ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

অনলাইন ডেস্ক
২ আগস্ট, ২০২৫ ১২:১০
অনলাইন ডেস্ক
‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

গ্রেটার বাংলাদেশের মানচিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। এজন্য তারা বাংলাদেশের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্যই নয়াদিল্লি বাংলাদেশের ব্যাপারে বিশেষভাবে মনযোগী বলেও লোকসভার এক অধিবেশনে উল্লেখ করেছেন তিনি।


অধিবেশনে তাকে বিজেপির এক এমপি বলেন—সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামের একটি ইসলামপন্থি গোষ্ঠী ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ নামের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। ভারতের একাধিক রাজ্যকে সেই মানচিত্রে বাংলাদেশি ভূখণ্ড হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামের এই গোষ্ঠীটি তুরস্কভিত্তিক এনজিও ‘তার্কিশ ইউথ ফেডারেশনে’র সহায়তা ও মদতপুষ্ট। আমরা এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 


জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, আমরা এ ইস্যুতে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সরকারি ফ্যাক্টচেকার প্ল্যাটফর্ম বাংলাফ্যাক্টের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের সরকার আমাদের জানিয়েছে যে ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি ইতিহাস সম্পর্কিত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মধ্যযুগের বাংলার একটি মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল। ওই প্রদর্শনীর যারা আয়োজক ছিলেন, তারা বাংলাদেশের সরকারকে বলেছেন যে কোনো বিদেশি সংস্থা বা গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামের কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই।


জয়শঙ্কর বলেন, আমরা জাতীয় স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর আমরা নিবিড় নজর রাখছি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা এগোচ্ছি।


সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

মন্তব্য

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ বোমা প্রকাশ্যে আনল তুরস্ক

অনলাইন ডেস্ক
২ আগস্ট, ২০২৫ ১১:৫৮
অনলাইন ডেস্ক
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ বোমা প্রকাশ্যে আনল তুরস্ক

হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ গতিশীল) ক্ষেপণাস্ত্রের পর এবার ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অ-পরমাণু বোমা, আরও এক গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র প্রকাশ্যে এনে গোটা বিশ্বে ভয় ধরাল তুরস্ক। যুদ্ধবিমান থেকে ওই বোমা ছুড়ে মারলে চোখের নিমেষে গুঁড়িয়ে যেতে পারে শত্রু দেশের একাধিক শহর। পাশাপাশি, কৌশলগত পরিকাঠামো বা সামরিক ছাউনিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার ক্ষমতা রয়েছে বোমাটির। আর এতেই চিন্তার ভাজ পড়েছে ভারত-ইসরাইলসহ আমেরিকার কপালেও।


‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’ খ্যাত তুরস্ক গত কয়েক বছরে দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে চলা সংঘর্ষে বার বার খবরের শিরোনামে এসেছে একাধিক হাতিয়ার নিয়ে। সেই তালিকায় রয়েছে ‘বের্যাক্টার টিবি-২’ হামলাকারী ড্রোন থেকে শুরু করে রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র। 


এবার কি তাতে যুক্ত হলো আঙ্কারার তৈরি ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অ-পরমাণু বোমা? নাকি কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান? উঠেছে এমন সব প্রশ্নও।


চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৭তম ‘আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলা ২০২৫’-এর আয়োজন করে তুর্কি প্রশাসন। সেখানেই ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ গণবিধ্বংসী অ-পরমাণু-সহ জোড়া বোমা প্রথমবার প্রকাশ্যে আনে আঙ্কারা। সেগুলোর একটির নাম গাজাপ। স্থানীয় ভাষায় যার অর্থ হলো- ক্রোধ। দ্বিতীয়টি হলো- হায়ালেট বা ভূত। দু’টি বোমাই তৈরি করেছে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন গবেষণা এবং উন্নয়নকেন্দ্র (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার)।


তুর্কি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজাপের ওজন অনুমানিক দু’হাজার পাউন্ড বা ৯৭০ কেজি। শত্রুর ওপর আঘাত হানার সময় একসঙ্গে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানোর ক্ষমতা রয়েছে এর। বিস্ফোরণের সময় এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ১০ হাজার টুকরোয় ছড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে এর নকশা তৈরি করেছেন আঙ্কারা প্রতিরক্ষা গবেষকেরা।


সদ্য প্রকাশ্যে আসা বোমাগুলোর শক্তি প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন গবেষণা এবং উন্নয়নকেন্দ্রের ডিরেক্টর নিলুফার কুজুলু। ‘টার্কি টুডে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রতি বর্গমিটারে বিপুল পরিমাণে স্প্লিন্টার ছড়িয়ে দিতে পারবে গাজাপ। একটি সাধারণ এমকে সিরিজের বোমার চেয়ে এটি তিন গুণ বেশি শক্তিশালী।’


সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বোমাটির মধ্যে একটি পরিবর্তিত ফিলার এবং অভ্যন্তরীণ পাঁজরযুক্ত কাঠামো রয়েছে, যা এর বিস্ফোরণের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। গাজাপের নকশার সঙ্গে গ্রেনেডের কার্যকারিতার কিছুটা মিল রয়েছে। তবে এর ক্ষেত্রে এলোমেলোভাবে ইস্পাতের স্প্লিন্টার এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ে না। উল্টে বিস্ফোরণের পর নিয়ন্ত্রিত টুকরোয় ভেঙে গিয়ে সেগুলো শত্রুর ওপরেই আঘাত হানে।


কুজুলু জানিয়েছেন, এফ-১৬ এবং এফ-৪ যুদ্ধবিমান থেকে শত্রুঘাঁটিতে গাজাপ ফেলে হামলা করতে পারবে তুর্কি বিমান বাহিনীর সদস্যরা। আগামী দিনে ড্রোন থেকে যাতে এই বোমা ব্যবহার করা যায় সেই চেষ্টাও চালাচ্ছেন তারা। 


অন্য দিকে, হায়ালেটকে বাঙ্কার বাস্টার বোমা বলা যেতে পারে। কংক্রিট বা ইস্পাতের দেওয়ালের শক্ত কাঠামো ভেদ করে আক্রমণ চালানোর উদ্দেশ্যে একে তৈরি করেছেন আঙ্কারার প্রতিরক্ষা গবেষকেরা। 


বর্তমানে তুর্কি বিমান বাহিনী দু’টি বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করে থাকে। সেগুলো হলো- এনইবি-১ এবং এনইবি-২। হায়ালেটকে এদের পরবর্তী প্রজন্মের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিস্ফোরক বলা যেতে পারে। 


‘টার্কি টুডে’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্ত কংক্রিট বা ইস্পাতের দেওয়াল কেটে ৯০ মিটার পর্যন্ত গভীরে ঢুকে হামলা চালাতে পারবে আঙ্কারার তৈরি নতুন এই বাঙ্কার বাস্টার বোমা।


এ বিষয়ে কুজুলু বলেন, ‘সাধারণ বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো ১.৮ থেকে ২.৮ মিটার মোটা কংক্রিটের দেওয়াল কেটে ভেতরে ঢুকে আঘাত হানতে পারে। আমাদের বোমা কিন্তু তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এটা সাত মিটার পর্যন্ত পুরু কংক্রিট বা ইস্পাতের দেওয়াল ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম। এতটা মোটা ইস্পাতের চাদর সাধারণত সেতু, বাঁধ বা পরমাণু হাতিয়ার রাখার পরিকাঠামোতেই ব্যবহার করা হয়।’


সম্প্রতি একটি দ্বীপে হায়ালেটের সফল পরীক্ষা চালান তুর্কি প্রতিরক্ষা গবেষকেরা। এতে দেখা যায়, পাথর এবং মাটির মধ্যে ৯০ মিটার পর্যন্ত গভীরে প্রবেশ করেছে এই বাঙ্কার বাস্টার বোমা। কুজুলু জানিয়েছেন, ১৬০ মিটার চওড়া দ্বীপে ওই পরীক্ষা করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর দ্বীপের বাইরে আশপাশের এলাকাতেও এর প্রভাব লক্ষ করা গেছে। গাজাপের পরীক্ষাতেও ১০০ শতাংশ সাফল্য মিলেছে বলে জানা গেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে হায়ালেটকে ব্যবহার করতে পারবে তুর্কি বিমান বাহিনী। রি-ইনফোর্সড সি-৫০ কংক্রিটের ব্লক এবং ২৫ মিলিমিটারের রিবড স্টিলের খাঁচার ওপর এর শক্তি পরীক্ষা করা হয়। কতকটা আধুনিক দুর্গের আকারে ওই কংক্রিটের ব্লক এবং স্টিলের খাঁচা তৈরি করা হয়েছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় এর পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।


তুর্কি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, সংশ্লিষ্ট বাঙ্কার বাস্টার বোমাটি একাধিক ইস্পাতের খাঁচা উড়িয়ে দিতে সক্ষম। ১০ মিটারের ঘন বালির নীচের বাঙ্কারে ঢুকে অনায়াসে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারবে হায়ালেট। দেড় টনের কংক্রিটের দেওয়াল চিরে ৬০০ মিটার গভীরে গিয়ে শত্রুকে খতম করার ক্ষমতা রয়েছে তার।


এদিকে গত ২২ জুলাই প্রথমবার একটি হাইপারসনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে আনেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান। ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘টাইফুন ব্লক-৪’। দেশটির অন্যতম বড় শহর ইস্তাম্বুলে চলা ‘আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলা ২০২৫’-এ প্রদর্শিত ওই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি নিয়ে ইতোমধ্যেই সামনে এসেছে একাধিক রিপোর্ট।


তুরস্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টার্কি টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘টাইফুন ব্লক ৪’-এর দৈর্ঘ্য সাড়ে ৬ মিটার। বিস্ফোরকবোঝাই অবস্থায় এর ওজন ২,৩০০ কিলোগ্রাম। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। হাতিয়ারটির নকশা তৈরি করেছে আঙ্কারার জনপ্রিয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘রকেটসান’। এর উৎপাদনের সঙ্গেও জড়িত তারা।


দীর্ঘ দিন ধরেই ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। এ ব্যাপারে যাবতীয় দায়িত্ব ‘রকেটসান’-এর কাঁধে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। কয়েক বছর আগে ‘টাইফুন’ নামের একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে আঙ্কারার ওই প্রতিরক্ষা সংস্থা। এত দিন পর্যন্ত সেটাই ছিল তুর্কি সেনার সবচেয়ে দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। 


‘টার্কি টুডে’ জানিয়েছে, ‘টাইফুন’-এর উন্নত সংস্করণ হলো এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যাকে প্রকাশ্যে আনার পর বিবৃতি দিয়েছে ‘রকেটসান’। সেখানে বলা হয়েছে, বহুমুখী ওয়ারহেড ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে এই হাতিয়ারের। শত্রুপক্ষের ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, সামরিক বিমান রাখার হ্যাঙ্গারের মতো উচ্চমূল্যের কৌশলগত ফৌজি পরিকাঠামো ধ্বংসের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রটিকে তৈরি করা হয়েছে।


দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিরক্ষা সংস্থার তৈরি ‘টাইফুন ব্লক ৪’-এর গতিবেগ অবশ্য প্রকাশ্যে আনেনি তুরস্ক। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের অনুমান, আট ম্যাক (শব্দের গতিবেগের প্রায় আট গুণ) বেগে ছুটে গিয়ে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে পারবে আঙ্কারার এই হাতিয়ার। 


এদিকে এমন একের পর এক মোক্ষম ‘হাতিয়ার’ তুর্কি সেনাবাহিনীর হাতে চলে আসায় ঘুম উড়েছে প্রতিবেশী গ্রিসের। কারণ, এথেন্সের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরেই সীমান্ত বিবাদ রয়েছে আঙ্কারার।


দ্বিতীয়ত, বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জেরে সাইপ্রাসকে পুরোপুরি কব্জা করতে পারে তুরস্ক। ১৯৭৪ সালে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির এক তৃতীয়াংশ জমি দখল করে নেয় আঙ্কারা। বর্তমানে সেখানে ‘টু স্টেট সলিউশন’-এর কথা বলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান, যা খারিজ করে দিয়েছে সাইপ্রাস ও গ্রিস।


এদিকে তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে পাকিস্তানের। কাশ্মীর ইস্যুতে বার বার ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আঙ্কারা। তাছাড়া রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলদের বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ারও সরবরাহ করে থাকে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রশাসন। ‘অপারেশন সিঁদুর’কে কেন্দ্র করে চলা চার দিনের ‘যুদ্ধে’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ‘বের্যাক্টার টিবি-২’ হামলাকারী ড্রোন দিয়ে সাহায্য করে তুরস্ক। যদিও সেগুলোকে মাঝ-আকাশে ধ্বংস করা হয় বলে দাবি ভারতের।


প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, আগামী দিনে হাইপারসনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতকে শক্ত করতে পারেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তখন ইসলামাবাদের আক্রমণ ঠেকানো নয়াদিল্লির পক্ষে বেশ কঠিন হবে। 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    স্পেন-জার্মানিসহ ৫ দেশ আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলল গাজায়

    অনলাইন ডেস্ক
    ১ আগস্ট, ২০২৫ ২০:১৭
    অনলাইন ডেস্ক
    স্পেন-জার্মানিসহ ৫ দেশ আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলল গাজায়

    জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্পেন, জার্মানি ও ফ্রান্স গাজায় বিমান থেকে সাহায্য ফেলেছে। দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো স্পেন, জার্মানি ও ফ্রান্স গাজা উপত্যকায় আকাশ থেকে মানবিক সাহায্য বিতরণ করল।


    শুক্রবার (১ আগস্ট) দ্য টাইমস অব ইসরায়েল স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা ফুটেজে মধ্য গাজার উপর দিয়ে বিমান থেকে সাহায্য পাঠানোর দৃশ্য দেখা গেছে। তবে ভিডিওয়ের দিনক্ষণ উল্লেখ নেই।


    এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ এখনও বিমান থেকে আজকের সাহায্য পাঠানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পূর্বে বলেছে, এটি গাজা উপত্যকায় মানবিক প্রতিক্রিয়া উন্নত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ।


    প্রসঙ্গত, গাজার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি ও খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রগুলোয় ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গাজা সফরে যাচ্ছেন।


    শুক্রবার (১ আগস্ট) তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিকে সঙ্গে নিয়ে গাজায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে খাদ্য সহায়তার বাস্তব পরিস্থিতি ঘুরে দেখবেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।


    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, দূত গাজায় বিভিন্ন সহায়তা বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলবেন—তাদের দুর্দশা সরাসরি জানার জন্য। সফর শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরিস্থিতি জানিয়ে একটি চূড়ান্ত খাদ্য সহায়তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন উইটকফ।


    এই সফরের ঠিক এক দিন আগেই ইসরায়েলি হামলায় গাজাজুড়ে অন্তত ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত কয়েক সপ্তাহে দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিজনিত কারণে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর খবর দিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      এবার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির ইঙ্গিত দিল ন্যাটোভুক্ত দেশ

      অনলাইন ডেস্ক
      ১ আগস্ট, ২০২৫ ২০:১০
      অনলাইন ডেস্ক
      এবার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির ইঙ্গিত দিল ন্যাটোভুক্ত দেশ

      এবার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ন্যাটোভুক্ত একটি দেশ। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক এই জোটে অপেক্ষাকৃত নতুন সদস্য হলেও দেশটির এমন ইঙ্গিতে হইচই পড়ে গেছে। ফিনল্যান্ড বলছে, তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্র ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব।


      ফিনল্যান্ডের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দেশকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কিনা তা সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট। তবে তার আগে সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করতে হয়। ফিনিশ সংবাদ সংস্থা এসটিটি-কে স্টাব জানান, এই ইস্যু এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন ফিনল্যান্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকেই কঠিন এই প্রশ্ন নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে ফিনল্যান্ড।


      স্টাবের ভাষায়, এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে আমি মনে করি, ফিনল্যান্ডের অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। কোনো শর্ত বা শর্ত ছাড়া যদি সরকার কোনো প্রস্তাব দেয়, তাহলে তাৎক্ষণিক তা গ্রহণ করতে রাজি আছেন বলেও জানান স্টাব।


      অবশ্য ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস ও দ্য ফিনস পার্টি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তবে আদৌ এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেবে কিনা, তা নির্ভর করছে ফিনিশ সরকারের ওপর।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ভারতকে চটিয়ে ট্রাম্প কেন পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছেন?

        অনলাইন ডেস্ক
        ১ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:২৫
        অনলাইন ডেস্ক
        ভারতকে চটিয়ে ট্রাম্প কেন পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছেন?

        ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় দুনিয়ার ‘ট্যারিফ কিং’ বা ‘শুল্ক বসানোর রাজা’ ভারতের ওপর বুধবার ২৫ শতাংশ হারে পাল্টা শুল্ক–আর তার ওপর তথাকথিত ‘রাশিয়া পেনাল্টি’–এই হুকুম জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সঙ্গে বিরাট এক জ্বালানি সমঝোতার কথা জানান।


        পাকিস্তানের ‘বিপুল খনিজ তেলের রিজার্ভ’ সদ্ব্যবহার করতে আমেরিকা যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, ঘোষণা করেন সে কথাও। খবর বিবিসি বাংলার।


        নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে এটাও লিখতে ভুললেন না – ‘কে জানে, একদিন হয়তো দেখা যাবে এই পাকিস্তান ভারতেও তেল বিক্রি করছে!


        অথচ ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দফার মেয়াদে এই পাকিস্তান সম্বন্ধেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘এরা আমাদের মিথ্যে আর ধোঁকা ছাড়া কিছুই দেয়নি।’


        তার পাশাপাশি দিল্লিকে ‘খোঁচা’ দেওয়ার কোনো সুযোগই যেন ট্রাম্প ছাড়তে চাইছেন না!


        এই ধারাবাহিকতাতেই তিনি বুধবার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিপুল তেল সম্পদ যৌথভাবে বিকশিত করার জন্য তাদের দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে– এবং কোনো মার্কিন কোম্পানি এই পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেবে, সেটাও এখন বাছাই করার কাজ চলছে।


        জ্বালানি খাতের এই সমঝোতা সাম্প্রতিক পাক-মার্কিন সম্পর্কের ডায়নামিক্সে সবশেষ সংযোজন, যদিও পাকিস্তানে এই তেলের রিজার্ভ ঠিক কোথায় সেটা ট্রাম্প কিছু ভেঙে বলেননি।


        ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকরা অবশ্য এই সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি দেখে বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইসলামাবাদের যে একটা নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তাতে কোনো ভুল নেই।


        এই জ্বালানি সমঝোতার ঘোষণাও এমন একটা সময়ে এলো, যখন পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে।


        গত সপ্তাহেই পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার তার মার্কিন কাউন্টারপার্ট মার্কো রুবিও-র সঙ্গে দেখা করার পরে জানিয়েছিলেন, দুপক্ষ চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে এবং দিনকয়েকের মধ্যেই তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।


        কিন্তু পাকিস্তানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিবেশী ভারতের জন্য এর অর্থ কী? ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে মোড় নিচ্ছে তাতে কি ভারতের বিচলিত হওয়ার কারণ আছে?


        মার্কিন জেনারেলকে পাকিস্তানের সামরিক সম্মান


        তবে এই তেল সমঝোতা বা সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির বাইরেও এমন অনেক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে–যা থেকে পরিষ্কার ইসলামাবাদ এবং ওয়াশিংটন পরস্পরের কাছাকাছি আসতে চাইছে।


        মাত্র কয়েক দিন আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (ইউএসসেন্টকম) প্রধান, জেনারেল মাইকেল কুরিলাকে পাকিস্তান তাদের অন্যতম শীর্ষ সামরিক খেতাব, ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজে’ ভূষিত করেছে।


        বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তির প্রসার এবং পাক-মার্কিন সামরিক সম্পর্কে তার অবদানের স্বীকৃতিতেই এই সম্মান অর্পণ করা হলো।


        তবে এই পদক্ষেপ যে আমেরিকার প্রতি পাকিস্তানের একটা স্ট্র্যাটেজিক বার্তা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।


        ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে জেনারেল কুরিলাকে এই খেতাব তুলে দেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি স্বয়ং।


        এই অনুষ্ঠানের কয়েক সপ্তাহ আগেই জেনারেল মাইকেল কুরিলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে পাকিস্তানকে ‘ফেনোমেনাল পার্টনার’ বা অসাধারণ এক সঙ্গী বলে বর্ণনা করেছিলেন।


        ফলে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ এখন আবার কাছাকাছি আসছে– যে ইঙ্গিত পরিষ্কার।


        ট্রাম্পের সঙ্গে ফিল্ড মার্শালের মধ্যাহ্নভোজ


        প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জমানায় পাক-মার্কিন সম্পর্ক যে বদলাচ্ছে, তা অবশ্য খুব ভালভাবে টের পাওয়া গিয়েছিল মাস দেড়েক আগেই–যখন পাকিস্তানের সেনাধ্যক্ষ, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বন্ধ দরজার আড়ালে খাবারের টেবিলে বসে দুজনের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছিল তা অবশ্য জানা যায়নি।


        তবে পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধ’ ঠেকানোয় ট্রাম্পের অবদানের স্বীকৃতিতে পাকিস্তান তার নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করার পরই এই বৈঠক চূড়ান্ত করা হয়।


        আরও যেটা লক্ষ্যণীয়, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ওই সফরের ঠিক পর পরই জুলাই মাসের গোড়ায় ওয়াশিংটন ডিসি-তে যান পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রধান জাহির আহমেদ বাবর সিধু।


        ‘দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা’ আরও উন্নীত করতে এবং ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে’ আলোচনা করতে ওই সফরে তিনি পেন্টাগন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ক্যাপিটল হিলে একের পর এক বৈঠক করেন।


        অনেক সামরিক পর্যবেক্ষকই মনে করছেন, এয়ার চিফ মার্শাল সিধুর সফরের প্রধান লক্ষ্যই ছিল মার্কিন ডিফেন্স হার্ডওয়ার বা ভারি সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ার পথ প্রশস্ত করা।


        প্রসঙ্গত, পাকিস্তান বেশ কিছুদিন ধরেই আমেরিকার তৈরি এফ-১৬ ব্লকের ৭০টি যুদ্ধবিমান, এআইএম-৭ স্প্যারো এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল এবং হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের ব্যাটারি কেনার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত