শিরোনাম
নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার অর্থায়নে ২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার
জনদুর্ভোগ কমাতে নোয়াখালীর পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের মতিপুর থেকে আব্দুল্লাহ মিয়ারহাট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করেছেন লন্ডন প্রবাসী ও লন্ডন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আবু তাহের শাহজাহান। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে ইট, বালু ও খোয়া ফেলে দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তোলেন তিনি।
বুধবার (৪মে) সকাল থেকে সংস্কারের কাজ চলতে থাকে। ১২ জন শ্রমিক তিন দিনব্যাপী সংস্কারের কাজ করবেন।
স্থানীয়রা জানায়, এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। বর্ষা মৌসুমে গর্তে পানি জমে দুর্ঘটনার হারও বাড়ছিল। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কাদা পানিতে একাকার হয়ে সড়কটিতে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আমার ছেলে স্কুলে যায়। আগে প্রায়ই পড়ে যেত, জামাকাপড় ভিজে যেত। এখন স্বস্তিতে যেতে পারে।”
মতিপুর গ্রামের গৃহবধূ রহিমা খাতুন জানান, “রাস্তাটা আগে এতই খারাপ ছিল, রিকশা পর্যন্ত আসতো না। এখন অন্তত জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি আনা নেওয়া করা যায়।”
একই এলাকার যুবক নাজিম উদ্দিন বলেন, “আমরা অবাক হয়েছি—দেশের বাইরে থেকে এসে উনি এলাকার কথা ভাবেন। আবু তাহের ভাইয়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারিভাবে রাস্তাটি বারবার দাবি করা হলেও তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। একজন প্রবাসী উদ্যোগ নিয়ে তা সংস্কার করায় স্থানীয়রা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের শাহজাহান বলেন, আমি এলাকায় এসেছি আট দিন হয়েছে এর মধ্যেই কয়েকটি দুর্ঘটনা আমার সামনে ঘটেছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের কে নিয়ে রিক্সায় উল্টে যেতে দেখেছি। তাদের অবস্থা দেখে আমার খারাপ লেগেছে, তার জন্য আমি এ সংস্কার কাজ করি।
নোয়াখালীতে প্রতিবেশির সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে পুকুর খনন, হুমকির মুখে কোটি টাকার পাকা বাড়ি
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবেশির বাড়ির পাকা সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে পুকুর খননের ফলে প্রাচীর ভেঙে পড়ার পাশাপাশি কোটি টাকা মূল্যের একটি পাকা ভবন ভাঙনের মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার (৩০ মে) উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি। উল্টো প্রতিপক্ষের লোকজনের হুমকিতে অবরসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সিরাজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর গ্রামের অবরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মাইন উদ্দিন চার বছর আগে তাঁর বাড়ির সীমানায় একটি পাকা দেওয়াল (প্রাচীর) নির্মাণ করেন। বছরখানেক আগে সীমানা প্রাচীরের পাশ্ববর্তী জমির মালিক নাছির উদ্দিন তাঁর প্রাচীর ঘেঁষে পুকুর খনন করে। তিনি প্রতিবাদ করেন এবং সীমানা প্রাচীর থেকে অন্তত: ১০ ফুট দূরে পুকুর খনন করার অনুরোধ করেন। এতে তাঁর সীমানা প্রাচীর অনেকটা হুমকির মুখে পড়ে।
মাইন উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ৩০ মে প্রতিপক্ষ তাঁর সীমানা প্রাচীর ঘেঁসে খনন করা পুকুর পুণরায় খনন গভীর করে খনন করেন। এতে তাঁর সীমানা প্রাচীরের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পুকুরের মধ্যে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে সীমানা প্রাচীর সরে যাওয়ায় প্রাচীরের ভেতরে তাঁর কোটি টাকা খরচ করে তৈরী করা নতুন পাকা ভবন বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু নাছের বলেন, তিনি সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাছের খামারের ব্যবসা করছেন। তিনি খামার করার অনেক পরে মাইন উদ্দিন বাড়ির সীমানা প্রাচীর করেছেন। তিনি প্রাচীর নির্মাণ করার সময়ই পুকুরের কিনার ঘেঁষে প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। তা ছাড়া তিনি প্রাচীরের ভেতরের অংশ খনন করে পাইপ বসিয়েছেন। এতে প্রাচীর ভেঙে তাঁদের খামারের পুকুরে পড়েছে। তিনি এখন বিষয়টি নিয়ে অপপ্রাচার চালাচ্ছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে পুকুর খনন এবং পুকুরে প্রাচীর ভেঙে পড়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি নন-এফআইআর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।
পর্যটন এলাকায় ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক ওই যুবকের নাম ঠিকানা জানা যায়নি।
বুধবার (৪ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের রহমত বাজার পর্যটন কেন্দ্র এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে নলচিরা নৌ-পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার মেম্বার জানান, সকালে জোয়ারের পানিতে বুড়িরচর ইউনিয়নের মেঘনা নদী সংলগ্ন রহমত বাজার পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় জোয়ারের পানির সাথে মরদেহটি ভেসে আসে। একপর্যায়ে মরদেহ সেখানে গোল গাছের সঙ্গে আটকা পড়ে। জোয়ারের পানি নেমে গেলে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পায়। পরে পুলিশে খবর দেয়। অর্ধ গলিত যুবকটির বয়স আনুমানিক ৪০-৪২ বছর হবে। তার গায়ে কালো টি-শার্ট রয়েছে, তবে পরনে কোন প্যান্ট ছিলনা। মরদেহটি ফুলে গেছে ও পচন ধরেছে। চেহারা ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি কয়েক দিন আগের হবে।

যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ ফয়সাল বলেন, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। মরদেহটি কার বা কোথা থেকে ভেসে এসেছে তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার ও যুবকের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
কোম্পানীগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (৪ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম। এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বড় বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্টি অপারেটর আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আমার বড় ভাই সৌদি প্রবাসী আব্দুল বাতেনের নতুন বাড়ির বিল্ডিংয়ের দরজার লক ভেঙ্গে ৮-১০ জন মুখোশধারী ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। একপর্যায়ে ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোন বন্ধ করে খাটের নিচে ফেলে দেয়। এরপর তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে করে নগদ ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।
ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তারপরও মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুরে ধানক্ষেত থেকে ভুয়া দুদক চেয়ারম্যান গ্রেফতার
দিনাজপুরের একটি ধানখেত থেকে দুদক চেয়ারম্যান পরিচয় দেওয়া রেজোয়ানুল হক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ জুন) সকালে র্যাব-১৩ এর সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুদকের পক্ষ থেকে তাকে ধরিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল।
এক সংবাদ বিবৃতিতে দুদক জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নামে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে রেজোয়ানুল হক নামের এক ব্যক্তি মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার সন্ধান পেলে দুদক কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করে সংস্থাটি। রেজোয়ানুল হকের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে। তার নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। চক্রটি দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে ভুয়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করছে। ওই চক্রের সদস্যরা সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করছে বলে জানিয়েছিল দুদক।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রতারণার মামলায় তাকে এর আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; কিন্তু জামিনে বের হয়ে আবারও প্রতারণা করছেন রেজোয়ানুল।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য