ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ভারতকে চটিয়ে ট্রাম্প কেন পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছেন?

অনলাইন ডেস্ক
১ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:২৫
অনলাইন ডেস্ক
ভারতকে চটিয়ে ট্রাম্প কেন পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় দুনিয়ার ‘ট্যারিফ কিং’ বা ‘শুল্ক বসানোর রাজা’ ভারতের ওপর বুধবার ২৫ শতাংশ হারে পাল্টা শুল্ক–আর তার ওপর তথাকথিত ‘রাশিয়া পেনাল্টি’–এই হুকুম জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সঙ্গে বিরাট এক জ্বালানি সমঝোতার কথা জানান।


পাকিস্তানের ‘বিপুল খনিজ তেলের রিজার্ভ’ সদ্ব্যবহার করতে আমেরিকা যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, ঘোষণা করেন সে কথাও। খবর বিবিসি বাংলার।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে এটাও লিখতে ভুললেন না – ‘কে জানে, একদিন হয়তো দেখা যাবে এই পাকিস্তান ভারতেও তেল বিক্রি করছে!


অথচ ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দফার মেয়াদে এই পাকিস্তান সম্বন্ধেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘এরা আমাদের মিথ্যে আর ধোঁকা ছাড়া কিছুই দেয়নি।’


তার পাশাপাশি দিল্লিকে ‘খোঁচা’ দেওয়ার কোনো সুযোগই যেন ট্রাম্প ছাড়তে চাইছেন না!


এই ধারাবাহিকতাতেই তিনি বুধবার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিপুল তেল সম্পদ যৌথভাবে বিকশিত করার জন্য তাদের দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে– এবং কোনো মার্কিন কোম্পানি এই পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেবে, সেটাও এখন বাছাই করার কাজ চলছে।


জ্বালানি খাতের এই সমঝোতা সাম্প্রতিক পাক-মার্কিন সম্পর্কের ডায়নামিক্সে সবশেষ সংযোজন, যদিও পাকিস্তানে এই তেলের রিজার্ভ ঠিক কোথায় সেটা ট্রাম্প কিছু ভেঙে বলেননি।


ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকরা অবশ্য এই সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি দেখে বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইসলামাবাদের যে একটা নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তাতে কোনো ভুল নেই।


এই জ্বালানি সমঝোতার ঘোষণাও এমন একটা সময়ে এলো, যখন পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে।


গত সপ্তাহেই পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার তার মার্কিন কাউন্টারপার্ট মার্কো রুবিও-র সঙ্গে দেখা করার পরে জানিয়েছিলেন, দুপক্ষ চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে এবং দিনকয়েকের মধ্যেই তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।


কিন্তু পাকিস্তানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিবেশী ভারতের জন্য এর অর্থ কী? ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে মোড় নিচ্ছে তাতে কি ভারতের বিচলিত হওয়ার কারণ আছে?


মার্কিন জেনারেলকে পাকিস্তানের সামরিক সম্মান


তবে এই তেল সমঝোতা বা সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির বাইরেও এমন অনেক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে–যা থেকে পরিষ্কার ইসলামাবাদ এবং ওয়াশিংটন পরস্পরের কাছাকাছি আসতে চাইছে।


মাত্র কয়েক দিন আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (ইউএসসেন্টকম) প্রধান, জেনারেল মাইকেল কুরিলাকে পাকিস্তান তাদের অন্যতম শীর্ষ সামরিক খেতাব, ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজে’ ভূষিত করেছে।


বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তির প্রসার এবং পাক-মার্কিন সামরিক সম্পর্কে তার অবদানের স্বীকৃতিতেই এই সম্মান অর্পণ করা হলো।


তবে এই পদক্ষেপ যে আমেরিকার প্রতি পাকিস্তানের একটা স্ট্র্যাটেজিক বার্তা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।


ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে জেনারেল কুরিলাকে এই খেতাব তুলে দেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি স্বয়ং।


এই অনুষ্ঠানের কয়েক সপ্তাহ আগেই জেনারেল মাইকেল কুরিলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে পাকিস্তানকে ‘ফেনোমেনাল পার্টনার’ বা অসাধারণ এক সঙ্গী বলে বর্ণনা করেছিলেন।


ফলে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ এখন আবার কাছাকাছি আসছে– যে ইঙ্গিত পরিষ্কার।


ট্রাম্পের সঙ্গে ফিল্ড মার্শালের মধ্যাহ্নভোজ


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জমানায় পাক-মার্কিন সম্পর্ক যে বদলাচ্ছে, তা অবশ্য খুব ভালভাবে টের পাওয়া গিয়েছিল মাস দেড়েক আগেই–যখন পাকিস্তানের সেনাধ্যক্ষ, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বন্ধ দরজার আড়ালে খাবারের টেবিলে বসে দুজনের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছিল তা অবশ্য জানা যায়নি।


তবে পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধ’ ঠেকানোয় ট্রাম্পের অবদানের স্বীকৃতিতে পাকিস্তান তার নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করার পরই এই বৈঠক চূড়ান্ত করা হয়।


আরও যেটা লক্ষ্যণীয়, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ওই সফরের ঠিক পর পরই জুলাই মাসের গোড়ায় ওয়াশিংটন ডিসি-তে যান পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রধান জাহির আহমেদ বাবর সিধু।


‘দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা’ আরও উন্নীত করতে এবং ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে’ আলোচনা করতে ওই সফরে তিনি পেন্টাগন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ক্যাপিটল হিলে একের পর এক বৈঠক করেন।


অনেক সামরিক পর্যবেক্ষকই মনে করছেন, এয়ার চিফ মার্শাল সিধুর সফরের প্রধান লক্ষ্যই ছিল মার্কিন ডিফেন্স হার্ডওয়ার বা ভারি সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ার পথ প্রশস্ত করা।


প্রসঙ্গত, পাকিস্তান বেশ কিছুদিন ধরেই আমেরিকার তৈরি এফ-১৬ ব্লকের ৭০টি যুদ্ধবিমান, এআইএম-৭ স্প্যারো এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল এবং হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের ব্যাটারি কেনার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    কোন দেশের ওপর কত শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

    অনলাইন ডেস্ক
    ১ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:৫৩
    অনলাইন ডেস্ক
    কোন দেশের ওপর কত শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধারাবাহিকভাবে বাণিজ্য ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে জানিয়ে নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।


    নতুন আদেশ অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক এখনো অসম, সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত (মূল্যভিত্তিক) শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক হারের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম প্রযোজ্য হবে।


    যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে সম্মত হয়েছে, তাদের জন্য কিছু ছাড় থাকছে, তবে তারা চুক্তি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত পূর্ববর্তী শুল্কই কার্যকর থাকবে।


    হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে নতুন এ নির্বাহী আদেশ অনুসারে কোন দেশে কত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুসারে দেখে নেওয়া যাক কোন দেশে কত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।


    বাংলাদেশ ২০%


    আফগানিস্তান ১৫%


    আলজেরিয়া ৩০%


    অ্যাঙ্গোলা ১৫%


    বলিভিয়া ১৫%


    বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৩০%


    বতসোয়ানা ১৫%


    ব্রাজিল ১০%


    ব্রুনেই ২০%


    কম্বোডিয়া ১৯%


    ক্যামেরুন ১৫%


    চাদ ১৫%


    কোস্টারিকা ১৫%


    কোট দিভোয়ার (আইভরি কোস্ট) ১৫%


    কঙ্গো গণপ্রজাতন্ত্রী ১৫%


    ইকুয়েডর ১৫%


    ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ১৫%


    ভারত ২৫%


    ইন্দোনেশিয়া ১৯%


    ইরাক ৩৫%


    ইসরায়েল ১৫%


    জাপান ১৫%


    জর্ডান ১৫%


    কাজাখস্তান ২৫%


    লাওস ৪০%


    ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ১০%


    ফিজি ১৫%


    ঘানা ১৫%


    গায়ানা ১৫%


    আইসল্যান্ড ১৫%


    লেসোথো ১৫%


    লিবিয়া ৩০%


    লিচটেনস্টেইন ১৫%


    মাদাগাস্কার ১৫%


    মালাউই ১৫%


    মালয়েশিয়া ১৯%


    মরিশাস ১৫%


    মলদোভা ২৫%


    মোজাম্বিক ১৫%


    মিয়ানমার (বার্মা) ৪০%


    নামিবিয়া ১৫%


    নাউরু ১৫%


    নিউজিল্যান্ড ১৫%


    নিকারাগুয়া ১৮%


    নাইজেরিয়া ১৫%


    নর্থ মেসেডোনিয়া ১৫%


    নরওয়ে ১৫%


    পাকিস্তান ১৯%


    পাপুয়া নিউগিনি ১৫%


    ফিলিপাইন ১৯%


    সার্বিয়া ৩৫%


    দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০%


    দক্ষিণ কোরিয়া ১৫%


    শ্রীলঙ্কা ২০%


    সুইজারল্যান্ড ৩৯%


    সিরিয়া ৪১%


    তাইওয়ান ২০%


    থাইল্যান্ড ১৯%


    ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ১৫%


    তিউনিসিয়া ২৫%


    তুরস্ক ১৫%


    উগান্ডা ১৫%


    যুক্তরাজ্য ১০%


    ভানুয়াতু ১৫%


    ভেনেজুয়েলা ১৫%


    ভিয়েতনাম ২০%


    জাম্বিয়া ১৫%


    জিম্বাবুয়ে ১৫%

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করল ভারত

      অনলাইন ডেস্ক
      ১ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:৩৬
      অনলাইন ডেস্ক
      ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করল ভারত

      রাশিয়া থেকে তেলের মূল্যে ছাড় কমে যাওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পর ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। 


      বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।


      এতে বলা হয়, গত এক সপ্তাহে ভারতীয় অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (এইচপিসিএল), ভারত পেট্রোলিয়াম (বিপিসিএল) এবং মাঙ্গালোর রিফাইনারি পেট্রোকেমিক্যাল (এমআরপিএল) রাশিয়া থেকে কোনো তেল কেনেনি। বরং তারা বিকল্প হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মুরবান ও পশ্চিম আফ্রিকার তেলের দিকে ঝুঁকেছে।


      এছাড়া বেসরকারি খাতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও নয়ারা এনার্জি—যার বড় একটি অংশ রাশিয়ার রসনেফটসহ বিভিন্ন রুশ প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন—তারা বার্ষিক চুক্তির আওতায় রাশিয়ান তেল কিনে যাচ্ছে।


      বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ভারত এখন সমুদ্রপথে রপ্তানিকৃত রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। 


      সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকার পর দেশটি থেকে কম দামে তেল আমদানি করছিল ভারত।  


      ১৪ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের সঙ্গে বড় ধরনের শান্তিচুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে যারা রুশ তেল কিনবে তাদের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।


      শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২২ সালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এই প্রথম রুশ তেলের মূল্যের ওপর ছাড় এতটা কমেছে। ফলে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো ক্রয় থেকে পিছিয়ে এসেছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        খাবারের জন্য খালি পায়ে ১২ কিমি হেঁটে আসা ছোট্ট আমিরকেও ছাড়ল না ইসরাইল

        অনলাইন ডেস্ক
        ১ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:৪৯
        অনলাইন ডেস্ক
        খাবারের জন্য খালি পায়ে ১২ কিমি হেঁটে আসা ছোট্ট আমিরকেও ছাড়ল না ইসরাইল

        গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) সঙ্গে যুক্ত গাজার একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে কর্মরত এক সাবেক মার্কিন সেনা, ‘গাজার ছোট্ট আমির’ নামে পরিচিত এক ফিলিস্তিনি বালকের শেষ মুহূর্তের একটি হৃদয়বিদারক বিবরণ শেয়ার করেছেন, যাকে সামান্য খাবার পাওয়ার পরপরই গুলি করে হত্যা করে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।


        সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। 


        প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্থনি আগুইলার নামে সাবেক ওই সেনা সদস্য তার সাক্ষ্যে গত ২৮ মে তারিখের মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করেন, যেদিন খাবারের জন্য গিয়ে নিহত হয় আমির।


        অ্যান্থনির বিবরণ মতে, খালি পায়ে এবং রোগা অবস্থায় প্রচণ্ড রোদের নিচে ১২ কিলোমিটার হেঁটে এসেছিল আমির। আশা ছিল, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও যদি খাওয়ার কিছু মেলে। 


        ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির পরিকল্পনা হামাসকে পুরস্কৃত নয়: যুক্তরাজ্য

        তবে ছোট্ট আমির সংগ্রহ করতে পেরেছিল কেবল এক মুঠো চাল এবং ডাল, যা পড়েছিল মাটিতে। 


        গভীর আবেগঘন মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে সাবেক মার্কিন ওই সেনা বলেন, শিশুটি তার কাছে এসে তার জিনিসপত্র রেখেছিল, তার হাতে চুম্বন করেছিল এবং ইংরেজিতে তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছিল।


        ছেলেটি এরপর তার জিনিসপত্র তুলে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে চলে যায়। কয়েক মিনিট পরে, যখন সে অন্যান্য বেসামরিক লোকদের সঙ্গে চলে যাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালায় এবং এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আমিরের।


        অ্যান্থনি আগুইলারের ভাষ্য, ‘গাজার অন্যান্য দিনগুলোর থেকে ওই দিনটি আলাদা ছিল না— তবে মৃত্যু এসেছিল দ্রুত।’

        সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিবেচনা করছে পর্তুগাল

          অনলাইন ডেস্ক
          ১ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:৩১
          অনলাইন ডেস্ক
          ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিবেচনা করছে পর্তুগাল

          ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পলিকল্পনা করছে পর্তুগাল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রোর কার্যালয় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে, পর্তুগিজ সরকার সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট এবং সংসদের সঙ্গে পরামর্শ করবে। খবর টাইমস অব ইসরাইলের। 


          আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার পরিকল্পনার পর, পর্তুগাল হল সর্বশেষ পশ্চিমা শক্তি যারা ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আলোচনা করছে।


          পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটি ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, যা সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ৮০তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ-স্তরের সপ্তাহে সম্পন্ন হতে পারে এমন একটি প্রক্রিয়ার অংশ।’


          এর আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্ক কার্নি বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় মানুষের দুর্দশা অসহনীয়। দ্রুত এর অবনতি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম সম্মেলনে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কানাডার।


          ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিচ্ছে মাল্টা

          তবে এই স্বীকৃতি কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন কানাডার প্রেসিডেন্ট। সেগুলো হলো ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে নিজেদের শাসনব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার আনার, হামাসকে বাদ দিয়ে ২০২৬ সালে সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করার এবং এ ভূখণ্ডকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।


          তার আগে, কয়েক দিন আগে সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। পরে ইসরাইল কিছু শর্ত না মানলে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 


          জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত