শিরোনাম
অবৈধভাবে ভোটার তালিকা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে কলকাতার ধর্মতলায় অনির
ভোটার তালিকা বিতর্ক: ধর্মতলায় অনশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আগামী ৭ মে মেয়াদ শেষ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। এর আগে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় জটিলতার অভিযোগ তুলে রাজপথে নেমেছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজ্যের ৭ কোটি ৬৬ লাখ ভোটারের মধ্যে এবার বিবেচনাধীন হিসাবে যুক্ত হয়েছে ৬২ লাখ নাম। বাদ পড়েছে ৫৮ লাখ। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দিয়েছে বিজেপি।
অন্যদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে ৫৮ লাখ মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটে জিতে আসছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসে তুমুল হুঙ্কার ছাড়েন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রশ্ন তোলেন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির পদ নিয়েও।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি যেকোনো মূল্যে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় যেতে চাইছে এবং সেই লক্ষ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সেই কারণেই তিনি সরাসরি আন্দোলনের পথে নেমেছেন।
তবে জনপ্রিয়তা তলানিতে যাওয়ায় এবার হেরে যাওয়ার আতঙ্কে মমতা বন্দোপাধ্যায় পথে নেমেছেন বলে কটাক্ষ করেন বিজেপি ও কংগ্রেস নেতৃত্ব।
যদিও অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে শক্তিশালী কোনো তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি কোনো পক্ষই। এই রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই ঘনিয়ে আসছে ভোটের সময়। তাই ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন নামের বাছাই প্রক্রিয়া বিচারকদের মাধ্যমে দ্রুত শেষ করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন।
২০২৫ সালে বিহারে প্রথম ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীতে প্রায় ৫৩ লাখ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন। সেই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল সংখ্যক আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় বসে। এরপরই পশ্চিমবঙ্গসহ ১২টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করে কমিশন। তবে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
বেশ কয়েকটি আরব দেশের ভূখণ্ডে ইরানের হামলা জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে আরব লিগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। আগাম
ইরানের হামলা: সৌদিসহ ৬ দেশের অনুরোধে জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লিগ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরাইল ও গালফের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
আরব লিগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত এক বিবৃতিতে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ঘেইত বলেন, এসব হামলা কেবল আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম’ লঙ্ঘনই নয়, বরং ‘সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের’ মৌলিক নীতির ওপরও আঘাত।
ঘেইত আরও জানান, ইরানের এই আগ্রাসন আরব দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির এক ‘নজিরবিহীন’ শত্রুতা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ‘গভীর প্রভাব’ ফেলবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে হামলা না হলে, সেখানে আর পাল্টা হামলা
আরব দেশগুলোতে হামলা নিয়ে নতুন করে যে বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে সংঘটিত হামলার জন্য তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
‘হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ইরান’
হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখন সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্যাংকার জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা বলেছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারসের বরাতে বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবরজাদেহ এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে চালানো বিমান হামলার ১৭তম দফায় তারা ৪০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি
সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে তেল আবিবের নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদনের পর ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ ইসরাইলের নিন্দা জানিয়েছিল। আর এর মধ্যেই নরেন্দ্র মোদির তেল আবিরের সফরের বিষয়টি সামনে এল।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের আগ্রাসন সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিখাতে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যদিও কয়েক দশক ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সমর্থন দিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের হামলার পর থেকে একাধিক পশ্চিমা নেতা নেতানিয়াহুর সাথে ইসরাইলে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেও মোদির সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফর করবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের জোটকে শক্তিশালী করতে কাজ করছি। আগামী সপ্তাহে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নরেন্দ্র মোদি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী—একটি বিশাল বৈশ্বিক শক্তির নেতা—ইসরাইল সফর করবেন।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আগামী কয়েক বছরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর ঘিরে দুই দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ না করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইল ভারতকে সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য