শিরোনাম
নোয়াখালীতে ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ
‘ভাতের পাতে স্বস্তি ফেরাও’ স্লোগানে ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের উদ্যোগে বিভিন্ন সংগঠন এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সম্পাদক নুরুল আলম মাসুদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সম্পাদক ও কৃষক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান পলাশ, এসএইচবিও এর প্রকল্প সমন্বয়ক আরাফাত হোসেনসহ অনেকে।
এ সময় বক্তারা বলেন, বর্তমানে চালের ভরা মৌসুম হওয়া স্বত্বেও দেশে চালের দাম বিগত সব সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে সাধারণ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে। চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনে সংকটাপন্ন তৈরী করেছে। গেল কয়েক মাসে দেশে আমন ও বোরো উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে কৃষক সেই ধানের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। অন্যদিকে একটি গোষ্ঠি কৃষি পন্যের সিন্ডিগেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। এমন অবস্থায় কৃষি সংস্কার কমিশন গঠনসহ সিন্ডিগেডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ মজুদদারের এক বছরের কারাদণ্ড
পিরানহা মাছ নিষিদ্ধ ঘোষিত তারপরও বিশাল মজুতে এক বছরের কারাদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৩০শে জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পশ্চিম বাজারে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মৎস্য আড়তে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
এতে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাজ উদ্দিন। তিনি জানান, উপজেলা মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানকালে ‘অপূর্ব মৎস্য আড়তে' সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ পিরানহা মাছের বিশাল মজুত পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থল থেকে মজুতকারি মো. টিটু মিয়া (৫২) কে হাতেনাতে গ্রেফতারপূর্বক অপরাধ স্বীকারোক্তির পর মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এর ধারায় ৩ লংঘনের অপরাধে ০১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত মৎস্য প্রায় ২৫৮ কেজি। বিধি অনুযায়ী বিলিবন্দেজের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হামলায় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরা
হামলা চালিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা, আহত ১০ গণমাধ্যমকর্মী
চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা চালিয়েছে আওয়ামীলীগ সংশ্লিষ্ট কতিপয় নামধারী গণমাধ্যমকর্মী।সোমবার (৩০ জুন) বেলা ১২ টার দিকে পৌরদিঘীর পাড়ে অবস্থিত সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে তারা হমালার ঘটনা ঘটে।
এসময় দখল করতে আসা মবকে প্রতিহত করতে যেয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক।
জানা যায় এই হামলার ঘটনায় মদত দিয়েছেন স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত কথিত সাংবাদিক, বহুল আলোচিত আবুল কালাম আজাদ ও কল্যাণ ব্যাণার্জী।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু নাসের মোঃ আবু সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারীর নেতৃত্বে প্রেসক্লাব শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করতে আবুল কালাম আজাদ ও কল্যাণ ব্যাণার্জি এই কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে।
তারা নিয়ম বহির্ভূত ও গায়ের জোরে অজ্ঞাত স্থান থেকে সাংবাদিক আবুল কাশেম ও আসাদুজ্জামান আসাদকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে একটি তথাকথিত প্রেসক্লাবের কমিটি ঘোষনা করেন গত ১৬ মে ২০২৫। এই কমিটিতে আওয়ামীলীগ, যুবলীগের সাথে সংশ্লিষ্টদের স্থান দিয়ে প্রেসক্লাব দখলের পায়তারা করতে থাকে।
একপর্যায়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আবুল কাশেম ও আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে বেলা ১২ টার দিকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখল করতে আসে। এসময় যুবলীগ নেতা জি, এম জিন্নাহ, এম বেলাল হোসেন, আ’লীগ নেতা লিটু, তাঁতীলীগ নেতা বাবলু, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ নেতা হাবিবুল বাশার ফরহাদ, সাতক্ষীরা জেলা সৈনিকলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম ওরফে থাই কালাম, সন্ত্রাসী আমিনুর রহমানসহ ৩০ জনের অধিক সন্ত্রাসীরা প্রেসক্লাবে প্রবেশের চেষ্টা করে।
এসময় প্রেসক্লাবে অবস্থানরত সাংবাদিকরা তাদের বাধা দেয়। উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হলে দখল করতে আসা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উপর লাঠি সোটা নিয়ে হামলা শুরু করে। এতে কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। লাঞ্ছিত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকেজন সাংবাদিক। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার কিছু সময় পর বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আবারো দলবদ্ধ হয়ে প্রেসক্লাব দখল করতে আসে। তবে, পুলিশ ও সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে তারা পিছিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে।
সন্ত্রাসীদের হামলায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শাওন, আল ইমরান, অমিত কুমার ঘোষসহ কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।
এদিকে, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সকল স্তরের সাংবাদিক মহল ও সুধী সমাজ। একইসাথে অনতিবিলম্বে আবুল কাশেম, আসাদ, নেপথ্যে থাকা আবুল কালাম আজাদ, কল্যাণ ব্যাণার্জীসহ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন সাতক্ষীরাবাসী।
প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাওয়া বিধবাকে গণধর্ষণ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাওয়া এক বিধবাকে গণধর্ষণের অভিযোগে মো.সিরাজ উদ্দিনকে (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২৯ জুন) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১,সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, একই দিন বিকেলে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার ইছাখালী ইউনিয়নের হাফিজ গ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১ ও র্যাব-৭।
গ্রেপ্তার সিরাজ সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাজী মোখলেছ এলাকার নবী মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ভিকটিম ও আসামিরা একে অন্যের প্রতিবেশী। নির্যাতিত নারীর স্বামী দুই বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে তিনি তার ছেলে সন্তানসহ বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। গত ১১ মে রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামি সিরাজ ও ওসমান ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে তাকে পাশের পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে দুই হাত গামছা দিয়ে বেঁধে মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে আসামিরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী ঘরে ফিরে মাকে বিষয়টি অবহিত করেন।
র্যাব-১১ এর সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু্ আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দেন। জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চরজব্বর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৮
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযান চালিয়ে রোববার (২৯ জুন) দুপুরে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ গজনাইপুর গ্রামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। ওই সময় মসজিদের মাইকে ডাকাত এসেছে বলে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করা হয়। প্রায় দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশকে ঘিরে ধরে হামলা চালায় এবং গ্রেপ্তার হওয়া নজর উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেয়।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. কামরুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হামলার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে একজন এজাহার নামীয় আসামিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে জনতার বাজারে পশুর হাট অপসারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের ধরতেই পুলিশের ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। মামলায় এজাহারভুক্ত ৪২ জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ থেকে ১৫০ জন আসামি রয়েছেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য