শিরোনাম
শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল গুডিয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা
মৌলভীবাজারে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে তৈরি করা “বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল”টি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
শুক্রবার (১১ই জুলাই) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অবস্থিত ম্যুরালটি হিন্দুস্তান বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে উল্লাস করেন সাধারণ মানুষ। এসময় তারা ‘বাংলাদেশের জমি মুজিবের স্থান নেই’ এই স্লোগানে স্লোগান মুখরিত করে তোলেন।ম্যুরাল ভাঙার দৃশ্য উৎসুক জনতা মোবাইল ফোনে দৃশ্য ধারণ করতে দেখা গেছে।
ছাত্র-জনতার দাবি, এই ম্যুরাল কোনো গণদাবির ভিত্তিতে নির্মাণ হয়নি। সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করে, জনমতের তোয়াক্কা না করে এই অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছিল। পলাতক স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনার পিতার নামে কোন কিছু এই বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। স্বৈরাচারী হাসিনা ও তার বাবা শেখ মুজিবের চিহ্ন মুছে ফেলা হবে। ভারতে বসে পতিত স্বৈরাচার দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আমরা ছাত্রসমাজ সবসময় প্রস্তুত আছি।
তারা বলেন, মুজিবের নামে এই রাষ্ট্রে জন্ম নিয়েছে এক নতুন রাজতন্ত্র। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই শাসন পরিণত হয়েছে নজিরবিহীন স্বৈরতন্ত্রে। যে শাসন গণতন্ত্রকে হত্যা করে, যে সরকার নিজের সমালোচনায় ছাত্রদের গুলি চালায়, হাজারো মানুষ নিখোঁজ, গুম আর মিথ্যা মামলায় দেশকে ভয়ের কারাগারে পরিণত করে,সে শাসনের প্রতীক ভাঙা সকলের নৈতিক কর্তব্য।
এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছে জিৎ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় এক শিক্ষার্থী এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এমন ঘটনা ঘটেছে।
এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে প্রকাশিত ফলাফলে দুই বিষয়ে ফেল দেখানো ওই শিক্ষার্থীর নাম জিৎ চন্দ্র মহন্ত। সে চলতি বছর শ্রীকর্ণদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ফার্ম মেশিনারি ট্রেডে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণিত বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জিৎ চন্দ্র মহন্ত ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই বছর ১৪টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে শুধুমাত্র গণিতে ফেল করে। চলতি বছর শুধুমাত্র গণিত বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষায় দেয়। গত বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। তার ফলাফলে গণিত ও কৃষি বিষয়ে ফেল করেছে বলে রেজাল্ট আসে। অথচ তার প্রবেশপত্রে শুধু গণিত বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষার্থী জিৎ চন্দ্র মহন্ত বলে, আমি ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শুধু গণিতে ফেল করেছিলাম। সেই অনুযায়ী এবার শুধু গণিত বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু এখন ফলাফলে দেখছি আমাকে কৃষি বিষয়েও ফেল দেখানো হয়েছে। কৃষি বিষয় আমার পরীক্ষার মধ্যে ছিলই না। এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল দেখে বিস্মিত হয়েছি।
শ্রীকর্ণদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার সহকারী শিক্ষক ওরম ফারুক বলেন, বোর্ডের কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন ফলাফল আসতে পারে। নম্বরপত্র দেওয়ার সময় এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
বিজ্ঞাপন
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি এবং খোঁজ নিয়েছি। আর এ বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা
‘আমরা এখন এতিম হয়ে গেছি, এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব’
ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগের মেয়ে সোহানা বাবা হত্যার বিচার চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখন এতিম হয়ে গেছি, এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? বাবাকে যারা হত্যা করেছে, আমরা তাদের বিচার চাই।”
শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে নিহত সোহাগের লাশ তার স্বজনরা ঢাকা থেকে বরগুনার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় তার মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোহাগের বয়স যখন মাত্র ৭ মাস, তখন বজ্রপাতে তার বাবা আইউব আলীর মৃত্যু হয়। জীবিকার তাগিদে তার মা আলেয়া বেগম শিশু সোহাগ ও তার দুই বোনকে নিয়ে বরগুনা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকাতে পরে সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ‘মেসার্স সোহানা মেটাল’ নামে একটি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি তার স্ত্রী লাকি বেগম ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকার জিঞ্জিরা কদমতলী কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের পরিবার জানায়, সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অভিযুক্তরা তার দোকান তালাবদ্ধ করে দেয়। বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে সোহাগকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে চাঁদার জন্য চাপপ্রয়োগ করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে পাথর মেরে তাকে হত্যা করা হয়।
সোহাগের বোন ফাতেমা বেগম বলেন, আমার ভাই ১০-১৫ বছর ধরে ব্যবসা করছিলেন। প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হতো। তারা ব্যবসাটাও কেড়ে নিতে চেয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।
সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামীর দোকান থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তারা আমার স্বামীর ব্যবসা সহ্য করতে পারছিল না। প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা দাবি করা হতো। তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় এভাবে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হলেন।
অনৈতিক সম্পর্ক, নারী-পুরুষকে সারারাত গাছে বেঁধে রাখলেন এলাকাবাসী
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত ২টার দিকে উপজেলার চর দেশগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তির প্রবেশ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছিল। রাতে মুনজেল ওই ঘরে ঢোকার পর স্থানীয়রা তাকে হাতে-নাতে আটক করে এবং ভোররাত পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।
গ্রামবাসীর হাতে আটক ব্যক্তি দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল (৪৫)। এবং ধামশ্বর ইউনিয়নের গালা এলাকার মৃত শিরজন আলীর ছেলে।
ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান পিন্টু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাত দুইটার দিকে এলাকাবাসী তাদের আটক করে গাছে বেঁধে রাখে। তারা দুজনেই অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। ওই নারীর প্রবাসী স্বামী এখন তাকে নিয়ে সংসার করবে না বলে জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত দুজনেই দুজনকে বিয়ে করতে রাজি আছেন। এখন সামাজিকভাবে বিষয়টা মীমাংসার চেষ্টা চলছে। দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দৌলতপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল-মামুন বলেন, বিষয়টি জানার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়ছিল। তবে এ বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ নেই। শুনেছি স্থানীয়ভাবে তাদের বিবাহের প্রস্তুতি চলছে।
সুনামগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে উপজেলার বাগানবাড়ি সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৫) উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে শফিকুল ইসলাম বাগানবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আনতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোয়ারা বাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দোয়ারা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, নিহত শফিকুলের বুকে গুলি লেগেছিল। রাতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধপথে গরু আনতে গিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য