শিরোনাম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ জিয়ার শাহাদৎবার্ষিকীর দোয়া অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) -এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৩০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন সাব সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তিনি নিহত হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার এবং ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক ছিলেন।
দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান, খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ হলের প্রভোস্ট শরীফ মোহাম্মাদ খান।
আরও পড়ুন
দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব ক্বারী মুফতি আবদুল কুদ্দুস।
এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত দোয়া শেষে সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং ক্লাবের নেতৃত্বে মহসিন-মিয়াজী
টাংগাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাণবন্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য তাদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে। যুক্তি, বাকপটুতা ও নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মেধাবী ও সক্রিয় শিক্ষার্থীরা।
২৯ মে (বৃহস্প্রতিবার) ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান এবং সাবেক সভাপতি মোসা রোকসানা খাতুন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটিতে সভাপতি হিসাবে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শেখ মোহসিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে গণিত বিভাগের জামিরুল ইসলাম মিয়াজী নির্বাচিত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি মহসিন বলেন, "মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পুরাতন ক্লাব হচ্ছে মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি। চিন্তা ও চেতনার দ্বার উন্মোচিত হোক যুক্তির ছন্দে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে ক্লাব বিতর্ক চর্চা ও প্রসারের কাজ করে যাচ্ছে। আমাকে যেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমি সবাইকে সাথে নিয়ে বিতর্ক চর্চা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি যুক্তিবাদী চিন্তাই দেশের মানুষকে যেকোনো সংকটে পথ দেখাতে পারে।"
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মিয়াজী বলেন, "এই দায়িত্ব আমাকে বিতর্কচর্চার ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, যুক্তিভিত্তিক চিন্তা, বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব —এই বিষয়গুলোর সমন্বয়ে আমরা মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ের পথচলা আরও বেশি মসৃণ করে তুলতে পারবো।"
কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের মাহবুব জুবায়ের, গণিত বিভাগের উম্মে হাবিবা অরভী। সহ-সম্পাদক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের জান্নাতুল নাঈম, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের এস এম নাসিমুল হাসান, অর্থনীতি বিভাগের সাবিকুন্নাহার নিউলী, গণিত বিভাগের মো. মনতাসির রহমান জুনায়েদ।
সাংগঠনিক সম্পাদক বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মারজিয়া নূর অর্ণ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মো. শেহাব উদ্দিন, বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক মো. সাজিদ আল হাসান, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের মোসাম্মৎ জোয়াইরিয়া আক্তার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মো. সাফিন, মিডিয়া সম্পাদক আবু হাঞ্জালা মেরিন, তাহমিনা ইয়াসমিন তিথি ও সৌমিতা দাস, এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইনজামামুল হক জয়, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোসাম্মৎ মেহেরুন নেসা, মো. হাবিবুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সাব্বির আহমেদ শাওন, বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিবাশীষ সরকার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. বাদল মিয়া ও রিফাত হাসান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আব্দুল্লাহ, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জারিন তাসনিম রেশমা সহ আরও অনেকে।
নতুন কমিটির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংগঠনটির সাবেক নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। সকলের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি যুক্তিভিত্তিক চিন্তা, বিশ্লেষণ এবং মানবিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল মঞ্চ হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
মো.জাহিদ হোসেন/
এবার ২৩ দিনের লম্বা ছুটি পাচ্ছে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
পবিত্র ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) টানা ২৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে আগামী ৩১ মে থেকে ১১ জুন ২০২৫ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা, বিভাগ ও অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে। এরপর ১২ ও ১৩ জুন (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশের কারণে ১৪ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে এর আগেই ২৯ ও ৩০ মে (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পুরো ছুটি মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা মোট ২৩ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। ছুটি শেষে আগামী ২১ জুন (শনিবার) থেকে যথারীতি ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।
এছাড়া হলসংক্রান্ত সেবা ব্যবস্থা নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু রাশেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধকালীন ২৯ মে ২০২৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত হলের অফিস, রান্নাঘর ও ডাইনিংসহ সকল সেবা বন্ধ থাকবে। যারা এই সময়ে হলে অবস্থান করবেন, তাদের নিজ দায়িত্বে ও ব্যবস্থাপনায় থাকতে হবে। ২৯ মে রাত থেকে ডাইনিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং ১৭ জুন রাতে শিক্ষার্থীরা কুপন সংগ্রহ করে ১৮ জুন থেকে পুনরায় ডাইনিং সেবা নিতে পারবে।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ এ ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্রাম ও পারিবারিক সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাবিপ্রবিতে 'কন্ঠস্বর আবৃত্তি দলের' সভাপতি রাইসা, সম্পাদক সৃষ্টি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম সংগঠন ‘কন্ঠস্বর’ আবৃত্তি দলের নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন গণিত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাইসা আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন স্থাপত্য বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী মনিরা ফেরদৌসী সৃষ্টি।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন এই কমিটিতে ২৫ জন সদস্য রয়েছেন। অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সহ-সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাত আল সাদিক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সায়মা জাহান বৃষ্টি, অর্থ সম্পাদক প্রমা কুন্ডু, সহ-অর্থ সম্পাদক মজিদা খাতুন অরফা, দপ্তর সম্পাদক আবিদ আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক অনুষ্কা মজুমদার ও মিথুন আলী।
এছাড়া, কর্মশালা সম্পাদক হয়েছেন নূরেন সাদাফ, সহ-সম্পাদক সুস্মিতা বিশ্বাস ও জান্নাত বিনতে সাঈদ। প্রচার সম্পাদক হয়েছেন রওনাক নোশিন নেহা, সহ-প্রচার সম্পাদক অথৈ কর্মকার ও আতিকা আকরাম। গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আমিনা আস সাদিয়া এবং সহ সম্পাদক অর্পনা চৌধুরী।
সমতা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন রোখসানা আক্তার বৈশাখী ও প্রিয়ম সরকার। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন জেবা সামিহা, অংকন ঘোষ, মাহমুদুল হাসান, তাহসিন করিম অহনা, সিদ্ধার্থ পন্ডিত এবং সারিকা সাইয়ারা।
অনুভূতি প্রকাশ করে রাইসা আমিন জানান, ক্যাম্পাসে কণ্ঠস্বর আমার কাছে শুধু একটা আবৃত্তি সংগঠন নয়, এই দলটা যেন একটা পরিবারের মতো। একটা ভালোবাসার জায়গা। কণ্ঠস্বর আবৃত্তি দল এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার জন্য একটি অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয়। অনেক পরিকল্পনা ও স্বপ্ন আছে কণ্ঠস্বর কে ঘিরে, সকল সদস্যকে সাথে নিয়ে সেগুলো যেন সঠিক ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি সেই কামনা করি। আমার স্বপ্ন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কণ্ঠস্বর কে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যেন কন্ঠস্বর আবৃত্তি দল জাতীয় পর্যায়েও একটি প্রখ্যাত আবৃত্তি দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।
নতুন সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী সৃষ্টি বলেন, কণ্ঠস্বর শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি পরিবার, একটি ভালোবাসার জায়গা। শুধুমাত্র অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো এমন না, ভালোবাসার জায়গাটিকে ভালোবেসে সকলকে নিয়ে একসাথে কণ্ঠস্বরের সাথে নতুন কোনো শিখর ছোঁয়ার প্রচেষ্টা থাকবে সবসময়। ৬ষ্ঠ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যের জন্য আন্তরিক শুভকামনা।
শিক্ষক শূন্যতার এক দশক; স্থবির পাঠদান কার্যক্রম
ভয়াবহ শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজে। শিক্ষক সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন। চোখে স্বপ্ন নিয়ে উচ্চশিক্ষা জীবনে পা রাখা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা জীবনের শুরুতেই হোঁচট খাচ্ছেন, নিমজ্জিত হচ্ছেন হতাশায়।
বিশেষ করে বাণিজ্য অনুষদভুক্ত ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং মার্কেটিং বিভাগের অবস্থা করুণ। শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত একজন শিক্ষকও নিয়োগ প্রদান করা হয় নি এ দুই বিভাগে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব বিভাগে কোনো শিক্ষক না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে পাঠদান কার্যক্রম।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের সাহায্যে চলছে এ দুই বিভাগ। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব কার্যক্রম এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা। এক বিষয়ের পাঠদান অপর বিষয়ের শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালনা করার ফলে বানিজ্য অনুষদভুক্ত চারটি বিভাগে সবসময়েই লেগে থাকছে সংকট।
অথচ এই অনুষদে শিক্ষার্থী রয়েছেন অন্তত কয়েক হাজার। চার বিভাগের মধ্যে ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ এবং মার্কেটিং বিভাগে নূন্যতম একজনও শিক্ষক না থাকার পরেও থেমে নেই প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম। শিক্ষকবিহীন এই দুই বিভাগের কার্যক্রম সামলাতে হয় বানিজ্য অনুষদভুক্ত অপর দুই বিভাগ হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যাবস্থাপনার শিক্ষকদের। এতে করে হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে উক্ত দুই বিভাগও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি সংকট নিরসনকল্পে নতুন শিক্ষক পদায়নের আবেদন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেই সময়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। তবে সুদীর্ঘ চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সে আশ্বাস বাস্তবায়নের কোনো সদিচ্ছা চোখে পড়ে নি।
এ ব্যাপারে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন আহমেদ সৈকত বলেন, “আমরা সারা বছর সেলফ-স্টাডির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছি। বিশেষ করে ফিন্যান্স ও মার্কেটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক ছাড়া শেখা অসম্ভব হয়ে উঠছে। শিক্ষকবিহীন হওয়ায় আমাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা এখন মাঝ নদীতে মাঝিবিহীন নৌকার মতো হয়ে আছি।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী বলেন,“‘মার্কেটিং এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে শিক্ষক না থাকায় ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এর ফলে অন্য বিভাগের শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।”
কলেজ সূত্রে জানা যায়, শুধু ফিন্যান্স কিংবা মার্কেটিং নয়; দর্শন, ভূগোল ও পরিবেশ, আইসিটিসহ মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। যেখানে প্রতিটি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ৪৫০ থেকে ৬০০ জন, সেখানে অনেক বিভাগেই ২ কিংবা ৪ জন শিক্ষক দিয়েই চলছে বিভাগের কার্যক্রম। যার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, ক্রমশঃ নিম্নমুখী হচ্ছে শিক্ষার মান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা ঠিকমতো ক্লাস ও গাইডলাইন পাচ্ছি না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাঠ অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় মানসিক চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
শিক্ষক সংকটের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুল হাসান বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ সম্পর্কে অবগত এবং এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করছি। এবং আমরা দ্রুত সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
/এস এম মঈন উদ্দীন, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য