শিরোনাম
চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
চিকিৎসাবিদ্যায় অনবদ্য অবদান রাখায় চলতি বছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় সুইডেনের স্টকহোম থেকে ২০২৫ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট।
চিকিৎসায় এ বছরের নোবেল বিজয়ীরা হলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক মেরি ই. ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাকাগুচি। পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স নিয়ে গবেষণার জন্য চলতি বছর তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট বলেছে, মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমের কাজ হলো শরীরকে জীবাণু ও ভাইরাসের মতো বাইরের হুমকি থেকে রক্ষা করা। তবে কখনও কখনও এই ব্যবস্থা ভুলবশত শরীরের নিজস্ব টিস্যুকেই আক্রমণ করে বসে; যার ফলে দেখা দেয় অটোইমিউন রোগ।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মানবদেহের ‘সেন্ট্রাল টলারেন্স’ বা কেন্দ্রীয় সহনশীলতার ধারণার ওপর গবেষণা করে আসছিলেন। এতে টি-সেল নামের এক ধরনের প্রতিরোধক কোষ থাইমাসে গঠিত হওয়ার সময়ই শরীরের নিজস্ব উপাদানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও পরে তা ধ্বংস হয়ে যায়।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ওলে কাম্পে বলেছেন, মানবদেহের সব সেলফ-রিঅ্যাক্টিভ টি-সেল থাইমাসে ধ্বংস হয় না; কিছু কোষ রক্তে থেকে যায়। এই কোষগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শরীরের বাইরে (থাইমাসের বাইরের অংশে) আরও একটি প্রক্রিয়া কাজ করে; সেটিকে পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স বলা হয়।
চলতি বছরের নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানী এই প্রক্রিয়ার মূল রহস্য উদঘাটন করেছেন। গবেষণায় তারা দেখেছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখে বিশেষ এক ধরনের কোষ; যাকে রেগুলেটরি টি-সেল (Treg) বলা হয়। এসব কোষের বিকাশ ও কার্যক্রম নির্ভর করে ফক্সপিথ্রি (FOXP3) নামের একটি জিনের ওপর।
শিমন সাকাগুচি ১৯৯০-এর দশকে প্রথম প্রমাণ করেন, মানবদেহে এমন একটি রেগুলেটরি টি-সেল আছে, যা শরীরের নিজস্ব টিস্যুর বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় আক্রমণ রোধ করে। পরে মেরি ই. ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড র্যামসডেল ইঁদুর ও মানুষের শরীরে ফক্সপিথ্রি (FOXP3) জিনের ত্রুটি শনাক্ত করেন; যা এই টি-সেলের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
গবেষণায় তারা দেখান, ফক্সপিথ্রি (FOXP3) জিনই এসব কোষের বিকাশের মূল নিয়ন্ত্রক এবং এটি পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্সের ভিত্তি তৈরি করে। এই আবিষ্কারের ফলে এখন বিজ্ঞানীরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, কীভাবে মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, কেন এই প্রক্রিয়া ভেঙে গেলে অটোইমিউন রোগ দেখা দেয় এবং কীভাবে ক্যানসার কোষ কখনও কখনও এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ইমিউন সিস্টেমের আক্রমণ থেকে বেঁচে যায়।
চিকিৎসাশাস্ত্রের এই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে একটি মেডেল, সনদপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা পাবেন।
এর আগে, গত বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের দুই চিকিৎসাবিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাভকুনকে। মাইক্রো আরএনএ আবিষ্কার এবং পোস্ট ট্রান্সক্রিপশন জিন নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখায় তাদের ওই পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রতিবছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণা করে সুইডেনের স্টোকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলবিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স।
১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে। ঊনবিংশ শতকের এই বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলেন।
তিনি উইল করে গিয়েছিলেন যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য—এই ৫টি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের নামকরণ হবে তার নামে। ১৯৬৯ সাল থেকে এই ৫ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতিও।
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলভবন ধসে নিহত ৫০
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের একটি স্কুলভবন ধসে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং শতাধিক আহতের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা ন্যাশনাল সার্চ অ্যানড রেসকিউ এজেন্সি (বাসারনাস)-এর বিবৃতিতে থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
বাসারনাসের অপারেশন বিভাগের পরিচালক ইউধি ব্রামান্তিও রোববার সন্ধ্যার দিকে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা এ পর্যন্ত ৫০ জনকে মৃত এবং ১০৪ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছেন। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছে ১৮ জন।
ব্রিফিংয়ে ব্রামান্তিও আরও জানিয়েছেন, ভবনটির ৬০ শতাংশ ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। তবে স্কুলভবনের সঙ্গে সংলগ্ন আরেকটি ভবনও ধসে গেছে। ফলে স্কুলচত্বর ও তার সংলগ্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপে একাকার হয়ে গেছে এবং নিখোঁজদের বেশিরভাগই স্কুলভবন সংলগ্ন ভবনটির।
ইন্দোনেশিয়ার অপর উদ্ধারকারী সংস্থা ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ডিজাস্টার কাউন্টারমেজার্স (বিএনপিবি) এর ডিজাস্টার ডেটা ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেন্টারের প্রধান আবদুল মুহারি জানিয়েছেন, স্কুলভবন ধসের পর নিহত অবস্থায় ৪৫ এবং আহত অবস্থায় ১০৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, বাকি ১৫ জন এখনও চিকিৎসাধীন আছে।
রোববার দুপুরের দিকে পূর্ব জাভা প্রদেশের সিদোয়ার্জো শহরের আল খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের ভবন ও তার সংলগ্ন একটি ভবন ধসে পড়ে। এটি একটি জুনিয়র স্কুল এবং ভবন ধসের সময় সেখানে কয়েক শ’ ছেলে শিক্ষার্থী ছিল। এদের সবাই কিশোরবয়সী।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
গাজায় ক্ষমতা না ছাড়লে হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজার সংঘাত বন্ধে প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বাধা দিলে হামাসকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। শনিবার সিএনএনের সাংবাদিক জ্যাক টেপারের পাঠানো বার্তার জবাবে ট্রাম্প এমন হুমকি দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই বার্তায় বলেন, হামাস যদি গাজার নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদের ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করা হবে।
জ্যাক টেপার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বক্তব্য অনুযায়ী, হামাস কার্যত ট্রাম্পের ২০ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, তারা নিরস্ত্রীকরণের শর্তে রাজি নয়। তারা গাজার প্রশাসনও ফিলিস্তিনিদের হাতেই রাখতে চায়। গ্রাহাম কি ভুল বলছেন—জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির তা জানতে পারব। সময়ই সব বলবে!’
ট্রাম্প আরও বলেন, হামাস সত্যিই শান্তির পথে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে তিনি শিগগির ‘স্পষ্টতা’ আশা করছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর পরিকল্পনাকে পুরোপুরি সমর্থন করছেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘হ্যাঁ, বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আছি।’ তিনি আরও জানান, তাঁর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বাস্তবায়নে তিনি কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং আশাবাদী যে সেটি শিগগির কার্যকর হবে।
এর আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে সেনা প্রত্যাহারের শর্তটি মেনে নিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখন প্রশাসন হামাসের নিশ্চিত জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। হামাস সম্মতি জানালেই যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। বন্দী ও কয়েদি বিনিময় শুরু হবে, এরপর ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের পরবর্তী পর্যায় আসবে, যা আমাদের নিয়ে যাবে সেই ৩ হাজার বছরের বিপর্যয়ের অবসানের আরও কাছে।’
তিনি আরও জানান, ইসরায়েল ইতিমধ্যে গাজায় বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। তবে একই দিনে সিএনএন জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, হামাস তাঁর ২০ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করেন। এরপর থেকে আলোচনা হচ্ছে, দুই বছরের এই যুদ্ধ হয়তো সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে।
ইসরায়েলও ঘোষণা করেছে, তারা পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ শুরু করবে। ওয়াশিংটন সফরের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে এটি অনুমোদন করেছেন বলে জানা গেছে। তবু কিছু সম্ভাব্য বাধা রয়ে গেছে। যেমন ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো অস্পষ্ট। গাজায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কারণে আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
এই প্রশ্নগুলো উঠছে; কারণ, গাজা যুদ্ধ বন্ধে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবগুলো পুনরায় ইসরায়েলের আক্রমণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আবার লড়াই শুরু হয়েছিল।
গাজায় এখনো ঠিক এমন পরিস্থিতিই বিরাজ করছে। বোমা হামলা বন্ধে ট্রাম্পের আহ্বান এবং ২০ দফা পরিকল্পনায় হামাসের সাড়া দেওয়ার পরের দিন অর্থাৎ শনিবার কিছুটা শান্ত পরিবেশ বজায় থাকলেও বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ কমার কোনো স্থায়ী লক্ষণ দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী জনমত বাড়ছে: পিউ রিসার্চ
মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব ক্রমেই বাড়ছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই ইসরায়েলি সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। গত শুক্রবার পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত এই জরিপ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন জনগণ ক্রমশ ইসরায়েলি সরকারের সমালোচক হয়ে উঠেছে।
জরিপে বলা হয়, ৩৯ শতাংশ আমেরিকান মনে করছেন ইসরায়েল হামাসবিরোধী সামরিক অভিযানে ‘অতিরিক্ত বল প্রয়োগ’ করছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৩১ শতাংশ, আর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ছিল ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের শুরুর তুলনায় বর্তমানে ইসরায়েলি সরকারের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ শতাংশে।
মাত্র ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইসরায়েল সঠিক পথে এগোচ্ছে। অন্যদিকে ১০ শতাংশ মনে করছেন, ইসরায়েলের অভিযান যথেষ্ট নয়। বাকিরা নিশ্চিত নন।
জরিপে দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গাজা যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। সমর্থন করেছেন মাত্র ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া, ৩৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করছেন ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাত দেখাচ্ছেন। মার্চে এ সংখ্যা ছিল ৩১ শতাংশ। মাত্র ২ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্প ফিলিস্তিনপন্থী হয়ে উঠেছেন।
প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অত্যধিক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। ২৩ শতাংশ মনে করছেন সহায়তার পরিমাণ ঠিক আছে, আর ৮ শতাংশ মনে করেন এটি যথেষ্ট নয়।
তবে ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের জন্য মার্কিন সহায়তার বিষয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। মাত্র ৯ শতাংশ বলেছেন সহায়তা বেশি দেওয়া হচ্ছে, ২০ শতাংশ বলেছেন যা দেওয়া হচ্ছে তা সঠিক, আর ৩৫ শতাংশ বলেছেন সহায়তার পরিমাণ খুবই কম।
প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গাজায় খাদ্যসংকট ও ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিতে উদ্বিগ্ন। ৬৯ শতাংশ উদ্বিগ্ন ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়তে বাধ্য করার বিষয়ে।
একইভাবে, ৮০ শতাংশ আমেরিকান ইসরায়েলের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তি না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন। আর ৭৩ শতাংশ আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে আবারও হামাস ইসরায়েলকে আক্রমণ করতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের তুলনায় ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। বিপরীতে রিপাবলিকানরা ভবিষ্যতে হামাসের হামলার আশঙ্কা নিয়ে বেশি চিন্তিত। তবে উভয় দলই সমানভাবে জিম্মি মুক্তির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন।
হামাসের প্রতি মার্কিন বিরূপ মনোভাব স্পষ্ট। জরিপে ৮৪ শতাংশ আমেরিকান হামাসকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে অপছন্দ করেন ৬৮ শতাংশ আমেরিকান।
ইসরায়েলি জনগণের প্রতি সহানুভূতি তুলনামূলক বেশি—৫৬ শতাংশ আমেরিকান ইসরায়েলিদের পছন্দ করেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে ৫২ শতাংশের। তবে ইসরায়েলিদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গত এক বছরে ৮ শতাংশ কমেছে, আর ২০২২ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে।
ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা স্বতন্ত্র ভোটারদের ৭০ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। রিপাবলিকান ও রিপাবলিকান-সমর্থকদের মধ্যে এই সংখ্যা মাত্র ৩৭ শতাংশ।
এদিকে, ইসরায়েলি সরকারের প্রতি অনুকূল মনোভাব রয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাটের, কিন্তু রিপাবলিকানদের মধ্যে তা ৫৫ শতাংশ।
এ ছাড়া, তরুণ আমেরিকানরা (১৮-২৯ বছর) ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে বেশি। তাঁদের ৪২ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সহায়তা দিচ্ছে। বিপরীতে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে এ মতের হার মাত্র ২৪ শতাংশ।
২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৫ জনের ওপর এই জরিপ চালায় পিউ রিসার্চ। এর ত্রুটির হার ১.৯ শতাংশ। এই জরিপ ট্রাম্প প্রশাসনের গাজা যুদ্ধ-সম্পর্কিত ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণার আগে করা হয়েছিল।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েল ও হামাসের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েল এবং হামাস উভয়ের উপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন যে, ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে প্রত্যাহারের সীমারেখা নির্ধারণে সম্মত হয়েছে এবং হামাস যদি অনুমোদন দেয় তবে যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
হামাস বলেছে- তারা সমস্ত জিম্মিদের মুক্তির জন্য আলোচনায় প্রবেশ করতে প্রস্তুত, তবে ট্রাম্পের প্রস্তাব নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করেনি।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে কয়েক দিনের মধ্যে সমস্ত জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
তবে ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও ইসরায়েল ছিটমহলে বোমাবর্ষণ বন্ধ করেনি। গাজার হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, শনিবার ইসরায়েলি হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় একটি বিবৃতি জারি করে ঘোষণা করেছে যে- ইসরায়েল সমস্ত জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তির জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত। এরপর আইডিএফকে তাদের বর্তমান গাজা সিটি আক্রমণ বন্ধ করে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গাজায় যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস আংশিকভাবে মেনে নিতে রাজি হওয়ার পর ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং তা হামাসকে জানানো হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘হামাস এটা নিশ্চিত করলে যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। জিম্মি ও বন্দিবিনিময় শুরু হবে এবং আমরা পরবর্তী ধাপের (ইসরায়েলি সেনা) প্রত্যাহারের জন্য শর্তগুলো তৈরি করব।’
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য