ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

দম্পতিদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়ম কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৪:৫৬
অনলাইন ডেস্ক
দম্পতিদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়ম কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র

পরিবার-ভিত্তিক অভিবাসন ভিসার আবেদন, বিশেষ করে বিবাহ-ভিত্তিক সব আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাইয়ের নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিষয়ক সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। বিবাহ-ভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রে ভুয়া দাবি শনাক্ত এবং কেবল প্রকৃত সম্পর্ক রয়েছে; এমন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড অনুমোদন নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।


গত ১ আগস্ট প্রকাশিত নতুন এই হালনাগাদ নির্দেশনা ইউএসসিআইএসের নীতিমালায় ‘‘ফ্যামিলি বেইজড ইমিগ্রান্টস’’ শিরোনামে যুক্ত এবং এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। আগের করা সব আবেদন ও নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে ইউএসসিআইএস।


এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইএস বলেছে, ‘‘ভুয়া, অপ্রাসঙ্গিক কিংবা ভিত্তিহীন পরিবার-ভিত্তিক অভিবাসন ভিসার আবেদন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (এলপিআর) হওয়ার পারিবারিক পথের ওপর আস্থা নষ্ট করে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক ঐক্য ক্ষুণ্ন করে।’’


‘‘আমরা আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে যারা ক্ষতিকর উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন, তাদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করার প্রক্রিয়া শুরু করাই আমাদের লক্ষ্য।’’


• কী কী পরিবর্তন হলো? 

হালনাগাদ নির্দেশনায় কঠোর যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র জমার বেশ কিছু নতুন নিয়ম তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—


• পরিবার-ভিত্তিক ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করা।


• প্রমাণ হিসেবে একসঙ্গে তোলা ছবি, যৌথ আর্থিক নথিপত্র এবং বন্ধু ও পরিবারের ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; যাতে বৈবাহিক সম্পর্ক সত্যি কি না, তা বোঝা যায়।


• দম্পতিদের সশরীরে সাক্ষাৎকার দেওয়া বাধ্যতামূলক, যাতে সম্পর্কের বাস্তবতা যাচাই করা যায়।


• আগের সব আবেদন পর্যালোচনা করা। বিশেষ করে একই স্পন্সরের একাধিক আবেদন অথবা একই সুবিধাভোগীর করা একাধিক আবেদন।


• ইতোমধ্যে অন্য ভিসা (যেমন—এইচ-১বি) নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আবেদনকারীদের অভিবাসন ইতিহাসের প্রতি বাড়তি নজর।


• আবেদনকারী গ্রিন কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত হলেও, যদি তিনি অন্য কোনও কারণে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অযোগ্য বা বহিষ্কারের যোগ্য হন, তাহলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা—এমনকি তার আবেদন মঞ্জুর হলেও।


ইউএসসিআইএস স্পষ্টভাবে বলেছে, পরিবার-ভিত্তিক আবেদন অনুমোদন পেলেই যে আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবাসন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষা পাবেন, বিষয়টি তেমন নয়।


সংস্থাটি বলেছে, এই নির্দেশনা ইউএসসিআইএসের বৈধ ও বাস্তব বৈবাহিক সম্পর্ক যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে, যাতে তা সকল প্রচলিত আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।


এছাড়া ইউএসসিআইএস তাদের নীতিমালায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ধারা যুক্ত করেছে। যদি কোনও মার্কিন নাগরিক বাংলাদেশি বা অন্য কোনও বিদেশি সঙ্গীকে স্পন্সর করেন, তাহলে তাদের অবশ্যই বাস্তব সম্পর্কের শক্ত প্রমাণ দিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে যৌথ ব্যাংক হিসাব, ছবি, এবং বন্ধু বা আত্মীয়দের লেখা চিঠি। তাদের বিস্তারিত সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে হবে; যেখানে তারা একে অপরকে কতটা ভালো জানেন তা যাচাই করা হবে।


যদি ইউএসসিআইএস যাচাই-বাছাইয়ে সন্দেহজনক কিছু পায়—যেমন একই ব্যক্তির একাধিক স্পন্সরশিপ বা অভিবাসন ইতিহাসে অসঙ্গতি; তাহলে তা আরও বিস্তৃত তদন্ত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের কারণও হতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের বিবাহ-ভিত্তিক অভিবাসনের আবেদনের এই নীতিমালা পরিবর্তনের পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ভুয়া বিয়ের কেলেঙ্কারির ঘটনা কাজ করেছে। কিছু দিন আগে আকাশ প্রকাশ মাকওয়ানা নামের ভারতীয় এক নাগরিকের ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।


গত মে মাসে ভারতীয় এই নাগরিক স্বীকার করেন, জে-১ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার জন্য তিনি একটি ভুয়া বিয়েতে জড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি বসবাসের ভুয়া নথিও দাখিল করেছিলেন তিনি। ওই সময় পারিবারিক ভুয়া নির্যাতনের দাবি জানিয়ে গ্রিন কার্ড পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আকাশ প্রকাশ।


সূত্র: এনডিটিভি।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    গাজায় এক কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেবে অস্ট্রেলিয়া

    অনলাইন ডেস্ক
    ৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৪:২
    অনলাইন ডেস্ক
    গাজায় এক কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেবে অস্ট্রেলিয়া

    গাজায় এক কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহকারী মানবিক সংস্থাগুলোকে এ অনুদান দেওয়া হবে। খবর আল জাজিরার।


    বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ জানায়, ‘নতুন মানবিক করিডোর ঘোষণার কারণে নতুন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’


    অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং, গাজায় অবিলম্বে পূর্ণমাত্রায় ত্রাণ সরবরাহ শুরু করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানা। তিনি জানান, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে অস্ট্রেলিয়া ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছে।


    তিনি আরো বলেন, ‘গাজার বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ ও অনাহারের অবসান ঘটাতে হবে।’


    রোববার সিডনি হারবার ব্রিজে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনপন্থীর বিক্ষোভের একদিন পর এই ঘোষণা দেওয়া হলো।


    উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জও ওই বিক্ষোভে অংশ নেন। যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন বিক্ষোভকারীরা। সিডনি হারবার ব্রিজে শান্তিপূর্ণ এ বিক্ষোভে অনেকে ছোট বাচ্চা নিয়েও হাজির হন।


    এই মুহুর্তে যুদ্ধবিরতি দিয়ে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার দাবি জানান তারা। সেইসঙ্গে গাজায় দুর্ভিক্ষ বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান বিক্ষোভকারীরা। ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও করেন তারা।


    এদিকে, গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। একদিনে কমপক্ষে ১১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও ৮৬৬ জন। রোববার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।


    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় ১১৯টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৬৬ জন। যার ফলে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে।


    মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে ৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫১১ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আর গত ২৭ মে থেকে আহত হয়েছেন আরও ১০ হাজার ৫৭৮ জন।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইসরায়েলিদের সমর্থন নেই, এখনই গাজা যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত : ইয়ার লাপিদ

      অনলাইন ডেস্ক
      ৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:৪৩
      অনলাইন ডেস্ক
      ইসরায়েলিদের সমর্থন নেই, এখনই গাজা যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত : ইয়ার লাপিদ

      ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ আর জনগণের সমর্থন পাচ্ছে না এবং সে কারণেই এখন এই যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত। রোববার (৩ আগস্ট) টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।


      ইয়ার লাপিদ এক্সের পোস্টে লিখেছেন, ইসরায়েলের প্রতিটি যুদ্ধে একটি অপরিহার্য শর্ত থাকে- জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন। যদি জনগণ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বিশ্বাস না করে, নেতৃত্বে আস্থা না রাখে, তবে ইসরায়েল সেই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে না।


      তিনি আরও বলেন, এই তিনটি শর্তের কোনোটিই এখন আর বিদ্যমান নেই। তাই এখন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সময়। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বন্দিদের ঘরে ফিরিয়ে আনা।


      ইসরায়েলের টানা সামরিক অভিযানে শনিবার গাজার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬ জন সহায়তা গ্রহণের অপেক্ষায় থাকা বেসামরিক নাগরিক। একইসঙ্গে, অবরুদ্ধ গাজায় অনাহার ও পুষ্টিহীনতায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জনে, যাদের মধ্যে ৯৩ জনই শিশু। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


      উল্লেখ্য, ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০ হাজার ৪৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭২২ জন। অপরদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন আনুমানিক ১ হাজার ১৩৯ জন এবং ২০০ জনের বেশি মানুষ অপহৃত হন।


      গাজায় ক্রমবর্ধমান মানবিক বিপর্যয় ও খাদ্য সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান থেমে নেই।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া : সাগরের তলদেশের শক্তিতে কে এগিয়ে?

        অনলাইন ডেস্ক
        ২ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:১
        অনলাইন ডেস্ক
        যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া : সাগরের তলদেশের শক্তিতে কে এগিয়ে?

        বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই আবারও শীতল যুদ্ধ যুগের কৌশলে ফিরে যাচ্ছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জবাবে শুক্রবার রাশিয়ার কাছাকাছি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


        এর আগে, বৃহস্পতিবার মেদভেদেভ রাশিয়ার স্নায়ুযুদ্ধকালীন পারমাণবিক অস্ত্রব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তথাকথিত ‘ডেড হ্যান্ড’ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের আরও সচেতন থাকা উচিত। ডেড হ্যান্ড কৌশল বলতে মূলত শীতল যুদ্ধ যুগের স্বয়ংক্রিয় কিংবা আধা-স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়; যা দেশের নেতৃত্ব ধ্বংস হয়ে গেলেও পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম।


        প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার ‘মৃত অর্থনীতি’ মন্তব্যের জবাবে সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ওই মন্তব্য করেছিলেন। তার ওই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে অবস্থান বদলে রাশিয়ার কাছাকাছি মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।


        তবে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি ক্রেমলিন। তবে দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ভিক্টর ভোডোলাতস্কি সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিনের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি।


        তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিনের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। আর যেসব সাবমেরিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো অনেক আগেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’’


        • যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন (ওহাইও-ক্লাস)

        dhakapost


        যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ওহাইও-ক্লাস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর (এসএসবিএন) গোপনে চলাচল ও নির্ভুল নিশানায় পারমাণবিক অস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে। এসব সাবমেরিন ‌‘বুমার’ নামে পরিচিত এবং বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর বহরে অন্তত ১৪টি সক্রিয় বুমার রয়েছে।


        দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা টহলের জন্য তৈরি এসব সাবমেরিন বড় ধরনের মেরামত ছাড়াই ১৫ বছর পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। প্রতিটি সাবমেরিন সর্বোচ্চ ২০টি সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করার জন্য ব্যবহৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহন করতে পারে। এর প্রধান অস্ত্র ট্রাইডেন্ট ডি৫ এসএলবিএম ক্ষেপণাস্ত্র।


        • যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন

        যুক্তরাষ্ট্র তিন ধরনের পারমাণবিক চালিত ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন পরিচালনা করে : ভার্জিনিয়া-ক্লাস, সিউলফ-ক্লাস, এবং লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাস (বা ৬৮৮ ক্লাস)। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র এবং এমকে-৪৮ টর্পেডো দিয়ে সজ্জিত এসব সাবমেরিন শত্রু জাহাজ খুঁজে ধ্বংস করতে পারে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি এবং মাইন যুদ্ধেও সক্ষম এসব সাবমেরিন।

        dhakapost


        যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি ভার্জিনিয়া-ক্লাস এসএসএন রয়েছে। এর মধ্যে ইউএসএস হাওয়াই, ইউএসএস নর্থ ক্যারোলিনা, ইউএসএস মিসৌরি ইত্যাদি রয়েছে। ভার্জিনিয়া-ক্লাস এসএসএন মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক যুদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। এতে বিশেষ অভিযানের জন্য আলাদা সুবিধা ও ডুবুরিদের জন্য লক–ইন/লক-আউট চেম্বার রয়েছে।


        মার্কিন বাহিনী বহরে সিউলফ-ক্লাসের তিনটি সাবমেরিন রয়েছে। যার মধ্যে ইউএসএস সিউল্ফ প্রথম বারের মতো ১৯৯৭ সালে কমিশন হয়। যদিও এই ক্লাসের উল্লম্বভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যবস্থা নেই। তবে এতে আটটি টর্পেডো টিউব রয়েছে। টর্পেডো কক্ষে সর্বোচ্চ ৫০টি অস্ত্র রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।


        ৬৮৮-ক্লাস (লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাসের) মার্কিন সাবমেরিন বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে মনে করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ২৪টি সক্রিয় রয়েছে। ১৯৭৬ সালে সোভিয়েত হুমকি মোকাবিলায় নির্মিত এসব সাবমেরিন উচ্চ গতি ও গোপন গতিবিধির জন্য ব্যাপক কার্যকর। তবে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভার্জিনিয়া-ক্লাসের মাধ্যমে এসব সাবমেরিন প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

        dhakapost


        • রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন

        বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাবমেরিন বহর রয়েছে রাশিয়ার। প্রায় ৬৪টি সাবমেরিন আছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন (এসএসবিএন) আছে প্রায় ১৪টি; যা রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে বোরেই-ক্লাস ও ডেল্টা আইভি-ক্লাস সাবমেরিনও আছে।

        dhakapost


        রাশিয়ার নৌবাহিনীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বোরেই-ক্লাস ৮টি সাবমেরিন রয়েছে। এই সাবমেরিনের প্রতিটি ১৬টি বুলাভা এসএলবিএম ও ৬টি ৫৩৩ মিলিমিটার টর্পেডো লঞ্চার বহন করতে পারে। এটি অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট এবং মাইনও ছুড়তে পারে। এর ক্রু সদস্য সংখ্যা ১০০ জনের বেশি।


        রাশিয়া বোরেই-ক্লাস সাবমেরিনকে ডেল্টা আইভি-ক্লাসের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। দেশটির নৌবাহিনীর বহরে বর্তমানে অন্তত ছয়টি ডেল্টা আইভি সক্রিয় রয়েছে। এসব সাবমেরিনের প্রত্যেকটি অন্তত ১৬টি সিনেভা এসএলবিএম বহন করতে পারে এবং সমুদ্রের নিচে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।

        dhakapost


        • রাশিয়ার ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন

        রাশিয়ার নৌবাহিনীতে চারটি ইয়াসেন-ক্লাস পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রয়েছে। এসব সাবমেরিন আকারে ছোট এবং কমসংখ্যক ক্রু নিয়ে পরিচালিত হয়। এই সাবমেরিনে অন্তত ৫টি ৩এম৫৪-১ কালিবার ক্ষেপণাস্ত্র অথবা ৪টি পি-৮০০ ৩২-৪০ অনিক্স ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। যার ফলে স্থলভাগে ও সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার হামলা চালানো যায়।

        dhakapost


        রুশ নৌবাহিনীর বহরে প্রায় পাঁচটি সক্রিয় আকুলা-ক্লাস সাবমেরিন রয়েছে। এই সাবমেরিনকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে মনে করা হয়। রাশিয়ান ভাষায় ‘আকুলা’ অর্থ ‘হাঙর’। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাসের জবাবে তৈরি এসব সাবমেরিন কালিবার, অনিক্স বা গ্রানিট ক্ষেপণাস্ত্র এবং টর্পেডো নিয়ে পরিচালিত হয়।


        সূত্র: এনডিটিভি।



        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

          ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল কিনবে ভারত

          অনলাইন ডেস্ক
          ২ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:১৩
          অনলাইন ডেস্ক
          ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল কিনবে ভারত

          রাশিয়ার জ্বালানি কিনলে ভারতকে শাস্তির আওতায় আনা ও জরিমানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।


          শনিবার (২ আগস্ট) একাধিক ভারতীয় কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।


          মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজ, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়েরে সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিল বার্তাসংস্থা রয়টার্স। কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।


          গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি শুনেছেন ভারত রাশিয়া থেকে আর কোনো জ্বালানি কিনবে না। কিন্তু তার মন্তব্যের পরের দিন নিউইয়র্ক টাইমস জানাল অন্য খবর।


          ভারতের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা তাদের জ্বালানি কেনার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেননি। নিউইয়র্ক টাইমসকে অপর এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, তেল কোম্পানিগুলোকে রাশিয়ার তেল না কেনার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।


          এরআগে গত সপ্তাহে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ভারতের রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারগুলো রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে।


          গত ১৪ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া শান্তিচুক্তি না করলে যেসব দেশ রাশিয়ার তেল কিনবে তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।


          রাশিয়া ভারতের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক। ভারত প্রতি বছর যে পরিমাণ তেল কেনে তার ৩৫ শতাংশ সরবরাহ করে মস্কো।


          সূত্র: রয়টার্স


          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত