শিরোনাম
মেডিকেলের ক্লাস শুরুর তারিখ ঘোষণা
দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ক্লাস আগামী ১৭ জুন শুরু হবে। আজ রোববার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আগামী ১৭ জুন থেকে শুরু হবে।
গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের ৩৭ সরকারি ও ৬৭ অনুমোদিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি মেডিকেলে মোট আসন ৫ হাজার ৩৮০ ও বেসরকারিতে মোট আসন ৬ হাজার ২৯৩।
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী
রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারে অবস্থিত সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী সাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে শাখা ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ মে) সোহরাওয়ার্দী কলেজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি সংবাদ সম্মেলনে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এক সদস্যের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এছাড়া ওই সাংবাদিককে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন তিনি।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসেন এসে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিমউদ্দীনকে জানালে তিনি সাকিলকে সরি বলতে বলেন এবং সমঝতা করে দেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্যও সতর্ক করে দেন।
এছাড়া, তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বেপরোয়া আচরণ করতেও দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগে ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও গত ৫ আগস্টের সাকিল আহমেদ খোলস পাল্টিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেন। ছাত্রলীগের লেবাস পরিবর্তন করতে ৫ আগস্টের পর তিনি তার আগের ফেসবুক আইডি বন্ধ করে নতুন আইডি খোলেন।
তার আগের আইডির নাম ছিল এস বি সাকিল আহমেদ। ওই আইডির মাধ্যমে তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচারণা চালাতেন। এ সংক্রান্ত দুটো স্কিনশর্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর একটি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন নিয়ে এবং অপরটি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোক দিবসের। ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বর্তমান আইডিতেও রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বিভাগের মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বের করে দেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহপাঠি বলেন, “সাকিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে থেকে বিভিন্ন হুমকি দিত এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিত। এজন্য তাকে আমাদের বিভাগের মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এটা আমাদের ব্যাচের ১৪৭ জন শিক্ষার্থীর সবাই জানে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে সাকিল আহমেদ বলেন, “ওই আইডিটা আমার না, এটা অন্য কারো আইডি। আমি ছাত্রলীগ করি বা ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টটা আছে- এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারলে আপনারা যে শাস্তি দেবেন, মাথা পেতে নিব। আমার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।”
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিমউদদীন বলেন, “সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলে ছাত্রলীগের কোনো দোসরদের জায়গায় হবে না। এমন কেউ থাকলে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
তিনি বলেন, “সাকিলের বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়েছি, সে ছাত্রলীগ করত না। ওই আইডি আর তার আগের আইডির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেটা আপনারা ভালো করে দেখলেই বুঝতে পারবেন।”
দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর বাঙলা কলেজের ওয়েবসাইট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে সরকারি বাঙলা কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। ফলে কলেজ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নোটিশ জানতে ভোগান্তিতে পড়ছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এ যুগে একটি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অত্যাবশ্যকীয় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট অকার্যকর থাকায় নানা অফিসিয়াল কাজকর্ম করতে গিয়ে বাড়তি হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই।
জানা যায়, কলেজের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক আপডেট, পরীক্ষার সময়সূচি এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক তথ্য জানার অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট। কিন্তু বাঙলা কলেজের ক্ষেত্রে সেটি দীর্ঘদিন যাবৎ অকার্যকর থাকায় শিক্ষার্থীদের বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সঠিক তথ্য পেতে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি নানা বিভ্রান্তিও তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়টি নিয়ে বাঙলা কলেজের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ওয়েবসাইট বন্ধ থাকতে পারে।
সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমেদ বলেন, "অফিসিয়াল নোটিশ পাওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো ওয়েবসাইট। এছাড়াও বিভিন্ন তথ্য ও আপডেট জানার জন্য ওয়েবসাইটের প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় আমরা বারবার সমস্যায় পড়ছি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েবসাইট তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক নাহিদা পারভিন বলেন, “ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি সফটওয়্যার কোম্পানির কাছে ছিল। কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এমনটা হয়েছে। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। যত দ্রুত সম্ভব ওয়েবসাইটটি চালু করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি দুই এক দিনের মধ্যেই তা সচল হবে।”
শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমান ডিজিটাল যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট অচল থাকা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। অবিলম্বে ওয়েবসাইট সচল করে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের দাবি জানান তারা।
গোবিপ্রবির ৩ বিভাগে নেই স্নাতকোত্তর
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের অধীনে তিনটি বিভাগে শুধু স্নাতক পর্যায়ে পাঠদান চলছে। তবে আজো স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান চালু হয়নি।
এ বিভাগগুলো হলো- কৃষি, অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স। বর্তমানে কৃষি বিভাগে নবম ব্যাচ, ভেটেরিনারি বিভাগে সপ্তম ব্যাচ এবং ফিশারিজ বিভাগে সপ্তম ব্যাচে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত।
এর মধ্যে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে কৃষি বিভাগে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম চালু করা হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ফিশারিজ ও ভেটেরিনারি বিভাগে এখনো স্নাতকোত্তর চালু করা সম্ভব হয়নি।
কৃষি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য স্নাতকোত্তর থাকা জরুরি। স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের উচ্চতর জ্ঞান ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করতে গেলে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, তত্ত্ববধায় সংক্রান্ত সমস্যা ভোগেন। এছাড়া বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সহযোগিতা কম থাকে। আর অযথা সময়ও নষ্ট হয়।”
ফিশারিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী নুরুল আলম বলেন, “স্নাতকোত্তর না থাকায় আমাদের উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যেতে হয়। এতে ভর্তি পরীক্ষা, কাগজপত্র স্থানান্তর, একাডেমিক সমন্বয় ও গবেষণায় নানা জটিলতা দেখা দেয়। তত্ত্বাবধায়ক সংকট ও সহযোগিতার অভাবেও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এছাড়া, আবাসন সমস্যা, পারিবারিক চাপ ও নিরাপত্তার অভাব মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, “কৃষি অনুষদে স্নাতকোত্তর চালু করতে হলে ইউজিসির অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন ছাড়া আমরা শিক্ষকদের বেতন দিতে পারি না। বর্তমানে ভেটেরিনারি বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক মাত্র একজন, বাকি ১৬ জন অনলাইনে পার্টটাইম শিক্ষক।”
তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষক সংকট প্রকট। আবার শতাধিক শিক্ষক বিদেশে চলে গেছেন। অনেকেই ফিরবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার আবেদনও করেছেন। নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত স্নাতকোত্তর কার্যক্রম চালু সম্ভব নয়।”
তিনি আরো বলেন, “শিক্ষক নিয়োগের পর ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বর্তমান সমস্যাগুলো, বিশেষ করে করোনাকলের সেশনজট নিরসনের চেষ্টা করছি। ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লাস বাড়িয়ে সেশনজট শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
পঙ্গুত্বের পথে শিক্ষার্থী, হল সংস্কারে ব্যর্থতার অভিযোগে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি
জামালপুর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) মির্জা আজম (প্রস্তাবিত বিজয় ২৪) হলের আবাসিক ছাত্র ও ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাশরুর জামান মোল্লা (রোশান) গোসল করতে গিয়ে পা পিচলে পড়ে আহত হয়ে জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপালের ভর্তি হয়৷ এরপর উন্নতর চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কতৃপক্ষ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন ৷
জানা যায়, শিক্ষার্থী মাশরুর রোশান আজম হলের নিচতলার ১০৯ নম্বর কক্ষে থাকতেন৷ গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে গোসল করতে ওয়াশরুমে গেলে পা পিচলে পড়ে পায়ের গোড়ালীর রগ কাটা পড়ে।চিকিৎসকরা জানান, ৮২দিন পা নাড়াচাড়া করতে পারবে না মাশরুর। তবে এমন দূর্ঘটনা পঙ্গুত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে মাশরুরকে বলে জানান চিকিৎসকরা৷
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান মাশরুরের বাবা মারা গিয়েছে ২০০৯ সালে৷ মা একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করেন। ক্যাম্পাসের সামনে ফটোকপির দোকান দিয়ে কোনমতে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতেন তিনি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে জুলাই গনঅভ্যুত্থানে জড়িত মাশরুর অভ্যুত্থান পরবর্তী ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনেও সম্মুখে ছিলেন৷ পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন ও পড়াশোনায় দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চিয়তা।
এদিকে এমন ঘটনার পর তোলপাড় উঠে নানা সমস্যায় জর্জরিত আজম হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরহাদ আলীর বিরুদ্ধে৷ প্রভোস্টের পদত্যাগ, হল সংস্কার, রোশানের চিকিৎসা ব্যয়ভার গ্রহণ এবং বড় ধরণের ক্ষতি হলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘জামালপুর সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি ফ্যামিলি এবং জাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সংসদ’ এ এমন দাবি তোলে শিক্ষার্থীরা৷ শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মিনহাজ লিখেন, ‘হল প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই৷ হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য তাকে অনেকবার বলা হলেও বরাবরই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। যিনি ছোট্ট একটা হল পরিচালনা করতে পারেনা তাকে আমরা চাই না। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার মতো দক্ষ হল প্রভোস্ট চাই।’ শিক্ষার্থী ফারুক আহমেদ লিখেন, ‘একটা মাত্র ছোট হল৷ এই হলের ওয়াশরুমগুলো এতটা বাজে আমি নিজেও ২/৩ বার পড়ে গিয়েছি। আজকে এতবড় একটা দুর্ঘটনা ঘঠে গেলো এসবের দায়ভার কে নিবে? হল প্রভোস্ট এই ছোট্ট একটা হলের ম্যানেজমেন্ট করতে পারেনা। সত্যিই লজ্জাজনক৷’ মনির আহমেদ লিখেন, ‘আমার প্রথম পরীক্ষার দিন আমি পড়ে গিয়ে প্যান্ট ছিঁড়ে গেছে। বেসিনের পাইপ ফেটে গেছে এটা সারতে ও নাকি বাজেট লাগে।’ ফাহাদ আহমেদ লিখেন, ‘আজ এত মাস হয়ে গেল৷ এতবার অভিযোগ সমস্যার কথা বলা হলো৷ যেন মেজর প্রবলেম গুলো সলভ করেন৷ কিন্তু এর বিপরীতে কোনো ইতিবাচক সাড়াই পাওয়া গেল না৷’ আতিকুর রহমান লিখেন, ‘হল প্রভোস্ট এ দায় এড়াতে পারবেন নাহ। তাকে জবাবদিহি করতেই হবে৷ হলের কোন উন্নয়ন দৃশ্যমান নেই।’ ফাহিম হোসেন লিখেন, ‘লিগ্যালি হল এলোটমেন্টের জন্য আমি লিখিত আবেদন দিয়েছিলাম কিন্তু সাড়া পাইনি৷ লজ্জা থাকলে করে ফেলত (পদত্যাগ) এতদিন৷ চরম ব্যর্থ একজন প্রভোস্ট৷’
জাবিপ্রবিতে ছাত্রদের একমাত্র আবাসিক এই হলে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত বলে জানান একাধিক শিক্ষার্থী৷ নেই লিগ্যাল সিট বরাদ্দ, নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না পানির ট্যাংক, যার জন্য অনেকের চুলকানি হয়। বাথরুমের উপর পাইপ থেকে পানি পড়ে এবং অপরিচ্ছন্ন থাকে৷ নষ্ট খাওয়ার পানির ফিল্টার। নিম্নগতির ওয়াইফাই। নেই ওয়াশরুমে প্রয়জনীয় জিনিসপত্র৷ রুমের ভিতর রঙ খুলে পড়ে৷ হলে নেই ফাস্টএইড ও এম্বুলেন্স সুবিধা ইত্যাদি বলে জানান শিক্ষার্থীরা৷
এ ব্যাপারে আহত শিক্ষার্থী মাশরুর রোশান জানান, ‘প্রভোস্ট প্রচন্ড দায়িত্বহীন লোক৷ হলের বিষয়ে অমনোযোগী৷ খেয়ালই রাখেন না হলের৷ ক্লিনিং তো অন্তত সুন্দরভাবে করতে পারে৷ ক্লিনিংও কর্মচারীদের বকাঝকা করে আমাদের করিয়ে নিতে হয়৷ ঐ ভিসি স্যার যেদিন পরিদর্শনে আসেন কিংবা এখন আমি আহত হওয়ার পর পরিষ্কার করবে৷ পুরো ক্যাম্পাসে একজন মাত্র সুইপার৷’ হল প্রভোস্টের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাশরুর জানান ‘সিনিয়ররা যদি মনে করেন প্রভোস্টকে সরানো উচিত সরান৷’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, ‘অনেকেই যেটা লিখেছে ভুল তথ্য লিখেছে৷ তারা কি লিখেছে এটা তাদের বিষয়৷ এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নিবেন৷ রোশান ও তার মায়ের সাথে সার্বক্ষনিক কথা বলছি৷ কাল ভিসি স্যার আসলে তার চিকিৎসার ব্যয়ের ব্যাপারে আলোচনা হবে৷ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে এটা ঠিক৷ আমাদের প্রক্রিয়া চলমান মোজাইক উঠিয়ে টাইলস করা হবে৷ হলে রং করা হবে, রাস্তা ও সাইকেল রাখার শেড নির্মান করা হবে৷ প্রসিডিউর এখনো শেষ তারপর টেন্ডারে গিয়ে কাজ শুরু হবে৷
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, ‘মাশরুরের সাথে কথা বলেছি৷ এ ব্যাপারে কাল বসবো যথাসম্ভব হেল্প করার চেষ্টা করবো৷ আর হল রিনোবেশনের টেন্ডার এস্টিমেটেড হয়ে গেছে৷ বিশ্ববিদ্যালয় খুললে কয়েকদিনের মধ্যেই ইউজিসিতে যাবে এবং টেন্ডারিং হবে৷ হল মেক্সিমামই রিনোটেড করা হবে৷ টেন্ডারিং হওয়ার আগ পর্যন্ত যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখতে বলছি৷ প্রভোস্ট যদি প্রপারলি কাজ না করে সেটাও দেখতে হবে৷’
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য