্র-জনতার দাবি, এই ম্যুরাল কোনো গণদাবির ভিত্তিতে নির্মাণ হয়নি। সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করে, জনমতের তোয়াক্কা না করে এই অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছিল। পলাতক স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনার পিতার নামে কোন কিছু এই বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। স্বৈরাচারী হাসিনা ও তার বাবা শেখ মুজিবের চিহ্ন মুছে ফেলা হবে। ভারতে বসে পতিত স্বৈরাচার দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আমরা ছাত্রসমাজ সবসময় প্রস্তুত আছি।
তারা বলেন, মুজিবের নামে এই রাষ্ট্রে জন্ম নিয়েছে এক নতুন রাজতন্ত্র। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই শাসন পরিণত হয়েছে নজিরবিহীন স্বৈরতন্ত্রে। যে শাসন গণতন্ত্রকে হত্যা করে, যে সরকার নিজের সমালোচনায় ছাত্রদের গুলি চালায়, হাজারো মানুষ নিখোঁজ, গুম আর মিথ্যা মামলায় দেশকে ভয়ের কারাগারে পরিণত করে,সে শাসনের প্রতীক ভাঙা সকলের নৈতিক কর্তব্য।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য