ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া : সাগরের তলদেশের শক্তিতে কে এগিয়ে?

অনলাইন ডেস্ক
২ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:১
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া : সাগরের তলদেশের শক্তিতে কে এগিয়ে?

বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই আবারও শীতল যুদ্ধ যুগের কৌশলে ফিরে যাচ্ছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জবাবে শুক্রবার রাশিয়ার কাছাকাছি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


এর আগে, বৃহস্পতিবার মেদভেদেভ রাশিয়ার স্নায়ুযুদ্ধকালীন পারমাণবিক অস্ত্রব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তথাকথিত ‘ডেড হ্যান্ড’ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের আরও সচেতন থাকা উচিত। ডেড হ্যান্ড কৌশল বলতে মূলত শীতল যুদ্ধ যুগের স্বয়ংক্রিয় কিংবা আধা-স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়; যা দেশের নেতৃত্ব ধ্বংস হয়ে গেলেও পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার ‘মৃত অর্থনীতি’ মন্তব্যের জবাবে সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ওই মন্তব্য করেছিলেন। তার ওই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে অবস্থান বদলে রাশিয়ার কাছাকাছি মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি ক্রেমলিন। তবে দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ভিক্টর ভোডোলাতস্কি সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিনের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি।


তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিনের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। আর যেসব সাবমেরিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো অনেক আগেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’’


• যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন (ওহাইও-ক্লাস)

dhakapost


যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ওহাইও-ক্লাস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর (এসএসবিএন) গোপনে চলাচল ও নির্ভুল নিশানায় পারমাণবিক অস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে। এসব সাবমেরিন ‌‘বুমার’ নামে পরিচিত এবং বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর বহরে অন্তত ১৪টি সক্রিয় বুমার রয়েছে।


দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা টহলের জন্য তৈরি এসব সাবমেরিন বড় ধরনের মেরামত ছাড়াই ১৫ বছর পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। প্রতিটি সাবমেরিন সর্বোচ্চ ২০টি সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করার জন্য ব্যবহৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহন করতে পারে। এর প্রধান অস্ত্র ট্রাইডেন্ট ডি৫ এসএলবিএম ক্ষেপণাস্ত্র।


• যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন

যুক্তরাষ্ট্র তিন ধরনের পারমাণবিক চালিত ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন পরিচালনা করে : ভার্জিনিয়া-ক্লাস, সিউলফ-ক্লাস, এবং লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাস (বা ৬৮৮ ক্লাস)। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র এবং এমকে-৪৮ টর্পেডো দিয়ে সজ্জিত এসব সাবমেরিন শত্রু জাহাজ খুঁজে ধ্বংস করতে পারে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি এবং মাইন যুদ্ধেও সক্ষম এসব সাবমেরিন।

dhakapost


যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি ভার্জিনিয়া-ক্লাস এসএসএন রয়েছে। এর মধ্যে ইউএসএস হাওয়াই, ইউএসএস নর্থ ক্যারোলিনা, ইউএসএস মিসৌরি ইত্যাদি রয়েছে। ভার্জিনিয়া-ক্লাস এসএসএন মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক যুদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। এতে বিশেষ অভিযানের জন্য আলাদা সুবিধা ও ডুবুরিদের জন্য লক–ইন/লক-আউট চেম্বার রয়েছে।


মার্কিন বাহিনী বহরে সিউলফ-ক্লাসের তিনটি সাবমেরিন রয়েছে। যার মধ্যে ইউএসএস সিউল্ফ প্রথম বারের মতো ১৯৯৭ সালে কমিশন হয়। যদিও এই ক্লাসের উল্লম্বভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যবস্থা নেই। তবে এতে আটটি টর্পেডো টিউব রয়েছে। টর্পেডো কক্ষে সর্বোচ্চ ৫০টি অস্ত্র রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।


৬৮৮-ক্লাস (লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাসের) মার্কিন সাবমেরিন বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে মনে করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ২৪টি সক্রিয় রয়েছে। ১৯৭৬ সালে সোভিয়েত হুমকি মোকাবিলায় নির্মিত এসব সাবমেরিন উচ্চ গতি ও গোপন গতিবিধির জন্য ব্যাপক কার্যকর। তবে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভার্জিনিয়া-ক্লাসের মাধ্যমে এসব সাবমেরিন প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

dhakapost


• রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাবমেরিন বহর রয়েছে রাশিয়ার। প্রায় ৬৪টি সাবমেরিন আছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন (এসএসবিএন) আছে প্রায় ১৪টি; যা রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে বোরেই-ক্লাস ও ডেল্টা আইভি-ক্লাস সাবমেরিনও আছে।

dhakapost


রাশিয়ার নৌবাহিনীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বোরেই-ক্লাস ৮টি সাবমেরিন রয়েছে। এই সাবমেরিনের প্রতিটি ১৬টি বুলাভা এসএলবিএম ও ৬টি ৫৩৩ মিলিমিটার টর্পেডো লঞ্চার বহন করতে পারে। এটি অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট এবং মাইনও ছুড়তে পারে। এর ক্রু সদস্য সংখ্যা ১০০ জনের বেশি।


রাশিয়া বোরেই-ক্লাস সাবমেরিনকে ডেল্টা আইভি-ক্লাসের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। দেশটির নৌবাহিনীর বহরে বর্তমানে অন্তত ছয়টি ডেল্টা আইভি সক্রিয় রয়েছে। এসব সাবমেরিনের প্রত্যেকটি অন্তত ১৬টি সিনেভা এসএলবিএম বহন করতে পারে এবং সমুদ্রের নিচে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।

dhakapost


• রাশিয়ার ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন

রাশিয়ার নৌবাহিনীতে চারটি ইয়াসেন-ক্লাস পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রয়েছে। এসব সাবমেরিন আকারে ছোট এবং কমসংখ্যক ক্রু নিয়ে পরিচালিত হয়। এই সাবমেরিনে অন্তত ৫টি ৩এম৫৪-১ কালিবার ক্ষেপণাস্ত্র অথবা ৪টি পি-৮০০ ৩২-৪০ অনিক্স ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। যার ফলে স্থলভাগে ও সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার হামলা চালানো যায়।

dhakapost


রুশ নৌবাহিনীর বহরে প্রায় পাঁচটি সক্রিয় আকুলা-ক্লাস সাবমেরিন রয়েছে। এই সাবমেরিনকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে মনে করা হয়। রাশিয়ান ভাষায় ‘আকুলা’ অর্থ ‘হাঙর’। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাসের জবাবে তৈরি এসব সাবমেরিন কালিবার, অনিক্স বা গ্রানিট ক্ষেপণাস্ত্র এবং টর্পেডো নিয়ে পরিচালিত হয়।


সূত্র: এনডিটিভি।



প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

    ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল কিনবে ভারত

    অনলাইন ডেস্ক
    ২ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:১৩
    অনলাইন ডেস্ক
    ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল কিনবে ভারত

    রাশিয়ার জ্বালানি কিনলে ভারতকে শাস্তির আওতায় আনা ও জরিমানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।


    শনিবার (২ আগস্ট) একাধিক ভারতীয় কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।


    মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজ, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়েরে সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিল বার্তাসংস্থা রয়টার্স। কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।


    গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি শুনেছেন ভারত রাশিয়া থেকে আর কোনো জ্বালানি কিনবে না। কিন্তু তার মন্তব্যের পরের দিন নিউইয়র্ক টাইমস জানাল অন্য খবর।


    ভারতের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা তাদের জ্বালানি কেনার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেননি। নিউইয়র্ক টাইমসকে অপর এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, তেল কোম্পানিগুলোকে রাশিয়ার তেল না কেনার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।


    এরআগে গত সপ্তাহে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ভারতের রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারগুলো রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে।


    গত ১৪ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া শান্তিচুক্তি না করলে যেসব দেশ রাশিয়ার তেল কিনবে তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।


    রাশিয়া ভারতের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক। ভারত প্রতি বছর যে পরিমাণ তেল কেনে তার ৩৫ শতাংশ সরবরাহ করে মস্কো।


    সূত্র: রয়টার্স


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      রাশিয়ার কাছাকাছি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ ট্রাম্পের

      অনলাইন ডেস্ক
      ২ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:৫২
      অনলাইন ডেস্ক
      রাশিয়ার কাছাকাছি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ ট্রাম্পের

      রাশিয়ার জলসীমার কাছাকাছি দুটি পরমাণুচালিত সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের বক্তব্যের জবাবে এ নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। খবর আলজাজিরার।


      শুক্রবার (১ আগস্ট) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত মেদভেদেভের চরম উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাবে নেওয়া হয়েছে।


      নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমি দুটি পরমাণুচালিত সাবমেরিন উপযুক্ত অঞ্চলে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছি। তার (মেদভেদেভ) এই বেপরোয়া ও উসকানিমূলক বক্তব্য যেন কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।


      তিনি আরও লেখেন, শব্দের গুরুত্ব অনেক। অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আমি আশা করি, এই ঘটনা তার একটি উদাহরণ হবে না।


      গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প ও মেদভেদেভের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্রতর হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অধীনে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


      মেদভেদেভ ও পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মেদভেদেভ ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় পুতিন তার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর পুতিন যখন আবার প্রেসিডেন্ট হন, মেদভেদেভ ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


      চলতি সপ্তাহের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা থেকে সরে গিয়ে মেদভেদেভের উসকানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানান ট্রাম্প।


      তিনি লেখেন, আমি ভারত ও রাশিয়ার ব্যবসার ব্যাপারে পাত্তা দিই না। তাদের মৃতপ্রায় অর্থনীতিগুলো তারা একসঙ্গে ডুবিয়ে ফেলুক, আমার কোনো আপত্তি নেই।


      বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পণ্যে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর মারাত্মক আঘাত হানতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই আঘাত কতটা বড় হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি একটি অস্পষ্ট জরিমানার ঘোষণাও দিয়েছেন।


      ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, রাশিয়ার তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য ১ আগস্ট থেকে ভারতকে জরিমানা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরিমানা সম্পর্কিত বিস্তারিত শর্তগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। এরপরই অর্থনীতির ওপর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ১৮ তলা থেকে পড়েও বেঁচে গেল ৩ বছরের শিশু!

        অনলাইন ডেস্ক
        ২ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:৪৮
        অনলাইন ডেস্ক
        ১৮ তলা থেকে পড়েও বেঁচে গেল ৩ বছরের শিশু!

        তিন বছর বয়সি এক শিশু ১৮ তলা ভবন থেকে নিচে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চীনের হাংঝো শহরে।


        সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।


        প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ জুলাই দক্ষিণ পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝোতে দাদা-দাদির তত্ত্বাবধানে রেখে গিয়েছিলেন শিশুটির বাবা-মা। শিশুটি ঘুমিয়ে পড়ার পর তারা ঘরের কিছু কেনাকাটা করতে বাইরে যান। তবে তারা ফেরার আগেই শিশুটি জেগে বাথরুমে গিয়ে কমোডের ওপর উঠে একটি খোলা জানালা দিয়ে বাইরে পড়ে যায়।


        জানা গেছে, শিশুটি প্রথমে একটি গাছের ওপর পড়ে। এতে সে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। এক প্রতিবেশী একটি বাচ্চা নিচে পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে তা কর্তৃপক্ষে জানায়। পরে শিশুটির বাবা-মা বিষয়টি জানতে পারেন।


        শিশুটির বাবা বলেন, ভিডিও দেখে প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি যে আমার ছেলে ১৮ তলা থেকে পড়ে গেছে। সম্ভবত পড়ার সময় সে ১৭ তলার একটি খোলা জানালায় বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তার পড়ার গতিপথে কিছুটা কমে যায় ও দিক বদলে যায়। নাহলে সে সরাসরি মাটিতে পড়ত।


        সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটি জানালার পাশ দিয়ে পড়ে একটি গাছের ডালে আটকে যায় এবং এরপর মাটির ওপর একটি ঝোপের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে। সরাসরি কংক্রিটে না পড়ায় তার প্রাণ বেঁচে যায়। জানা গেছে, ১৮ তলা থেকে পড়ার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বা-হাত ভেঙে গেছে, মেরুদণ্ডেও আঘাত পেয়েছে এবং কিছু অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তার মাথায় কোনো আঘাত লাগেনি। তাই সে বেঁচে গেছে। এই ঘটনাকে একটি অলৌকিক ঘটনা বলে অভিহিত করেন চিকিৎসকরা।


        এদিকে এমন দুর্ঘটনার পরও সন্তানকে জীবিত পেয়ে শিশুটির বাবা ওই গাছের ডালে একটি বড় লাল ফুল ঝুলিয়ে দেন। বিষয়টিকে চীনে সম্মান ও উদযাপনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।


        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ইসরায়েল ভুতুড়ে শহরে পরিণত হবে, খাতামির হুঁশিয়ারি

          অনলাইন ডেস্ক
          ২ আগস্ট, ২০২৫ ১৪:২২
          অনলাইন ডেস্ক
          ইসরায়েল ভুতুড়ে শহরে পরিণত হবে, খাতামির হুঁশিয়ারি

          যদি ইসরায়েল আবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তবে তেলআবিবকে ‘ভুতুড়ে শহর’ বানিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন জুমার নামাজের খতিব আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি।


          শুক্রবার (১ আগস্ট) জুমার খুতবায় তিনি বলেন, শত্রুরা বরাবরই ইরানকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। এখন তারা আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে, কারণ তারা নিজেকে অস্তিত্বের সংকটে দেখছে। কিন্তু আমরা তোফানেও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছি।


          খাতামি বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের বিস্তার প্রমাণ করে যে দুনিয়া দিনদিন ইসরায়েলের প্রতি ঘৃণায় ভরে উঠছে, আর ইরানের প্রভাব বাড়ছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো দেশ সাহসিকতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে—কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে। ইরান তা করেছে।


          তিনি ইসরায়েলকে একটি ক্যান্সারসদৃশ টিউমার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, যদি এটি মুছে না ফেলা হয়, তাহলে অন্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গেও ঠিক সিরিয়ার মতো ব্যবহার করবে ইসরায়েল।


          ভুতুড়ে শহরে পরিণত হবে ইসরায়েল, হুঁশিয়ারি খাতামির

          স্লোভেনিয়া / ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রথম ইইউ দেশ

          আয়াতুল্লাহ খাতামি জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি, কিন্তু যখন আক্রমণ হয়েছে, তখন আমরা জবাব দিয়েছি প্রতিরোধের ভাষায়।


          তার ভাষ্যমতে, ইসরায়েল ১৩ জুন ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক স্থাপনাগুলোতে ১২ দিন ধরে আক্রমণ চালায়। এর জবাবে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়—নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহানে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এরপর ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’র অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দখলকৃত বিভিন্ন শহরে ২২ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।


          এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যেটি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।


          গত ২৪ জুন শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি বর্তমানে কার্যকর থাকলেও, আয়াতুল্লাহ খাতামি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইসরায়েল আবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তবে তেলআবিব এক ভুতুড়ে শহরে পরিণত হবে।


          তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে রক্ষায় যুদ্ধে নেমেছে, এজন্য ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান আজও ইরানিদের হৃদয়ে বাজে।


          খাতামি অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অন্তত ২৫টি দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে, যা অপরাধের কালো ইতিহাস হিসেবে বিবেচিত।


          সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি


          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত