শিরোনাম
তিন সীমান্ত দিয়ে ৬৪ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করল বিএসএফ
মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ফেনী সীমান্ত দিয়ে আরও ৬৪ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। পরে বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে দেখতে পেয়ে তাদের আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের বেশিরভাগের বাড়ি কুড়িগ্রামে। অনেকেই কাজের জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।
মৌলভীবাজারে ২৯ জনকে পুশইন
মৌলভীবাজারের জুড়ি ও কমলগঞ্জ উপজেলার তিনটি সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ২৯ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় বিএসএফ। জুড়ির রাজকি ও কমলগঞ্জের বিওপির সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজকি সীমান্ত দিয়ে নারী পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশইন করা হয়। একই সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলার বাগিছড়া ও চাম্পাপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী পুরুষ ও শিশুসহ আরও ১৪ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। তাদের আটক করে স্থানীয় ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিজিবি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই বাংলাদেশের কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তাদের জিজ্ঞেসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল তারা। বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো জাকারিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি রাজকি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবুল হাশেম ১০ জন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চুনারুঘাট সীমান্তে শিশুসহ ২২ জনকে পুশইন
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্তে আবারও বিএসএফ ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রেমা বিওপির আওতাধীন ডেবরাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের টহল দল ঘটনাস্থল থেকে ৯ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৫ জন শিশুকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার মৃত ওসমান মিয়ার ছেলে জোহর আলী (৮০), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (৬০), তাদের ছেলে মো. আরিফ (১৯), মো. আসাদুল (৩০), একই উপজেলার মন্ডলগড়া এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে মো. আশরাফুল (৩৫), তার স্ত্রী মোছা. জাহানারা (৩০), মেয়ে মোছা. কাকলী (১০) ও মোছা. আশরাফী (৬), কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার স্বাধীর গ্রামের মৃত নবাব উদ্দিনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম (৩৫) ও তার স্ত্রী মোছা. আফরোজা (২৪), ফুলবাড়িয়া উপজেলার মৃত শাহনবী এলাকার মো. আ. হামিদ (৪২), মোছা. রেহানা বেগম (৪০), তাদের ছেলে মো. সুজন (২২), মেয়ে মোছা. হাসি খাতুন (১৮), একই এলাকার মো. সুজন মিয়ার স্ত্রী মোছা. পারভীন বেগম (২১), আব্দুল হামিদের ছেলে মো. শাহিনুর (৩), মো. হাসানুর (৭), ফুলবাড়িয়া উপজেলার মৃত স্বরেশ আলীর ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৫০), তার স্ত্রী মোছা. ফাতেমা বেগম (৪৭), ছেলে মো. ইমরান হোসেন, মো. ইমরান হোসেনের স্ত্রী মোছা. সাবিনা (২০), একই উপজেলার কাশিপুর এলাকার ইমরান হোসেনের ছেলে (২২) মো. ইসমাইল হোসেন (২)।
বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার তিন দিন আগে ২৬ মে একই উপজেলার কালেঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন করেছিল।
ছাগলনাইয়া সীমান্তে পরিত্যক্ত ঘরে শিশুসহ ১৩ জন
ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন করেছে বিএসএফ। শুক্রবার ভোরে ছাগলনাইয়া সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইন করা হয়। শুক্রবার দুপুরে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টায় ছাগলনাইয়া বিওপির টহল দল মথুয়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে শিশুসহ ১৩ জনকে দেখে সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৩ জন মহিলা এবং ৬ জন শিশু রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা বিভিন্ন সময় ইট ভাটার কাজ করার জন্য ভারতে যান। ৩০ মে রাত দেড়টার দিকে সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ তাদের প্রথমে হাত ও চোখ বেঁধে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়। পরে হাত ও চোখের বাঁধন খুলে বাংলাদেশে পুশইন করে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও অন্ধকারের কারণে তারা মথুয়া এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে অবস্থান করে। তাদের সকলেই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন, কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী থানার নাগদেহ গ্রামের মো. হোসেন আলীর ছেলে মো. আলতাফ (৩৯), আলতাফ হোসেনের স্ত্রী মোমিনা বেগম (৩২)। একই পরিবারের অন্য পাঁচজন হলেন, ফুলবাড়ী থানার পানি মাছ কুটি গ্রামের জকিরল হকের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮), মো. আমিনুলের স্ত্রী উর্মি বেগম (২৯), মো. আমিনুলের ছেলে ওহিদুল ইসলাম (১১), মো. রেজাউল হক (৯), আরিফা আক্তার (৩)। একই পরিবার আরও ৫ জন হলেন, ফুলবাড়ী থানার পানি মাছ কুটি গ্রামের জকিরুল হকের ছেলে মোমিনুল হক (৩৫), মোমিনুল হকের স্ত্রী শেফালী বেগম (৩০), মোমিনুল হকের মেয়ে মনিজা আক্তার (১৩), মনজু আক্তার (১০), মোমিনুল হকের ছেলে রমজান আলী (৩ মাস)। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার ছোট ধনিসরকাটা গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে মো. ইশরাক হোসেন (৪০)।
ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডারের কাছে মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার।
ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে মুমতাজ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ময়মনসিংহ মহানগর মাদ্রাসা বিভাগের উদ্যোগে আজ ৩০ মে সকাল ৯টায় নগরীর পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন মহানগর কার্যালয়ে কৃতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ময়মনসিংহ মহানগর সভাপতি শরিফুল ইসলাম খালিদ। সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর মাদ্রাসা সম্পাদক আব্দুল আউয়াল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারি জনাব মোজাম্মেল হক আকন্দ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মহানগর স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক ফারহান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ মহানগরের বিভিন্ন মাদ্রাসায় উত্তম ফল অর্জনকারী ১৬০ জন শিক্ষার্থীকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
ক্রেস্ট গ্রহণের পর কিছু শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পায় এবং তারা এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ছাত্রশিবিরকে ধন্যবাদ ও প্রশংসা জানান।
নোয়াখালীতে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে দুর্ভোগ-আতঙ্ক, ২৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে এক দিনে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। এতে উপকূলীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ও চরহাজারী ইউনিয়ন,চরএলাহী ও হাতিয়ার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন গ্রাম ব্যাপক ভাবে প্লাবিত হওয়ায় পরিস্থিতি দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ মে) সকালে জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। গভীর নিম্নচাপের কারণে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের তোড়ে কোম্পানীগঞ্জ ও হাতিয়ার কয়েকটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে । ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। ডুবে গেছে ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল। হাতিয়ার মেঘনা নদীতে এমভি প্রাহিম একটি পণ্যবাহী ট্রলার চার কোটি টাকার মালামাল নিয়ে ডুবে যায়। উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত জোয়ারের পানি ঢুকতে শুরু করেছে নিঝুম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ ও জাতীয় উদ্যানের বনের হরিণ। এছাড়া হাতিয়ার চরইশ্বর, নলচিরা, ঢালচর, সুখচর, চরঘাসিয়াসহ বিভিন্ন চরের সড়ক ও বাড়িঘরে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত জোয়ারের অতিরিক্ত পানির ভয়ে।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মোমিন বাবলু জানান, লঘুচাপের প্রভাবে হাতিয়াতে শুক্রবার সকালেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ো বাতাস ও সাগর উত্তার থাকায় তৃতীয় দিনের মত হাতিয়ার সাথে সারাদেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে ব্যাপক প্লাবিত হয়েছে। সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারের নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের প্রধান সড়ক গুলো প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে নিচু অঞ্চলের বাড়িগুলোতে। বেড়িবাঁধ না থাকায় সহজে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয় নিঝুমদ্বীপ। এতে প্রায় ৪৫হাজার মানুষ পানিবন্ধি রয়েছে।
অপরদিকে, টানা বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে শহরের ফ্ল্যাট রোড, শিল্পকলা একাডেমির পাশের সড়ক, হাকিম কোয়ার্টার সড়ক। এছাড়া সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ছিলনা বিদ্যুৎ।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমদ বলেন, বৈরী আবহাওয়া মোকাবেলায় আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেডক্রিসেন্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ কাজ করছে।
সোসাইটি অফ স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট (SSLT)-এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
সরকার কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশে বাক ও ভাষাগত সমস্যা নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের সংগঠন সোসাইটি অফ স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট (SSLT)-এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।বিশেষ করে শিক্ষানগরী ময়মনসিংহের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এন্ড হেলথ সায়েন্সেস এবং ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট(BHPI) এ জমকালো আয়োজনে আয়োজিত হয় এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। দিনভর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয় এ দিনটি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
উক্ত অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগের প্রভাষক মৈত্রী চক্রবর্তী। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ড. শামীম আহমেদ পি.টি.। এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সোসাইটি অব স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট এর সভাপতি জনাব ফিদা আল শামস।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রভাষক মৈত্রী চক্রবর্তী বলেন, ❝কথাই অসুখ,কথাই ওষুধ। কথার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি তার জীবনের পথ চলেন। কথা একটি শিল্প,যে যত বেশি চর্চা করেন,সে তত সফল হতে পারেন।❞ তাছাড়া তিনি সোসাইটি অব স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন ইতিহাসের প্রতি আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে ড. শামীম আহমেদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ❝বাংলাদেশে স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি যত দ্রুত গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত হবে তত দ্রুত এই পেশা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে। গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত পৌছাতে পারলেই স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি পেশা সফল ও সার্থক হয়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদী।❞
সমাপনী ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোসাইটি অব স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টের সভাপতি জনাব ফিদা আল শামস বলেন, ❝স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য রিহ্যাবিলিটেশন স্বাস্থ্য পেশা এ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের এখনও যথেষ্ট সচেতনতার অভাব রয়েছে। স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের সরকার স্বীকৃত পেশাজীবি সংগঠন সোসাইটি অব স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারকে যথাসময়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।❞
তিনি আরও বলেন,❝বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-বিধি ইতোমধ্যে পাশ হয়েছে, এখন দরকার এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।❞
বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল হতে অবিলম্বে কোয়ালিফাইড স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের লাইসেন্সিং ও স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিসহ অন্যান্য রিহ্যাবিলিটেশন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল হতে সঠিক মনিটরিং এর আওতায় আনতে শীঘ্রই উদ্যোগ নেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
সেবাগ্রহীতাগণ যেন প্রকৃত স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট হতে চিকিৎসা সেবা পান।
স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি পেশাজীবিদের মর্যাদা রক্ষা ও সম্মানের সাথে প্র্যাক্টিস নিশ্চিত করতে পারেন সেজন্য নিরলস কাজ করছে SSLT.
অনুষ্ঠান শেষে সকলেই এসএসএলটি-এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও জাতীয় পর্যায়ে বাক ও ভাষা থেরাপির পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তলিয়ে গেছে নিঝুমদ্বীপ
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুধবার (২৮ মে) ভোররাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বর্তমানে আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা এবং সমুদ্রের পানি উত্তাল।
অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদ-নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। এতে হাতিয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ডভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপজেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে হাতিয়ার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সব ধরনের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এদিকে সকাল থেকেই নিঝুমদ্বীপের চারপাশের নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিঝুমদ্বীপের ৯টি ওয়ার্ডের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, বিপাকে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নিঝুমদ্বীপের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ না থাকায় সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয় নিঝুমদ্বীপ। দিনের বেলায় একবার জোয়ার হয়েছে। বর্তমানে তীব্র বাতাস হচ্ছে। এভাবে পুরো নিঝুমদ্বীপ তলিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে মোল্লা গ্রাম, বান্ধাখালী গ্রাম, পূর্ব মুন্সী গ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, পূর্বাঞ্চল গ্রাম, মদিনা গ্রামসহ নিঝুমদ্বীপের সবগুলো গ্রামে পানি ঢুকেছে। বর্তমানে মানুষ বিপাকে আছে।

নামার বাজার এলাকার বাসিন্দা জামশেদ হোসেন বলেন, নামার বাজারসহ আশপাশের সকল রিসোর্ট তলিয়ে গেছে। রাতে আরেকবার জোয়ার হবে। মানুষ জোয়ারে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। আল্লাহ রক্ষা না করলে বাঁচার সুযোগ নেই। সব তলিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নোয়াখালীর অন্য কোথা থেকে লোকজন হাতিয়ায় যেতে পারছেন না এবং হাতিয়া থেকে কেউ নোয়াখালীতে আসতে পারছেন না।
হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। দোকানপাটে মানুষ নেই। বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বসে আছে। কাজে যেতে পারছে না। তিন নম্বর সংকেত দেওয়া হলেও মানুষের মাঝে সচেতনতা নেই।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, হাতিয়া উপজেলা বর্তমানে তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের আওতায় রয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। সতর্কতা হিসেবে জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। প্লাবিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী বলেন, জোয়ারের ফলে স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বেড়িবাঁধের বাইরে যেন কেউ না থাকে, সেবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য