ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ঢাবির নীল দলের মনোনয়ন পেলেন যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে, ২০২২ ১৪:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবির নীল দলের মনোনয়ন পেলেন যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক

যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের প্যানেলে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল।

অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) নির্বাচনের প্যানেল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে নীল দল ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল তাদের ৩৫ সদস্যের মনোনীত প্যানেল রেজিস্টার কার্যালয়ের নির্বাচন শাখায় জমা দিয়েছে।

চলতি মাসের ২৪ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ মে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। এর মধ্যে কোনো দল চাইলে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারবে। নীল দলের শিক্ষক প্যানেলের ৩৫ সদস্যের মধ্যে ওই দুই জনের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নিকট চিঠি দিয়েছিলেন ওই বিভাগের (এমআইএস) এক সাবেক ও প্রভাষক পদপ্রার্থী এক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে শিক্ষক নিয়োগের আগে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আকরাম তাকে ‘অনৈতিক’ ও ঘৃণ্য প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হলে তখন তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এদিকে গত বছরের ২২ নভেম্বর অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) নারী সহকর্মীদের হেনস্তা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ৩৭ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে যৌন হয়রানির শিকার নারীদের মধ্যে দুইজন লিখিতভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।

নীল দলের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম বলেন, দলের প্রতি ওনাদের প্রতিশ্রুতি ও আনুগত্য বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যৌন হয়রানির যে অভিযোগ সে ব্যাপারে আমরাও অবগত আছি। কিন্তু সেটা কেবল অভিযোগ, প্রমানিত সত্য নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে তখন তাদের অবস্থান পরিষ্কার হবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ছাত্রলীগের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত ঢাবি উপাচার্যের

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১৮ এপ্রিল, ২০২২ ২৩:৭
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ছাত্রলীগের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত ঢাবি উপাচার্যের

    মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহর শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তারা বলেছে, অধ্যাপক রহমত উল্লাহর আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা নিশ্চিতপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে এ বিষয়ে ‘যথোপযুক্ত ব্যবস্থা’ নিতে হবে। তাঁকে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। উপাচার্য ছাত্রলীগের এসব বক্তব্যের সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন।

    আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, রাকিব হোসেন, তিলোত্তমা শিকদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাদের সঙ্গে ছিলেন। তবে ছাত্রলীগের এই স্মারকলিপি দেওয়ার ঘণ্টা দেড়েক আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘ভুল করে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা’ করেছেন আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকনেতা অধ্যাপক রহমত উল্লাহ।

    স্মারকলিপি দেওয়ার আগে উপাচার্যের সামনে বক্তব্য দেন সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহর বক্তব্য ছাত্রসমাজকে আঘাত করছে। এ ধরনের বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একে কেন্দ্র করে পরে আমরা তাঁর যে বয়ান দেখেছি, তা যথেষ্ট নয় বলে আমরা মনে করি। জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতে দেশের ইতিহাসের ঘৃণিত ব্যক্তি মোশতাকের নাম যখন কেউ সচেতন বা অসচেতনভাবে উচ্চারণ করেন এবং তা আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে উচ্চারণ করেন, এর পেছনে তার (অধ্যাপক রহমত উল্লাহ) কোনো শুভ উদ্দেশ্য ছিল বলে আমরা মনে করি না৷ তার এই বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ছাত্রসমাজ মনে করে, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন আছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মসূচিতে মোশতাকের কথা বলা হয়েছে, তাই এ বিষয়ে প্রশাসনকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এরপর বক্তব্য দেন সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর সবচেয়ে ঘৃণিত যে কাজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলো, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি। বিষয়টি বেদনার যে তিনি শুধুই একজন শিক্ষক নন, শিক্ষকনেতাও। আমাদের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদেরও একজন তিনি। তিনি যে অপ্রকৃতিস্থ কথা বলেছেন, এর মাধ্যমে অপরাধ করেছেন। প্রকারান্তরে তিনি জাতির পিতাকে অসম্মান করেছেন এবং জাতির পিতার খুনিকে সম্মানিত করেছেন। এটি আমাদের হৃদয়কে রক্তাক্ত করেছে। আমরা আবারও তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আপনি তার জন্য যে ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা নেবেন বলে আমরা মনে করি। আমরা চাই, তিনি যেসব দায়িত্বশীল জায়গায় রয়েছেন, সব জায়গা থেকে তিনি অব্যাহতি চাইবেন এবং জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। সংবাদ সম্মেলন করে টালবাহানাপূর্ণ কোনো ক্ষমাপ্রার্থনা আমরা মেনে নেব না।

    এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের স্মারকলিপিটি উপাচার্যকে পড়ে শোনান সনজিত। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড, বাঙালির হৃদয়ে “কুখ্যাত মীর জাফর” হিসেবে ঘৃণিত খন্দকার মোশতাক আহমদকে জ্ঞাত-অজ্ঞাতভাবে শ্রদ্ধা জানানোর মতো যেকোনো ঘটনা-বক্তব্যকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতির জনকের খুনির নাম উচ্চারিত হতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এ ঘটনাকে ধৃষ্টতামূলক বলে মনে করে। একই সঙ্গে শুধু বক্তব্য প্রত্যাহারই নয়, এ বক্তব্যের জন্য আমরা তাঁকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি জানাই। রহমত উল্লাহর আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা নিশ্চিতপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে এ বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ছাত্রলীগের নেতাদের বক্তব্য শোনার পর উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এই সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ দিই। খুব পরিশীলিত ভাষা ও যৌক্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তারা বিষয়টির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। লিখিত ও মৌখিক যে বক্তব্য সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেন এখানে উপস্থাপন করল, সেগুলোর সবটাই খুবই যৌক্তিক মাত্রায়, পরিশীলিত, পরিমিত ও দায়িত্বশীলভাবেই এসেছে। আশা করি, তাদের বক্তব্যগুলোর সঙ্গে দ্বিমত করার মতো মানুষ সমাজে খুব বেশি থাকবে না। এসব বক্তব্যের সঙ্গে কেউ দ্বিমত করার কোনো কারণ খুঁজে পাবে বলে আমার মনে হয় না। এগুলোর সঙ্গে আমি সহমত জ্ঞাপন করি এবং আশা করি যে একটি সুন্দর সমাধান আসবে।

    অধ্যাপক আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ছাত্রলীগ যেভাবে দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ করল, এভাবেই মূলত যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, বাংলাদেশ, মহান ভাষা আন্দোলন—এই মূল্যবোধের সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই কোনো অপশক্তি, ষড়যন্ত্রকারী বা ঘৃণিত মহলের কোনো ধারণা, মত বা দর্শনের প্রতিফলন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং বিশেষ করে এই জাতি কখনো গ্রহণ করবে না। এসব বিষয়ে আমরা খুবই যত্নশীল।

    গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত ওই আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতিও ‘শ্রদ্ধা’ জানান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ ওই বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানালে ওই সভাতেই সভাপতির বক্তব্য দিতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান মো. রহমত উল্লাহর বক্তব্যের ওই অংশ প্রত্যাহার করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

    অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নীল দলের প্যানেল থেকে তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতির পাশাপাশি আইন অনুষদের ডিনও নির্বাচিত হয়েছেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাবি প্রো-ভিসির দায়িত্বে আধ্যাপক সামাদ

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১৩ এপ্রিল, ২০২২ ০:৩০
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাবি প্রো-ভিসির দায়িত্বে আধ্যাপক সামাদ

      দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির (প্রশাসন) দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

      মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালযয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাে. মাসুম আহমেদ।

      আদেশে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর-এর অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সামাদকে নিমােক্ত শর্তে দ্বিতীয় মেয়াদে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য পদে নিয়ােগ প্রদান করা হলাে।

      (ক)উপ-উপাচার্য হিসেবে তাঁর এ নিয়ােগের মেয়াদ ৪ (চার) বছর হবে। তবে প্রযােজ্য ক্ষেত্রে তিনি নিয়মিত চাকরির বয়সপূর্তিতে মূল পদে প্রত্যাবর্তনপূর্বক অবসরগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন শেষে উক্ত মেয়াদের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করবেন। (খ) উপ-উপাচার্য পদে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতনভাতা প্রাপ্য হবেন (গ) তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভােগ করবেন। (ঘ)তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত ও ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়ােগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবংমহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়ােজন মনে করলে মেয়াদপূর্তির পূর্বেই এ নিয়ােগ বাতিল করতে পারবেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ঢাবিতে গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধের দাবি পরিবেশ পরিষদে

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৫:১৩
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ঢাবিতে গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধের দাবি পরিবেশ পরিষদে

        ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে কয়েক দশক ধরে চলে আসা ‘গেস্টরুম নির্যাতনের’ সংস্কৃতি বন্ধের দাবি উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদে। ওই দাবির সঙ্গে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলসহ সব ছাত্রসংগঠনই একাত্মতা জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ঘ ইউনিট বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও পরিবেশ পরিষদে আলোচনা হয়েছে।

        আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন সামনে রেখে আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চ্যুয়াল শ্রেণিকক্ষে পরিবেশ পরিষদের সভা হয়। উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদস্থ ব্যক্তি ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা অংশ নেন।

        সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সভায় গণরুম-গেস্টরুম নিয়ে অনেকেই কথা বলেছেন। আমরা বলেছি, আবাসন সংকটের কারণে গণরুম-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে ছাত্ররাজনীতিতেও অনেক নেতিবাচক উপাদান তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন হলে শিক্ষার্থী হিসেবেই থাকতে পারেন, পছন্দ অনুযায়ী ছাত্রসংগঠন বেছে নিতে পারেন, শিক্ষার্থী হিসেবে হলে সব রকম সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার পান, এসব বিষয়ে প্রশাসনকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি৷’

        সাদ্দাম হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে অননুমোদিত অতিরিক্ত ভ্রাম্যমাণ দোকান বন্ধ, ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে বহিরাগত যানবাহন চলাচল বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ‘ঘ’ ইউনিটের বিষয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।

        সাদ্দাম হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদ বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকেও যেন সম্পৃক্ত করে মহান শহীদ দিবস পালন করা হয়, পরিবেশ পরিষদে তাঁরা সেই দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া ১৯৪৮ সালের যে দিনটিতে ভাষার দাবির আন্দোলন করতে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, সেই ১১ মার্চকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

        সভায় অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ পরিষদের সভায় আমরা হলগুলোতে চলা গেস্টরুম প্রথা বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছি। সভায় সব সংগঠনই এ ক্ষেত্রে একমত হয়েছে। গেস্টরুমে নির্যাতন কোনো সভ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি হতে পারে না। উপাচার্য বলেছেন, তিনিও এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত নন।’

        সভায় অংশ নেওয়া এক ছাত্রনেতা জানান, ঘ ইউনিট বাতিলের বিষয়ে সভায় উপাচার্য বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি, শ্রম ও সময় লাঘবের জন্য ঘ ইউনিট বাতিলের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। এটি বাদ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ২০ শতাংশ কাজ কমে আসবে। পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে ভর্তি-প্রক্রিয়াসহ সব মিলিয়ে অতিরিক্ত যে এক মাস সময় লাগে, তা–ও বাঁচবে।

        পরিবেশ পরিষদের সভা শেষে বিকেলে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর। সেখানেও ওপরের বিষয়গুলোই জানানো হয়। পরিবেশ পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের মিথস্ক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম। বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে সভা ডেকে পরিবেশ পরিষদে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য শোনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ঢাবির প্রশ্নপত্র ফাঁস, ১২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ৩ জানুয়ারি, ২০২২ ২০:৩৮
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ঢাবির প্রশ্নপত্র ফাঁস, ১২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

          ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম হাসিবুল হক অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন তিনি।

          অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো বলে জানান আইনজীবীরা।

          যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-মহিউদ্দিন রানা, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মো. রিমন হোসেন, ইশরাক হোসেন রাফি, নাভিদ আনজুম তনয়, এনামুল হক আকাশ, ফারজাদ সোবহান নাফি, তানভির আহমেদ মল্লিক, মো. বায়জিদ, এস এম রিফাত হোসেন, ফারদিন আহমেদ সাব্বির, প্রসেনজিৎ দাস, আজিজুল হাকিম, নাহিদ ইফতেখার, রফিকুল হাসান এছামি, বনি ইসরাইল, মারুফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, খান বাহাদুর, মো. আইয়ুব আলী বাঁধন, মোস্তফা কামাল, হাফিজুর রহমান হাফিজ, অলিপ কুমার বিশ্বাস, মাসুদ রহমান তাজুল, অসীম বিশ্বাস, জাহাঙ্গীর আলম, সাইদুর রহমান, হাসমত আলী, আনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম, হোসনে আরা, কাজী মিনহাজুল ইসলাম, রাফসান করিম, আখিনুর রহমান অনিক, নাজমুল হাসান নাঈম, শিহাব হাসান খান, সালমান এফ রহমান, মুহায়মেনুল ইসলাম, সজিব আহমেদ, আব্দুর রহমান রমিজ, মাহবুব মামুন ও অন্যান্য। আসামিদের মধ্যে ৮৭ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অন্যরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের মালিক ও শিক্ষক রয়েছেন।

          আদালতে উপস্থিত আসামিদের অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে এ সময় তাঁরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। যাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত।

          ২০১৭ সালে দেশব্যাপী ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ অক্টোবর মধ্যরাতে গণমাধ্যম কর্মীদের দেওয়া কিছু তথ্যের সূত্র ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হলে অভিযান চালায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

          এ সময় গ্রেপ্তার হন আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মহিউদ্দিন রানা নামের দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের দেওয়া তথ্যে পরদিন পরীক্ষার হল থেকে গ্রেপ্তার হয় ভর্তি–ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী ইশরাক হোসেন রাফি। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য ও হলের অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডি জানতে পারে, প্রশ্নফাঁসের এই ঘটনার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমীর, মিজান, আজাদ, ওমেগা কোচিংয়ের তন্ময়, মাইলস্টোন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সুব্রত জড়িত। এটাও সিআইডি জানতে পারে যে, এরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দেশব্যাপী এদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।

          এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর শাহবাগ থানায় সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশের সাইবার তদন্ত ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস। তদন্তকালে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় স্বীকার করেন। ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ১২৬ আসামির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

          অভিযোগ গঠন হওয়া ১২৬ জনের মধ্যে ১০৪ জনের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই আসামিরাসহ ১২৬ জনের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৯ সালের ২৩ জুন এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত